আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা ,পশ্চিমবঙ্গ, ১১/০৪/২০২৫ : প্রায় ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষকরা মিছিল করলেন সল্টলেকের বিকাশভবনের উদ্দেশ্যে। তাঁরা চাইছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাথে সাক্ষাৎ করে একটা সমাধান সূত্রে পৌঁছনোর জন্যে।
বিকাশভনে পৌঁছে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীব্রাত্য বসুর সাথে বৈঠকে বসে সমাধান সূত্র বের করতে চান সদ্য চাকরিহারা শিক্ষকরা। এই কারনে তাঁরা বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল করে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের উদ্দেশ্যে এগোতে থাকেন। ততক্ষনে বিকাশ ভবন চত্বর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এদিন এসএসসি দুর্নীতির প্রতিবাদে সল্টলেক বিজেপি দপ্তর থেকে সৌমিত্র খাঁয়ের নেতৃত্বে বিজেপি কার্যকর্তারা মিছিল করে রওনা দিয়েছিলেন এসএসসি দফতরের উদ্দেশ্যে। পুলিশ আটকে দেয় সেই মিছিল। রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে আট জনকে প্রতিনিধিত্ব করতে অনুমতি দেওয়া হয়. তাঁরা শিক্ষা দপ্তরে গিয়ে ব্রাত্য বসুর সাথে বৈঠকে বসেন। অনেকেই মন্তব্য করতে থাকেন যে আগের বৈঠকের মত এই বৈঠকও নিস্ফলা হবে. তবে এনেকেই এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী।
চাকরিহারাদের দাবী ওএমআর সার্টিফিকেটের মিরর কপি দিতে হবে, যোগ্য ও অযোগ্যদের নির্ভুল ও নিখুঁত তালিকা প্রকাশ করতে হবে. চাকরিহারা শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ালেন আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদীরাও।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাথে বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হল না. শেষমেশ চাকরি হারা শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিলেন, যতক্ষণ না তাঁদের দাবী মেনে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে, আর ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশ করা হচ্ছে, ততক্ষন তাঁরা এসএসসি ভবনের সামনে তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁদের অনশন কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন। আজ রাত্রে এসএসসি ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে. তাঁরা স্কুলে যাবেন না. নতুন করে কেউই পরীক্ষা দিতে বসবেন না. আজ এসএসসি ভবনের সামনে গোলাপফুল দেন চাকরিহারা শিক্ষকরা।
আজ খবর ( বাংলা) [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ১০/০৪/২০২৫ : গতকাল রাত্রি থেকেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বর্ষণে সিক্ত উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা। তাপমাত্রাও কমে গিয়েছে অনেকটাই।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গতকাল রাত্রি থেকে উত্তর বঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুর দুয়ার জেলার বেশ কিছু জায়াগায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়. দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে অবিরাম বৃষ্টি, সেইসঙ্গে প্রচুর পরিমানে বাজে পড়তে থাকে। গতকাল রাত্রি থেকে শুরু হয়ে আজ সকাল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়ে যায়. তারপর থামে আজ সকালে। ততক্ষনে জনজীবন লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি জায়গা থেকে গাছ ভেঙেপড়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে।
বিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে। চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। ঠান্ডা আবহাওয়া, শীতের আমেজ জেলা জুড়ে। জলপাইগুড়িতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ভিজে রাস্তাঘাটে জনমানবের সংখ্যা কমে গিয়েছে। যানবাহন চলাফেরা করছে ধীরগতিতে। জলপাইগুড়ি থেকে একটি বড়সড় সড়ক দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া গিয়েছে। বাজ পড়ে একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এবং পাহাড়ে আজও বৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে যে তীব্র দাবদাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, প্রচন্ড বৃষ্টিতে সেই দাবদাহ একেবারেই কমে গিয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই পরিমান বৃষ্টির দরকার ছিল. উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলগুলি যেভাবে দাবানলের আগুনে পুড়ছিল তাতে করে এই প্রবল বর্ষণে তা নিভে যাবে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে আজ দুপুরে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বেশ কিছু জায়গায় প্রবল বর্ষণ হবে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে মালদা জেলার কিছু জায়গাতেও। এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই, দক্ষিণবঙ্গের আকাশে এখনো বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চারই হয় নি। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পঙ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], করণদিঘি, উত্তর দিনাজপুর, ০৮/০৪/২০২৫ : ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল, প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, ঘটনা মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ রাজ্য সড়কে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ওয়াকফ বিল পাস হয়েছে , আর তারপরেই ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল চলছে বিভিন্ন জায়গায়। এদিন মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ এলাকায় ওয়াকফ বিল প্রত্যাহারের দাবীতে চলছিল পথ অবরোধ। আর তাকে ঘিরেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। প্রতিবাদীদের দাবী ছিল সংশোধিত ওয়াকফ আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , অনেক বোঝানোর পরেও যখন পথ অবরোধ কারীরা কোনো কথাই মানছিল না। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং অবরোধ তোলার চেষ্টা করে। মধ্যেই মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার বিভিন্ন গণ্ডগোলের খবর আসতে থাকে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর ও নিমতিতা এলাকায় গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়ে।
গন্ডগোলের খবর পেয়ে পুলিশের আরও বিশাল বাহিনীকে নামানো হয়. নামে RAF. কিন্তু ততক্ষনে ইঁটবৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ইঁটের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর করা হয়েছে,পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে হয়েছে। সেগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়. পুলিশ লাঠিচার্জ করতে থাকে। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে.
এই মুহূর্তে উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলার একটা অংশে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিলিগুড়ি যাওয়ার জাতীয় সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে। যারা আজ ভাংচুর চালালো, গণ্ডগোল করল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ থেকেই গোটা দেশে সংশোধিত ওয়াকফ বলবৎ করা হল।
মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুরে ওয়াকফ আইন প্রত্যাহার দাবিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি- দুই জায়গায় ১৬৩ ধারা আইন জারি করা হ’ল জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য- কেন্দ্র সরকারের এই কালা আইন প্রত্যাহারের দাবিতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে অবশেষে পুলিশের সামনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একটি পুলিশ গাড়ি সহ একাধিক গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল চালায় পুলিশ। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে শুরু হয় রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ। অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রঘুনাথগঞ্জ ও সুতিতে ১৬৩ ধারা আইন জারি করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি আজ থেকে আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত জেলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে জানানো হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ০৮/০৪/২০২৫ :পেলিং থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে গাছ ভেঙে পরলো পর্যটকদের গাড়ির উপর।
