আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], ঘাটাল, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৫/১২/২০২৫ : সব ওসিদের একটা হাত আর একটা পা ভেঙে দেয়া হবে, ওরা ল্যাংড়ার মত ওরা চলতে থাকবে, বাঁচার চেষ্টা করবে অতএব তৃণমূলকে ওরা আর বাঁচাতে যাবে না, আজ মাইক হাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন কথা বললেন এক বিজেপি বিধায়ক।
ঘাটালে চলছিল রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ‘পরিবর্তন সভা’, সেই সভায় বিস্ফোরক বক্তব্য রাখলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শিতল কপাট। আগামী ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তীব্রভাবে হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিলেন তিনি। ২৬ এর নির্বাচনে পুলিশের একটি করে হাত এবং পা ভেঙে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন ঐ বিজেপি নেতা।
এদিন বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “হাত পা ভেঙে দিলে পুলিশ বলবে আমাদের বাঁচতে দিন, নির্বাচনে থাকবে না কোন তৃণমূল বিডিও এসডিও, এমনকি ২৬ এর নির্বাচনে থাকবে না কোন তৃণমূলের চোর নেতারা।” ঘাটাল ব্লকের এক নম্বর অঞ্চলের সুলতানপুরে শনিবার সন্ধ্যেয় পরিবর্তন সভায় উপস্থিত হয়ে মাইক হাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট।
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৫/১২/২০২৫ : মেসিকে দেখতে না পেয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে অব্যবস্থা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে গিয়েছিল, সেই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন দর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু দর্শকদের কখনোই গ্রেপ্তার করা ঠিক নয়, বলে মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মেসির ভক্ত। ওরা একটিবার চোখের দেখা দেখতে ছুটে গিয়েছিল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। কেউ কেউ নিজের সমস্ত সঞ্চয় ভেঙে টিকিট কিনে ছিল আবার কেউ কেউ ধার করে টাকার ব্য্যবস্থা করে টিকিট কেটেছিল। মাঠে গিয়ে তারা দেখেছিল মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছে রাজনৈতিক নেতা নেত্রী ও অভিনেতারা, যে তাকে দেখাই যাচ্ছে না। চরম হতাশা থেকে তারা বোতল ছোঁড়া বা চেয়ার ভাঙার কাজ করে ফেলেছে। কিন্তু সেই কারণে তাদেরকে এভাবে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো ঠিক হচ্ছে না।”
নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি আমার আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতিকে অনুরোধ করেছি যাতে এই ধরনের মামলায় এই দর্শকদের একটু সহানুভূতি দেখানো যায়. তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং এফআইআর যেন করা না হয়।” শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ” বরং ঐ দিনের ঘটনার জন্যে গ্রেপ্তার করা উচিত অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুকে। সেদিন প্রশাসনের অব্যবস্থার জন্যেই মেসিকে দর্শকাসন থেকে ঠিকমতো দেখতে পায় নি মেসির ভক্তেরা। ”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], নতুন দিল্লী, ভারত, ১২/১২/২০২৫ : শেষমেশ এসআইআর এর এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুক্রবার এমনটাই দাবী করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য।
অমিত মালব্য মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণকে বলেছিলেন যে তিনি এসআইআর হতে দেবেন না, এমনকি এনুমারেশন ফর্ম তিনি জমা করবেন না। অথচ তিনি নিজের ফর্ম জমা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রেও তিনি জনগণকে ভুল দিকে চালিত করার চেষ্টা করেছিলেন’। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেভাবে এসআইআর করার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন এবং এই কাজগুলিকে সমর্থন করেছেন তাতে বেশ খুশি অমিত মালব্য।
বিজেপি নেতা অমিত মালব্য দাবি করেছেন যে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ দিনে অন্তিম মুহূর্তে তাঁর এমুনারেশন ফর্ম ফিল আপ করে জমা করেছেন। যদিও তার কয়েক ঘণ্টা আগেই কৃষ্ণনগরে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মমতা বলেছিলেন যে তিনি ঐ এমুনারেশন ফর্ম জমা করবেন না। কিন্তু তা সত্বেও সেই ফর্ম তিনি জমা করেছেন নিয়ম মেনেই। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জংগ্রেস যে মিথ্যাচার করছে তার ওপর সাধারণ মানুষ আর ভরসা করছে না।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, ০৪/১২/২০২৫ : শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত বহিস্কার করে দিল বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে। তৃণমূল ভবনে আজ এই বিষয়টি স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
