আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], ভগবানগোলা, ১০/০৬/২০২৫ : স্ত্রীর বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় স্বামীকে খুন করার অভিযোগ উঠল শ্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত সুবর্ণমবর্গী ডাকবাংলা এলাকায়। মৃত ব্যক্তির নাম আলতাফ সেখ (৫৫), বাড়ি মহিশাস্থলি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাকবাংলা এলাকায়।
ডাকবাংলা এলাকায় বানপুলের পাশে একটি পরিত্যক্ত ও ভাঙাচোরা দোকানের পাশ থেকে আলতাফ সেখের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তার গলায় দড়ির ফাঁস লাগানো ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে কানাপুকুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলতাফ সেখ দীর্ঘদিন ভিন রাজ্যে কাজ করতেন এবং সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফিরে তিনি স্ত্রীর কথা জানতে পারেন, তার স্ত্রী ইদোলা বিবির সঙ্গে প্রতিবেশী সালাম সেখের একটি অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে সন্দেহ করেন। এই নিয়ে মঙ্গলবার রাতে উভয়ের মধ্যে তীব্র বচসা হয় বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্ত্রী ও তার প্রেমিক পলাতক।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], নবান্ন, পশ্চিমবঙ্গ, ০৯/৬/২০২৫ : রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি সম্বন্ধে কিছুটা অভয় দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলেছেন তবে পাশাপাশি সকলকে প্রস্তুত থাকতেও বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আজ বলেন, “আমরা কোভিড শুনলে ভয় পাই। তবে সরকারিভাবে আমাদের কাছে যে তথ্য আমাদের কাছে আছে তাতে এখনই আতঙ্কিত হবার কোন প্রয়োজন নেই।।
আমরা আশা করছি পান্ডেমিক আর হবে না। তবে আমরা সমস্ত দপ্তরকে নিয়ে আজ বৈঠক করেছি প্রস্তুতির বিষয়টা মাথায় রেখে। প্যানিক করার জন্য নয় কিন্তু যদি তেমন কিছু হয় তাহলে যাতে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি সেই কারণেই এই বৈঠক।
কো-মরবিডিটি যাদের আছে তাদের ক্ষেত্রে তো এটা একটা ফ্যাক্টর। তারা ডাক্তার দেখান চিকিৎসা করান। চেষ্টা করবেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করান। আপনাদের অযথা বেশি টাকা খরচা হবে না। এক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন তা সব সরকারি হাসপাতালে আছে। এখন তো সকলেই প্রায় ভ্যাকসিন নিয়ে নিয়েছে।
আমরা নিজেদের ইন্টারেস্টে এই বৈঠকটা করলাম যাতে তেমন কোনো পরিস্থিতি হলে যাতে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি। আবার বলছি এখনো তেমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ভারতবর্ষে এত কোটি মানুষের বাস, সেখানে মাত্র ছয় সাড়ে ছয় হাজার এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। তাই বলছি কেউ ভয় পাবেন না। সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণ সর্দি কাশি বা জ্বরের মতোই এটা একটা ইনফেকশন।”
ঈদের উৎসব কাটিয়ে বাড়ি ফেরার আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কালচিনি চা বাগানের গোদাস লাইনের বাসিন্দা, ২১ বছর বয়সী সাহিল আনসারী, ঈদের দিন দিদির বাড়ি বেড়াতে এসে আর ফিরে যেতে পারলেন না।
জানা গিয়েছে, শনিবার ঈদের দিন বিকেলে সাহিল বেড়াতে আসেন নাগরাকাটা ব্লকের জলঢাকা আলতার ডাঙ্গা চা বাগানে তার দিদি বাড়িতে। পরদিন, রবিবার দুপুর নাগাদ, সাহিল তাঁর আত্মীয়র সঙ্গে ডায়না নদীতে স্নান করতে যান। সেখানেই ঘটে অঘটন। স্নানের সময় জলের স্রোতে তলিয়ে যান সাহিল।
নদীতে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় খবর দেওয়া হয় নাগরাকাটা সিভিল ডিফেন্স এবং বানারহাট থানার পুলিশকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সাহিলের মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ধূমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। সাহিলের জামাইবাবু সুদীপ রহমান বলেন, “ঈদের দিন বিকেলে সাহিল আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আজ দুপুর ২টা নাগাদ সে ডায়না নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল। আমার দাদাও সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু যে এমন ঘটনা ঘটবে, তা ভাবতেই পারছি না।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই কালচিনিতে সাহিলের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বানারহাট থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
