সরকারীভাবে যেটা জানা গিয়েছে আজ ভোর ৪:১৭ মিনিটে ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে আসাম রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১, সেক্ষেত্রে এই কম্পনকে যথেষ্ট জোরালো হিসেবেই দেখতে হবে। জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎস হল আসামের মারিগাঁও এলাকার ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
আজ আসামে যে সময়ে এই ভূমিকম্প হয়েছে, সেই সময়ে বেশিরভাগ মানুষই গভীর ঘুমে আছন্ন থাকেন। সেক্ষেত্রে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু আজকের ভূমিকম্পের জন্যে আসাম থেকে সেভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর এসে পৌঁছায় নি।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৩/০১/২০২৫ : বিদেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ কলকাতার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস (RPO) জানুয়ারি ২০২৬-এ মুলতুবি থাকা পাসপোর্ট আবেদনগুলির যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য একাধিক পাসপোর্ট আদালতের আয়োজন করবে। পাসপোর্ট আদালতগুলি অনুষ্ঠিত হবে ৬, ৮, ১৩, ১৫, ২০ এবং ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে, কলকাতার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস কার্যালয়ে।
প্রতিটি পাসপোর্ট আদালতে প্রতিদিন ৮০০ জন আবেদনকারীকে পরিষেবা প্রদান করা হবে। আবেদনকারীদের জন্য মোট পাঁচটি স্লট নির্ধারিত থাকবে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিষেবা দেওয়া হবে, দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মধ্যাহ্নভোজ বিরতি থাকবে। নির্ধারিত স্লট অনুযায়ী, প্রথম স্লটে ৩০০ জন, দ্বিতীয় স্লটে ২০০ জন এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্লটে ১০০ জন করে আবেদনকারী পরিষেবা পাবেন।
সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীকে পরিষেবা প্রদানের স্বার্থে, পাসপোর্ট আদালত অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলিতে অর্থাৎ ৬, ৮, ১৩, ১৫, ২০ এবং ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে টেলিফোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান ও ওয়াক-ইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত স্লটের ১৫ মিনিট আগে অফিস চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। নির্ধারিত তারিখ ও স্লট ব্যতীত অন্য কোনও দিন বা সময়ে অফিসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। সকল আবেদনকারীকে মূল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার যাতে ওয়াক-ইন এন্ট্রি স্ট্যাম্প আছে সঙ্গে আনতে হবে।
আবেদনকারীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথির মূল কপি এবং তার সঙ্গে এক সেট স্ব-প্রত্যয়িত ফটোকপি আনতে হবে। আধার কার্ডধারী আবেদনকারীদের ই-আধার কার্ড অথবা UIDAI কর্তৃক প্রদত্ত প্রিন্টেড পিভিসি আধার কার্ড সঙ্গে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে, উভয় অভিভাবককে তাঁদের মূল পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট (যদি ইস্যু করা হয়ে থাকে)-সহ উপস্থিত থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট আদালত হল মুলতুবি থাকা পাসপোর্টের আবেদন যাচাই করা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য এককালীন সুযোগ, যা সম্পূর্ণ ও সঠিক নথিপত্রের উপর নির্ভরশীল। এই সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বা নথিতে ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীর পাসপোর্টের আবেদন আর কোনও নোটিশ ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।
অতএব, আবেদনকারীদের অনুরোধ করা হচ্ছে যে, তাঁরা যেন এই সুযোগ অবশ্যই গ্রহণ করেন এবং পাসপোর্টের আবেদন দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তির জন্য সমস্ত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০১/০১/২০২৬ : বছরের প্রথম দিনেই বাংলা পেলো উপহার। ভারতীয় রেল জানিয়ে দিলো যে দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন পাবে বাংলা আর আসাম। এই ট্রেন চলবে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন দিয়ে।
দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন চলবে কলকাতা আর গুয়াহাটির মধ্যে। আজ এই সুখবর এসেছে ভারতীয় রেলের তরফ থেকে। এই রেলপথের শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলে জানা গিয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনের টেস্টিং, ট্রায়াল সবকিছুই সফলভাবে করা হয়েছে। এই ট্রেনের প্রথম রুট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতা-গুয়াহাটি রুটটিকে। রেলমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদী খুব শীঘ্রই এই রুটে স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনটিকে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে শুভ উদ্বোধন করবেন।
