আজ খবর (বাংলা), [দেশ ]শ্রীনগর, জম্মু ও কাশ্মীর, ১৩/০৪/২০২৫ : বিশেষ প্রযুক্তির ড্রোন নিরোধক যন্ত্র ব্যবহার করে আজ জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোলে উড়তে থাকা পাকিস্তানের একটি ড্রোনকে নামিয়ে নিয়ে এলো ভারতীয় সেনাবাহিনী।
জম্মু ও কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোলের খুব কাছে থাকা একটি পাকিস্তানি ড্রোনকে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামিয়ে নিয়ে এসেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ড্রোনটি চীনের তৈরি বলে জানা গিয়েছে। জম্মু রিজিয়নের দক্ষিণ পীরপাঞ্জাল রেঞ্জের একটি জায়গায় ১৬ কর্পস এলাকায় ইন্ডিয়ান আর্মি এয়ার ডিফেন্স ইউনিট মোতায়েন করে রেখেছে। এই ইউনিটের দ্বারাই শত্রুপক্ষের ড্রোনগুলিকে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
কিছুদিন আগেও লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছে শত্রুপক্ষের ড্রোন দেখলে তাকে গুলি করে নামিয়ে আনা হত, কিন্তু গুলি করলে সেই ড্রোনটি নষ্ট হয়ে যেত, ফলে সেই ড্রোন শত্রুপক্ষ কি উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে তা তদন্ত করে জানা যেত না। কিন্তু দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বিশেষ যন্ত্র শত্রুপক্ষের ড্রোনগুলিকে অকেজো করে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম। এর ফলে ঐ ড্রোনটিকে ময়না তদন্ত করে তার উদ্দেশ্য বুঝে নেওয়া সহজ হবে। ডিআরডিও এই যন্ত্রটিকে নির্মাণ করে তুলে দিয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে।
ওই অঞ্চলের ছাত্রু অরণ্যের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই জঙ্গীদের সাথে এনকাউন্টার চালিয়ে চলেছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে ঐ অরণ্যে যতক্ষণ না সব জঙ্গীকে খতম করা হচ্ছে, ততক্ষন এনকাউন্টার বন্ধ করা হবে না. ঐ অরণ্যে এখনো গুলির বৃষ্টি থামে নি।
গত ৯ তারিখে কাশ্মীর পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, কিস্তোয়ার এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গীরা লুকিয়ে আছে. কাল বিলম্ব না করে নিরাপত্তা বাহিনী ঐ অরণ্যে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। প্রথম দিকে এই জঙ্গীরা অরণ্যাঞ্চলের বাইরে গ্রামের কাছাকাছি ছিল. কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখেই তারা অরণ্যের ভিতরে ঢুকে যায়।
এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকাকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেন। ১০ তারিখ সারাদিন তল্লাশি চালানো হয়। জওয়ানরা বুঝতে পারেন জঙ্গীরা অরণ্যে লুকিয়ে রয়েছে। এরপর জওয়ানরা অরণ্যে প্রবেশ করতেই গুলি ছুটে আসে. শুরু হয়ে যায় প্রবল গুলিবর্ষণ।
১০ তারিখ থেকে লাগাতার গুলির বৃষ্টি চলতে থাকে। এনকাউন্টার চলেছে আজও। শুক্রবার ১জন জঙ্গীকে খতম করা হয়, শনিবার ৩ জন জঙ্গী এবং আজ ২ জন জঙ্গীকে খতম করা হয়েছে। এনকাউন্টার চলছে এখনও। মৃত সব জঙ্গি পাকিস্তানি বলে জানানো হয়েছে বাহিনীর তরফ থেকে।
ছাত্রু অরণ্যকে কার্যত ঘিরে ধরে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে ঐ অঞ্চলে যতক্ষণ না সমস্ত জঙ্গীকে নিকেশ করা হচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত অপারেশন চালিয়ে যাওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীতে অংশ নিয়েছেন ইন্ডিয়ান আর্মি, সিআরপিএফ এবং কাশ্মীর পুলিশের জওয়ানরা। এই অপারেশনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করছেন ঐ এলাকার গ্রামবাসীরা।
