
এবং তারপর, ১৮/১২/২০২৫ : নিউ টাউনের ঘুনি বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আগামী বছর নির্বাচনের আগে অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে ধরেছে। গতকাল রাতে দাউ দাউ করে পুড়ে গিয়েছে এই ঘুনি বস্তির একটা বড় অংশ.। বস্তি পুড়ে যাওয়ার কারণে বহু মানুষকে এই শীতের রাতেও খোলা কাশের নিচে ঠাঁই নিতে হয়েছে। চোখের সামনে সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি বহু মানুষের। তিল তিল করে জমিয়ে তোলা সঞ্চয় কিছুই বাঁচানো যায় নি।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট সিডি ব্লকে অবস্থান এই ঘুনি বস্তির। ঠাসাঠাসি ঝুপড়ি বাড়ি ঘর, বেশ ঘিঞ্জি এলাকা। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বাস এখানে। দিনরাত জীবিকা অর্জনের লড়াইয়ে ব্যস্ত এই বস্তির প্রতিটা মানুষ। ঠাসাঠাসি ঘিঞ্জি এই বস্তিতে একবার আগুন লেগে গেলে যে আর রক্ষা নেই, তা এই বস্তিটিকে দেখলেই বোঝা যায়। গতকাল রাতে ইকো পার্কের ৬ নম্বর গেটের কাছে এই বস্তিতে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়।
আগুন লাগার সাথে সাথে ঘুনি বস্তির মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে দিলেও সম্বিৎ ফিরে পেতেই তাঁরা আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। অবশ্য ততক্ষনে আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে ঘিঞ্জি বস্তির অন্যান্য দিকে। বস্তির ভিতর থেকে একের পর এক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ফাটার আওয়াজ শুনতে পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যেই দমকলের বেশ কয়েকটা ইঞ্জিন এসে বস্তির আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দেয়। তবে জায়গাটি ঘিঞ্জি হওয়ার কারণে আগুন নেভাতে গিয়ে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকল বাহিনীকে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান সমকল মন্ত্রী সুজিত বসু।
এভাবে শীতের রাতে কলকাতা বা আশেপাশের এলাকায় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগেও ঘটেছে। দমকল এসে আগুন নিভিয়েছে। কিন্তু ঘুনি বস্তির অগ্নিকান্ড নিয়ে রাজনীতির রং লেগে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ এই অগ্নিকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি অন্তর্ঘাত। অর্থাৎ এই বস্তিতে ইচ্ছা করেই আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। অবশ্য সবটাই তাঁদের অভিযোগ।
ঘুনি বস্তিকে অনেকেই ‘বাংলাদেশী কলোনি’ নামে চেনে। এই বস্তিতে নাকি অনেক বাংলাদেশী মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার অবৈধভাবে এই দেশে প্রবেশ করেছে অর্থাৎ তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। এই বস্তিতে গিয়ে কিছুদিন আগেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমের একাংশ। গেরুয়া শিবির স্পষ্ট করে বলতে চেয়েছে যখন রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, ফর্ম ফিল আপ শেষ হয়েছে, বাতিল নামের খসরা তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। এবার শুনানি শুরু হবে, ঠিক সেই সময়েই এই বাংলাদেশী কলোনিতে আগুন লেগে গেলো ! এটা কিভাবে সম্ভব ?
আগুন লাগতেই পারে, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু ঠিক এমন সময় যখন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন শুনানি শুরু করতে চলেছে ! ঐ বস্তির মানুষ যদি এখন বলে যে আগুনে সমস্ত ডক্যুমেন্ট পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে, তাহলে তো আর কোনো কিছুই করার থাকবে না নির্বাচন কমিশনের ! তাই এই অগ্নিকাণ্ডকে অন্তর্ঘাত আখ্যা দিতে চাইছে রাজ্যের বিরোধী শিবির।
গতকাল রাতে কাঁকুড়গাছি অঞ্চলেও একটি বস্তি অঞ্চলে আগুন লেগে গিয়েছিল। দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিরোধী শিবিরের প্রশ্ন এসআইআর এর শুনানির আগে আর কতগুলো ঝুপড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটবে সেটাই দেখার। গেরুয়া শিবিরের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল। তাঁরা জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে শিখুক ওরা”।
![]()