“অসুস্থতার কারণে রাজ্যপাল অব্যাহতি নিয়েছেন, এতে বিতর্কের কিছু নেই”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ , ০৬/০৩/২০২৬ : তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের গলায়।
এসআইআর এ পশ্চিমবঙ্গের বহু বৈধ ভোটার বাদ পড়ে গিয়েছে এই অভিযোগ তুলে আজ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা কর্মসূচী রয়েছে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে। কলকাতার রাজপথে ধর্ণা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআর-এর প্রতিবাদ জানাতে চায়। তাদের বক্তব্য এসআইআরের ভুল পদ্ধতির জন্যেই রাজ্যে বেশ কিছু বিএলও এবং নাগরিকের প্রাণ গিয়েছে। অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন। রাজ্যে যে পদ্ধতিতে এসআইআর করেছে তা ভুলভ্রান্তিতে ভরা। এরই প্রতিবাদে রাজপথে নেমে ধারণা দেবে তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের এইধর্ণা কর্মসূচীকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছেন, “আর কিছুদিন পরেই রাজ্যে যে ভোট হতে চলেছে, সেই ভোটে হেরে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের বিরোধী দলে পরিণত হবে। সেইসময় ওদের অনেক ধর্ণা করতে হবে। এখন থেকেই সেই অভ্যাস তৈরী করতে চাইছে ওরা। ”
হঠাৎ করেই রাজ্যপালের পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাজ্যপাল শ্রীবোস অসুস্থতার কারণে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে শুনেছি। তাই তাঁর এই পদত্যাগ সম্পর্কে কোনো রকম বক্তব্য আমার নেই। এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। “
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] গাজোল, মালদা, ০৪/০৩/২০২৬ : হবিবপুরের পর এবার গাজোল৷ সিএএতে আবেদন করে অবশেষে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেলেন গাজোলের শংকরপুর এলাকার মহেন্দ্রকুমার সিংহ ও তাঁর স্ত্রী আরতি সিংহ৷ ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা৷
অনেক চেষ্টা করেও এতদিন তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাননি৷ ছিল না ভোটার কার্ড৷ ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে অবশেষে মাস তিনেক আগে তাঁরা সিএএতে আবেদন জানান৷ দোলযাত্রার দিন বাড়ি গিয়ে তাঁদের হাতে সিএএ শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক চিন্ময় দেববর্মন৷ এত বছর পর ভারতীয় নাগরিকত্ব হাতে পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিংহ দম্পতি৷
মহেন্দ্র কুমার সিংহ জানান বাংলাদেশের টাঙ্গাই মীরজাফর এলাকায় বাড়ি ছিল । ৯৩ সালে ভারতে এসেছিলাম। তিনমাস আগে সিএএ আবেদন করেছিলাম। আজকে সেই আবেদন পত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহুজি আমাকে দিয়েছে আমি খুব খুশি। অনেক চিন্তার মধ্যে ছিলাম ঘুম হতো না ভয় লাগতো । আজকে আমি খুবই খুশি এখান থেকে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহুজি যেটা বলেন সেটা করেন।
গাজলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন জানান এই শাসক দল তৃণমূল শরণার্থী উদ্বাস্তুদেরকে ভুল বুঝাচ্ছে । রাজনীতির সুবিধার্থে এই তৃণমূল মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে । যারা হিন্দু যারা এ দেশে শরণার্থী হিসেবে রয়েছিল তাদের সবাইকেই সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে । কেউ আতঙ্ক থাকবেন না সিএএ আবেদন করুন অবশ্যই ভারতের নাগরিকত্ব আপনারা পাবেন ।
তৃণমূল পরিচালিত গাজল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন জানান বিজেপির বিধায়ক সস্তায় রাজনীতি করছেন , মিষ্টি খাইয়ে ফুলের মালা পরিয়ে নিজেকে হাইলাইট করার চেষ্টা করছেন । আজকে একজন দম্পতি caa সার্টিফিকেট পেল l কিন্তু আজকে সিংহ পরিবার কেন আজকে গাজোলের অনেক পরিবার রয়েছেন যারা এখনো আবেদন করেও সিএএ সার্টিফিকেট পায়নি l বিধায়ক শুধু অভিনয় করে দুইজনকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন আর বাদ বাকিরা কবে পাবেন কোন উত্তর নেই ।এলাকায় তো কোন উন্নয়ন করেননি খালি ক্যামেরার সামনে নিজেকে হাইলাইট করতেই ব্যস্ত l
Aaj Khabor English — https://aajkhaborenglish.blogspot.com/2026/03/caa-certificate-granted-to-refugee.html
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], খেজুরি, পূর্ব মেদিনীপুর, ০৩/০৩/২০২৬ : দলীয় পদের জন্য লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ এবং পদ না পেয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেজুরিতে তৃণমূল পার্টি অফিসের ভেতর দলের দুই নেতার হাতাহাতি মারামারি ঘুঁষোঘুঁষির ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে!