একটি আনন্দের দিনে এমন হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় সাহিলের পরিবার ও পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল কান্নায়।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ০৮/০৬/২০২৫ : শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানার দেবীডাঙ্গা বাজারে চলল গুলি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় প্রধান নগর থানার পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রধাননগর থানার আইসি।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে গ্রেফতার করে এবং উদ্ধার হয় একটি আগ্নেয়াস্ত্র ম্যাগাজিন ও কার্তুজ। জানা গিয়েছে মাদক কারবারিদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের অশান্তির জেরেই চলে গুলি। স্থানীয় বাসিন্দারাই ওই দুষ্কৃতীকে আটকে রাখে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। ধৃতের নাম দীপক কামতি ওরফে দীপু।
তবে বাকি দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রধান নগর থানার পুলিশ দীপুকে হেফাজতে নিয়ে বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। সূত্রের খবর, মাদক কারবারিদের তরফে চলেছে গুলি। এলাকায় মাদকের কারবার নিয়ে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ রাতে এলাকায় মাদক কারবারিদের দেখেই প্রতিবাদ করে ওঠে স্থানীয় বাসিন্দারা। তখনই এক মাদক কারবারি এই গুলি চালায় বলেই জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রধান নগর থানার পুলিশ বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতির নাম পেয়েছে তাদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। প্রধান নগর থানার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ম্যাগাজিন কার্তুজ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় রয়েছে পুলিশ পিকেট।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], সাগরদ্বীপ,দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ০৮/০৬/২০২৫ : স্থায়ী কৃষি ও গ্রামীণ ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, আইসিএআর– সিআইএফআরআই সাগর–কৃষ্ণনগর স্বামী বিবেকানন্দ যুব সাংস্কৃতিক সমাজ এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), নিমপীঠের যৌথ উদ্যোগে, পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপে শনিবার (৭ জুন, ২০২৫) তারিখে বিকসিত কৃষি সংকল্প অভিযান (ভিকেএসএ–২০২৫)-এর অধীন একাধিক প্রভাবশালী সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগের আওতায় ২৩টি গ্রামে বিস্তৃত চারটি মূল আলোচনামৃলক অনুষ্ঠান—রুদ্রনগর, কৃষ্ণনগর, কমলপুর ও গোবিন্দপুরে—আয়োজিত হয়, যেখানে ৩০০০-রও অধিক কৃষক ও মৎস্যজীবী অংশগ্রহণ করেন। ভিকেএসএ–২০২৫-এর অন্তর্গত এই প্রচারাভিযানের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতির প্রসার এবং ভারতবর্ষের অন্যতম সংবেদনশীল উপকূল অঞ্চল—সুন্দরবনের—গ্রামীণ জীবনযাত্রাকে অধিক স্থায়ী করে তোলা।
এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন আইসিএআর-এর উপ-মহাপরিচালক (মৎস্যবিজ্ঞান) ড. জে. কে. জেনা এবং আইসিএআর–সিআইএফআরআই-এর পরিচালক ড. বি. কে. দাস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন একাধিক প্রবীণ বিজ্ঞানী, যাঁরা বস্তুনিষ্ঠ বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, জলের মানোন্নয়ন, খাদ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবের মোকাবিলা।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় জলবায়ু সহনশীল মৎস্য ও কৃষি পদ্ধতির উপর, যা সুন্দরবন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিজ্ঞানীরা অভিযোজনভিত্তিক অন্তর্জলীয় মৎস্যচর্চা, ঋতুভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সুসংহত সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো উদ্ভাবনী কৌশল ব্যাখ্যা করেন, যা স্থানীয় জনসমাজকে পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলার উপযোগী করে তুলতে সহায়ক।
ড. জেনা বলেন, “আমরা এখানে শুধুমাত্র জ্ঞান বিতরণের জন্য আসিনি, বরং মৎস্যজীবীদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার উদ্দেশ্যেই এসেছি। তাঁদের বাস্তবজ্ঞান ভবিষ্যতের জন্য স্থানীয় অনুযোগ-উপযোগী উদ্ভাবনের মূল ভিত্তি।”
