সাঁকরাইল ব্লকের ধানঘোরী, পালোইডাঙ্গা সহ একাধিক এলাকায় বেশ কিছুদিন আগে একটি হনুমানের তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। হঠাৎ হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে পড়া, দোকানে হামলা, পথচারীদের তাড়া করার ঘটনায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে কখনও দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছিল, কখনও আবার হাতে লাঠি নিয়ে রাতে পাহারা দিচ্ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা।
পরবর্তীতে কয়েকদিন ওই হনুমানের আর দেখা না মেলায় এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, সম্প্রতি ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ায।এক চার চাকার গাড়ির ওপরে বসে রিল লাইফের হিরোর ভঙ্গিতে এলাকায় ঢুকছে সেই হনুমান। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বিস্মিত নজরে তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়তেই আবার নতুন করে আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়েছে এলাকায়। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত ওই হনুমানকে নিরাপদে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। হনুমানের আতঙ্কে পড়ুয়ারাও স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে।
মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ, ০৬/১২/২০২৫ : বহিস্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ শিলান্যাসকে ঘিরে ক্রমেই ভীড় বাড়ছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। এই বিষয়টির দিকে তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।
উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় কর সেবকরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর। এবার আজ ঐ তারিখেই মুর্শিদাবাদে নতুন বাবরি মসজিদ তৈরি করার লক্ষ্যে শিলান্যাস করার ডাক দিয়েছেন তৃণমূল থেকে সদ্য বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ঐ শিলান্যাসকে ঘিরে প্রচুর মুসলমান মানুষ আজ মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে ভীড় করতে শুরু করেছেন। ভীড় বাড়ছে বেলডাঙ্গাতেও। এই বেলডাঙ্গার মির্জাপুর অঞ্চলেই নির্মাণ করা হবে নয়া বাবরি মসজিদ, এ কথা ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। আর আজ সেই মসজিদের শিলান্যাস করা হবে।
রেজিনগরে নয়া বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে ঘিরে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্যে ঐ এলাকায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও টহল দিচ্ছে ঐ এলাকায়। নয়া বাবরি মসজিদ নিয়ে নানারকম রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে। ইতিমধ্যেই হুমাযুন কবীর পৌঁছে গিয়েছেন রেজিনগরে, তিনিই আজ মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইতিমধ্যেই বহিস্কৃত হয়েছেন হুমায়ুন, চলতি মাসের ২২ তারিখে তিনি অন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা , ০৫/১২/ ২০২৫ : তিন সন্তানের বাবা এস আই আর ফর্ম বাড়ি আসলে জানতে পারলেন আরও দুই সন্তানের বাবা রবীন্দ্রনাথ, ভুতুড়ে দুই সন্তানের নাম কাটতে বিডিও এর কাছে অভিযোগ দায়ের।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ দক্ষন বিধানসভার ১৯১ নম্বর পার্টের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তার তিন সন্তান। সব মিলিয়ে ৫ জনের পরিবার। এস আই আর ফর্ম আসার কথা ছিল পাঁচ জনের। কিন্তু বিএলও সাত জনের ফর্ম নিয়ে তার বাড়িতে যায়। ফর্ম দেখে রবীন্দ্রনাথ জানতে পারেন তার পাঁচ সন্তান। রাজু বিশ্বাস ও বিশু বিশ্বাস নামে দুই জন তাকে বাবা দেখিয়ে ভোট করেছে। বিষয়টি জানতে গাইঘাটা বিডিও-র আছে অভিযোগ দায়ের কররে রাজু ও বিশু-র নাম বাদ দেওয়ার দাবি করেছেন। রবীন্দ্রনাথ বাবুর দাবি, তিনি রাজু ও বিশুকে চেনেন না। তাদের এলাকায় এই দুই জনের বাড়িও না।
বিষয়টি সামনে আসতেই বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সব্যসাচী ভট্ট। তিনি বলেন, “এটা কি ভাবে হল সেইটা নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে, ওই এলাকার বিধায়ক বিজেপির এবং পঞ্চায়েত সদস্যও বিজেপির। তারা বলতে পারবেন কি ভাবে হল।”
