আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ২৮/০৩/২০২৬ : রঘুনাথগঞ্জে যে রামনবমীর মিছিলে গন্ডগোল হয়েছিল, তার জন্যে তাঁকে দোষারোপ করা না হয় বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রঘুনাথগঞ্জে রাম নবমীর মিছিলে যে গন্ডগোল হয়েছিল তার জন্যে আমাকে যেন দায়ী করা না হয়. নির্বাচন কমিশন আমার সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অফিসার এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং এখন সৱ কিছুই আর আমার নিয়ন্ত্রণে নেই. তাই রঘুনাথগঞ্জ গন্ডগোলের জন্যে আমাকে দায়ী করবেন না।”
মমতা এদিন বলেন, “রঘুনাথগঞ্জে গন্ডগোল উস্কে দেওয়া হয়েছে। দোকানপাট ভাংচুর করা হয়েছে। আমরা সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠিয়েছি। দেখতেই পাচ্ছেন সব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। আমরা সব ধর্ম ও বর্ণের উৎসব পালন করি। রাম নবমীর দিন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে তিনটি জায়গায় গণ্ডগোলের খবর পাওয়া গিয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৮/০৩/২০২৬ : কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ. আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করলেন।
কলকাতার একটি হোটেলে আজ সাংবাদিক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “মমতা দিদি ভোটের আগে সবসময় ভিকটিম কার্ড খেলেন, এইভাবেই তিনি বাঙালির আবেগকে নিজের দিকে নিয়ে যান এবং ভোটে লড়াই করেন। ” এদিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অমিত শাহ দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার হন. যাকে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট হিসেবে ব্যক্ত করেছে।
অমিত শাহ আজ বলেন, “ভোট আসলেই মমতা দিদি এমন একটা অভিনয় করেন যেন মনে হয় তিনি ভুক্তভোগী, বঞ্চিত, বাংলা বঞ্চিত, কেন্দ্র সরকার শুধুই বঞ্চনা করে চলেছে। কখনও তাঁর পা ভাঙে, কখনও মাথা ফাটে। কখনও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, আবার কখনো তিনি এমন অসহায়তা দেখান যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই গালিগালাজ করেন। তাঁর এই ভিকটিম কার্ড খেলে ভোটে লড়ার অভ্যাসটা বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে।”
অমিত শাহ আরও বলেন, ” দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর হয়েছে, কিন্তু কোথাও বিচার বিভাগীয় কর্তাদের নিয়োগ করতে হয় নি, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে করতে হয়েছে। মমতা দিদি এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে যাচ্ছিলেন। মমতা দিদিকে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশিরাও বাংলায় কথা বলেন, কিন্তু কোনো বাংলাদেশিকে আমরা অনুপ্রবেশ করতে দেব না। উনি বাংলাদেশিদের হয়ে কথা বলছেন। অনুপ্রবেশকারীরা ভোটাধিকার হারিয়েছে, এবার নাগরিকত্বও হারাবে।”
আজ খবর (বাংলা), খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর , ২৮/০৩/২০২৬ : নকশালবাড়ির স্কুলের মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাষণ দিয়েছেন, সেই ভাষণের অডিও রেকর্ডিং চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর তার পরেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, যে “রাজ্য থেকে এবার জঙ্গলরাজ দূর হবে।”
নকশালবাড়ির নন্দপ্রসাদ গার্লস হাই স্কুল এর মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন “সমস্ত মহিলারা যেন ভোটকেন্দ্রে থাকেন এবং দরকারে রান্না করার সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেন।” মমতার এই বক্তব্যকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
এই ভাষণের অডিও রেকর্ডিং চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার পর আজ বিজেপি নেতা ও খড়্গপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের খুশি করতে চাইছেন। কিন্তু সেটা আর হবে না। এই রাজ্য থেকে জঙ্গল রাজ শেষ হবেই। অমিত শাহ আসছেন, তিনি এসে যখন আমাদের সংকল্প পত্র প্রকাশ করবেন, তখন বিজেপির স্বরূপ দেখতে পাবে তৃণমূল কংগ্রেস।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৭/০৩/২০২৬ : পেট্রোল-ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ঠিক যেন শাড়ির দোকানে গিয়ে হঠাৎ পছন্দমতো কিছু কিনে নেওয়ার মতো।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নীতিতে কোনও স্থিরতা নেই। কখনও হঠাৎ করে শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে, আবার রাজনৈতিক বা পরিস্থিতিগত চাপে তা কমানো হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদে কোনও বাস্তব স্বস্তি আসছে না।