এই আলোচনামূলক অধিবেশনগুলি মৎস্যজীবীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়, যেখানে তাঁরা তাঁদের স্থানীয় জ্ঞান ও বাস্তবতাকে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন। এতে উভয়পক্ষে বিশ্বাস ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীকালে যৌথ সমস্যা-সমাধানের দিকনির্দেশ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুন্দরবন বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা। তাঁর উপস্থিতি রাজ্য সরকারের উপকূলবর্তী অঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত করে।
সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ হিসেবে, কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বৈজ্ঞানিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পুস্তিকা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (পিএমএমএসওয়াই) সংক্রান্ত লিফলেট, এবং প্রাক-খরিফ চাষের পরামর্শপত্র। এই তথ্য উপকরণগুলি তাঁদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ব্যাপারেও মনযোগ আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সকল অংশগ্রহণকারী কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবেশবান্ধব, টেকসই এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও মৎস্যচর্চা গ্রহণের শপথ গ্রহণ করেন—যা দেশের প্রাকৃতিক ভবিষ্যৎ এবং জীবিকাসুরক্ষার প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতীক।
এই কর্মসূচি, কুলতলি ও জয়গোপালপুর (বাসন্তী)-এ এর পূর্ববর্তী কার্যক্রমসহ, আইসিএআর–সিআইএফআরআই-এর বহুমাত্রিক রণনীতি স্পষ্ট করে তোলে—যার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক দক্ষতা এবং সমাজমুখী অংশগ্রহণকে একত্রিত করে আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সচেতন কৃষি সম্প্রদায় গঠনের উদ্দেশ্য সাধন করা হচ্ছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ০৮/০৬/২০২৫ : এপার বাংলার ভোটার ওপার বাংলার গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের অন্যতম মুখ, ছবি প্রকাশ হতেই শোরগোল এলাকায়।
সম্প্রতি কাকদ্বীপে একের পর এক বাংলাদেশী ভুয়ো ভোটারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল। সেই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কাকদ্বীপ বিধানসভার বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা তিনি দাবি করেন টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা, ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম তুলেছে এবং এ রাজ্যে বসবাস করছে। এই ঘটনার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল কাকদ্বীপ বিধানসভা জুড়ে।
আবারও খবরের শিরোনামে কাকদ্বীপ বিধানসভা। কাকদ্বীপের ভোটার কিন্তু বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সামিল এবং উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ছবি ভাইরাল হতেই সেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে পদ্ম শিবির। নিউটন দাস নামে ওই বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে তৃণমূলের এক ছাত্রনেতার ছবিও সামনে এনেছে বিজেপি। দাবি করা হচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ওই বাংলাদেশি যুবকের।
ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে যখন রাজ্যে রাজনৈতিক ডামাডোল চরমে, ঠিক সেই সময়ে এই অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল শুরু হয়েছে।গত বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নাকি যোগ দিয়েছিল নিউটন দাস। সম্প্রতি নিউটনের সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপির দাবি, কাকদ্বীপের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে সেই নিউটনেরই। নিউটন একটা সময়ে কাকদ্বীপের স্বামী বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের দাসপাড়ার থাকত বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও নিউটনের পুরো পরিবার বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে।এপার বাংলায় সর্বপ্রথম পা দিয়েছিলেন নিউটনের দাদা তপন দাস। ২০১১ সালে বাংলায় এসে পরবর্তী ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলে সে।
পরবর্তীকালে দাদার পিছু পিছু বাংলায় ঢুকে পড়েন নিউটন, এমনটাই অভিযোগ। কাকদ্বীপেরই নামখানা এলাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা করেছে সে। সম্প্রতি সেই নিউটনের ছবি আবার ভাইরাল হল সমাজমাধ্যমে। সেই ছবিতে দেখা গেল, বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল নিউটন। তবে কি পড়াশোনা শেষ করেই আবার নিজ দেশে চলে গিয়েছে সে? সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি দেবাশিস দাস বলেন, “নামখানার দেবনগর এলাকার একটি স্কুলে হস্টেলে থেকে পড়ত নিউটন। স্কুলে আমার সঙ্গেই পড়ত। সেই সূত্রেই বন্ধুত্ব ছিল। আমরা সকল বন্ধুদের জন্মদিনে যেভাবে কেক কাটি, কয়েক বছর আগে ওর জন্মদিনেও কেক কেটেছি। এর বেশি কিছু নয়। এখানে কীভাবে ভোটার কার্ড হয়েছে বলতে পারব না। কারণ যতদূর জানি, যখন ওর ভোটার লিস্টে নাম উঠেছে তখন আমি রাজনীতির কোনও পদেই ছিলাম না। বিজেপি যদি আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে তাহলে প্রমাণ-সহ এফআইআর করতে বলুন। চ্যালেঞ্জ করছি, কিছুই করতে পারবে না। আমি ওইসব অভিযোগে ভয় পাই না।”
এ বিষয়ে কাকদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রদীপ কুমার প্রামানিক বলেন, “যদি দুটো দেশের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাহলে এটা বেআইনি। কিন্তু যে ছবিগুলো ভাইরাল করা হয়েছে, সেই ছবিগুলোকে আগে থেকে তুলে রাখা হয়েছিল এবং ভাইরাল করার জন্যই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের কোন মানুষ কোথাকারের সেটা জানা সম্ভব হয় না।”
বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক সঞ্জয় দাস জানান, “এই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের টাকার বিনিময়ে এ রাজ্যে যারা ভোটার লিস্টে নাম নথিভুক্ত করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এ সকল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা, এই এলাকায় এসে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব পাতায় এবং তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড তৈরি করে এ রাজ্যে থেকে যায় অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক পুলিশ প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনকে আরো কঠোর হতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত যে সকল শাসক দলের নেতারা টাকার বিনিময় এইরকম বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড তৈরি করে ওদের মদত দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক পুলিশ প্রশাসন।” সব মিলিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কাকদ্বীপ এলাকায়।
ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের তপসিয়া ও রান্টুয়ার মাঝামাঝি এলাকায় ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বছর বাইশের এক যুবকের, ঘটনায় গুরুতর আহত আর এক যুবক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুমন্ত পাইকিরা (২২)। তিনি গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আহত যুবকের নাম অমল দেহুরী। জানা গেছে, রবিবার সকালে দুজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকে দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে তপসিয়া ও রান্টুয়ার মাঝে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছে ধাক্কা মারে তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা ও পুলিশ দ্রুত ছুটে এসে দু’জনকে উদ্ধার করে তপসিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সুমন্ত পাইকিরাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত অমল দেহুরির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে তৎক্ষণাৎ ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগনা, ০৮/০৬/২০২৫ : সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবেশী বছর ৬৬ প্রৌঢ়কে গ্রেফতার করল পুলিস।
অভিযুক্ত নেসার গাজীকে পকসো আইনে মামলা রুজু করে পাঁচ দিনের পুলিসি হেপাজাত চেয়ে আজ দুপুরে বসিরহাট মহাকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক চার দিনের পুলিসি হেপাজাতে নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানার বাঁকড়া গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় গত পরশু বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী নেসার গাজি নামে এক পৌড় বাড়িতে ঢুকে ১৩ বছরের এক নাবালিকা সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে, তাকে জোর করে তার গায়ে হাত দেয়, যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। নাবালিকার চিৎকারে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায় ঐ প্রৌঢ় । নাবালিকার মা কর্ম সূত্রে কলকাতায় কাজ করে। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরলে গতকাল রাতে অভিযুক্ত ঐ প্রৌঢ়র বিরুদ্ধে হিঙ্গলগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে. পুলিস তাকে গতকাল রাতেই গ্রেফতার করে।
আজ ঐ অভিযুক্ত প্রৌঢ় নেসার গাজীকে পকসো আইনে মামলা রুজু করে পাঁচ দিনের পুলিসি হেপাজাত চেয়ে বসিরহাট আদালতে হাজির করলে বিচারক চার দিনের পুলিসি হেফাজাতে রাখার নির্দেশ দেন । নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন আগে ওই ছাত্রী গায়ে জ্বর নিয়ে স্যান্ডেলের বিল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয় সেই সুবাদে ওই প্রৌঢ়র সঙ্গে পরিচয় হয় তারপর ওই ছাত্রী কেমন আছে দেখতে যাওয়ার নাম করে তার বাড়িতে ঢুকে এই ধরনের কুকীর্তি করে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর, ০৮/০৬/২০২৫ : প্রকাশ্য দিবালোকে মন্দিরে বিগ্রহ ভাঙ্গলো অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা,হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে থানায় দায়ের হল FIR, তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করতে এই কাজ বিজেপির দাবী মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়কের, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা
মহিষাদলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন একটি হনুমান মন্দিরে রাম সীতার এবং হনুমানজির বিগ্রহ পূজিত হয়ে আসছে। গতকাল সকাল ১১ টায় নিত্যপূজো অবধি সব ঠিকই ছিল, গোল বাধে তার পরেই, বিকালে দেখা যায় মন্দিরের সীতার বিগ্রহ ভাঙ্গা,এবং বিগ্রহের উপরিভাগ অমিল। মহিষাদল এর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে মহিষাদল থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মহিষাদল শাখার সভাপতি ও সহসভাপতি বলেন “এর আগেও মহিষাদল এর বিভিন্ন জায়গায় মন্দির এবং মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে, বেশ কিছু দুষ্কৃতি বারে বারে এই ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং বিজেপির ডাকে মহিষাদলে ধিক্কার মিছিল করা হয়।
ঘটনাটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মহিষাদল এর বিধায়ক তিলক কুমার চক্রবর্তী বলেন “এই কাজ বিজেপির, দিনের বেলায় দুষ্কৃতীদের দ্বারা এই কাজ করা কখনোই সম্ভব নয়, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলকে কালীমালিপ্ত করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টায় এই কাজ করেছে।” যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ‘তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে এবং তাদেরকে সাহায্য করছে মহিষদলের বিধায়ক’।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ০৭/০৬/২০২৫ : সপ্তাহের শেষ দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিলিগুড়ি শহরে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল. শিলিগুড়ির চেক পোস্ট মোর এলাকায় বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শিলিগুড়ি শহরের চেক পোস্টের কাছে ভক্তিনগর থানা এলাকায় একটি দোকানে আগুন লেগে যায়; তারপর সেই আগুন পাশাপাশি থাকা অন্যান্য দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। জায়গাটি বাজার এলাকায় হওয়ায় দ্রুত আগুন এক দোকান থেকে আর এক দোকানে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। গোটা বাজারের একটা দিক দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যায়।
এতবড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখে উপস্থিত মানুষ রীতিমত দিশেহারা হয়ে যায়। যদিও স্থানীয় মানুষই প্ৰথম আগুন নেভানোর জন্যে উদ্যোগ নেয়। তারাই হাতে হাতে আগুনে জল ঢালার ব্যবস্থা করে। এর মধ্যেই দমকলে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পৌঁছায়। দমকল ঘটনাস্থলে এসেই জল দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দেয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে একটি ওয়েল্ডিংয়ের দোকান থেকেই আগুন লেগেছিল, এবং সেই আগুন ক্রমেই ছড়িয়ে পরে আশেপাশে থাকা দোকানগুলিতে। দোকানগুলি কাঠের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।
এই মুহূর্তে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে নি, তবে বাজারের একটা দিকে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন দমকল কর্মীরা। গোটা এলাকা কালো ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধে ভরে গিয়েছে। শিলিগুড়ির এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।