বনগাঁ দক্ষিনে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, “বাংলায় দীর্ঘদিন তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে। তৃণমূলের যে দাদালগুলো বিভিন্ন অফিসের সামনে থাকে, তারা টাকার বিনিময়ে ভুয়ো বাবা এই ভোট গুলি করেছিল। এবার এস আই আর হওয়ার ফলে সে গুলি ধরা পড়ছে।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ০৪/১২/২০২৫ : শৈলরানী দার্জিলিং শহরেও হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে সমতলের গাড়ি চালকদের। বুধবার এমনটাই অভিযোগ করল শিলিগুড়ি, তরাই ডুয়ার্সের গাড়ি চালকদের নয়টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ জাতীয়তাবাদী ট্যাক্সি ড্রাইভারস এসোসিয়েশন। এদিন শিলিগুড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে পাহাড়ের একাধিক গাড়ি চালক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ, সমতলের গাড়ি চালকরা পাহাড়ে পর্যটক নিয়ে গেলে তাদের নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি অল বেঙ্গল পারমিট থাকার পরেও তাদের পাহাড়ে ভাড়া নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই গাড়ি চালকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এমনকি মাঝেমধ্যে গাড়িচালকদের মারধর পর্যন্ত করা হচ্ছে। এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ করা হয়নি। উলটে অভিযোগ জানানোর পর হেনস্থার মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছে।
এমনকি সমতলের গাড়ি চালকের মাঝরাস্তায় পর্যটকদের সামনেই হেনস্থা করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে না গাড়ি রাখার জন্য পার্কিংয়ের জায়গা। পাহাড়ে যাত্রী নিয়ে গেলে তাদের হোটেলে নামিয়ে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পারমিট থাকার পরেও তাদের পাহাড়ে টাইগার হিল, চিড়িয়াখানা সহ অন্যান্য সাইট সিংয়ের জন্য গাড়ি চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন সমতলের ট্যাক্সি এসোসিয়েশনগুলি।
আজ খবর (বাংলা),[রাজ্য],কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৭/১১/২০২৫ : কলকাতার সোনাগাছি ও অন্যান্য যৌনপল্লীতে থাকা যৌনকর্মীরা এবং এই পেশার সাথে যুক্ত বাংলার কয়েক হাজার মানুষ এস.আই.আরের ফর্ম পূরণে যাতে রাজ্যের যৌন কর্মীরা কোন সমস্যায় না পরেন সেই জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দরবার করলো ভারতের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল অখিলভারত হিন্দুমহাসভা ।
রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে আজ হিন্দুমহাসভার সদস্যরা সোনাগাছি অঞ্চলে যৌন কর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এবং এরপর নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশন জমা দিয়ে যৌন কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের দাবী করলেন । তারপর যৌনকর্মীদের প্রতি সহযোগিতার চিঠি ও নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনের রিসিভ কপি হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হলো যৌন কর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সম্পাদিকা বিশাখা লস্করের হাতে ।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হিন্দুমহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী বলেন ভারতের নির্বাচন কমিশনের দ্বারা গৃহীত এস.আই.আর. কর্মসূচীর ফলে যৌন কর্মীরা বেশ কিছু সামাজিক ও টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি । শোভাবাজার সোনাগাছি অঞ্চলে এবং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের যৌন কর্মীদের ফর্ম পূরণের মূল সমস্যা হচ্ছে তাঁরা দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে রয়েছেন । তাছাড়া যৌন পেশার সাথে যুক্ত থাকার ফলে লোকলজ্জার ভয়ে ওনাদের পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় তথ্য দিতে সঙ্কোচবোধ করছেন । ফ্লাইং সেক্স ওয়ার্কারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরো বেশি । কিন্ত যেহেতু ভোটদান সমস্ত ভারতীয়ের মৌলিক অধিকার তাই আমরা ভারতের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে যৌন কর্মীদের সমস্যার কথা আন্তরিক ভাবে বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি ।