তিনি আরও দাবি করেন, “রাজ্য সরকার বহুবার কেন্দ্রকে জ্বালানির ওপর কর কমানোর আবেদন জানিয়েছে, কিন্তু তা গুরুত্ব পায়নি। এখন হঠাৎ করে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত করেন।”
ওই দিন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করা হবে
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৬/০৩/২০২৬ : আগামী ২৮ তারিখে ফের রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করতে চলেছেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে আগামী ২৮ তারিখ ভোটের প্রচার করতে ফের রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই দিন তিনি যে জনসভা করবেন, সেই সভায় গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে সরকার চালাতে গিয়ে যে সব দুর্নীতি করেছে, তার বিশদ খতিয়ান তুলে ধরবেন, সেই খতিয়ানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চার্জশিট’। সেদিন অমিত শাহ একেরপর এক চার্জশিট পেশ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদ্ধ করতে চান। ঐ দিন প্রচারে তিনি তৃণমূল সরকারের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে।
এরই পাশাপাশি বিজেপি নিজেদের ইশতেহার প্রকাশের প্রস্তুতিও নিয়েছে। দলীয় ইশতেহার প্রকাশের আগে অমিত শাহের মত নেতার অনুমোদন নেওয়াও হতে পারে। বিজেপি সম্ভবত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করতে চলেছে তাদের ইশতেহার।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬/০৩/২০২৬ : তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের একবার সুর চড়ালেন খড়্গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ ঘোষ আজ সাংবাদিকদের বলেন, “রাজ্য সরকার রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে আদৌ ন্যায় বিচার করে নি। রাজ্যে যে রাজনৈতিক দলগুলি মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়ে কথা বলে, তারাও বুঝতে পেরেছে যে বিগত দিনগুলিতে রাজ্য সরকার মুসলিমদের প্রতি সুবিচার করে নি। তাই ভোটারদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যাদেরকে তাঁরা এতদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, মুসলমানদের ভাবা উচিত যে আর কতদিন তাদেরকে তাঁরা ভোট দিয়ে যাবেন। আমরাও মুসলমানদের উন্নতি চাই।
খড়্গপুর থেকে বিজেপির নির্বাচন প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।শাসক দল তাঁর আক্রমণের নিশানায় থাকে বরাবর। আজও ছিল. তবে আজ তিনি প্রধানত মুসলিম ভোট নিয়েই বেশি কথা বললেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগণা , ২৬/০৩/২০২৬ : আর জি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটি কেন্দ্র থেকে। আজ থেকেই তিনি ভোটের প্রচারে নামছেন।
আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষিতা এবং খুন হতে হয়েছিল ঐ মেডিকেল কলেজেরই এক পড়ুয়া ডাক্তারকে। নির্যাতিতার সমর্থনে সেই সময় প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল গোটা রাজ্য। প্রতিবাদ জানিয়ে রাতের পর রাত জেগেছিল। তবু বিচার অধরা রয়ে গিয়েছে। নির্যাতিতার বাবা- মা মনে করেন তাঁদের মেয়ের আসল খুনি বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁদের মেয়ে এখনও সুবিচার পান নি।
এবার শুধু নিজের মেয়েই নয়, এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যে সব মেয়েদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চলেছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তিনি বিজেপির হয়ে উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটি কেন্দ্র থেকে আজ থেকেই প্রচারে নামছেন। এদিন তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “এটাও একটা বিজয়, আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি। নির্বাচনের লড়াইয়ে আমি জিতবো না, পানিহাটির সব মানুষ জিতবে। এই সরকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। অথচ সবাইকে সমান অধিকার দেওয়া উচিত। আমার মেয়ে আর জি কর মেডিকেল কলেজে পড়তে গিয়ে নিহত হয়েছে। তারপর থেকে অনেক ঘটনায় ঘটছে ঐ হাসপাতালে। আমি জনগণকে বলব, আমার কাছে আর কিছুই নেই, আমার ঘর শূন্য, তাই আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার আদায় করতে চাই।”
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কি এবার জিততে পারবে ? নাকি বিজেপি গড়বে নতুন সরকার ?