পেলিং থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন হঠাৎ করে একটি গাছ পর্যটকদের গাড়ির উপর ভেঙে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবহাওয়া খারাপ ছিল না, তবে তবুও কেন গাছটি ভেঙে পড়ল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন। তবে এখনও জানা যায়নি, মোট কতজন পর্যটক জখম হয়েছেন বা গাড়িটিতে কতজন ছিলেন। গাছটি ভেঙে পড়ার কারণে সড়কটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, ফলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিছুক্ষণ পর সড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ০৭/০৪/২০২৫ : দক্ষিণ কলকাতায় যখন চাকরিহারাদের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়িতে তাঁর ওপরেই অবিশ্বাস বাড়িয়ে আন্দোলনে নামলেন চাকরিহারারা। দক্ষিণে আশ্বাস, উত্তরে অবিশ্বাস চাকরিহারাদের।
জলপাইগুড়িতে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে চলা অবস্থান বিক্ষোভ মঞ্চে যোগ দিলেন সদ্য চাকরি হারা শিক্ষকরা।
সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস এবং সদর ব্লক কংগ্রেস কমিটির পক্ষ থেকে জেলা স্কুল পরিদর্শক কার্যালয় চত্বরে শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি।
এবার সেই আন্দোলনে সামিল হতে দেখা গেলো সদ্য চাকরি হারানো শিক্ষকদেরকে। এই প্রসঙ্গে চাকরি হারানো শিক্ষক দেব প্রিয় সাহা হতাশার সুরে বলেন, “আজকে কলকাতায় ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরি হারানো শিক্ষকদের সাথে মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের যে সভা রয়েছে সেই সভায় মুখ্যমন্ত্রী যাই বলুন, ওনার ওপর এর আমরা আর আস্থা রাখতে পারছি না। আর সেই কারণেই যাই নি কলকাতায়, কারন এর আগেও উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অথচ যোগ্য অযোগ্য দের পৃথক করার যে কথা বার বার কলকাতা হাই কোর্ট বলেছিল সেটি তিনি করেন নি। তিনি যোগ্য এবং অযোগ্য দের মিলিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে সর্বোচ্চ আদালত এমন এক নির্দেশ দিলো যে আমাদের চাকরিটা ও চলে গেছে। আজ যদি বেতন বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমাদের মতো যারা আছে, তাদের বেঁচে থাকাটাই মুসকিল হয়ে যাবে। আমার এবং আমার স্ত্রীর দুজনেরই চাকরি চলে গিয়েছে।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৭/০৪/২০২৫ : কলকাতার নেতাজি স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের একাংশের সাথে মিলিত হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভায় সুপ্রীম কোর্টের প্রতি নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন চাকরিহারারা। আবার মুখ্যমন্ত্রীও তাঁদের ক্ষোভকে সমর্থন জানালেন। তিনি কার্যত চাকরিহারাদের পাশেই দাঁড়ালেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ।
২০১৬ এসএসসি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে কে যোগ্য এবং কে অযোগ্য তা বাছতে না পেরে গোটা প্যানেলটাকেই অবৈধ ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেক্ষেত্রে সেদিনই চাকরি চলে গিয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা সুপ্রীম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রেখে দিয়েছিল সুপ্রীম কোর্ট। সেক্ষেত্রে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে চাকরি চলে গিয়েছে মোট ২৫,৭৫০ জনের। সুপ্রীম কোর্টের রায় শুনে মানসিকভবাবে ভেঙে পড়েছেন এই শিক্ষকরা।