আজ খবর (বাংলা) [দেশ] কিস্তোয়ার, জম্মু ও কাশ্মীর, ১১/০৫/২০২৫ : নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আজ জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তোয়ার এলাকায় এক সশস্ত্র জঙ্গীকে নিষ্ক্রিয় করা হল. ঘটনাস্থলে আর কোনো জঙ্গী লুকিয়ে আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
উধমপুর জেলার খুব কাছেই অবস্থিত কিস্তোয়ার জেলার ছাত্রু ফরেস্ট এলাকা। জায়গাটি বেশ দুর্গম। খাড়াই পাহাড় উঠে গিয়েছে। আবার অনেক নিচ দিয়ে তীব্র গতিতে বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী। পাহাড়ের গায়ে ঘন অরণ্য, ঠিকমত সূর্যের আলোও ঢুকতে পারে না। গত ৯ তারিখ বিকেলে কাশ্মীর পুলিশের কাছে খবর আসে ঐ এলাকায় সশস্ত্র জঙ্গীদের উপস্থিতির কথা। পুলিশ আর দেরি না করে ঐ উপত্যকায় ৯ তারিখ রাত্রেই রেইকি করে নেয়।
এরপর নিরাপত্তা বাহিনী গিয়ে ঐ অরণ্যের ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালাতে শুরু করে। জঙ্গীদের মুখোমুখি হতেই দুই পক্ষ গুলি চালাতে শুরু করে। গুলির লড়াই শুরু হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই এক জঙ্গী নিকেশ হয়। এরপর অরণ্যের বিশাল অংশে কর্ডন করে ঘিরে চিরুনি তল্লাশি চালাতে শুরু করে নিরাপতা বাহিনী। কাশ্মীর পুলিশের কাছে খবর রয়েছে ঐ অরণ্যে আরও দুই বা তিনজন জঙ্গী লুকিয়ে রয়েছে। তাদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে ঐ অরণ্যের মধ্যে।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] নতুন দিল্লী, ভারত, ০৯/০৪/২০২৫ : প্রতিবেশী শত্রু দেশগুলির হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে ভারত ফের রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে ফ্রান্সের থেকে।
ভারত ফ্রান্সের থেকে আরও ২৬টি অত্যাধুনিক রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কিনতে চলেছে। আজ ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি এই পরিমান যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে ছাড়পত্র দিয়েছে। ২৬টি রাফায়েলের মধ্যে চারটি হবে ডাবল পাইলট সিট এবং বাকিগুলি সিঙ্গল পাইলট সিট্ যুক্ত। এই পরিমান রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কিনতে ভারতের খরচ হবে ২৬ হাজার কোটি টাকা। এই পরিমান অর্থ খরচের জন্যে যাবতীয় অনুমোদন আজ কেন্দ্র সরকার দিয়ে দিয়েছে।
এই মুহূর্তে ভারতের কাছে মোট ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে। সেগুলিকে রাখা আছে আম্বালা ও হাসিমারা বায়ুসেনা শিবিরে। নতুন যুদ্ধবিমানগুলো এসে গেলে ভারতের ভাণ্ডারে রাফায়েল যুদ্ধবিমানের সংখ্যা হবে ৬২টি. তবে ফ্রান্স নতুন অর্ডার অনুযায়ী যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহ করবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে।
রাফায়েল যুদ্ধবিমান এমনিতেই প্রচন্ড শক্তিশালী যুদ্ধবিমান। এই বিমানে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল। রয়েছে নানারকম সুযোগ সুবিধা। আকাশে রাফায়েল থাকলে শত্রুপক্ষ এমনিতেই বেশ চাপে থাকে। ভারতের কাছে ৬২টি রাফায়েল থাকা মানে সে যে শত্রুপক্ষের কাছে কতটা চাপের তা একমাত্র শত্রুপক্ষই জানে। আকাশপথে এসে তারা অন্তত আর ভারতকে চটাতে চাইবে না । .
