আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কল্যাণী, নদীয়া, ১৮/০১/২০২৬ : বয়স ৮৫, অশীতিপর, ছেলে নাতনির সাথে ডিজেল ভ্যানে চেপে শুনানিতে হাজির বৃদ্ধা। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়া জেলার কল্যাণী শহরে।
সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার ক্ষমতা নেই বৃদ্ধা মায়ের। তাই ছেলে মাকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিয়ে গেলেন দোতালায় সেই ঘরে যেখানে শুনানির জন্যে ডেকে পাঠানো হয়েছিল বৃদ্ধাকে। এটা নদীয়ার কল্যানী মহকুমার কোষাগার ভবনের চিত্র।
কল্যানী রথতলা ১৪৫নং বুথের বাসিন্দা শংকরী কর্মকার। ২০০২ সালে মাজদিয়াতে ভোটার ছিলেন। পরে সেই নাম কেটে যায়। তাই নতুন করে আজ শুনানির ডাক পড়ে বৃদ্ধার।
অসুস্থ বৃদ্ধাকে নিয়ে হাজির পরিবার। পরিবারের দাবী, বিএলও বলছে শুনানিতে যেতেই হবে তাই নিয়ে এসেছে। অথচ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল যে ৮০ বছরের ওপর যাঁদের বয়স তাঁদের বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হবে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] বাদুড়িয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, ১৮/০১/২০২৬ : রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করে SIR হয়রানি নিয়ে রাস্তা অবরোধ গ্রামবাসীদের, অভিযোগ ৯০০ ভোটারের মধ্যে ৪৭৫ ভোটারকে হিয়ারিং এর নোটিশ, তারই প্রতিবাদে এই রাস্তা অবরোধ। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা।
বাদুড়িয়ার শিমুলতলা এলাকার ঘটনা । মসলন্দপুর বসিরহাট রোডের শিমুলতলা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা । বিক্ষোভকারীদের যেটা অভিযোগ তা হল – SIR এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে ইলেকশন কমিশন । ৯০০ ভোটারের মধ্যে ৪৭৫ জন ভোটারকে বারবার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে । সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তারা রুজি-রুটির দায়ে কাজকর্ম করবে, নাকি বারবার শুনানিতে যাবে। এই নিয়ে বিক্ষোভ চরমে ওঠে।
তারই প্রতিবাদে আজকে এই রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হল। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।
আজ খবর (বাংলা), [,রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ১৮/০১/২০২৬ : সিকিম থেকে বিপুল পরিমান বেআইনি মদের চালান! শিলিগুড়িতে বিপুল পরিমাণ মদ ও চারচাকা গাড়ি আটক।
শিলিগুড়িতে ফের বেআইনি মদ পাচারের চেষ্টায় বড়সড় সাফল্য পেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ সিকিমে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মদ। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি চারচাকা গাড়িও। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
অভিযানে মোট ১৪ কার্টন সিকিমে তৈরি ‘হিট স্ট্রং বিয়ার’ উদ্ধার হয়েছে। প্রতিটি কার্টনে ছিল ১২টি করে ৬৫০ মিলিলিটারের বোতল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া বিয়ারের পরিমাণ প্রায় ১০৯.২ লিটার। এছাড়াও মিলেছে ১৫ কার্টন ‘মিলেনিয়াম এক্সএক্সএক্স রাম’, প্রতিটি কার্টনে ১২টি করে ৭৫০ মিলিলিটারের বোতল, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৫ লিটার।
এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে আরও ৩ কার্টন ‘স্নো বার্গ ড্রাই জিন’—প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার করে, মোট ২৭ লিটার। এছাড়াও একটি কার্টনে থাকা ‘রয়্যাল ব্লু হুইস্কি’র ১২টি বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৯ লিটার। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।
এই বেআইনি মদ পরিবহণে ব্যবহৃত একটি হালকা ধূসর রঙের স্যান্ট্রো হুন্ডাই চারচাকা গাড়িও আটক করা হয়েছে। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর WB 77 9745। গাড়িটি থেকে ইগনিশন চাবিসহ সমস্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ধারণা করা হচ্ছে, সিকিম থেকে এই মদ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
ঘটনায় জড়িতদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদের কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে বেআইনি মদ পাচারের প্রবণতা বাড়ছে, আর তা রুখতেই নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে মদ পাচার চক্রের একটি বড় রুট সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রোডশো করায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা তীব্র হয়। রোডশোটি চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শ্রীনগর মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হেলিকপ্টারে করে চাপড়ায় আসেন এবং তারপর শ্রীনগর মোড় থেকে রোডশো শুরু করেন। রোডশো শেষে তিনি রাস্তার ধারে একটি জনসভায় ভাষণ দেন, যেখানে তিনি বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন।