আজ কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভায় নিজেদের ক্ষোভ পুরোপুরি উগরে দিয়েছে চাকরিহারারা। এই সভা মঞ্চ থেকেই তাঁরা ঘোষণা করেছেন ‘সুপ্রীম কোর্টের রায় অমানবিক এবং তাঁরা এই আইন মানছেন না।’ তাঁরা রাজ্য সরকারকে চাপে রেখে সতর্ক করে বলেছেন,”এখনই ব্যবস্থা নিন।” এর আগে তাঁরা নানারকম হুমকির আশ্রয় নিয়েছিলেন। চাকরিহারারা বলেছিলেন, ‘কাউকে ভোট করতে দেওয়া হবে না।’ বিরোধী দলগুলির উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “আমাদের বর্তমান মানসিক পরিস্থিতিকে নিয়ে মার্কেটিং করার চেষ্টা করবেন না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার বৃহত্তর চক্রান্ত চলছে। উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার আগে ক্লাস ৯, ১০, ১১, ও ১২এর সময় এই শিক্ষকরাই গেটওয়ে হয়ে ওঠেন। এই শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে আছেন যাঁরা গোল্ড মেডেলিস্ট, অনেকে আছেন যাঁরা নিজেদের ছাত্র জীবনে দুর্দান্ত রেজাল্ট করেছেন। তাঁদেরকে তোমরা চোর বলছো ? তাঁদের বলছো অনির্ভরযোগ্য ? কে তোমরা ? কে তোমাদের এই অধিকার দিয়েছে ? কে এই খেলা খেলছে ? এঁদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। আমি চাই অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, কপিল সিব্বল, কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রশান্ত ভূষণ, রাকেশ দ্বিবেদীরা গোটা বিষয়টা দেখুন এবং এঁদের পাশে থাকুন। “
মমতা আরও বলেন, “এঁদের পাশে থাকব। যতদিন না এঁরা সুবিচার পান। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, এঁদের পাশে থাকব। আমি জানি আমার বক্তব্যের কারণে আমাকে হয়ত জেলেও পাঠানো হতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি এই চাকরিহারা শিক্ষকদের পাশে থাকবো।”
এদিকে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিতরে সবাই না ঢুকতে পেরে বিহু চাকরিহারা শিক্ষকরা জোর করে ভিতরে ঢুকতে গেলে পুলিশ আটকে। সেই সময় অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের বাইরে। চাকরিহারা শিক্ষকদের সাথে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তিও হয় ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য]কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,০৬/২০২৫ : আজ রাজ্যের সর্বত্র সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে রামনবমী. রাজ্যের সব জায়গাতেই বেরিয়েছে শোভাযাত্রা। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছেন এই শোভাযাত্রাগুলিতে।
হিন্দু শাস্ত্র মতে পুরুষোত্তম রাম হচ্ছেন হিন্দুদের দেবতা। বিগত ৪০০ বছর আগে থেকে হাওড়ার রামরাজাতলাতে পূজিত হয়ে আসছেন শ্রী শ্রী রাম, সঙ্গে পুজিতে হন মাতা সীতা দেবী, অনুজ লক্ষণ এবং রামের পরম ভক্ত বজরংবলী। দীর্ঘ এই বছরগুলি ধরে প্রথা মেনে সাড়ম্বরে পুজিত হয়ে আসছেন শ্রীরামচন্দ্র। এই পুজোকে কেন্দ্র করে রামরাজাতলা রামমন্দিরে কয়েক লক্ষদিক মানুষ ভীড় করেন দূর- দূরান্ত থেকে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে রামরাজাতলার এই মন্দির চত্বর জুড়ে বসে হরেক রকম দোকানপাট। তৈরি হয় একটি মেলার পরিবেশ।
আজ থেকে এই মেলা চলবে প্রায় তিন মাস। এই তিন মাস হাওড়া সিটি পুলিশের নজরদারি থাকবে এই অঞ্চলগুলিতে। মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা অঞ্চল সিসিটিভি ক্যামেরায়, যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে শ্রী রাম পুজো উপলক্ষে। মেলা চত্বর বা মন্দির চত্বরের দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে থাকেন হাওড়া সিটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ পুলিশের কর্মীরা। এই মেলা উপলক্ষে প্রতি বছর অগণিত মহিলা ভক্তরা আসেন রামকে দর্শন করতে, কিন্তু তাদের শৌচালয় অথবা বায়ো টয়লেটের কোন কিছুর ব্যবস্থা করা হয় না প্রশাসনের তরফ থেকে। এই বিষয় নিয়ে মহিলা ভক্তদের মধ্যে হয়, যে তারা এত দূর-দুরান্ত থেকে আসেন অথচ ভোর তিনটে থেকে পূজো শুরু হয় সারাদিন চলে পূজা অর্চনা। কিন্তু এই সমস্যার সম্মুখীন হতেই হয় মহিলা ভক্তদের। তাই তাঁরা হাওড়ার প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছেন যেন তাদের দিকে তাকিয়ে অন্তত কয়েকটি বায়ো টয়লেট এবং শৌচাগার তৈরি করা হয় আগামী বছরে।
রামনবমী উপলক্ষে পাড়ুই থানার কসবা পঞ্চায়েতে বেরুগ্রামে রামনবমী কমিটির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। এখানে বেরুগ্রাম রামনবমী বজরংবলি কমিটির পক্ষ থেকে কাজল শেখকে জয় শ্রীরাম লেখা পতাকা সহ ত্রিশূল উপহার দেওয়া হল। অন্যদিকে অনুষ্ঠান চলাকালীন খাবার পরিবেশনও করেন তিনি। এদিন কাজল শেখ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নানুরের বিধায়ক বিধান মাঝি।