এর আগে বেশ কয়েকবার নানারকম মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর আগে বিভিন্ন সময়ে দল তাঁকে সতর্ক করেছে। শোকজ করেছে। কিন্তুও সে সবে ঘুম ভাঙে নি হুমায়ুন কবীরের। তিনি স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন নিজের মেজাজে। কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে আগামী ৬ই ডিসেম্বর তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙার মির্জাপুর অঞ্চলে নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন। এও জানিয়েছিলেন, এই ব্যাপারে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। আর বিষয়টি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথেও কোনো কথা বলবেন না।
তাঁর এই বাবরি মসজিদ প্রকল্পের ব্যাপারে জানতে চেয়ে তাঁকে দল শোকজ করেছিল, এবার তাঁকে দল থেকে বহিস্কার করে দেওয়া হল। আজ হুমায়ুন কবীর মমতার সভায় হাজির ছিলেন, কিন্তু নিজের সাসপেন্ড হওয়ার খবর পেয়ে মাঝপথেই সভা ছেড়ে তিনি চলে যান। এদিন হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এবার তিনি নিজের দল তৈরি করবেন। তৃণমূলকে উপরে ফেলবেন। বিধায়ক পদও হয়তো তিনি ছেড়ে দেবেন। তবে আগামী ৬ তারিখ বেলডাঙ্গায় তিনি বাবরি মস্দেজিদের শিলান্যাস অবশ্যই করবেন। তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে বিজেপির উস্কানিতেই হুমায়ুন কবীর এই ধরনের কাজ করে চলেছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ, ০৪/১২/২০২৫ : বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গিয়েছিল হুমায়ুন কবীরের কাছে। এই প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন “মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ তিনি বুধবার পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী যা নির্দেশ দেবেন। তিনি তা মানবেন।”
এদিকে আগামী ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস হবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি এদিন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সভায় আমি অবশ্যই যাব, কিন্তু কোন মতেই আমি আর পিছিয়ে আসব না। বাবরি মসজিদ হবেই, ৬ তারিখ হবে ভিত্তিপ্রস্তর।” পাশাপাশি তিনি ও বলেন রাজ্যপাল আমাকে বলছে গৃহবন্দি করে গ্রেফতার করতে। তিনি বরং রাজ্যপাল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিধানসভার নির্বাচনে দাড়িয়ে যান। মুর্শিদাবাদ আসছেন, অরিজিৎ সিংয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে,ন এটা কি তার কাজ ? আজ বিকালে মঞ্চে দেখতে পাবেন।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা সবাই আসুন এলেই বুঝবেন কোথায় হচ্ছে বাবরী মসজিদ।” বুধবার সন্ধ্যায় নিজের বাসভবনে সাফ জানালেন হুমায়ুন কবির।
রাজ্যের বিজেপি সাংসদদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক সারলেন নরেন্দ্র মোদী
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] নতুন দিল্লী, ভারত, ০৩/১২/২০২৫ : পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির ময়দানে তৃণমূলকে আরও কোনঠাসা করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ব্যাপারে আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সাংসদদের করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বন্ধ করার জন্যে তৃণমূল কংগ্রেস লাগাতার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নানারকম রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছে। এই ধরনের প্রচারকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কি আদৌ প্রতিহত করতে পারছে ? এসআইআর-এর কারনে মৃত্যুর ঘটনাগুলিকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে প্রচারের সুযোগ নিচ্ছে, তাকে রাজ্য বিজেপি ঠিক মোট কাউন্টার করতে পারছে কি না সেই বিষয়গুলি নিয়ে আজ রাজ্যের সাংসদদের সাথে বৈঠক করলেন নরেন্দ্র মোদী।