যৌন পেশাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জোরালো সওয়াল করার পাশাপাশি যৌন কর্মীরা রাজি থাকলে আগামী ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে যৌন কর্মীদের আমরা প্রার্থী করতেও আগ্রহী । যে স্থানের মাটি নিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি হয় তাকে আমরা কখনোই নিষিদ্ধপল্লী হিসেবে ভাবিনা, বরং আমরা মনে করি ওনারা আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তাই ওনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত থাকা উচিৎ । আজ হিন্দুমহাসভার পক্ষ থেকে অফিস সেক্রেটারি অনামিকা মন্ডল, এস.আই.আর. কর্মসূচির কনভেনর আশুতোষ মজুমদার, সমীরণ চৌধুরী, সোমা দে মন্ডল, তরুণকান্তি মন্ডল, উত্তম দেবনাথ, সরোজ ভট্টাচার্য্য, দেবনারায়ণ ঘোষ, সঞ্জয় মান্না এবং আরো অন্যান্য রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন । হিন্দুমহাসভার এই অভাবনীয় উদ্যোগকে আন্তরিক ভাবে সাধুবাদ জানালেন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সম্পাদিকা বিশাখা লস্কর এবং এই সংগঠনের আরো অন্যান্য সদস্যরা । আগামী দিনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রয়াসে অখিলভারত হিন্দুমহাসভা ও দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি যৌথ ভাবে কাজ করবে বলেই ওয়াকিবহল মহলের খবর ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], বারাসাত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২৬/১১/২০২৫ : বারাসাত হাসপাতালের মর্গে থাকা মৃতদেহের চোখ ইঁদুরে খুবলে খাওয়ার অভিযোগ উঠতেই পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বারসাত ১ নম্বর রেল গেট এলাকার বাসিন্দা প্রীতম ঘোষকে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায় নি। এরপর আজ তাঁর নিথর দেহ পরিবারের লোক বারাসাত হাসপাতালের মর্গ থেকে নিতে গিয়ে দেখেন তাঁর শরীরে একটা চোখ নেই। কোথায় গেলো একটি চোখ ? সেই নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয় ওই হাসপাতাল চত্বরে। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় যে ইঁদুরে চোখ খুবলে খেয়ে নিয়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় বারাসাত সরকারি হাসপাতাল চত্বরে।
পরিবারের লোক এবং প্রীতমের পাড়া প্রতিবেশীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল যশোর রোড অবরোধ করে রেখেছিলেন। ঠিক এই সময় বনগাঁ থেকে সড়কপথে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ির কনভয় আটকে পড়ে পথ অবরোধের জেরে। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের এই ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দিয়ে যান। ব্যবস্থা নিতে তিনি দু’টো দিন সময় চেয়ে নেন।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস মত আজ পুলিশের এডিজি একটি এপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বারাসতে পীড়িতের বাড়িতে পৌঁছে যান। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরে প্রীতমের মা কৃষ্ণা ঘোষকে একটি চাকরি দেওয়া হয়। পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে প্রীতমের চোখ কেউ খুবলে তুলে নিয়েছিল। প্রকৃত সত্য জানতে আজ দ্বিতীয়বার ময়না তদন্ত করা হয়েছে প্রীতমের। ময়না তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের এডিশনাল সুপার ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
সুপ্রীম কোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়েই গড়ে উঠবে নয়া বাবরি মসজিদ
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বেলডাঙ্গা, মুর্শিদাবাদ, ২৫/১১/২০২৫ : আগামী মাসের ৬ তারিখে মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গায় নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হতে চলেছে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে।
