সুপ্রীম কোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়েই গড়ে উঠবে নয়া বাবরি মসজিদ

আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বেলডাঙ্গা, মুর্শিদাবাদ, ২৫/১১/২০২৫ : আগামী মাসের ৬ তারিখে মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গায় নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হতে চলেছে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে।
আগামী ৬ই ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একটি মসজিদের শিলান্যাস করতে চলেছেন। সেই মসজিদটি অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে তৈরি করা হবে এবং তারও নাম দেওয়া হয়েছে বাবরি মসজিদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন কর সেবকরা, সেই তারিখটি ছিল ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর। ঐ তারিখেই বেলডাঙার মির্জাপুর নামে একটি জায়গায় বিশালাকার মসজিদ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিলান্যাসের উদ্যোগ নিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এই খবরের তাৎপর্য এটাও যে, আজ যখন অযোধ্যায় গিয়ে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজা উত্তোলন উৎসব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ঠিক সেই দিনেই প্রকাশ্যে এলো পশ্চিমবঙ্গের বাবরি মসজিদের বিষয়টি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “স্থানীয় মুসলমান মানুষ যদি নিজেদের টাকায় জমি কিনে একটা মসজিদ বানাতে চায়, তাতে কারোর কোনো আপত্তি করার কথা নয়। এমনকি সেই মসজিদের নাম যদি বাবরি মসজিদও রাখা হয়, তাহলেও কারো আপত্তি করা উচিত নয়। সুপ্রীম কোর্ট অযোধ্যার বাবরি মসজিদ নিয়ে যে রায় দিয়েছিল তাকে মান্যতা দিয়েই আর একটা বাবরি মসজিদ গড়ে উঠলে তাতে কারোর কোনো ক্ষতি তো নেই ! এই উদ্যোগে স্থানীয় মানুষ বেশ খুশি।”
কিছুদিন আগেই হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন যে আগামী ৬ তারিখ তিনি একটা ধামাকা করবেন। কি সেটা তা নিয়ে এর আগে তিনি মুখ না খুললেও আজ এই বিষয়টি ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। বেলডাঙ্গায় আজ বাবরি মসজিদের একটি ছবি দিয়ে মিছিলও বের করা হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বাবরি মসজিদের রূপক ছবি বের করা হয়েছে। এরপর বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও গোটা বিষয়টি স্বীকার করে নেন।
এর আগে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। আজও তিনি বিতর্ক এড়িয়ে গেলেন না। তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল যে, এই মসজিদ নির্মাণ করার জন্যে তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তার উত্তরে তিনি বলেন, “অনুমোদন নেওয়া বা আলোচনা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ মুখ্যমন্ত্রী যখন কার্নিভালে যোগ দেন তখন কারোর অনুমোদন লাগে না। তিনি যখন সাগর দ্বীপে গিয়ে সাধু সন্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে, তখনও কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তাহলে বেলডাঙ্গায় একটা মসজিদ যদি স্থানীয় মানুষের টাকায় গড়ে ওঠে, তার জন্যে আলাদা করে অনুমোদন লাগবে কেন ?”
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় বেলডাঙার মির্জাপুরে আগামী ৬ই ডিসেম্বর নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে। শিলান্যাস হওয়ার পর তিন বছরে গড়ে উঠবে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে বাংলার নয়া বাবরি মসজিদ। মসজিদের পাশেই থাকবে একটি হোটেল যার নাম রাখা হয়েছে সরাইখানা এবং একটি মনোরম উদ্যান। আসুন শুনে নেওয়া যাক, এই ব্যাপারে হুমায়ুন কবীর ঠিক কি জানিয়েছেন।
![]()