এবং তারপর, (আজ খবর) [রাজনীতি] , ২৪/০৩/২০২৬ : আর কিছুদিন পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে উত্তেজনার পারদ রোজই চড়তে শুরু করেছে। বিজেপি দাবী করছে যে এবার হারতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস, পরাজিত হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিজেপির প্রথম যুক্তিটি হল যেহেতু রাজ্যে এসআইআর করা হয়েছে, তাই তৃণমূল কংগ্রেসকে যে ভুয়ো ভোটাররা এতদিন জিতিয়ে এসেছে তারা আর ভোট দেওয়ার সুযোগই পাবে না। ফলে এবার আর সেভাবে ছাপ্পা ভোটের ভয় নেই। ভোটের ফলাফল শাসক দলের বিরুদ্ধে যাবে।
দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক কাজে তৃণমূলের ফেভারিট আধিকারিকদের অনেককেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিক, আমলা, পুলিশ কর্তাদের কেউ এবার আর শাসক দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারবে না। তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু ভোট এবার আর তৃণমূল দলের সাথে সেভাবে নেই। তৃণমূল দল থেকে বহিস্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল ঘোষণা করে ওবেইসির মিম দলের সাথে হাত মিলিয়েছেন, ওদিকে নওয়াজ সিদ্দিকী সাহেবের আইএসএফ দলটি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। সুতরাং সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হচ্ছেই। এক্ষেত্রেও তৃণমূলের ভোট কমছে।
চতুর্থত, নির্বাচন কমিশন এবার অনেক বেশি কঠোর। অনেক নতুন নিয়ম এসেছে। একটা বুথে ভোটারের সংখ্যাও সীমিত। এবার মাত্র দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও থাকছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। তার ওপর সরকারি কর্মী, শিক্ষক সমাজ, চিকিৎসক সমাজ অনেকেই শাসক দলের বিরুদ্ধ মনোভাবাপন্ন হয়ে রয়েছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বার কয়েক ধাক্কা খেয়েছে হাইকোর্ট আর সুপ্রীম কোর্টে। বিরোধী ইন্ডি জোটের শক্তিও কমেছে। আরজিকর হাসপাতালে অভয়া নিয়েও চূড়ান্ত ক্ষোভ রয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে আরজিকর হাসপাতালেই লিফ্ট কাণ্ড নিয়ে নতুন ঝড় উঠেছে। সব দিক থেকেই এবার নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট ব্যাকফুটে রয়েছেন।
কিন্তু সত্যিই কি তাই ? বিজেপি কি সত্যিই বুদ্ধির জোরে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পারবে ? জন সমর্থন কি সত্যিই এবার রাজ্যে গেরুয়া শিবিরকেই চাইছে ? রাজ্যে বিজেপির সংগঠন কি সত্যিই এতটা মজবুত যে শেষ হাসিটা হাসতে পারবে পদ্ম শিবির ? আসুন দেখে নিই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কি কি কারনে তিনি নির্বাচনে জিততে পারেন, আর কি কি কারণে তিনি হারতে পারেন !
প্রথমে দেখে নেওয়া যাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস যদি জিতে যায়, তাহলে কোন কোন বিষয় তাদেরকে জিতিয়ে দিতে পারে ?