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৮/০৪/২০২৫ : ভারত সফরে আসা দুবাইয়ের যুবরাজ তথা সংযুক্ত আরব আমির শাহীর উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাননীয় শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতৌম-কে আজ সাদর অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী।
দুবাইতে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট উপলক্ষে গতবছর তাঁর সংযুক্ত আরব আমির শাহী সফরের উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংযুক্ত আরব আমির শাহীর প্রেসিডেন্ট মাননীয় মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সেদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক মাননীয় মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতৌম-এর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। দু-দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়ে রয়েছে আস্থা এবং ভবিষ্যতের দিশায় অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর ওপর ভিত্তি করে।
ভারত – সংযুক্ত আরব আমির শাহীর সার্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করা, বিশেষত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং জনসংযোগের পরিসর নিবিড়তর করা নিয়ে দুই নেতার আলোচনা হয়।
সংযুক্ত আরব আমির শাহীতে বসবাসরত প্রায় ৪৩ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সেদেশের নেতৃত্বের উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানান প্রধানমন্ত্রী। দু-দেশের প্রাণবন্ত সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এঁদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] শ্রীনগর, জম্মু ও কাশ্মীর, ০৮/০৪/২০২৫ : পার্লামেন্ট থেকে পাস্ হওয়ার পর ওয়াকফ বিল আইন নিয়ে অশান্ত হয়ে উঠল জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা। এতটাই অশান্ত হয়ে উঠল যে আধ ঘন্টার জন্যে সভা মুলতুবি রাখতে হল।
জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় পিপলস ডেমোক্রেটিভ পার্টি, আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টি সহ বিরোধী দলগুলি ওয়াকফ আইন নিয়ে আলোচনার জন্যে এডজার্ন মোশন ডাকতে চায়। কিন্তু ৫৮ ধারা অনুযায়ী স্পিকার তা খারিজ করে দেন। এরপর পিডিপির বিধায়ক ওয়াহিদ পারাকে মার্শাল দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।এর আগে অন্তত ২০ জন বিধায়ক ওয়াকফ আইন নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
৫৮ ধারা অনুযায়ী কোনো বিল যদি আদালতে বিচারাধীন হয়, তাহলে সেটা নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা করা যাবে না। ওয়াকফ বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই AIMIM সহ দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সুপ্রীম কোর্টে বিচারের জন্যে আবেদন জানিয়েছে। সেই কারনে বিধানসভায় এই বিল নিয়ে আলোচনা করতে দেন নি স্পিকার। কিন্তু এরপরেই ওয়াকফ বিল নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে বিধানসভা কক্ষের মধ্যেই বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৮/০৪/২০২৫ : মহিলাদের শিক্ষা, দক্ষ করে তোলা এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের অবিরত উদ্যোগের ফলে মহিলাদের সামনে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও বেশি সংখ্যায় এখন ঘরে-বাইরে লাভজনক কাজে তাঁরা যুক্ত হতে পারছেন। গত কয়েক দশকে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে কর্মরতা মহিলারা যাঁরা আগে যৌথ পরিবারের সাহায্য পেতেন, সন্তানদের ভালো যত্ন এবং সুরক্ষার জন্য তাঁদের এখন ডে-কেয়ার সার্ভিসের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পালনা কর্মসূচির মাধ্যমে ডে-কেয়ার ক্রেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
