
আজ খবর
( বাংলা) [রাজ্য] দিল্লি ১০/১০/২০২৬
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লি। শনিবার, ১০ অক্টোবর, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির দিন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আটক করা হয়েছে বলে লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের একাধিক নেতাকে আটক করার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েন আটক
জনসত্তা র লাইভ আপডেট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতাকে তাদের আবাসনের বাইরে থেকে আটক করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে জানিয়েছেন, তাদের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আটক নেতাদের পরবর্তী অবস্থান এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

বিমানবন্দরে আটক CJP-র শীর্ষ নেতৃত্ব
অন্যদিকে, CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শনিবার যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে তাঁরা দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া -র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে বিমানের ভিতরেই পুলিশ তাদের আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে CJP-র তরফে আপত্তি জানানো হয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্বে অজিঙ্ক্য শিন্ডে
শীর্ষ নেতৃত্ব আটক হওয়ার পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য অজিঙ্ক্য শিন্ডেকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল CJP। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-সহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।

আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী
সিইসি-বিরোধী বিক্ষোভের আগে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি! গুরুগ্রামের আবাসন থেকে শনিবার সকালে তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও SIR-এর বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।
দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। নিষেধাজ্ঞা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ধ্রুবকে বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বজায় রাখায় তাঁকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা
বিক্ষোভের আগে থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আটক করার পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে CJP ও দিল্লি পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েনের খবরও সামনে এসেছে। বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং SIR নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির আপত্তির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে তাঁদের আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পদক্ষেপের কেন্দ্রে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আটক করার খবর এবং CJP-র শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে শনিবার দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভের পরিস্থিতি এবং আটক নেতাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



