
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], গ্যাংটক,সিকিম, ২৩/১২/২০২৫ : ভারতীয় প্রাণী সর্বেক্ষণ সংস্থা বা জেডএসআই-এর বিজ্ঞানীরা সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে কোলেম্বোলা গোষ্ঠীর একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। কোলেম্বোলা ক্ষুদ্র আকারের মৃত্তিকানিবাসী এক মাইক্রো আর্থ্রোপড। গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। ভারতের কীটতত্ত্ব সংক্রান্ত নথিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে নীলুস সিকিমেনসিস। এটি ভারতে আবিষ্কৃত নীলুস পরিবারের প্রথম প্রজাতি। এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বজুড়ে নীলুস পরিবারের মোট চেনা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
এই গবেষণা পরিচালিত হয় জেডএসআই-এর অ্যাপ্টেরিগোটা বা ডানাবিহীন কীটপতঙ্গ বিভাগ দ্বারা। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ড. গুরুপদ মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে গবেষক দলে ছিলেন শ্রী কুসুমেন্দ্র কুমার সুমন। গবেষণার ফলাফল সম্ভ্রান্ত বৈজ্ঞানিক পত্রিকা এন্টোমোলজিক্যাল রিসার্চ সোসাইটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
নীলুস সিকিমেনসিস প্রজাতিটির কয়েকটি স্বতন্ত্র জৈব বৈশিষ্ট্যঃ
অতি ক্ষুদ্র আকার- মাটি ও শ্যাওলার গভীরে বসবাসের উপযোগী দেহগঠন।
চোখের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি- অন্ধকার ভূগর্ভস্থ পরিবেশে বসবাসকারী প্রজাতির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
স্বতন্ত্র দেহগঠন- মুখের ল্যাব্রাল কিটোট্যাক্সির বিশেষ বিন্যাস একে বিশ্বের অন্যান্য বৈশ্বিক প্রজাতি থেকে পৃথক করে।
পরিবেশগত গুরুত্ব
কোলেম্বোলা বা স্প্রিংটেইল মাটির স্থলজ ব্যবস্থার স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জেডএসআই-এর পরিচালক ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “কোলেম্বোলা মাটিতে জৈব পদার্থের পচন এবং পুষ্টি চক্র বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নীলুস সিকিমেনসিস-এর আবিষ্কার ভারতীয় বিজ্ঞানের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। কারণ, এই প্রজাতি প্রথমবার ভারতের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে নথিভুক্ত হল।”
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অঙ্গীকার
এই আবিষ্কার ভারতের বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলে ধারাবাহিক ও গভীর শ্রেণিবিন্যাসমূলক গবেষণার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও তুলে ধরেছে। প্রধান গবেষক ড. গুরুপদ মণ্ডল বলেন, এই আবিষ্কার ভারতের কোলেম্বোলা বৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রজাতি বৈচিত্র্য নথিভুক্ত করা এবং তাদের পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
![]()