২০২২-এ তদানীন্তন ন্যাশনাল ক্রেশ স্কিম পুনর্গঠিত হয় এবং তার নাম দেওয়া হয় পালনা কর্মসূচি, মিশন শক্তির সামর্থ্য উপকর্মসূচির অধীনে। কেন্দ্রীয় সরকারি পালনা কর্মসূচি ঠিক মতো রূপায়িত হচ্ছে কি না, তার দেখভাল করার দায়িত্ব থাকে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওপর। ৬০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্র এবং ৪০ শতাংশ অর্থ দেয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। উত্তরপূর্ব এবং বিশেষ শ্রেণীর রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৯০:১০। বিধানসভা নেই এমন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্র পুরোপুরি ১০০ শতাংশ আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকে।
পালনা কর্মসূচির লক্ষ্য, ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সুরক্ষিত নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া, পুষ্টির ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক বিকাশে সাহায্য করা এবং বৃদ্ধির প্রতি নজর রাখা ও টিকাকরণের ব্যবস্থা করা। মা যে কোনো কাজেই যুক্ত হন না কেন, পালনায় ক্রেশের সুবিধা তিনি পাবেন।
যে প্রধান পরিষেবাগুলি দেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলি হল-
ডে-কেয়ারের সুবিধা, যার মধ্যে থাকবে শয়নের ব্যবস্থা ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগাম উদ্দীপনা কার্যাবলী ৩-৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়-পূর্ব শিক্ষাদান স্থানীয় স্তরে অতিরিক্ত পুষ্টির ব্যবস্থা বৃদ্ধির প্রতি নজর রাখা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকাকরণ
চাইল্ড কেয়ার সুবিধার সুযোগ বৃদ্ধি করার অঙ্গ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন সংশোধন করে ৫০ অথবা অধিক কর্মচারী আছে এমন সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রেশের সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক করেছে।
দু-ধরনের ক্রেশ আছে। শুধুমাত্র ক্রেশ অর্থাৎ যেগুলি স্ট্যান্ড অ্যালোন ক্রেশ এবং অঙ্গনওয়াড়ী-কাম-ক্রেশ(এডাব্লুসিসি)। মিশন শক্তির নীতি-নির্দেশিকা অনুযায়ী স্ট্যান্ড অ্যালোন ক্রেশের জন্য একজন কর্মী এবং একজন সহায়ক রাখার সংস্থান আছে। তেমনই এডাব্লুসিসি-র জন্য ইতিমধ্যে কর্মরত অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী এবং সহায়কদের পাশাপাশি একজন ক্রেশ সহায়ক এবং একজন ক্রেশ কর্মী রাখার সংস্থান করা হয়েছে। নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক পালনা কর্মসূচিতে ২০২৪-২৫-এ ১৭০০০টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ী কাম ক্রেশ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৫-এর মার্চ পর্যন্ত ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১১৩৯৫টি এডাব্লুসিসি-র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের তত্ত্বাবধানে ক্রেশ কর্মীরা নজর রাখবেন শিশুদের ঘুম ও বিশ্রামের ওপর। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। শিশুদের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দেবেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন এবং আশা, এডাব্লুডাব্লু, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এডাব্লুসি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। খাবার স্বাস্থ্যকরভাবে ও বয়স অনুযায়ী রান্না হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করবেন। শিশুদের খেলনা দেওয়ার আগে তার গুণমান পরীক্ষা করবেন বিধি অনুযায়ী।
২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১,৭৬৭টি এডাব্লুসিসি কাজ করছে। বর্তমান সুবিধাপ্রাপকদের সংখ্যা ২৮,৭৮৩। এর পাশাপাশি ১,২৮৪টি স্ট্যান্ড অ্যালোন ক্রেশ আছে দেশজুড়ে যার বর্তমান সুবিধাপ্রাপকের সংখ্যা ২৩,৩৬৮।