এই ঘটনাকে ঘিরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে খেজুরিতে। এলাকার দুই তৃণমূল নেতা শঙ্কর দুলাল পাত্র এবং নন্দন দাসের মধ্যে কলার ধরে মারামারির ভিডিও ভাইরাল। কলার ধরে মার এবং ঘুঁষোঘুঁষির ভাইরাল ভিডিও সামনে আসায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যা নিয়ে দলের নেতারা মুখে কুলুপও এঁটেছেন।
ভোটের মুখে নিজেদের মধ্যে মারামারি এবং কোন্দল ঘিরে খেজুরিতে দলের অনৈক্যের ছবি প্রকাশ্যে এসে পড়ায় বেশ অস্বস্তিতেও তৃণমূল নেতৃত্ব।
“নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটারের বৈধতা বিচার করছে বিচার বিভাগ তারা নয় ”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০২/০৩/২০২৬ : ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের ফলে বৈধ ভোটারের নাম বাদপ্রসঙ্গটি তুলে আজ কলকাতার রাজপথে নেমে প্রতিবাদে সোচ্চার হল প্রদেশ কংগ্রেস।
‘এসআইআর এর পর গত ২৮ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এখনও সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় নি। তথাপি যে তালিকাপ্রকাশ করা হয়েছে, সেই তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে রাজ্যের বৈধ ভোটাররা বাদ পড়ে যাচ্ছেন’, এই অভিযোগ তুলছেন রাজ্যের কংগ্রেস নেতারা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস আজ কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতের সামনে থেকে বিবাদী বাগে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে পর্যন্ত মিছিল করেন এবং প্রতিবাদে সোচ্চার হন।
কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চ্যাটার্জি রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনের নীরব থাকাকে সমালোচনা করেছেন। আশুতোষ চ্যাটার্জি বলেন, “একজন বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে না. তিনি ভোট দেবেন না. নির্বাচন কমিশন বলছে এই বিষয়টা তাঁরা জানেন না. এটা বিচার বিভাগ জানে। বিচারকরাই যাচাই বাছাই করছেন। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি, আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ না যায়। “
“বাংলার ভালো নয়, অভিষেকের ভালোর জন্যেই সব কিছু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], মথুরাপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা , ০২/০৩/২০২৬ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে জনসভায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে উপর্যুপরি আক্রমণ শানালেন স্বারষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মথুরাপুরে আজ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় যা কিছু করেছেন তা বাংলার মানুষের ভালোর জন্যে নয়, সব কিছুই করেছেন একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালোর জন্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন তাঁর পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন।“
অমিত শাহ বলেন, “হে বাংলার যুব সমাজ, আপনাদের নাম কোথায় আছে ? আপনাদের নাম তৃণমূলের তালিকায় নেই। আপনাদের নাম একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর তালিকায় থাকতে পারে। বিজেপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা নিজের পরিবারের জন্যে রাজনীতি করে না। আমি বলতে এসেছি যে এই পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে এই রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর ভরসা করলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন বলেন, “এখন সময় এসেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার বাংলা গড়ে দেওয়ার, আপনারা যদি তৃণমূলকে ভোট দেন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”
অমিত শাহ বলেন, “আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে গত পঞ্চায়েত ভোটে আমাদের কর্মীদের ওপর কিভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল, আমাদের শত শত কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন, অনেকে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন, কত লোক বাড়ি ফিরতে পারেন নি। মমতা দিদি, আপনি কি মনে করেন আপনাদের গুন্ডাদের বিজেপি ভয় পায় ? আমাদের সহ্য ক্ষমতা নেক বেশি, তাই এসব আমরা সহ্য করে গিয়েছি। বাংলায় পদ্ম ফুলের সরকার গড়ে তুলুন তারপর আমরা তৃণমূলের গুন্ডাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করে দেব। তাদের প্রত্যেককে আমরা চিহ্নিত করব আর বেছে বেছে জেলে পাঠিয়ে দেব।“
