চীনে লুকানো বা ফ্লাশ ডিজাইনের ইলেকট্রনিক দরজার হাতলের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে টেসলা প্রায় ৩০ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার করেছে। এটি চীনে টেসলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রত্যাহার। টেসলা ছাড়াও আরও ৮টি অটোমোবাইল কোম্পানি মিলিয়ে মোট প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে। চীনের বাজার তদারকি সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশন জানিয়েছে, গুরুতর দুর্ঘটনার পর গাড়ির লো-ভোল্টেজ বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বিকল হয়ে গেলে এই ইলেকট্রনিক দরজার হাতল কাজ নাও করতে পারে। এর ফলে গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীরা বেরোতে সমস্যায় পড়তে পারেন, পাশাপাশি উদ্ধারকারীদেরও দ্রুত দরজা খুলে উদ্ধারকাজ চালাতে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। প্রত্যাহারের আওতায় থাকা টেসলা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে মডেল ৩, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স—যা চীনে তৈরি ও আমদানিকৃত এবং মূলত ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদিত।

সমাধান হিসেবে টেসলা সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উইন্ডো নামিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সক্রিয় করবে এবং গাড়ির ভেতরের জরুরি ম্যানুয়াল ডোর রিলিজ কোথায় আছে, তা চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক স্টিকার লাগাবে। টেসলার পাশাপাশি শিয়াওমি, লিপমোটর, জিলি, এক্সপেং-সহ আরও কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাও একই ধরনের নিরাপত্তাজনিত সমস্যায় প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ২০২৭ সাল থেকে নতুন গাড়িতে সম্পূর্ণ লুকানো বা ফ্লাশ/রিট্র্যাকেবল ডোর হ্যান্ডেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চীন প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সুই ডংশু-র মতে, এই ধরনের রিকল দ্রুত বিকাশমান বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের স্বাভাবিক ‘বর্ধনকালীন সমস্যা’রই প্রতিফলন। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গাড়ির নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
![]()