আগামী ৬ই ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একটি মসজিদের শিলান্যাস করতে চলেছেন। সেই মসজিদটি অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে তৈরি করা হবে এবং তারও নাম দেওয়া হয়েছে বাবরি মসজিদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন কর সেবকরা, সেই তারিখটি ছিল ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর। ঐ তারিখেই বেলডাঙার মির্জাপুর নামে একটি জায়গায় বিশালাকার মসজিদ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিলান্যাসের উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এই খবরের তাৎপর্য এটাও যে, আজ যখন অযোধ্যায় গিয়ে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজা উত্তোলন উৎসব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ঠিক সেই দিনেই প্রকাশ্যে এলো পশ্চিমবঙ্গের বাবরি মসজিদের বিষয়টি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “স্থানীয় মুসলমান মানুষ যদি নিজেদের টাকায় জমি কিনে একটা মসজিদ বানাতে চায়, তাতে কারোর কোনো আপত্তি করার কথা নয়। এমনকি সেই মসজিদের নাম যদি বাবরি মসজিদও রাখা হয়, তাহলেও কারো আপত্তি করা উচিত নয়। সুপ্রীম কোর্ট অযোধ্যার বাবরি মসজিদ নিয়ে যে রায় দিয়েছিল তাকে মান্যতা দিয়েই আর একটা বাবরি মসজিদ গড়ে উঠলে তাতে কারোর কোনো ক্ষতি তো নেই ! এই উদ্যোগে স্থানীয় মানুষ বেশ খুশি।”
কিছুদিন আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন যে আগামী ৬ তারিখ তিনি একটা ধামাকা করবেন। কি সেটা তা নিয়ে এর আগে তিনি মুখ না খুললেও আজ এই বিষয়টি ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। বেলডাঙ্গায় আজ বাবরি মসজিদের একটি ছবি দিয়ে মিছিলও বের করা হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বাবরি মসজিদের রূপক ছবি বের করা হয়েছে। এরপর বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও গোটা বিষয়টি স্বীকার করে নেন।
এর আগে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আজও তিনি বিতর্ক এড়িয়ে গেলেন না। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল যে, এই মসজিদ নির্মাণ করার জন্যে তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তার উত্তরে তিনি বলেন, “অনুমোদন নেওয়া বা আলোচনা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ মুখ্যমন্ত্রী যখন কার্নিভালে যোগ দেন তখন কারোর অনুমোদন লাগে না। তিনি যখন সাগর দ্বীপে গিয়ে সাধু সন্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে, তখনও কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তাহলে বেলডাঙ্গায় একটা মসজিদ যদি স্থানীয় মানুষের টাকায় গড়ে ওঠে, তার জন্যে আলাদা করে অনুমোদন লাগবে কেন ?”
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বেলডাঙার মির্জাপুরে আগামী ৬ই ডিসেম্বর নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে। শিলান্যাস হওয়ার পর তিন বছরে গড়ে উঠবে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে বাংলার নয়া বাবরি মসজিদ। মসজিদের পাশেই থাকবে একটি হোটেল যার নাম রাখা হয়েছে সরাইখানা এবং একটি মনোরম উদ্যান। আসুন শুনে নেওয়া যাক, এই ব্যাপারে হুমায়ুন কবীর ঠিক কি জানিয়েছেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৪/১১/২০২৫ : পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে দুদিন ধরে সফর করবেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। রাজ্যে চলছে এসআইআর, এই আবহে সীমান্ত এলাকাগুলিতে কেমন পরিস্থিতি রয়েছে তা সরেজমিনে দেখতেই রাজ্যপালের এই সীমান্ত সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার রাজ্যপাল প্রথমেই যাবেন উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে। ভারত বাংলাদেশের এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। বেশ কয়েক বছর আগে যারা অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে এখানকার সরকারি কাগজপত্র বানিয়ে নিয়েছিল, তারা এবার ফিরে যাচ্ছে নিজেদের দেশে। এই কারণে হাকিমপুর সীমান্তে প্রচুর মানুষের ভীড় হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিএসএফ।
হাকিমপুর সীমান্তে ঠিক কি পরিস্থিতি , কত মানুষের ভীড় সেখানে রয়েছে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এবার সেই পরিস্থিতি নিজে দেখতে সীমান্তে পরিদর্শনে গেলেন স্বয়ং রাজ্যপাল। আজ তিনি কৃষ্ণনগরে রাত্রিবাস করবেন। আগামীকাল রাজ্যপাল যাবেন মুর্শিদাবাদের কিছু সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে। সেখানে গিয়ে সরকারি আধিকারিকদর সাথে তিনি যেমন কথা বলবেন, তেমনি কথা বলবেন স্থানীয় মানুষের সাথেও।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত : রাজ্যপাল