১. শক্তিশালী গ্রাসরুট সংগঠন (Booth Level Strength)
তৃণমূল কংগ্রেস-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের বুথ-স্তরের সংগঠন। গ্রাম থেকে শহর—প্রতিটি এলাকায় কর্মী নেটওয়ার্ক থাকলে ভোট ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই নেটওয়ার্ক এখনও অনেক জায়গায় শক্তিশালী।
২. নারী ভোটব্যাঙ্ক (Women Voters)
মমতা সরকারের প্রকল্পগুলো—যেমন:
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
কন্যাশ্রী
রূপশ্রী
এই স্কিমগুলো নারী ভোটারদের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, নারী ভোটই তৃণমূলের “game changer”।
৩. ওয়েলফেয়ার পলিটিক্স (Direct Benefit Schemes)
ফ্রি রেশন, স্বাস্থ্যসাথী, ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ—এইসব সরাসরি সুবিধা ভোটারদের মধ্যে একটা “security feeling” তৈরি করে।যারা সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন, তারা সাধারণত সরকারকে সমর্থন করতে চান।
৪. বিরোধীদের বিভক্তি
প্রধান বিরোধী হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি থাকলেও—
স্থানীয় স্তরে নেতৃত্ব সমস্যা
কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে ভোট ভাগ হওয়া
এতে anti-incumbency vote একজোট নাও হতে পারে।
৫. “বাংলা বনাম বহিরাগত” ন্যারেটিভ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আঞ্চলিক পরিচয় (Bengali identity) তুলে ধরেন।এই আবেগ অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মধ্যবিত্ত অংশে।
৬. ব্যক্তিগত ইমেজ (Strong Leadership Image)
মমতার ইমেজ:
“মাটি থেকে উঠে আসা নেতা”
সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ
অনেক ভোটার এখনও তাঁকে “accessible leader” হিসেবে দেখেন।
৭. সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক
সংখ্যালঘু ভোট পশ্চিমবঙ্গে বড় ফ্যাক্টর।
যদি এই ভোট একদিকে যায়, তাহলে ফলাফল অনেকটাই প্রভাবিত হয়।
৮. নির্বাচনী কৌশল (Campaign Strategy)
Door-to-door campaign
Local issue-based messaging
Social media + ground mix strategy
এই hybrid model এখন বেশ কার্যকর।
তবে জয়ের পথে বাধাও আছে
Balanced analysis হিসেবে বলি—সবকিছু একপাক্ষিক নয়:
দুর্নীতির অভিযোগ (SSC, coal scam ইত্যাদি)
anti-incumbency (দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ক্লান্তি)
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত
বেকারত্ব ইস্যু
এগুলো যদি বড় ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে, তাহলে ফল বদলাতেও পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিততে পারেন যদি:
নারী + সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে পারেন
গ্রাসরুট সংগঠন সক্রিয় থাকে
বিরোধীরা একজোট না হয়
কিন্তু ভোটের ফল পুরোপুরি নির্ভর করবে ground sentiment + last-mile campaign execution-এর ওপর .
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হারতেও পারেন—এটা সম্পূর্ণই নির্ভর করছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক ফ্যাক্টরের ওপর। বাস্তবভিত্তিকভাবে এগুলো বোঝা জরুরি —
১. Anti-Incumbency (দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ক্লান্তি)
২০১১ থেকে টানা শাসন করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
অনেক ভোটারের মধ্যে “পরিবর্তন চাই” মনোভাব তৈরি হতে পারে গ্রামীণ এলাকায় এই ফ্যাক্টর বেশি কাজ করে
২. দুর্নীতির অভিযোগ (Corruption Factor)
SSC নিয়োগ কেলেঙ্কারি
কয়লা ও গরু পাচার ইস্যু
বিরোধীরা এই ইস্যুগুলোকে বড় করে তুললে “clean image” ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
৩. কর্মসংস্থান সমস্যা (Unemployment)
যুব সমাজের বড় অংশ চাকরি ও সুযোগ নিয়ে অসন্তুষ্ট।
“চাকরি নেই” ইস্যু যদি ভোটের কেন্দ্রে আসে, সেটা বড় ক্ষতি করতে পারে
৪. আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ
কিছু ক্ষেত্রে:
রাজনৈতিক হিংসা
স্থানীয় দাদাগিরি
নারী নিরাপত্তা ইস্যু
এই বিষয়গুলো মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি ছড়ালে negative perception তৈরি হয়
৫. বিরোধীদের শক্তিশালী সংগঠন (Rise of BJP)
ভারতীয় জনতা পার্টি গত কয়েক বছরে বাংলায় সংগঠন অনেক শক্ত করেছে।
যদি তারা:
booth-level শক্তি বাড়ায়