চাপড়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভাষণ দেওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবদ গীতার একটি শ্লোক আবৃত্তি করেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, “গণবন্টন ব্যবস্থা (রেশন) থেকে শুরু করে আবাসন প্রকল্প পর্যন্ত, রাজ্য সরকারই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করছে, অথচ কেন্দ্র বিভিন্নভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করছে।”
তাঁর ভাষণে তিনি রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোও তুলে ধরেন। এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি] নাগরাকাটা, জলপাইগুড়ি, ১৮/০১/২০২৬ : চা-বলয় এলাকায় রাজনৈতিক রদবদলের ছবি ধরা পড়ল। এসসি, ওবিসি সংগঠনের উদ্যোগে প্রায় ১৫ টি পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিল।
জলপাইগুড়ি নাগরাকাটায় আয়োজিত এক সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস জেলা এসসি ও ওবিসি সংগঠনের সভাপতি এস আই আর নিয়ে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। এসসি, ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী।”
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে।” ওই সভায় আরও জানানো হয়, যে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করতে বিভিন্ন ব্লকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণ দাসকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়ী করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি।
আজ খবর (বাংলা) [দেশ] নতুন দিল্লী, ভারত, ১৭/০১/২০২৬ : ভারতের ইন্টেলিজেন্স সূত্রে খবর আসছে আগামী প্রজাততন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জঙ্গীরা দেশের কোনো একটি জায়গাকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারে। নাশকতার চেষ্টা হতে পারে দেশের যে কোনো জায়গায়।
প্রতি বছরই ভারত প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আগে একটা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিভিন্ন রাজ্যে রেড এলার্ট জারি করা হয় । নজরদারি বাড়ানো হয় ব্যাপকভাবে। তবে এই বছর ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে নিশ্চয়ই কোন লাল সংকেত এসে পৌঁছেছে যার জন্যে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করতে হচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মীদের।
আর কিছুদিন পরেই দিল্লীতে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। সেই উপলক্ষে সেখানে হাজির থাকবেন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রী ভিআইপিরা। উপস্থিত থাকবেন দেশ বিদেশের অভ্যগতরা। এই ধরনের একটা জমায়েতের ওপর আঘাত হানতে তৎপর হয়ে উঠেছে দেশের শত্রু উগ্রপন্থীরা, এমন একটা আন্দাজ করা হচ্ছে। সেই কারণেই রাজধানী দিল্লী তো বটেই দেশের অন্যান্য প্রান্তেও কড়া সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হয়েছে রেল , বিমান ও মেট্রোর দিকে। রেল স্টেশনগুলিতেও নজরদারি কঠোর করা হয়েছে।
ভারতের ইন্টেলিজেন্স মনে করছে খালিস্তানি জঙ্গী অথবা বাংলাদেশী কোনো সন্ত্রাসবাদী দল এর তরফ থেকে আঘাত আসতে চলেছে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে। সেই অনুযায়ী গোটা দেশেই চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, জঙ্গীরা হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান এবং দিল্লী অঞ্চলে যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। এই জায়গাগুলির জনাকীর্ণ অঞ্চলগুলিতে ইতিমধ্যেই মক ড্রিল করে নেওয়া হয়েছে।
ভোটের মুখে এই মামলা নিয়ে কি ঝামেলায় পড়তে চলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ? আসন্ন ভোটে কি প্রভাব ফেলবে এই মামলা ? সুচিন্তিত মতামত দিন আপনারা
আজ খবর (বাংলা) [দেশ], নতুন দিল্লী ,ভারত, ১৫/০১/২০২৬ : কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় চূড়ান্তভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবার সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অভিযোগ আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের উর্দ্ধতম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