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৮/০২/২০২৬ : তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজ্যসভার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে, যে প্রার্থী তালিকার কিছু রকম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি।
তৃণমূলের প্রস্তাবিত রাজ্যসভার প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। যিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। এবার তাবকে রাজ্যসভায় হিসেবে প্রার্থী করছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি প্রখ্যাত অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল শিবির।
কোয়েলের ঝুলিতে অবশ্য রাজনীতির অভিজ্ঞতা খুবই কম.
তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন মানেকা গুরুস্বামী। যিনি একজন আইনজীবী, তৃণমূলের হয়ে বেশ কিছু আইনি লড়াই করেছেন সুপ্রীম কোর্টে। এবার তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে ঘাস ফুল শিবির। তবে যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে, তাঁর নাম রাজীব কুমার। রাজ্যের ডিজি পদে কাজ করে যাওয়া এই প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে এবার রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্যের বিরোধী দলগুলি রাজীব কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়া নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু করেছে। বিশেষ করে বিজেপি। সিপিএম থেকেও সমালোচনা আসতে শুরু করেছে।
আমাদের শান্তিপূর্ণ ও আইনি বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন বিজেপি কর্মীরা
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৫/০২/২০২৬ : তাঁদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও হেনস্থার প্রতিবাদে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা বিএলও।
গতকাল কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে কিছু ব্লক লেভেল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন, সেই সময় বিজেপি সমর্থকেরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিক্ষোভকারীদের হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশের কাছে অভিযোগে নাম রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
ওই মহিলা বিএলও জানিয়েছেন, “২৪ তারিখে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আমরা যখন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ আইনি বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলাম, ঠিক সেই সময় বিজেপির বেশ কিছু সমর্থক দলীয় পতাকা নিয়ে সেখানে আসেন এবং হৈ হট্টগোল শুরু করেন। তাঁরা পতাকার লাঠি দিয়ে আমাদের হেনস্থা করেছেন। রাজ্যে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যেভাবে এসআইআর করা হয়েছে, এবং সেই কারণে বেশ কিছু মানুষ ও বিএলও মারা গিয়েছেন। আমরা এই বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি সমর্থকদের হাতে হেনস্থা শিকার হব ভাবি নি। তাই এই বিষয়টি জানিয়ে থানায় এফআইআর করেছি। ”
হেনস্থা করার বিষয়টি বিজেপির তরফ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৩/০২/২০২৬ : প্রয়াত পশ্চিমবঙ্গের “রাজনীতির চাণক্য” মুকুল রায় !! আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের অন্যতম প্রধান কারিগর এবং প্রায় দুই দশকের বেশি বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে মুষ্টিমেয় ব্যক্তিত্বর মধ্যে এক নক্ষত্র এবং বর্ণময় চরিত্র, যেখানে UPA আমলে ৬ মাসের রেলমন্ত্রী এবং প্রায় ৩ বছরের কাছাকাছি কেন্দ্রীয় জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। ২০১২ সালে রেল বাজেট নিয়ে মুকুল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ এবং তৎকালীন রেলমন্ত্রী তথা ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
দীনেশ পদত্যাগ করার পর মুকুল ভারতের রেলমন্ত্রী হন এবং তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর প্রবর্তিত ভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহার করেন যেই ঘটনা তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়। পরবর্তীতে খুচরো ব্যবসা এবং বিমানযাত্রার খাতে ৫১% FDI অনুমোদনের কারণে UPA-2 জোট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে যাওয়ার পর মুকুল রায়ের রেলমন্ত্রীর মেয়াদ ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তৃণমূল কগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন মুকুল রায় এবং তারপর তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের সাথে সাক্ষ্যাতের অভিযোগে মুকুল রায়কে ৬ বছরের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বরখাস্ত করা হয়!
দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব সামলানোর পর ১১ অক্টোবর ২০১৭ সালে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন এবং ২০২১ সালের ১১ই জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তার ছেলে শুভ্রাংশুর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসে ঘর-ওয়াপসি করেন মুকুল রায়। ২০২১ সালের জুন মাসের ২৫ তারিখ মুকুল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত PAC কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং আগামীতে ৩ সপ্তাহ পর ১৪ই জুলাই তারিখে PAC কমিটির চেয়ারম্যান হন।
২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারী তার আইনজীবী স্পিকারকে জানান, যে তিনি এখনও বিজেপিতে আছেন এবং তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দেননি, সেই অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে মুকুলের বিধায়ক-পদ বাতিল করে দেন। কলকাতা হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনীতির কেরিয়ারে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১ বছর বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন মুকুল রায়। দীর্ঘ সেই রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলো রবিবার গভীর রাতে। বাংলার রাজনীতিতে রেখে গেলেন তাঁর হাতে রাজনীতির হাতে খড়ি হওয়া অগণিত রাজনৈতিক ভক্ত ও অনুগামীদের।রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ তাঁর নিজের বাড়ি কাঁচরাপাড়ার ঘটক রোডের বাড়ীতে সোমবার সকাল থেকেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস। এই উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিজেপকে তুমুল আক্রমন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তোমরা কেন্দ্র সরকার শাসন করছো, বাংলা দখলের এতলোভ কেন ? এসআইআর করে তোমরা বলপ্রয়োগ করে বাংলা দখল করতে চাও ? আমি এই সব কিছুর প্রতিবাদ জানাবো।”
এদিন ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের ব্যাপক নিন্দা করেন তিনি। তিনি বলেন, “এভাবে বাংলা দখল করতে দেওয়া হবে না. এভাবে বল প্রয়োগ করে লাভ হবে না। আমি প্রাণ বিসর্জন দিতে রাজি আছি, কিন্তু মাথা নত করতে পারবো না।”
মমতা এদিন অভিযোগ করেন, “বাংলার বাইরে বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাকে বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলার এই অপমান আমরা মেনে নেবো না। গোটা দেশে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চলছে। আমি বলছি আপনারা এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। আমরা সকল ভাষাকে সন্মান করি। অন্য কোনো ভাষাভাষী কেউ বিপদে পড়লে আমরা তার পাশে দাঁড়াই, আমাদের প্রতিশ্রুতি মত। একটা কথা মনে রাখবেন, বাঙালি কারোর ওপর নির্ভরশীল নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলতে পারলেন না, তৃণমূলের হয়েই প্রচারে নামবেন কিনা !
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] বেহালা, কলকাতা, ২১/০২/২০২৬ : জেলমুক্তির পর প্রথমবার বেহালায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ভোটের আগে এবার নিজের কেন্দ্রে সক্রিয় হয়ে উঠলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব।
জেল থেকে মুক্তির পর এই প্রথম বেহালায় দেখা গেল প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র পরিদর্শনে বেরোলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন তিনি এলাকায় ঘুরে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘদিন পর তাঁকে সামনে পেয়ে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে ভিড় জমায়। কেউ কেউ তাঁর সাথে এগিয়ে গিয়ে কোথাও বলেন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। ভোটের আগে তাঁর এই সফর কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।