হাইকোর্টের অনুমতিক্রমে শিবপুরের কাজীপাড়া অবনি মল সংলগ্ন নরসিংহ মন্দির থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত অঞ্জনি পুত্র সেনার রামনবমী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় শোভাযাত্রা বের হয়েছে। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী থেকে শুরু করে উপস্থিত রয়েছেন অলোক রাজোরিয়া, অখিলেশ চতুর্বেদী সহ পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা। অঞ্জনি পুত্র সেনার রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মিছিল কাজীপাড়ার মোড় থেকে শুরু হয়ে অলোকা মোড়, পিএম বস্তি, ট্রাম ডিপো, শিবপুর থানা, সন্ধ্যাবাজার হয়ে হাওড়া ময়দানে এসে শেষ হবে।
বীরভূমের সিউড়ীতে রামনবমীর মিছিলে খেলনা বন্দুক , এয়ারগান , কোথাও প্লাস্টিকের বন্দুক নিয়ে মিছিল। তরোয়াল নিয়েও মিছিল। সিউড়ী থানার পুলিশ মিছিলের মধ্যে ঢুকে বাজেয়াপ্ত করে সেই সব তরোয়াল , খেলনা বন্দুক। হিন্দু-হিন্দু ভাই স্লোগান নয়। রাম নবমীর শোভাযাত্রায় উঠল হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই স্লোগান। হ্যাঁ রবিবার রাম নবমী উপলক্ষে রাম ভক্তদের আয়োজিত শোভাযাত্রায় রবিবার এমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির ধরা পড়ল মালদা শহরের বুকে। শোভাযাত্রায় সামিল বিজেপির উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মুকে জড়িয়ে ধরে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই স্লোগান দিলেন, মালদা শহরের মুসলিম কমিটি আটকোশী আঞ্জুমান আকবারিয়া ইসলামিয়ার সদস্যরা। তবে শুধু স্লোগান নয়। তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী রাম ভক্তদের উপর পুষ্প বৃষ্টি করে, জল ও লাভডু বিতরণের মাধ্যমে সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা দেন।
রাম নবমী কে ঘিরে উৎসবের আমেজ তিস্তা পাড়ের পুরাতন দোমোহনিতে, রবিবার রাম সেনার পক্ষ থেকে কচিকাঁচা সহ গ্রামের নবীন প্রবীণদের নিয়ে এই উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গ্রামের পথ পরিক্রমা করে দো মো হিনী কালী বাড়ীতে সমাপ্ত হয়। এই প্রসঙ্গে রাম সেনার অন্যতম উদ্যোক্তা সৌরভ হাজরা বলেন, রাম নবমী পালনের সঙ্গে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচী রয়েছে আমাদের, আজকের এই রাম নবমী মিছিলের আয়োজন করার মূল লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের সৃষ্টি ,সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। শিলিগুড়ির মহাবীরস্থানে সত্যনারায়ণ মন্দিরে রামের পূজো দিয়ে আজকের দিন শুরু করেন মেয়র গৌতম দেব।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর পৌশালী দাসের নেতৃত্বে শুরু হলো রামনবমীর মহা মিছিল। এই মিছিল ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ নগর কলোনি থেকে এই মিছিল বের হয়,। সম্পূর্ণ ২৫ নম্বর ওয়ার্ড পরিক্রমা করে আবার এই পরেশ নগর কলনিতে শেষ হবে বলে জানান ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৌশালী দাস। শ্রী রামনামিনী উদযাপন ধূপগুড়িতে শহরে বিশালাকার র্যালি বের হয়ে গোটা শহর পরিক্রমা করে। হাজার হাজার মানুষের সমাগম লক্ষ করা গেল। জানা গেছে এদিন জেলায় মোট ১৮ টি জায়গায় প্রায় দেড় লক্ষ উপর ভক্ত সমাগম হয় খুশি উদ্যোক্তারা। শ্রী রামনামিনী উদযাপন সমিতি জলপাইগুড়ির তরফে জোর প্রস্তুতি শহরে মিলন। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, চলছে রামের পুজো। দুপুরে সুবিশাল মিছিল শহরে পরিক্রমা করবে। জেলায় মোট 18 টি জায়গায় প্রায় দেড় লক্ষ উপর ভক্ত সমাগম হবে বলে আশা করছে উদ্যোক্তারা।