বন্দে ভারতের স্লিপার কোচ যাত্রী সাধারণকে আন্তর্জাতিক মানের ভ্রমন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ট্রেনের নিরাপত্তার দিকটিকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ট্রেনে থাকবে অতিরিক্ত সাসপেনশন, যাতে ট্রেনে দুলুনি কম হয়। এছাড়াও ট্রেনে থাকবে অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা। গুয়াহাটি থেকে হাওড়া স্টেশনের ৩এসি কোচের ভাড়া পড়বে আনুমানিক ২৩০০ টাকা করে। ২ এসি কোচের ভাড়া পড়বে ৩০০০ টাকা করে। ফার্স্ট এসি কোচের ভাড়া পড়বে ৩৬০০ টাকা করে।
স্লিপার কোচগুলির বার্থগুলিকে যথেষ্ট আরামদায়ক করা হয়েছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দের কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেন তৈরি করা হয়েছে। কোচের মধ্যে যথেষ্ট আলো থাকছে, টয়লেটগুলিকে অত্যাধুনিক করা হয়েছে। ফায়ার এলার্ম এবং সিসিটিভি মনিটরিং থাকছে। ট্রেনে থাকছে অতিরিক্ত সাসপেনশন, যাতে দুলুনি আরও কম হয়. আপৎকালীন নানারকম ব্যবস্থাপনা থাকছে।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], নতুন দিল্লী, ভারত, ৩/১২/২০২৫ : একবার রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। সেই নিরেশ অবিলম্বে পালন করতে বলা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের যে প্রতিনিধি দল কলকাতার বিবিদিবাগে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়েছিলেন সেই দলকেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে থাকা বহুতল আবাসন এবং বস্তিগুলিতে আলাদা বুথ তৈরি করা হবে. বিজেপি জানিয়েছিল এর আগে ভোটের সময় বহুতল আবাসনগুলিতে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে সেই আবাসনের বহু মানুষ আর ভোট দিতে পারেন নি. এবার অবশ্য সেটা আর সম্ভব হবে না. বহুতলম আবাসন এবং মধ্যেও আলাদা বুথ তৈরি করে দেওয়া হবে, যাতে করি সংলগ্ন মানুষরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন তৃণমূলকংগ্রেসের নিচুতলার কর্মাদের হুমকির সামনে যাতে নির্বাচন কর্মীদের পড়তে না হয়, সেই ব্যাপারেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিনিধি দলকে। শুধু তাই নয় আজ নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে বিএলও দের বর্ধিত ভাতা যেন তাদের প্রদান করা হয়. এই নির্দেশগুলি অবিলম্বে পালন করতে বলা হয়েছে।
আজ খবর (বাংলা) [দেশ] ইয়ালমানচিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, ২৯/১২/২০২৫ : ফের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে রেল। রবিবার গভীর রাতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় টাটানগর-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসে।
এই ট্রেনের দু’টি কোচ একেবারে আগুনের গ্রাসে চলে যায়। জানা গিয়েছে, দুই কোচ মিলিয়ে মোট ১৫৮জন যাত্রী ছিলেন। ইতিমধ্যেই তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে। তবে এখনও মৃতের সংখ্যা বাড়েনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ইয়ালামানচিল্লিতে। এই এলাকাটি বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৬ কিলোমিটার দূরে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাত পৌনে একটা নাগাদ আগুন লাগার খবর আসে তাঁদের কাছে। প্যান্ট্রি কারের ঠিক পাশেই থাকা বি১ এবং এম২ কোচে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। দুই বাতানুকূল কামরায় যথাক্রমে ৮২জন এবং ৭৬জন যাত্রী ছিলেন।
লোকো পাইলটদের চোখে পড়ে দুই কামরায় আগুন ধরেছে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। কোনওমতে তাঁদের কামরা থেকে নামিয়ে আনা হয়। স্থানীয় দমকলবাহিনির সাহায্যে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত দু’টি কামরাই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। যাত্রীদের উদ্ধার করা গেলেও তাঁদের যাবতীয় জিনিসপত্র চলে গিয়েছে আগুনের গ্রাসে।
আগুন নেভানোর পর বি১ কামরা থেকে এক বৃদ্ধের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। ৭০ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধের নাম চন্দ্রশেখর সুন্দর। তিনি বিজয়ওয়াড়ার বাসিন্দা। দাউদাউ আগুনে জ্বলতে থাকা কামরা থেকে তিনি বেরতে পারেননি। তবে বাকি যাত্রীরা সকলেই সুস্থ আছেন বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে। পুড়ে যাওয়া দুই কামরা সরিয়ে ফের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। সবমিলিয়ে ২ হাজার যাত্রী ছিলেন ওই ট্রেনে।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ২৭/১২/২০২৫ : মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তবলা শিল্পে অসাধারণ কৃতিত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাল বাল পুরস্কারে সম্মানিত হল কিশোর তবলা বাদক শ্রী সুমন সরকার। শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রমী অবদান এবং সংগীতের মাধ্যমে সমাজসেবার জন্যই তাকে এই সম্মান প্রদান করা হল।