গত ৮ই জানুয়ারি ইডি আধিকারিকরা যখন কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল, সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে সেই তল্লাশি অভিযানে পৌঁছে যান এবং তল্লাশিতে ব্যাঘাত ঘটান বলে অভিযোগ তুলেছে ইডি। অভিযোগে বলা হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী ও ঐ পুলিশ আধিকারিকরা বেশ কিছু ফাইল ও তথ্য জোর করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর ইডির তরফে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করা হলেও মামলা কক্ষে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার দরুন সেদিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা মুলতুবি করে দিয়েছিলেন। এরপরেই ইডি সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এদিকে হাইকোর্ট এবং সুপ্রীম কোর্টে একই মামলার তারিখ একই দিনে পড়ে যাওয়ায় হাইকোর্টে মামলা খারিজ হয়ে যায়। সেদিনের সেই ঘটনা রাজ্যবাসীর মনে নানান প্রশ্নের সঞ্চার ঘটিয়েছে। বহু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে সোচ্চার হয়েছেন। চলেছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপের বিশাল অধ্যায়।
ইডি এই মামলা সুপ্রীম কোর্টে সরিয়ে নিয়ে গেছে। সুতরাং হাইকোর্টের মত আর বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার সুযোগ রইলো না। ইডির বক্তব্য ছিল ‘সেদিন শাসক দলের মদতেই আদালত কক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে হৈ হট্টগোল করা হয়েছিল। যাতে ঐ দিন শুনানি বানচাল হয়ে যায়। যদি তাই ঘটে থাকে, তাহলে দেশের শীর্ষ আদালতে অবশ্য সেই সুযোগ পাবেন না রাজ্যের শাসক দলের আইনজীবীরা। ইডির তরফ থেকে ৮ তারিখে ইডির তল্লাশি অভিযানে যে সব উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতির কারনে অভিযান বানচাল করার চেস্টা করা হয়েছিল বলে বলা হয়েছে, সেইসব অফিসারদেকে বরখাস্ত করার আবেদন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সিটি ঐ পুলিশ কর্মকর্তাদের যাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট দপ্তর বিভাগীয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয় , তার জন্যে সুপারিশ করেছে।
আজ এই মামলাটি সুপ্রীম কোর্টে উঠেছে। ডিজিপি রাজীব কুমার এবং পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে গুরুতর বলে অভিহিত করেছে শীর্ষ আদালত। তৃণমূলের তরফ থেকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে যে ইডি তৃণমূল কংগ্রেসের যে নথী বাজেয়াপ্ত করেছিল তা অত্যন্ত গোপন তথ্য সম্বলিত। তাই সেই নথীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক। এদিকে ইডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এমন কোনো নথী তারা বাজেয়াপ্ত করেনি।
এই মামলার পরবর্তী তারিখ পড়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে। এই দিন পর্যন্ত ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর এর ওপর স্টে অর্ডার দিয়েছেন মহামান্য আদালত। জানানো হয়েছে সব রকম এভিডেন্স এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্যে। তবে ঘটনার দিন তল্লাশি চালানোর জন্যে স্থানীয় থানায় কোনো তথ্য দেয় নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মামলা যে দিকে আর যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে রাজ্যের পুলিশ কর্তারা কি আগামী দিনে বিপদে পড়ে যাবেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়েও কি মামলার কোনো আঁচ এসে লাগবে ? এদিকে সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
এই রাজ্যে দু’জন আক্রান্ত। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিপা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারন নেই (দেখুন ভিডিও)
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] পূর্ব মেদিনীপুর ও জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/০১/২০২৬ : সারা রাজ্যের মধ্যে দুজন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন , তার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চাঁদিবেনিয়া গ্রামে এক যুবক “নিপা” ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন , জানা যায়, ওই যুবক কর্মসূত্রে বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
কিছুদিন আগে বাড়িতে খবর আসে ওই যুবকের জ্বর হয়েছে, বাড়ির লোকজন গিয়ে এবং সেখানে বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় ওই যুবক নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। কান্নায় ভেঙে পড়েছে যুবকের পরিবার। তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার বিভাস রায় জানান যে “পুরুষ নার্সকে ঘিরে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে, তাঁর বাড়ি এই জেলায় হলেও তিনি এখানে আসেননি এবং তাঁর সংস্পর্শে কেউ আসেননি।”