মিশন শক্তির নীতি নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থানীয় প্রয়োজন অনুসারে ক্রেশের সময় নির্ধারণ করতে হবে। মাসের মধ্যে ২৬ দিন খুলে রাখতে হবে। এলাকার বেশিরভাগ মায়ের কাজের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী দৈনিক সাড়ে ৭ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে।
ক্রেশ কর্মী এবং ক্রেশ সহায়িকাদের সাম্মানিক দেওয়া হয়ে থাকে। স্ট্যান্ড অ্যালোন ক্রেশের ক্ষেত্রে ক্রেশ কর্মীদের ৬৫০০ টাকা, সহায়কদের ৩২৫০ টাকা এবং এডাব্লুসিসি-র ক্ষেত্রে ক্রেশ কর্মীদের ৫,৫০০ টাকা এবং ক্রেশ সহায়কদের ৩০০০ টাকা সাম্মানিক দেওয়া হয়ে থাকে। এক একটি ক্রেশে অন্যূন ২৫ জন শিশু রাখা যেতে পারে। শিশুদের বাড়ির কাছে অথবা মায়েদের কর্মস্থলের কাছাকাছি ক্রেশের অবস্থান হওয়া বাঞ্ছনীয়।
৬ মাস থেকে ৬ বছর পর্যন্ত শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পালনা কর্মসূচি শিশুদের সার্বিক যত্ন, পুষ্টি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করে। একাধিক মন্ত্রকের সহযোগিতা এবং স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি থাকায় পালনা স্বাস্থ্যকর, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং লিঙ্গ সংবেদনশীল কর্মসূচি।
আজ খবর (বাংলা),[দেশ] লখনৌ , উত্তর প্রদেশ, ০৩/০৪/২০২৫ : ইন্ডিয়ান সুফী ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কাসিস ওয়ার্সি ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে স্বাগত জানিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে বললেন, “সংশোধনী প্রস্তাবটি আগে সবাই ভালো করে পড়ুন।”
গতকাল বেলা ১২ টা নাগাদ লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করে কেন্দ্র সরকার। এই প্রস্তাব সংসদে জমা পড়ার পর থেকেই তুমুল বাক বিতন্ডা শুরু হয়ে যায়। তর্ক বিতর্ক, আলোচনা চলতে থাকে রাত্রি ১২টা পর্যন্ত। শেষমেশ ভোটাভুটি করা হয় এবং দেখা যায় বিজেপি সহ শাসক শিবির এই ভোটে জিতে গিয়েছে এবং সেইসঙ্গেই লোকসভায় পাস করানো হয় ওয়াকফ সংশোধনী বিল। আজ এই বিল পেশ করা হবে রাজ্য সভায়। সেখানেও এই বিল পাস হয়ে গেলে তা যাবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্যে। তিনি এই বিলে সাক্ষর করলে এই বিল পরিণত হবে আইনে।
বিরোধী শিবির ইন্ডি জোট এই সংবিধানীর বিরোধিতা করেছে। তারা বলেছে এই সংশোধনী অবৈধ, বেআইনি এবং তা মুসলিমদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়ান সুফী ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আগে ভাল করে সবাই পড়ুন এই প্রস্তাবে কি বলা হয়েছে। লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হয়ে যাওয়ায় আমি শাসক দলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সংসদে আমিত শাহ যে বক্তব্য রেখেছেন তাতেই স্পষ্ট যে ওয়াকফ সংশোধনী প্রস্তাব মুসলমানদের জন্যে আদৌ ক্ষতিকারক নয়। কিছু মানুষ বিজেপির নাম ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা বোঝা হয়ে গিয়েছে যে কে মুসলমানদের বন্ধু আর কে শত্রু। দরিদ্র মুসলমানদের কাছে এই ওয়াকফ সংশোধনী আইন উপহার স্বরূপ হয়ে উঠবে।”
ওয়ার্সি আশা করছেন আজ রাজ্য সভাতেও এই বিল পাস্ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার বেলা একটার সময় বিজেপির জে পি নাড্ডা রাজ্য সভায় পেশ করেছেন ওয়াকফ সংশোধনী বিল।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০৩/০৪/২০২৫ : মধ্যরাত্রে লোকসভায় পাস হয়ে গেল ঐতিহাসিক ওয়াকফ সংশোধনী বিল।ভোটাভুটিতে জিতে গেল এনডিএ জোট।
আজ প্রশ্নোত্তর পর্বের পরেই বেলা ১২টা নাগাদ সংসদের লোকসভায় পেশ করা হয় ওয়াকফ সংশোধনী প্রস্তাব। এই প্রস্তাবটি পেশ করেন সংখ্যালঘু সম্পর্কিত মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এই বিল পেশ হতেই লোকসভা কক্ষে বিরোধীরা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। বিরোধী মুখের প্রধান ছিল কংগ্রেস। এছাড়াও এই বিরোধিতায় অক্সিজেন জুগিয়ে গিয়েছে শারদ পাওয়ার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্তালিন, আসউদ্দিন ওয়েইসিরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা হল না। বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট লোকসভা থেকে বিল পাস করিয়ে নিয়ে গেল।