শক্তিশালী মুখ তুলে ধরে
তাহলে সরাসরি প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে
৬. বিরোধীদের একজোট হওয়া
যদি:
BJP + Congress + Left tacit understanding করে অথবা ভোট বিভাজন কমে যায়
তাহলে anti-TMC vote একত্রিত হয়ে যেতে পারে
৭. গ্রামীণ অসন্তোষ (Rural Distress)
পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ
স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
গ্রামীণ ভোট swing করলে ফল দ্রুত বদলায়
৮. সংখ্যালঘু ভোটে ভাঙন
তৃণমূলের বড় শক্তি সংখ্যালঘু ভোট।
যদি:
নতুন কোনো দল প্রভাব ফেলে
ভোট ভাগ হয়ে যায়
তাহলে বড় ধাক্কা লাগতে পারে
৯. কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ
CBI, ED তদন্ত নিয়ে বিরোধীরা narrative তৈরি করে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে “government under pressure” ইমেজ তৈরি হতে পারে
এবার বিজেপি নির্বাচনে জেতার জন্যে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, নিজেদের শাসন ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর তৃণমূল কংগ্রেসও. এরপর আমরা দেখে নেবো কোন জেলার কি কি পরিস্থিতি সাম্প্রতিক অবস্থাকে কতটা চাপে রেখেছে। কোন জেলায় কে এগিয়ে থাকছে, কে কতটা পিছিয়ে থাকছে। (আগামীকাল)
“সব ফেভারিট অফিসার আর ভুয়ো ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে “
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪/০৩/২০২৬ : পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর থেকে নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থ দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী কেন এতটা ভয় পেয়েছেন ? কেন তিনি এতটা শংকিত ভোট নিয়ে ?’
দিলীপ ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আজ তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “যে ফেক ভোটারদের ওপর ভরসা করে তৃণমূল কংগ্রেস এতো ধমক চমক দিতো, তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আর সেই ভুয়ো সমর্থন নেই, তাই ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতটা শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন, এতো ভয় পাচ্ছেন। তাঁর ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক।”
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেভারিট অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁর ভুয়ো ভোটাররাও এখন আর নেই। এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এতটা ভীত হয়ে উঠেছেন। এই নির্বাচনে তিনি একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছেন।”
এবারে পশ্চিমবঙ্গে আর আট দফায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে না. মাত্র দুই দফায় ভোট হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ তারিখে এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখে আর মে মাসের ৪ তারিখে হবে গণনা।
ভোটে প্রদেশ বিজেপির প্রস্তুতি যাচাই করতে রাজ্যে নিতিন
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] নতুন দিল্লী, ভারত, ২৩/০৩/ ২০২৬ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য বিজেপি কেমনভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা নিজের চোখে খতিয়ে দেখতে আগামীকাল রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
২৪ ও ২৫ তারিখ, আগামী দু’দিন নিতিন নবীন থাকবেন পশ্চিমবঙ্গেই।এই দু’দিন তিনি রাজ্য বিজেপির সব পরিকল্পনা এবং নির্ঘণ্ট খতিয়ে দেখবেন। কলকাতায় এসেই একের পর এক দলীয় বৈঠকে তিনি যোগ দেবেন। তিনি নির্বাচনের আগে রাজ্য বিজেপির তৃণমূল স্তরের সংগঠনের বাঁধন দেখে নিতে চান. তবে এই সংগঠন পরীক্ষার কাজ তৃণমূল কংগ্রেস সারা বছর ধরেই করতে থাকে।
নিতিন নবীন দেখতে চান রাজ্যের কোন অঞ্চলে বিজেপির শক্তি ও প্রভাব ঠিক কতটা। যেখানে বেশি আছে, সেটা ঠিক আছে যেখানে কম আছে, সেখানে কিভাবে দ্রুত নিজেদের শক্তি বাড়ানো যায়, তা নিজেই খতিয়ে দেখতে চান তিনি। যেখানে দরকার কোর গ্রূপের সঙ্গে বৈঠকে বসার সেখানে তিনি কোর গ্রূপের সাথে বৈঠক করবেন। যেখানে শুধু তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সাথে বৈঠক প্রয়োজন সেখানে তিনি সেটাই করবেন। নির্বাচনের আগে বিজেপি সভাপতির এই ঝটিতি রাজ্য সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।