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির সাংসদ রয়েছেন মোট ১৪ জন, তার মধ্যে রাজ্যসভায় আছেন ১২ জন এবং রাজ্য থেকে আছেন ২ জন সাংসদ। এই সাংসদরা ছাড়াও বিজেপির যে নেতারা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, তাঁদেরকে তৃণমূল জংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে আরও কোনঠাসা করার নির্দেশ দেওয়া হল কেন্দ্রীয় বিজেপি দপ্তর থেকে। আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। সেই নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস যে সব ইস্যুকে নিয়ে প্রচার চালাতে শুরু করবে সেইসব ইস্যুগুলিকেই পাল্টা হিসেবে বিজেপি প্রচার শুরু করবে, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬এর নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা কর্মীদের সর্ব শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,২৭/১১/২০২৫ : আগামী ৬ই ডিসেম্বর বেলডাঙ্গায় নতুন বাবরি মসজিদের শিলান্যাস নিয়ে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন যে আগামী ৬ই ডিসেম্বর (যেদিন অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার মির্জাপুর অঞ্চলে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের আদলে বিশালাকার একটি মসজিদের শিলান্যাস করা হবে। সেই মসজিদের নাম দেওয়া হবে বাবরি মসজিদ। এই মসজিদের শিলান্যাস তিনি নিজে হাতে করবেন।
হুমায়ন কবীরের এই বক্তব্যকে সমালোচনা করে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বৃহস্পতিবার বলেন, “এই লোকটি এর আগেও হিন্দুদের হুমকি দিয়েছিল। আসল কথা হচ্ছে এই লোকটি ইতিহাস জানে না। আমি তাকে বাবরনামার অনুবাদ পড়তে বলব। আমি জিজ্ঞাসা করব বাবর কে ছিল ? বাবরের সাথে তার কি সম্পর্ক ? ইসলামে সেসব অনুমোদিত আছে কিনা ! আগে তাকে পড়তে দিন। এরা তো কিছুই পড়ে না। এই সব লোক হল মাদ্রাসা ছাপ, তাই তারা কিছুই জানে না। তারা কিছুই পড়ে না আর সেই কারণেই এই ধরনের মন্তব্য করে।”
আগামী ৬ই ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ৩৩ বছর পূর্ণ হয়ে যাবে। আর ওই দিনেই বেলডাঙ্গায় নয়া বাবরি মসজিদ বানানোর জন্যে শিলান্যাস করবেন বলে বেশ বিতর্ক শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হুমায়ূনের এই মন্তব্যকে ঘিরে ঝড় উঠেছে সমাজ মাধ্যমেও। এদিকে রাজনীতির ময়দানের মানুষরাও এই ব্যাপারে নিজেদের মতামত দিতে শুরু করেছেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] নতুন দিল্লী, ভারত, ২৩/১১/২০২৫ : নির্বাচন কমিশনের চাপের মুখে আত্মহত্যার ঘটনা শুধুমাত্র যে পশ্চিমবঙ্গেই ঘটছে তা নয়, দেশজুড়ে যেখানে যেখানেবিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চলছে সেখানে সেখানেই ঘটছে এই অপ্রত্যাশিত আত্মহত্যার ঘটনা, আজ এই তথ্য দিয়ে বিজেপিকে রীতিমত আক্রমন শানালেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
দিন দুয়েক আগেই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় এক মহিলা বিএলও কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিষয়টিকে বিএলও কর্মীদের ওপর নির্বাচন কমিশনের অত্যাধিক ‘চাপ’ দেওয়া বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মত কেরালাতেও চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের এসআইআর। কেরালার কান্নুরে আজ এক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন। কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের অত্যধিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই ঐ বিএলও কর্মী আত্মঘাতী হয়েছেন।
খাড়গে জানিয়েছেন এই ঘটনা শুধু যে পশ্চিমবঙ্গে আর কেরালাতেই হচ্ছে তেমনটা নয়, এই ঘটনা ঘটে চলেছে যে যে রাজ্যে এসআইআর করা হচ্ছে সেইসব রাজ্যেও। মল্লিকার্জুন খাড়গে এর জন্যে দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে। যে অল্প সময়ের মধ্যে সামান্য ট্রেনিং দিয়ে ব্লক লেভেল অফিসারদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
কংগ্রেস নেতা খাড়গে জানিয়েছেন, “ছয় রাজ্যে মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।” কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অত্যাধিক চাপের ফলেই এই আধিকারিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসআইআরকে তিনি নোট বন্দী বা লক ডাউনের সাথে তুলনা করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
খাড়গে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ” বিজেপির ভোট চুরি একটা মারাত্মক মোড় নিয়েছে। কাজের চাপ দিয়ে তারা বিএলও এবং পোলিং অফিসারদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রিয়জনকে হারিয়েছে এমন প্রতিটা পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। রিপোর্টে যা দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি আর সেটাই উদ্বেগজনক। এই পরিবারগুলিকে কে ন্যায় বিচার দেবে ?”
বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন কুনাল ঘোষ
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২২/১১/২০২৫ : এসআইআর নিয়ে এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশননকে তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুনাল ঘোষ.
রাজ্যে চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে এস আই আর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠে এসেছে। এবার এই প্রক্রিয়াকে নির্বাচন কমিশনের ওপর বিজেপির রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হিসেবে দেখাঁতে চাইলেন তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষ। এই তত্ব তুলে ধরতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করতেও ছাড়েন নি।
কুনাল ঘোষ বলেছেন যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসলে প্রকৃত ভোটারদেরকেই টার্গেট করা হচ্ছে। হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রকৃত ভোটার এবং বিএলও আধিকারিকরা আত্মহত্যা করছেন। ভোটার তালিকা থেকে কোনো প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়া উচিত নয়, আবার কোনো অবৈধ বা ভুয়ো ভোটারের নামও তালিকায় থাকা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
এক কোটি নাম বাদ হয়ে গেলে উনি জিতবেন কিভাবে ? প্রশ্ন শুভেন্দুর
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/১১/২০২৫ : “রাজ্যে চলতে থাকা এসআইআর থামানোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ?” প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যে এই মুহূর্তে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। তবে সেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বিএলওদের প্রশিক্ষণে যথেষ্ট ফাঁক থেকে গিয়েছে। বাধ্যতামূলক নথিপত্রের ব্যাপারে স্পষ্টতার অভাব রয়ে গিয়েছে। গোটা বিষয়টির পরিকাঠামো ত্রুটিযুক্ত রয়েছে। এই কারণে গোটা প্রক্রিয়াটাই অকার্যকর হয়ে উঠেছে।” এসআইআর জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ধরনের প্রক্রিয়াকে ‘অপরিকল্পিত’, ‘বিশৃঙ্খল’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে দিল্লী থেকে রাজ্যে এসআইআর এর এর কাজ কর্ম নিরীক্ষণ করতে এসেছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। আজ তাঁরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। নিউ টাউনে ইভিএম নিয়ে একটি কর্মশালাও করা হয়েছে। এই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া চিঠি নিয়ে আলোচনাও হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন যাতে এসআইআর বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এসআইআর থামানোর তিনি কে ? এটি সাংবিধানিক একটি সংস্থার ওপর এক ধরনের আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এসআইআর কোনো নতুন ঘটনা নয়, এই ধরনের ঘটনা দেশে নবমবারের মত ঘটছে। প্রথম দিন থেকেই তিনি মানুষকে ভয় দেখিয়ে চলেছেন। প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানারকম কথা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে গালি দিচ্ছেন।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, ” যদি ৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হয়, তাহলে এপ্রিলে নিশ্চয়ই ভোট হবে না। মৃত, ভুয়ো এবং অবৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে হট্টগোল করছেন। যখন এক কোটিরও বেশি ভুয়ো, অবৈধ, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের নাম বাদ হয়ে যাবে, তখন তিনি কিভাবে জিতবেন ? তৃণমূলের সাথে বিজেপির ভোট পার্থক্য মাত্র ২২ লক্ষের কাছে।”