এদিন বেলা ১২টা থেকে রাত্রি ১২ টা পর্যন্ত লড়াই চলল লোকসভায়। সারাদিন ধরে চলল যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, সওয়াল, জবাব। কিন্তু সব কিছুকেই ঠান্ডা মাথায় সামাল দিচ্ছিলেন অমিত শাহ, কিরেন রিজিজুরা। এরপর শুরু হয় ধ্বনি ভোট, তাতেও জিতে যায় শাসক শিবির। এরপর ভোটাভুটি করা হয়। মোট ৩৯০ জনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট পায় মোট ২২৬টি ভোট এবং বিরোধীরা পায় ১৬৩টি ভোট। একজন রায়দানে বিরত থাকেন।
ভোটাভুটিতে শাসক দল জিতে যাওয়ার ফলে এই প্রস্তাব বা বিল পাস হয়ে গেল লোকসভায়। আগামীকাল এই প্রস্তাব পেশ করা হবে রাজ্য সভায়। সেখানেও ফের নতুন করে তর্ক বিতর্ক পর্ব চলতে থাকবে। থাকবে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির লড়াই। তারপর ফের ভোট হবে. তারপরেও যদি দেখা যায় ভোটে জিতে গিয়েছে শাসক দল, তাহলে দুই কক্ষেই বিল পাস্ করানোর পর সেটিকে পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্যে। তিনি ঐ বিলে সাক্ষর করলেই আইন হিসেবে পাস্ করে যাবে এই সংশোধনী প্রস্তাবটি ।
যদি আগামীকাল এই বিল রাজ্যসভাতেও পাস্ করে যায়, তাহলে সেটা হবে নরেন্দ্র মোদীর পরিচালনায় বিজেপি এবং এনডিএ জোটের তৃতীয় বিশাল সাফল্য। এর আগে এভাবেই তারা তিন তালাক বিল এবং কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করতে পেরেছিল। আগামীকালও যদি সাফল্য আসে তাহলে এটা হবে তাদের তৃতীয় বিশাল জয়।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], নতুন দিল্লী, ভারত, ০২/০৪/২০২৫ : নির্ধারিত সূচী অনুযায়ীআজ সংসদে সংশোধনের জন্যে পেশ করা হয়েছে ওয়াকফ বিল। এই প্রস্তাব পেশ করে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এদিন কংগ্রেসকেই দোষারোপ করলেন।
ওয়াকফ বিলের সংশোধনীর প্রস্তাব আজ পেশ করা হয়েছে সংসদে। পুরোন ওয়াকফ বিলে সংশোধনী আনতে চায় কেন্দ্র সরকারের শাসক দল বিজেপি। যদিও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস, এআইএমইএম, সমাজবাদী পার্টির মত রাজনৈতিক দলগুলি। একসময় এর বিরোধিতা করেছিলেন শিবসেনার বালাসাহেব ঠাকরেও।
এদিন কিরেন রিজিজু সংসদে বলেন, “২০১৩ সালে ওয়াকফ বিলে তিনটি সংশোধন আনা হয়েছিল। আর সেটাও করা হয়েছিল ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই। সেই সংশোধনগুলি নিয়েও সেবার নানারকম প্রশ্ন উঠেছিল। সবাই জানে যে আল্লার নামে ওয়াকফ তৈরি করা হয়েছিল শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যেই, কিন্তু সেবার সংশোধনী এনে বলা হয়েছিল মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের মানুষ যেমন, শিখ হিন্দু, পারসিক এবং অন্যান্যরাও ওয়াকফ তৈরি করতে পারবে।”
কিরেন রিজিজু আরও বলেন যে, “সেবার ইউপিএ সরকার শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়কে সীমিত রেখে সংবিধানের ১০৮ নম্বর ধারাকে আরও ভারী করে তুলেছিল। কিন্তু আজ যে প্রস্তাব আনা হয়েছে তাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং দরিদ্র মুসলমান মানুষদের উপকার হবে। এই প্রস্তাব কোনো সম্প্রদায়ের অভ্যাস, রীতি, নীতি বা প্রয়োজনকে ব্যাঘাত ঘটাবে না।”
এই মুহূর্তে সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে নানারকম আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, পাল্টা উত্তর পর্ব চলছে। এই বপ্ৰস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে, তারপরেই এই সংশোধনী বিল পাশ করা হবে এবং চলে যাবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্যে।