সুমন সরকার গত ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত তবলা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং ইতিমধ্যেই সে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে ৬২-টিরও বেশি পরিবেশনা উপস্থাপন করেছে। তার প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে সে ৪৩-টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের সংশাপত্র অর্জন করেছে, যার মধ্যে ২২-টিতে তিনি প্রথম হয়েছেন। ভারত–বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স এবং জাতীয় কলা উৎসব সহ বহু খ্যাতনামা মঞ্চে সে সাফল্যের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। জাতীয় কলা উৎসবেও সুমন স্বর্ণপদক লাভ করেন।
নিজের সাফল্যকে কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে সুমন সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করেছে। পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য তবলা কিনে দেয় এবং তাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এই উদ্যোগকে আরও সুসংগঠিত রূপ দিতে সে প্রতিষ্ঠা করেছেন রানাঘাট হিউম্যানিটিজ এডুকেশন সেন্টার, যেখানে বর্তমানে ৪২ জন ছাত্রছাত্রী সংগীত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্য রক্ষা ও প্রসারে সুমনের নিষ্ঠা এবং পাশাপাশি, প্রান্তিক শিশুদের ক্ষমতায়নের প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ভারতরত্ন ড. এম. এস. সুব্বুলক্ষ্মী ফেলোশিপ–সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি প্রদান করে। সুমন সরকারের এই পুরস্কারপ্রাপ্তি শুধু তাঁর শিল্পীসত্তার উৎকর্ষতাই নয়, বরং তাঁর সামাজিক দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেও সম্মান জানায়।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], রায়পুর, ছত্তিশগড়, ২৭/১২/২০২৫ : রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে ছত্তিশগড়ে অন্তত দুই হাজার মাওবাদী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করেছেন বলে জানিয়েছে ছত্তিশগড় সরকার।
কিছুদিন আগে হিংসার ভাষা ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার জন্যে মাওবাদীদের কাছে আবেদন করেছিল ছত্তিশগড় সরকার। সেই আবেদনের সাথে কিছু প্যাকেজ ঘোষণাও করা হয়েছিল। সেই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে দুই হাজার মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পন করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই।
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “মাওবাদীরা যাতে হিংসার ভাষা ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারেন, তার জন্যে আমরা লাগাতার আবেদন চালিয়ে গিয়েছি। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে ২০০০ মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করে উন্নয়নের পথ বেছে নিলেন। এই মাওবাদী মানুষদের সাথে সরকার ভালো ব্যবহার করবে। আমরা এঁদের জন্যে খুব ভালো প্রকল্প এনেছি। আমরা এঁদেরকে নানারকম কারিগরি ট্রেনিং দেব। আপাতত এঁদেরকে প্রতিমাসে ১০ হাজার করে অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে। এঁরা যাতে কৃষিকাজও করতে পারেন সেজন্যে এঁদেরকে জমিও প্ৰদান করবে সরকার। শহরাঞ্চলে এঁরা যাতে নিজেদের বাসস্থান তৈরীকরতে পারেন, তার জন্যে সরকার সহায়তা করবে। এভাবেই মাওবাদী মানুষদের উন্নয়নে কাজ করে যাবে রাজ্য সরকার, যাতে এই মানুষগুলির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।”
গতকাল ২০০০ মাওবাদী আত্মসমর্পন করেছেন। এর আগে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় ৩৪ জন মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পন করেছিলেন। তাঁদেরকে সম্মিলিতভাবে ৮৪ লক্ষ্য টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে নির্মূল করা হবে মাওবাদীদের। এই কথা ঘোষণা করেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], গ্যাংটক,সিকিম, ২৩/১২/২০২৫ : ভারতীয় প্রাণী সর্বেক্ষণ সংস্থা বা জেডএসআই-এর বিজ্ঞানীরা সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কোলেম্বোলা গোষ্ঠীর একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। কোলেম্বোলা ক্ষুদ্র আকারের মৃত্তিকানিবাসী এক মাইক্রো আর্থ্রোপড। গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। ভারতের কীটতত্ত্ব সংক্রান্ত নথিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে নীলুস সিকিমেনসিস। এটি ভারতে আবিষ্কৃত নীলুস পরিবারের প্রথম প্রজাতি। এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বজুড়ে নীলুস পরিবারের মোট চেনা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