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৩/১১/২০২৫ : প্রচন্ড কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে ব্লক লেভেল আধিকারিক মহিলা কর্মীর আত্মহত্যা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
গত ১৯ তারিখে শান্তি মুনি এক্কা নামে এক মহিলা আত্মহত্যা করেন। তিনি একজন ব্লক লেভেল অফিসার হিসেবে কাজ করছিলেন। ঐ দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। সেই সঙ্গে তিনি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে ‘রাজ্যে এসআইআর করার মত পরিবেশ নেই, বিএলও দের ঠিক মত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নি। তাঁদেরকে অহেতুক চাপ দেওয়া হচ্ছে। সেই চাপ তাঁরা নিতে পারছে না বলেই আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন’।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতা নেত্রীকেই একই সুরে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে একই অভিযোগ করেছেন। ইত্যবসরে দিল্লী থেকে যে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ দল কলকাতায় এসেছিল, সেই দলের সাদাস্যেরাও নিউ টাউনে বসে এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সুতরাং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও বিএলওদের এই চাপের বিষয়টা বা আত্মহত্যার বিষয়কে খাটো করে যে দেখছেন তা নয়। বরং মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সব দিক তাঁরা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
আজ রাজ্যপাল হিসেবে রাজভবনে তিন বছর কাটিয়ে দিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস বলেন,”মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি যখন এই বিষয়টা নিয়ে চিঠি লিখেছেন, তখন এই বিষয়টা আরও খতিয়ে দেখা উচিত। তাই ঐ মহিলার আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানতে একটা পূর্ণঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সব দিক থেকে ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। এই সব ব্যাপারগুলোকে নিয়েই তদন্ত হওয়া উচিত এবং সুষ্ঠূ সমাধানের পথ বের করা উচিত।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ২২/১১/২০২৫ : চলছে এসআইআর, প্রতিদিন প্রচুর মানুষ সীমান্ত দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশে। একদিন যে কোনো কারণেই হোক অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে হয়েছিল। এসআইআর শুরু হতেই সেই অনুপ্রবেশকারীরা ঘরমুখো হতে শুরু করেছেন। ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশে।
এখনো পর্যন্ত বিএসএফ বাংলাদেশের বিজিবির হাতে ১৭২০ জনকে প্রত্যর্পণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত চৌকিগুলিতে ব্যাপক ভীড় হয়েছে। এঁরা সকলেই এক সময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন অবৈধভাবে। তাঁরা এবার ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশে। প্রতিদিনই এই মানুষদের ভীড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
সীমান্তে বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আরও বাহিনী। সীমান্ত চৌকিগুলিতে এই মুহূর্তে কত মানুষের ভীড় তৈরি হয়েছে, তা জানতে বিএসএফের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ফিরে যেতে চাওয়া বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ওপর নজর রাখাও হচ্ছে। যাতে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।
এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলছে এই আবহে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। নেপালও অগ্নিগর্ভ হয়ে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্ন হয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গের চিকেনস নেক। চিকেনস নেকের একদিকে বাংলাদেশ আর এক দিকে রয়েছে নেপাল। তাই শঙ্কিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আজ এই কারণেই শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়েছে। যে বৈঠকে উপস্থিত আছেন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, বিএসএফ, এসএসবি, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো ও গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা।