আজ খবর (বাংলা), [খেলা], নতুন দিল্লী, ভারত, ০২/০৬/২০২৫ : ২০২৫ – এ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ – এ অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী এক্স বার্তায় বলেছেন, “দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ২০২৫ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের দলের অসাধারণ সাফল্যের জন্য ভারত গর্বিত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের কঠোর পরিশ্রম ও সংকল্প স্পষ্টতই প্রত্যক্ষ করা গেছে। ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ প্রয়াসের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা”।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], গ্যাংটক, সিকিম , ০২/০৬/২০২৬ : মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে রীতিমত খারাপ অবস্থা সিকিমে। সিকিমের বিভিন্ন জেলায় লাগাতার বৃষ্টি হয়েই চলেছে, যার জেরে বিভিন্ন জায়গায় ধ্বস নামছে এবং পাহাড়ি নদীগুলি মারাত্মক ক্ষতি করছে সেতুগুলির।
সিকিমে সারাদিন সারারাত ধরে চলছে একটানা বৃষ্টি। এর জেরে পাহাড়ের ঝোড়াগুলি ফুলেফেঁপে উঠেছে। ফুলে ফেঁপে ওঠা ঝোড়াগুলির জলের চাপ এতটাই বেশি যে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ধ্বস নামতে শুরু করেছে। ভাঙছে রাস্তাঘাট। এই মুহূর্তে সিকিমের বুক চিরে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদী উত্তাল আকার ধারণ করেছে। অন্যান্য নদীগুলিও ফুঁসছে। বিআরও রাস্তাঘাটের ওপর থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফের নতুন করে রাস্তাঘাট তৈরি করতে অপারেশন স্বস্তিক শুরু করেছে।
এদিকে ধ্বস এলাকায় কাজ করতে গিয়ে সোমবার উত্তর সিকিমের লাচেনের চাতেন এলাকায় তিন আর্মি জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে ওলে জানা গিয়েছে। এই তিনজন হলে হাবিলদার লাখবিন্দর সিং, ল্যান্স নায়েক মনীশ ঠাকুর এবং মাল বাহক অভিষেক লাকড়া। যেখানে এঁরা কাজ করছিলেন সেই জায়গাটা ছিল মারাত্মক বন্ধুর এবং চ্যালেঞ্জিং পাহাড়ে গাটি. চতুর্দিকে কাদা ছিল, যেখানে পা রাখা যাচ্ছিল না. আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে এক হাত দূরের কোনো কিছুকে ভালোভাবে দেখতে যাওয়া যাচ্ছিল না. এঅবস্থায় ধ্বস সরানোর কাজ চলছিল। এই ঘটনায় আরও ছয় জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না. এদিকে যাচ্ছেন এবং লাচুং মিলিয়ে দেড় হাজার জনের বেশি পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। সেনারা তাঁদের উদ্বাহরের ব্যাবস্থাও শুরু করেছে।
সিকিমে প্রচন্ড বৃষ্টি হওয়ার জন্যে ডুয়ার্স অঞ্চলের নদীগুলি বিপদ সীমার কাছ দিয়ে বইতে শুরু করেছে। কার্যত ভেঙে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সিকিমের লাইফলাইন। পাহাড়ের প্রায় সর্বত্র মেঘ ও কুয়াশার পুরু আস্তরনে ঢাকা রয়েছে। সিকিমের সর্বত্রই রেড এলার্ট জারি করা রয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], শিলিগুড়ি,দার্জিলিং, ০১/০৬/২০২৫ : শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় হিন্দুদের ওপর হিং*সার ঘটনার প্রতিবাদে এবং ঐ ঘটনায় হিন্দুদেরকেই গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে আগামীকাল শিলিগুড়িতে ২৪ ঘন্টার বনধ ডেকেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
শিলিগুড়ির মাটিগাড়া অঞ্চলে অশান্তির সূত্রপাত হয় একটি মাংস সরবরাহের গাড়িকে ঘিরে। এই গাড়িটিকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা নিয়ে দুই গ্রূপের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়ে যায়। যা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উত্তরবঙ্গের অঞ্চল প্রেসিডেন্ট লক্ষণ বনশাল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দুরা নির্যা*তনের শিকার হয়ে আসছে। হিন্দুদের ব্যবসা নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। হিন্দু মহিলা এবং শিশুরা আতংকিত হয়ে রয়েছে। আমরা আগামীকাল শিলিগুড়িতে বনধ এর ডাক দিয়েছি।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ৩০শে মে মাটিগাড়ায় বজরং দলের সদস্যরা একটি গাড়িকে আটকায়, এই গাড়িটিতে মাংস ছিল বলে বলা হলেও আসলে ঐ গাড়িতে লুকিয়ে অস্ত্র পাচার হচ্ছিল। গাড়িটিকে ঘিরে নিয়ে বজরং দল প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়, তখন ক্ষেপে গিয়ে বজরং দলের সদস্যরা গাড়িটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়. এই ব্যাপারে থানাতেও একটি এফআইআর করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এসে এতকিছু না দেখেই বজরং দলের সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় এবং ১৪-১৫ ধারায় কেস দিয়ে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদেই সোমবার বনধ ডাকা হয়েছে। আগামীকাল শিলিগুড়ি শহর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আমি সকলকেই সনাতন ধর্ম রক্ষার্থে বনধ সফল করার আহবান জানাচ্ছি।”
বনশাল আরও বলেন, “আমরা কাউকে আঘাত দিতে চাই না। কিন্তু যখন একটা সরকার শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে, তখন আর পুলিশের থেকে বেশি কি আশা করা যায় ? যখনই হিন্দুদের কোনো উৎসব হয়, তখনই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে চতুর্দিক ঘিরে দেয়। যেন সর্বত্র গন্ড*গোল লেগে গিয়েছে আর অন্যদিকে ক্রিমিনালদের সুরক্ষা দেয় তারা। ”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০১/০৬/২০২৫ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরের ঠিক দুইদিন পর রাজ্যে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তিনি দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে তাঁর কণ্ঠে ২০২৬এর ভোটে রাজ্যে বিজেপির জয়ধ্বনির হুঙ্কার শুনতে পাওয়া গেল।
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে থেকে অমিত শাহ আজ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন ২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি সরকারের সূত্রপাত হবে। তৃণমূল নেত্রী মমতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একবার হিংসা বাদ দিয়ে ভোট করিয়ে দেখুন, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আপনার জামানত বাজেয়াপ্ত করে দেবে। আমরা অপারেশন সিঁদুর করেছি, এখানে দিদির পেটে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। তখন তিনি কিছু বলেন নি, কিন্তু মোদী যখন রাজ্যে এসেছেন তখন রাজনীতি করার জন্যেই দিদি নানারকম কথা বলতে শুরু করেছেন। তিনিও সিঁদুরের অপমান করতে শুরু করেছিলেন। গোটা দেশ মমতাদিকে এই সিঁদুরের অপমানের জবাব দেবে। অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়ে যায় নি।
আপনারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চেয়েছিলেন। মমতাদি আপনি তো একটা সময় মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন, মন্ত্রীও ছিলেন, তখন কেন বাংলাকে দেশের ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দেন নি ? এই কাজটা করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী, অথচ তাঁকে একটা ধব্যবাদ জানানোর শিষ্টাচার পর্যন্ত আপনি দেখান নি। আপনি বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে পারবেন না আপনি।
২০২৬ এর ভোট কাছাকাছি এসে গিয়েছে। প্রত্যেক কার্যকর্তাকে বলব যান প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে যান এবং বলুন এবার এই রাজ্যে দেশভক্তদের ভোট দিন, যারা তুষ্টিকরণ করে তাদের ভোট দেবেন না। মোদীজি যে অর্থ এখানে পাঠায়, তা বাংলার গরীব মানুষের কাজে লাগা উচিত নাকি সিন্ডিকেটের পকেটে যাওয়া উচিত ? মমতা দিদি মুর্শিদাবাদে বিএসএফ আনতে আপনারা চান নি, আমাদের কার্যকর্তা হাইকোর্টে আপিল করে মুর্শিদাবাদে বিএসএফ এনেছিল এবং হিন্দুদের বাঁচিয়েছিল। এরপর আপনাদের নেতা বিএসএফকে গালি দিয়েছিল। মুসলিম ভোট পেতে অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করেছেন আপনি। ২০২৬এর পর আপনি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। আপনার শাসনকে আমরা মূল সমেত উপরে ফেলব।
দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইস্টার্ন বাইপাসের ধারে তিনি একটি অত্যাধুনিক ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করেন। রবিবার কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে যান, সেখানে মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখেন এবং তারপর দমদম বিমানবন্দর থেকে দিল্লীতে ফেরার বিমান ধরেন।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] মঙ্গন, সিকিম, ০১/০৬/২০২৫ : সিকিম পাহাড় জুড়ে প্রবল বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। সিকিমের উচ্চ হিমালয় পর্বতের বরফ গলতে শুরু করেছে। দ্রুত বরফ গলছে মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘারও।
সিকিম পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে গত কয়েকদিন ধরেই। পাহাড়ি ঝোড়া আর নালাগুলি ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তার ওপর উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তুষার গলতে থাকায় নদীগুলিতে জলস্তর বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই। প্রবল বর্ষণে তিস্তা ভয়ংকর রূপ ধারন করেছে। তিস্তা নদী বিপদ সীমার কাছ দিয়ে বইছে। তিস্তা ছাড়াও অন্যান্য নদীগুলিও ফুলে ফেঁপে উঠেছে।
উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাষ দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গন জেলা জুড়ে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়া মানেই লাচুং চু এবং লাচেন চু নদীগুলি ফুলে ফেঁপে ওঠা, আর এই দুই নদী মিলেই সৃষ্টি হয়েছে তিস্তা নদীর। সিকিমের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ে ধ্বস নামতে শুরু করেছে, যার ফলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
গতকাল সমাজ মাধ্যমে মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যদিও আজ খবর ঐ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে নি) যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার গায়ের বরফ গলে গিয়েছে অনেকটাই। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বরফ গলে গেলে তার প্রভাব পাহাড়ি নদীগুলিতে পড়বেই। এক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। সিকিমের পাশাপাশি প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিং, মিরিক, কালিম্পঙ এবং ভুটান পাহাড়ে। তাই তিস্তা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতেও জল বেড়েছে। মহানন্দা, বালাসন, রঙ্গীত, তোর্সা উত্তরবঙ্গের এই নদীগুলি যেন ফুঁসছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বোলপুর, বীরভূম, ৩১/০৫/২০২৫ : পুলিশ তলব করলেও আজ সশরীরে থানায় হাজিরা দিলেন না তৃণমূলের কোর কমিটির নেতা অনুব্রত মন্ডল। তিনি সম্ভবত আগামী সোমবার থানায় যাবেন।
বৃহস্পতিবার রাত্রে বোলপুর থানায় ফোন করে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ করেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। আইসির মা ও স্ত্রীর নামেও গালিগালাজ করা হয় এবং বার বার তাঁকে থানা থেকেচুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে আসার হুমকি দেওয়া হয়। এই অডিও ভাইরাল হয়ে যায় (যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করে নি আজ খবর), সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে নানারকম প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে. সমাজ মাধ্যমে নিদার ঝড় বয়ে যায়। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করতে শুরু করে। বিষয়টি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূলের শীর্ষস্তরে। দলের পক্ষ থেকে অনুব্রতকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দলের নির্দেশ পেয়ে গতকাল সকালেই অনুব্রত চিঠির মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নেন। তবে সরকারি আধিকারিক, বিশেষত পুলিশকে গালিগালাজ বা হেনস্থা করার জন্যে তাঁর নামে চারটি কেস (৭২, ১৩২, ২২৪ ও ৩৫১ ধারায় ) দেওয়া হয়। আজ তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সকাল এগারোটার সময় তাঁর পৌঁছনোর কথা থাকলেও অনুব্রত নিজে আজ হাজিরা দেন নি। শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর হয়ে সাতজন আইনজীবী পুলিশের সাথে দেখা করে এসেছেন। তাঁরা বলেছেন আগামী সোমবার অনুব্রত পুলিশের সাথে দেখা করতে যাবেন। যদিও দ্বিতীয় নোটিশে ফের অনুব্রতকে এসডিপিও অফিসে দেখা করতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে তিনি আগামী সোমবার জামিন নেবেন আদালত থেকে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ৩১/০৫/২০২৫ : রেলের জমিতে বসবাসকারী মানুষদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্যে রেলের জমি এক টাকা করে পাট্টা দেওয়ার কথা বললেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। .
‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠানে এক নাগরিক এই প্রসঙ্গটি উথ্থাপন করেছিলেন. সেই প্রসঙ্গকে টেনে এনেই শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, “যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে বসবাস করছেন, রেলের সেইসব জমি দীর্ঘকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পরে রয়েছে। সেইসব জমি হোল্ডিং প্রপার্টি হিসেবে তাঁদেরকে দেওয়া যেতেই পারে, যাঁরা সেই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে রেলের জমি এক টাকা করে পাট্টা দেওয়া যেতে পারে। রেল বলছে ঐসব জমিউপভোক্তারা যেন কিনে নেয়, কিন্তু যে সব জায়গায় জমিগুলি রয়েছে, সেখানে এখন জমির দাম অনেক। এত টাকা ওঁরা জোগাড় করতে পারবেন না। “
গৌতম দেব আরও বলেন, যে সব সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে বাস করছেন, তাঁরা কোনো সুযোগ সুবিধা পান না। তাঁদের নাম ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয় না, তাঁরা ব্যাংক থেকে লোন পান না।এইসব মানুষরা ওখানে পাট্টা পেলে এইসব সুযোগ সুবিধাগুলি থেকে বঞ্চিত হবেন না।” কিন্তু রেলের জমি পুরসভা কিভাবে পাট্টা দেবেন জিজ্ঞাসা করায় গৌতম দেব বলেন, এই ব্যাপারে আমরা জন সমর্থন চাইব। অন্ততপক্ষে এক লক্ষ সাক্ষর সংগ্রহ করব। জন সমর্থন পেলে গোটা বিষয়টি আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবো, তার পর আইনিভাবেই রাজ্য সরকার হয়ত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যায় রয়েছে, তার একটা সমাধান হওয়া খুব দরকার।”
আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক], ওয়াশিংটন ডিসি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ৩১/০৫/২০২৫ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের একবার দাবী করলে যে তারাই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল দুই দেশ।
মার্কিন উপদেষ্টা পদ ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন এলন মাস্ক। সেই বিষয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘাত চলছিল, তা আমেরিকার হস্তক্ষেপেই বন্ধ হয়েছিল। এই সংঘাত বন্ধ করার জন্যে আমাদের টিম খুব ভাল কাজ করেছে। টিমের সকলকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ” ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর। যে কোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারত। কিন্তু সেটা আমরা হতে দিই নি। তবে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই এশিয়ার মধ্যে যথেষ্ট দায়িত্ববান দেশ। তারা বাস্তব বিষয়গুলিকে বোঝে খুব ভালো করে। আপাতত তাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে।”
ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির জন্যে বাণিজ্য বিষয়টি কি প্রভাব ফেলেছিল ? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বলেছিলাম আমেরিকা সেই দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করবে না, যারা নিউক্লিয়ার যুদ্ধে ব্যস্ত থাকে। ভারত পাকিস্তান দুই দেশই গ্রেট লিডার, তারা পরিস্থিতি বোঝে খুব ভাল করে। তারা এই ব্যাপারে সহমত পোষন করেছে। “
যদিও ভারত এই বিষয়টি এখনো মেনে নেয় নি যে মার্কিন হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি হয়েছে।. ভারতের বক্তব্য, “আমেরিকা এমন কিছু বলে নি যে, তাদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। ভারত যুদ্ধ করে নি, ভারত শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদীদের শাস্তি দিয়েছে। যারা পাকিস্তানের মাটিতে বেড়ে ওঠে এবং ভারতের মাটিতে এসে গুলি করে মানুষদের হত্যা করে। ভারত এই সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে থাকবে। এটাই ভারতের নয়া নীতি। তার সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। “
আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক], বোগোটা , কলম্বিয়া, ৩১/০৫/২০২৫ : পাকিস্তানের পাশে আর দাঁড়াতে চাইল না কলাম্বিয়া। পাকিস্তানে ভারতের আক্রমণে যে প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছে, সেই ধরনের বার্তা সরকারিভাবে তুলে নিল কলম্বিয়া সরকার।
‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতের দাগা মিসাইলের আঘাতে মারা গিয়েছিল বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদী। ভারত মেপে মেপে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ডেরাগুলিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেই ঘটনায় ভারতের আক্রমণে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এমন একটা বার্তা দিয়েছিল কলম্বিয়া সরকার। এই মুহূর্তে ভারতীয় প্রতিনিধি দল কলম্বিয়ায় সফর করছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল কলম্বিয়া সরকারকে প্রকৃত ঘটনা সম্বন্ধে অবগত করার পর কলম্বিয়া তাদের পুরোন বার্তাটি তুলে নিল এবং এই ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকতে অস্বীকার করল।
অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত সিভিলিয়ানদের এতটুকুও আক্রমন করে নি। অথচ পাকিস্তানের সেনা তা করেছিল। ভারত বেছে বেছে শুধুমাত্র পাকিস্তানে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের ডেরাগুলিকেই গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, যে ঘটনায় মারা গিয়েছিল প্রচুর সন্ত্রাসবাদী। পাকিস্তান এই ঘটনার প্রচার চালিয়ে বলেছিল ভারত প্রচুর মানুষ মেরেছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা জানা ছিল না কলাম্বিয়া সরকারের।
শশী থারুরের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল কলম্বিয়া সরকারকে বলে, “আমরা আমাদের কলম্বিয়ান বন্ধুদের এটা বলতে চাই যে, সন্ত্রাসবাদী পাঠানো এবং সন্ত্রাসবাদীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করা, দুটো এক ব্যাপার নয়। কেউ মারতে পাঠাচ্ছে আর কেউ নিজেদেরকে রক্ষা করছে, এই দুটো এক বিষয় নয়। আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করার অধিকার নিশ্চয়ই আছে, আমরা ঠিক সেটাই করছি। এই ব্যাপারে আপনাদের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র ভুল বোঝাবুঝি থেকে থাকে, তো সেই ভুল ভাঙিয়ে দেওয়ার জন্যে আমরা তো আছি। এই ব্যাপারে দরকারে আপনাদের সাথে আরও আলোচনা করতে এবং প্রমান তুলে ধরতে আমরা প্রস্তুত আছি। “
এই বৈঠকের পর কার্যত চোখ খুলে গিয়েছে কলম্বিয়া সরকারের। পাকিস্তানে ভারতের আক্রমণে প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছে, এই ধরনের স্টেটমেন্ট তুলে নেয় কলম্বিয়া সরকার। এই ইস্যুতে কার্যত ভারতের পাশে থাকার বার্তায় তারা দিয়ে দেয়। ভারত যে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে তার প্রশংসা করে কলম্বিয়া সরকার।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], বোলপুর, বীরভূম, ৩০/০৫/২০২৫ : বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় গালাগালি দেওয়ার পর আজ লিখিতভাবে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল।
গতকাল বোলপুর থানার আইসির সাথে টেলিফোনে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনা নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়. একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও আজ খবর সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে নি। অডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে একটি টেলিফোনে অনুব্রত মণ্ডল উত্তেজিতভাবে বোলপুর থানার আইসি লিটন দাসকে হুমকি দিচ্ছেন । ঐ অডিওতে দেখা যায় আইসি লিটন দাসকে জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডল। ওই আধিকারিকের মা ও স্ত্রীকে নিয়েও নোংরা কথা বলছেন এবং ওই অফিসারকে রীতিমত হুমকি দিচ্ছেন তিনি। এই অডিও ভাইরাল হতেই চতুর্দিক থেকে সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়। বিজেপি শিবির থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়।
এই পরিস্থিতি যথেষ্ট বিরক্তিকর লাগে তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা নেত্রীদের কাছে। তাঁদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর দলের তরফ থেকে অনুব্রতকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তিনি চার ঘন্টার মধ্যেই ঐ আইসির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। অনুব্রতও আর কাল বিলম্ব না করে আজ একটি চিঠির মাধ্যমে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে নিলেন পুলিশের ঐ আধিকারিকের কাছে। দল এরপরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনায় অনুব্রতরবিরুদ্ধে পুলিশ নিজেই ডায়রি করেছে। অনুব্রত মন্ডলকে পুলিশ আজ নোটিশ পাঠিয়ে দিয়েছে আগামীকাল সকালে থানায় তলব করা হয়েছে তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশি বা কি ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখতে হবে। এক পুলিশ কর্মী পার্টি অফিসে গিয়ে ঐ নোটিশ পৌঁছে দিয়ে এসেছেন।
অনুব্রত তাঁর ভুল স্বীকার করেছেন, এবং জানিয়েছেন, অসুস্থতার জন্যে তাঁকে নানারকম ওষুধ খেতে হয়। মমতার নামে কেউ খারাপ কিছু বললে মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে। নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি ঐ কাজ করে ফেলেছেন। তবে পুলিশের কাছে ১০০ বার ক্ষমা চেয়ে নেওয়া যায়।