এই গবেষণা পরিচালিত হয় জেডএসআই-এর অ্যাপ্টেরিগোটা বা ডানাবিহীন কীটপতঙ্গ বিভাগ দ্বারা। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ড. গুরুপদ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে গবেষক দলে ছিলেন শ্রী কুসুমেন্দ্র কুমার সুমন। গবেষণার ফলাফল সম্ভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক পত্রিকা এন্টোমোলজিক্যাল রিসার্চ সোসাইটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
নীলুস সিকিমেনসিস প্রজাতিটির কয়েকটি স্বতন্ত্র জৈব বৈশিষ্ট্যঃ
অতি ক্ষুদ্র আকার- মাটি ও শ্যাওলার গভীরে বসবাসের উপযোগী দেহগঠন।
চোখের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি- অন্ধকার ভূগর্ভস্থ পরিবেশে বসবাসকারী প্রজাতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
স্বতন্ত্র দেহগঠন- মুখের ল্যাব্রাল কিটোট্যাক্সির বিশেষ বিন্যাস একে বিশ্বের অন্যান্য বৈশ্বিক প্রজাতি থেকে পৃথক করে।
পরিবেশগত গুরুত্ব
কোলেম্বোলা বা স্প্রিংটেইল মাটির স্থলজ ব্যবস্থার স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেডএসআই-এর পরিচালক ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “কোলেম্বোলা মাটিতে জৈব পদার্থের পচন এবং পুষ্টি চক্র বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নীলুস সিকিমেনসিস-এর আবিষ্কার ভারতীয় বিজ্ঞানের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। কারণ, এই প্রজাতি প্রথমবার ভারতের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে নথিভুক্ত হল।”
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অঙ্গীকার
এই আবিষ্কার ভারতের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে ধারাবাহিক ও গভীর শ্রেণিবিন্যাসমূলক গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও তুলে ধরেছে। প্রধান গবেষক ড. গুরুপদ মণ্ডল বলেন, এই আবিষ্কার ভারতের কোলেম্বোলা বৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রজাতি বৈচিত্র্য নথিভুক্ত করা এবং তাদের পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আজ খবর (বাংলা) [দেশ], গুয়াহাটি, আসাম, ২০/১২/২০২৫ : দ্রুতগতিতে ছুটে আসা রাজধানী এক্সপ্রেস পিষে দিয়ে চলে গেলো সাত পূর্ণবয়স্ক হাতিকে, ঘটনাটি ঘটেছে আসামে। ঘটনাস্থল গুয়াহাটি থেকে ১২৪ কিলোমিটার দূরে।
শনিবার ভোর রাতে সাইরাং থেকে দিল্লীগামী একটি দ্রুতগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন লামডিং ডিভিশনে সাত হাতিকে পিষে মেরে দিয়েছে। হাতিদের একটি দল রেল লাইনে উঠে এসেছিল। ট্রেনের ধাক্কায় হাতিদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন দপ্তর। এই ঘটনায় যাত্রী সাধারণের মধ্যে অবশ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন নর্দান ফ্রন্টিয়ার রেলের আধিকারিকরা। উদ্ধারকারী ট্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাতিগুলিকে ধাক্কা মারার জন্যে ট্রেনের যে কোচগুলির সামান্য ক্ষতি হয়েছিল সেই কোচগুলির যাত্রীদেরকে অন্যান্য কোচের ফাঁকা থাকা বার্থে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলিকে ট্রেন থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। গুয়াহাটি স্টেশনে ফের নতুন বগি জুড়ে দেওয়া হবে ঐ ট্রেনটিতে।
গত মাসে একটি বেসরকারি স্কুলেও বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৩/১২/২০২৫ : বুধবার দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি কলেজ বোমা থাকার হুমকি মেল পেয়েছে। স্বভাবতই এই কলেজে বোমাতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
আজ সকালে দিল্লীর দুটি কলেজে মেল করে জানানো হয়েছে যে ঐ দুই কলেজের ক্যামপাসে বোমা রাখা রয়েছে। এই মেল আসতেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ঐ কলেজ চত্বরগুলি খালি করে দেওয়া হয়। পুলিশ এবং বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা দুটি কলেজেই তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায় নি এখনও পর্যন্ত।
কারা মেল্ করে এই বোমার খবর কলেজ দুটিকে পাঠিয়েছিল, তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শুধুমাত্র এই দুই কলেজেই কেন বোমাতঙ্ক ছড়ানো হল সেটা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। তবে চিরুনি তল্লাশ চালিয়েও দুই কলেজ থেকে কিছুই পাওয়া যায় নি বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লী পুলিশ। যে দুই কলেজে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল সেই কলেজগুলি হল দিল্লীর নর্থ ক্যাম্পাসের রামজস কলেজ এবং কালকাজির দেশবন্ধু কলেজ।
গত মাসে দিল্লীর চাণক্যপুরীতে একটি বেসরকারি স্কুলেও বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা সেখানেও চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও কিছুই পাওয়া যায় নি।বোঝা গিয়েছিল, ঐ বোমা থাকার হুমকি আসলে ছিল একটি ভুয়ো হুমকি। বুধবার এই দুই কলেজের ক্ষেত্রেও ভুয়ো হুমকি দেওয়া হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।