যদি তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তাহলে তা তাঁর কর্মক্ষেত্রেই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আশ্বস্ত করে বলেন, সাধারণ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই যথেষ্ট। বাদুড়ের লালারস থেকে নিপা সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে খেজুরের কাঁচা রস পান থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, তবে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানিয়ে খেলে সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, পাখিতে খাওয়া ফল কখনোই না খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গোটা রাজ্য জুড়ে নিপা ভাইরাস ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন জায়গায় নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজ মিলতেই সতর্কতায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। এর প্রভাব পড়েছে জলপাইগুড়িতেও। সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মারাত্মক ভাইরাসকে কেন্দ্র করে।
জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তা চিকিৎসক ডা. অসীম হালদার জানিয়েছেন, রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশ মেনেই গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কোনও ধরনের সংক্রমণের খবর পেলেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিপা সহ অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
নিপা ভাইরাস প্রতিরোধে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা প্রচার শুরু করেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাটকাতা কলোনি-সহ শহরের একাধিক এলাকায় একই ছবি ধরা পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ মানুষকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এছাড়াও বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা নিয়ে। বাদুড়ের খাওয়া ফল বা কামড় দেওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা বা খোলা ফল না খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাদুড়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য দফতরের এই সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সতর্কীকরণ ::নিপা ভাইরাস নিয়ে কোনো রকম গুজব ছড়াবেন না ,গুজবে কান দেবেন না। এবং বিতর্কে কান দেবেন না। নিপা ভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
উদ্বোধনের আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ ভবন পরিদর্শন করলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ও পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি (দেখুন ভিডিও)
আজ খবর (বাংলা) জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/০১/২০২৬ : উদ্বোধনের আগেই রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবন। আগামী ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে চলেছে এই নবনির্মিত ভবন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার নতুন ভবন পরিদর্শনে আসেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চ্যাটার্জি।
পরিদর্শনকালে তাঁরা সার্কিট বেঞ্চ ভবনের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি খুঁটিয়ে দেখেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। সন্ধ্যা নামলেই সার্কিট বেঞ্চ ভবনের দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা যাচ্ছে, জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ফলে উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে এই দিনটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
এদিন মেয়র গৌতম দেব বলেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ চালু করা হয়েছে। এই ভবন নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, উত্তরবঙ্গের বিচারপ্রার্থীদের যাতে আর কলকাতায় যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নতুন এই সার্কিট বেঞ্চ চালু হলে উত্তরবঙ্গের বিচার ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,১৪/০১/২০২৬ : কলকাতায় ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মধ্য কলকাতার বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এবার আগুন লাগে শহরের ব্যস্ত এলাকা বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে। প্রথমে একটি কাঠের দোকানে আগুন লাগলেও, মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও একাধিক দোকানে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চলে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে একের পর এক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও, ওই এলাকায় একটি বহুতল বিল্ডিংয়েও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও নিশ্চিত খবর না মিললেও, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দমকল ও পুলিশ। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে গোটা এলাকা। ব্যস্ততম এলাকা প্রচুর মানুষের বসবাস এখানে।
শহরের বুকে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে।