আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ২৯/১২/২০২৫ : শিলিগুড়িতে ৫ হাজার চা শ্রমিক যোগদান করলো ভাড়াটিয়া জনতা পার্টিতে। উত্তরবঙ্গে আরও শক্তি বাড়লো বিজেপির।
বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে বিজেপিতে ৫ হাজারের বেশি চা ও কারখানা শ্রমিকদের যোগদান।বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে শক্তি বাড়ালো বিজেপি। রবিবার শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িতে অবস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এক যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে প্রায় ৫হাজারের বেশি চা বাগান ও কারখানার শ্রমিক বিজেপিতে যোগ যোগদান করেন।বিভিন্ন দল ছেড়ে মূলত বিজেপির ভারতীয় চা শ্রমিক ইউনিয়নে শামিল হন তাঁরা।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার সাংসদ মনোজ টিগ্গা, শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ,মাটিগাড়া নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন,ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার বিজেপি বিধায়কেরা। সভায় জলপাইগুড়ি,মেখলিগঞ্জ ও মালবাজার সাব ডিভিশনের বিভিন্ন চা বাগান এবং বোতল কারখানার শ্রমিক নেতা ও শ্রমিকেরা অংশ নেন। এদিন সাংসদ মনোজ টিগ্গার হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করে শ্রমিকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। এই যোগদানের ফলে আগামী দিনে উত্তরবঙ্গে দল আরও মজবুত হবে বলে আশাবাদী সাংসদ মনোজ টিগ্গা।
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], নন্দীগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৯/১২/২০২৫ : নন্দীগ্রামে গেরুয়া শিবিরে ব্যাপক ভাঙন!! নন্দীগ্রামের ২ টি ব্লক থেকেই গেরুয়া শিবির ছেড়ে প্রায় ৮০ জন আদি বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীদের ঘাসফুল শিবিরে যোগদান! নন্দীগ্রামে ঘাঁটি শক্ত হচ্ছে তৃণমূলের বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামে ততই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদানের হিড়িক উঠছে। রবিবার নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের খোদামবাড়ি দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী সভাতে খোদামবাড়ী ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের আমড়াতলা , খোদামবাড়ী ও অন্যান্য গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ জন আদি বিজেপির সক্রিয় কর্মীরা তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করলেন। যোগদানকারী মোহন তুঙ্গ বলেন- ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীকে বুক চিতিয়ে লড়াই করে জিতিয়েছিলাম, তারপরে যোগ্যতম সম্মান আমরা পাইনি, তাই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন যত দিন যাচ্ছে ততই তৃণমূলে যোগদানের সংখ্যাটা বাড়ছে,যোগদানকারী বিজেপি কর্মীদের স্বাগত জানান সুজিত রায়,পাশাপাশি বলেন আদি বিজেপির কর্মীরাও স্বাগত।অন্যদিকে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের নন্দীগ্রামের চারগোলিয়া ৮৫ নম্বর বুথের ১০ টি পরিবারের প্রায় ৩০ জন বিজেপি নেতৃত্ব বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেন ।
যদিও এই যোগদানকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব মন্ডল সভাপতি সৌমিত্র দে, তিনি বলেন “মোহন তুঙ্গ ও অন্যান্যরা গত সমবায় সমিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল তাই ওরা অনেক আগেই থেকে তৃণমূলের সঙ্গে বা তৃণমূল এতে যুক্ত ছিল। এতে বিজেপির কোন ক্ষতি হবে না।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৭/১২/২০২৫ : রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে আর এর মধ্যেই আজ তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের একটি দল নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে দেখা করবেন মুখ্যম নির্বাচনী অধিকর্তার সাথে।
রাজ্যে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। শুনানির জন্যে নোটিশ দেওয়ার কাজ চলছে রাজ্যের ভোটারদেরকে।এরমধ্যেই আজ দুপুরবেলায় দুটো নাগাদ বিবিডি বাগে নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন অধিকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ জনের একটি দল। তৃণমূলের এই দলে থাকবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য, মানস রঞ্জন ভূঁইয়া, মলয় ঘটক, অরূপ বিশ্বাস ও শশী পাঁজা। তৃণমূলের এই দলটি আজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়ে দেখা করবেন মুখ্য নির্বাচন অধিকর্তার সাথে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে রাজ্যে ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জন ভোটারের মধ্যে মোট ৭,০৮,১৬,৬৩০ এসআইআর ফর্ম ফিল আপ করেছেন। ১৬ই ডিসেম্বর থেকে আগামী ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে নানারকম আবেদনগুলির শুনানি করা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে নিয়ে গিয়ে করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি।
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ২৭/১২/২০২৫ : বাংলাদেশে ঘটে চলা একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা। এর প্রতিবাদেই গতকাল রাত্রে বিজেপি সারের রাজপথে বিশাল মশাল মিছিলযাত্রা করল। এই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সাধারণ মানুষও।
বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, “যেভাবে পড়শী রাষ্ট্র বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে, নগ্ন করে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই মশাল মিছিল সংঘটিত করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটছে তার বিরুদ্ধে হিন্দুদের সংগঠিত হওয়া উচিত, আর যতক্ষণ না এই সংগঠন তৈরি হচ্ছে ততক্ষন আমাদের প্রতিবাদ এবং প্রচেষ্টা চলবে।”
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিফলন আমাদের দেশে এভাবেই পাওয়া যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষায়। শিলিগুড়ি শহর গর্জে উঠেছে প্রতিবাদে। এই শহরে কোনো হোটেলে কোনো বাংলাদেশিকে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও সিদ্ধান্তনেওয়া হয়েছে। সেই মর্মে শিলিগুড়ির সব হোটেলে পোস্টার পড়েছে। তা সে স্টুডেন্ট ভিসাতেই হোক বা মেডিকেল ভিসা, শিলিগুড়িতে বাংলাদেশিদের থাকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের শাখার সামনেও বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। পোড়ানো হয়েছে কুশপুতুল।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], টিটাগড়, উত্তর ২৪ পরগণা , ২৪/১২/২০২৫ : আগামী ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আর জিততে পারবেন না, তা সাফ জানিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। আজ একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই কথা জানান।
বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এদিন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কিচ্ছু করার নেই, ছাব্বিশের ভোটে তিনি আর আসছেন না। তৃণমূলের দলীয় কর্মসূচীতে পুলিশকে মাইক টেস্ট করতে বলে মমতা উচিত কাজ করেন নি বলে সমালোচনা করেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “পুলিশের এই পরিণতি হয়েছে। তাদেরকে রীতিমতো দলদাস বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সংবিধানে এমন নিয়ম নেই যে পুলিশকে জুতো পরিষ্কার করতে বলা হবে বা মাইক টেস্ট করে দিতে বলা হবে।”
হুমায়ুন কবীর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে এদিন অর্জুন সিং বলেন, “মুসলমানের নেতা একজন মুসলমানই হবে. অন্য ধর্মের কেউ হবে না। বাবর নিজে কখনো বাংলায় আসেন নি, কিন্তু তাঁর নামের শব্দ নিয়ে এই বাংলায় মুসলমান মানুষ এক কাঠ্ঠা হচ্ছেন, সেটা তো দেখাই গেলো। হুমায়ুন কবীর সেই কাজটা করে দেখিয়েছেন বাংলার রাজনীতিকে। মুসলমানরা তাদের নেতা পেয়ে গিয়েছেন, তাদের নেতা হুমায়ুন কবীর, ফিরহাদ হাকিম নন। ”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], বেলডাঙা , মুর্শিদাবাদ ২২/১২/২০২৫ : যেমনটা জানিয়েছিলেন, তেমনটাই আলাদা রাজনৈতিক দল ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নতুন এই দলের নাম জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP )।
ভরতপুরের সাসপেন্ড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের উদ্বোধন আজ। সোমবার সকাল থেকে জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অজস্ৰ লোকজন ইতিমধ্যে সভাস্থলে আসতে শুরু করেছে। হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যারা সভাস্থলে আসবেন। সভায় আসতে তাঁদের কোন সমস্যা হলে তাদের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন হেল্প লাইন নাম্বার এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই হেল্পলাইনে ফোন করলে অস্থায়ী ভলেন্টিয়াররা সেই সমস্ত ব্যক্তিদের গাইড করে সভাস্থলে নিয়ে আসবে।
আজ দুপুরবেলায় খাগরুগাড়ার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলের উদ্বোধন করার কথা হুমায়ুন কবীরের । একাধিক প্ররোচনার কথা তিনি তার বক্তব্যের মধ্যে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে বলেছেন যদি শাসক দলের হয়ে পুলিশ কোন বাধা দেয় তাহলে আমার দলের কর্মীরা সেই থানা ঘেরাও করে থানার ইট খুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি অগ্রিম ঘোষণা করেছেন আজকের সভায় প্রায় চার লক্ষাধিক লোক এই সমাবেশে শামিল হবেন। হুমায়ুন বলেছেন, ১৩৫ টি সিটে নতুন দলের তিনি প্রার্থী দেবেন। তার মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ টি আসন জিতবেন। হুমায়ূনের বক্তব্য, যে দলই সরকার গড়ুক, তাঁর দলের সমর্থন ছাড়া সেটা সম্ভব হবে না।
২৩০ ফুটের মঞ্চ তৈরী হয়েছে। ৪৯ বিঘা জায়গায় মধ্যে তার সভা হবে। রাজ্য রাজনীতির চোখ থাকবে আজকের এই সভা মঞ্চের দিকে। ভোটের চিহ্ন কি হবে তা এখনো জানান নি হুমায়ুন কবীর। আপাতত জোড়া গোলাপ চিহ্ন ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের এই নতুন দলের পতাকা বাংলার সব প্রান্তে উড়তে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৮/১২/২০২৫ : চলতি মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখে রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দুই দিন রাজ্য সফরে এসে তিনি রাজ্যের দলীয় নেতৃত্বকে প্রজনীয় নির্দেশ দেবেন।
ডিসেম্বরের ২৯ ও ৩০ তারিখে কলকাতায় থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দুই দিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোর কমিটির সাথে বৈঠক সারবেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলকে চাঙ্গা করতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিতেই এই রাজ্যে আসছেন তিনি। ভোটে যাওয়ার আগে এই মুহূর্তে দলের শক্তি কতটা তা যাচাই করতে চান অমিত শাহ। এবার বৈঠকে তিনি বুথ লেভেল পরিকল্পনা ও অন্যান্য কৌশল সম্বন্ধেও আলোচনা করে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নদীয়ার তাহেরপুরে একটি জনসভা করবেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে তাহেরপুরে এখন সাজো সাজো রব উঠেছে। প্রচুর মানুষের ভীড় হবে সেদিন, তাই এখন থেকেই তাহেরপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে এসেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। আজ তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি শহরে একটি সভা করবেন। আগামী শনিবার তিনি শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় যাবেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,১৮/১২/২০২৫ : “যারা আজ পশ্চিমবঙ্গকে অসম্মান করছে তারা কি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে পারবে ? ” বিরোধীদের সম্পর্কে আজ এই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে। ওরা ষড়যন্ত্র করতে চাইছে। বিজেপি বলেছিল রাজ্যে এক থেকে দেড় কোটি রোহিঙ্গা আছে, যাদের নাম এসআইআর করে বাদ যাবে এবং খসড়া তালিকাতেও সেটা দেখা যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বাতিল নামের যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে বিজেপির দাবী নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। আসলে এভাবেই ওরা পশ্চিমবঙ্গকে অসম্মান করতে চেয়েছিল।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে অসম্মান করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবাংলাকে অসম্মান করার জন্যে তাদের উচিত প্রকাশ্যে রাজ্যের দশ কোটি মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। সেটা কি তারা করবে ? যারা পশ্চিমবঙ্গকে রোহিঙ্গাদের প্রজনন কেন্দ্র বলেছিল। যারা বলেছিল এই রাজ্যে এক থেকে দেড় কোটি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী আছে, তাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।”
এবং তারপর, ১৮/১২/২০২৫ : নিউ টাউনের ঘুনি বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আগামী বছর নির্বাচনের আগে অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে ধরেছে। গতকাল রাতে দাউ দাউ করে পুড়ে গিয়েছে এই ঘুনি বস্তির একটা বড় অংশ.। বস্তি পুড়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষকে এই শীতের রাতেও খোলা কাশের নিচে ঠাঁই নিতে হয়েছে। চোখের সামনে সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি বহু মানুষের। তিল তিল করে জমিয়ে তোলা সঞ্চয় কিছুই বাঁচানো যায় নি।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট সিডি ব্লকে অবস্থান এই ঘুনি বস্তির। ঠাসাঠাসি ঝুপড়ি বাড়ি ঘর, বেশ ঘিঞ্জি এলাকা। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বাস এখানে। দিনরাত জীবিকা অর্জনের লড়াইয়ে ব্যস্ত এই বস্তির প্রতিটা মানুষ। ঠাসাঠাসি ঘিঞ্জি এই বস্তিতে একবার আগুন লেগে গেলে যে আর রক্ষা নেই, তা এই বস্তিটিকে দেখলেই বোঝা যায়। গতকাল রাতে ইকো পার্কের ৬ নম্বর গেটের কাছে এই বস্তিতে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়।
আগুন লাগার সাথে সাথে ঘুনি বস্তির মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে দিলেও সম্বিৎ ফিরে পেতেই তাঁরা আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। অবশ্য ততক্ষনে আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে ঘিঞ্জি বস্তির অন্যান্য দিকে। বস্তির ভিতর থেকে একের পর এক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফাটার আওয়াজ শুনতে পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যেই দমকলের বেশ কয়েকটা ইঞ্জিন এসে বস্তির আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দেয়। তবে জায়গাটি ঘিঞ্জি হওয়ার কারণে আগুন নেভাতে গিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকল বাহিনীকে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান সমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।
এভাবে শীতের রাতে কলকাতা বা আশেপাশের এলাকায় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগেও ঘটেছে। দমকল এসে আগুন নিভিয়েছে। কিন্তু ঘুনি বস্তির অগ্নিকান্ড নিয়ে রাজনীতির রং লেগে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ এই অগ্নিকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অন্তর্ঘাত। অর্থাৎ এই বস্তিতে ইচ্ছা করেই আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। অবশ্য সবটাই তাঁদের অভিযোগ।
ঘুনি বস্তিকে অনেকেই ‘বাংলাদেশী কলোনি’ নামে চেনে। এই বস্তিতে নাকি অনেক বাংলাদেশী মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার অবৈধভাবে এই দেশে প্রবেশ করেছে অর্থাৎ তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। এই বস্তিতে গিয়ে কিছুদিন আগেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের একাংশ। গেরুয়া শিবির স্পষ্ট করে বলতে চেয়েছে যখন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, ফর্ম ফিল আপ শেষ হয়েছে, বাতিল নামের খসরা তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। এবার শুনানি শুরু হবে, ঠিক সেই সময়েই এই বাংলাদেশী কলোনিতে আগুন লেগে গেলো ! এটা কিভাবে সম্ভব ?
আগুন লাগতেই পারে, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু ঠিক এমন সময় যখন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন শুনানি শুরু করতে চলেছে ! ঐ বস্তির মানুষ যদি এখন বলে যে আগুনে সমস্ত ডক্যুমেন্ট পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে, তাহলে তো আর কোনো কিছুই করার থাকবে না নির্বাচন কমিশনের ! তাই এই অগ্নিকাণ্ডকে অন্তর্ঘাত আখ্যা দিতে চাইছে রাজ্যের বিরোধী শিবির।
গতকাল রাতে কাঁকুড়গাছি অঞ্চলেও একটি বস্তি অঞ্চলে আগুন লেগে গিয়েছিল। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন এসআইআর এর শুনানির আগে আর কতগুলো ঝুপড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটবে সেটাই দেখার। গেরুয়া শিবিরের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল। তাঁরা জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে শিখুক ওরা”।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৬/১২/২০২৫ : মেসির সফরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বিশৃঙ্খলার পিছনে কারা ছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ।
মেসির কলকাতা সফরের সময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাজীব কুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্যে। পুলিশ জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে পীযুষ পাণ্ডে, জাভেদ শামীম সুপ্রতীম সরকার এবং মুরলীধরের সহযোগিতায় একটি দল গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন সেদিন ঠিক কি হয়েছিল, যার ফলে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এর পিছনে কি কারোর উস্কানি ছিল ?
তৃণমূল নেতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিন বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম পালন করেছেন। যে কাজ সিপিএম বা বিজেপি পারে না, সেই কাজ করে দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮০ সালের ১৬ই আগস্ট ময়দানে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তৎকালীন বাম সরকার কিন্তু কোনো তদন্তের নির্দেশ দেয় নি. বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও এমনভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় না. এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষেই সম্ভব।”
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দিতেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়ে একটি হাত চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি লিখেছেন নিরপেক্ষ তদন্ত যাতে করা যায় এবং তদন্তে যাতে কোনো রকম প্রভাব বিস্তার না হয়ে যায় তাই তিনি ক্রীড়া মন্ত্রীর পদ ছাড়তে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। অরূপ বিশ্বাসের এই ইস্তফা পত্র সম্পর্কে কুনাল ঘোষ কিছু বলতে চান নি. তিনি শুধু বলেছেন, “এটা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেসিকে একবার চোখের দেখা দেখতে প্রচুর মেসি ভক্ত হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে সেদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভীড় করলেও তাঁর মেসিকে আদৌ ভালোভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন, এবং মাঠে বোতল ছুঁড়তে থাকেন, স্টেডিয়ামের কিছু চেয়ার ভেঙে দেন। পুলিশ সেদিন ক্ষিপ্ত দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করতে মৃদু লাঠি চার্জ করে। এই ঘটনায় অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাকে যেমন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তেমন কয়েকজন দর্শককেও ভাংচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য ওই দর্শকদের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ করেছেন।