এদিন রাজ্য জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য পুলিশ। সর্বত্র ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের সব কর্মচারীকে ছুটি বাতিল করে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। সর্বত্র কড়া পুলিশি নজরদারি ছিল. মানুষ আনন্দের সাথে রামনবমী পালন করতে পেরেছে। যেখানে প্রয়োজন পুলিশ সেখানে কঠোর মনোভাব নিয়েছে, যেখানে প্রয়োজন ছিল, না সেখানে নরম মনোভাব নিয়েছে। মোটামুটি যেখানে বলা হয়েছিল রামনবমী উপলক্ষে অশান্তির সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে রামনবমী পূজা। সাধারণ মানুষ ফুল মার্ক্স্ দিয়েছে পুলিশকে।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ০৪/৪/২০২৫ : উত্তরবঙ্গের অর্রান্যগুলিতে প্রায়ই আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ছে অরণ্যের বিভিন্ন দিকে। দাবানলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন সম্পদ।
বসন্তকাল আসতে না আসতেই শুকনো হাওয়ায় দাবানলের ঘটনা ঘটছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অরণ্যে। কিছুদিন আগেই মংপুর কাছেই অরণ্যের বিস্তীর্ন অঞ্চলে আগুন লেগে গিয়েছিল। ডুয়ার্সের জঙ্গলগুলিতেও প্রায়ই আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। গত পরশু দিন চালসার কাছে অরণ্যে আগুন লেগে গিয়েছিল। আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছিল চাপড়ামারি অরণ্যেও। গতকাল দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছিল গরুমারা অভয়ারণ্যে।
আজ বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে বিধ্বংসী আগুন জ্বলতে দেখা গেলো। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন । শুক্রবার ডাবগ্রাম রেঞ্জের অধিনস্থ সাহুডাঙ্গি সংলগ্ন তিস্ত্যা ক্যানেলের পাশের বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলের বরুয়াপাড়া এলাকায় এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ডাবগ্রাম রেঞ্জের বনকর্মীরা ও ফুলবাড়ির দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়
দাবানলের ফলে অরণ্যে বহু গাছ পুড়ে নষ্ট হচ্ছে, সেইসব গাছগুলির মধ্যে থাকে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য গাছও। এর ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রচুর পরিমানে বনজ সম্পদ। আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে বনে থাকা প্রচুর পশু পাখিম সরীসৃপ ও কীটপতঙ্গ। এতে করে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়তে পারে। কিছু সমাজকর্মীর বক্তব্য আগাছা এবং বড় ঘাস পুড়িয়ে ফেলতে বনকর্মীরাই নাকি আগুন লাগানোর কাজটাকরছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বন দপ্তর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যেবেলায় বেপরোয়া একটি লরির তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়ালো অন্ডালের উখরা থেকে পাণ্ডবেশ্বর পর্যন্ত । প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ দুর্গাপুর ফরিদপুর থানার লাউদোহার দিক থেকে উখরার দিকে আসছিল ১৬ চাকার একটি লরি । উখরা বাজপাই মোরে লরিটি একটি বাইককে ধাক্কা মারে । বাইকটিতে ছিল দুজন আরোহী । এরপর লরিটি গতি বাড়িয়ে দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে ।
ট্রেন চলাচলের জন্য শংকরপুর রেল ফটকে তখন গেট বন্ধ ছিল । লরিটি রেলগেট ভেঙ্গে দ্রুতগতিতে পাণ্ডবেশ্বর এর দিকে ছুটতে থাকে । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বাজপাই মোড় থেকে শংকরপুর মোড় পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বাইক টোটো এবং চার চাকার গাড়িতে লরিটি ধাক্কা মারে । ক্ষতি হয় একাধিক গাড়ির । পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায় । রেলগেট ভেঙ্গে পালানোর সময় লরিটিকে ধাওয়া করে অন্ডাল ট্রাফিক গার্ড পুলিশের একটি মোবাইল ভ্যান । বনবহাল ফাঁড়ি ও পাণ্ডবেশ্বর ট্রাফিক গার্ড পুলিশ ও লরিটির পিছু নেয় ।
বনবহাল ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে বেপরোয়া লরিটি গাইঘাটা মোরে রামনবমী উৎসবের জন্য তৈরি হওয়া মণ্ডপে, একজন বাইক আরোহী ও পুলিশ মোবাইল ভ্যানে ধাক্কা মারে । অবশেষে লরিটি ধরা পড়ে পাণ্ডবেশ্বরের অজয় নদীর কাছে পুলিশ নাকাতে । লরি সহ ড্রাইভার কে আটক করে পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ । পাণ্ডবেশ্বরেও ঘাতক লরিটির ধাক্কায় একজন আহত হন বলে জানা যায় ।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কৃষ্ণনগর, নদীয়া, ০৪/০৪/২০২৫ : ২০০২ সালে হাই জাম্পে সোনার মেডেল জিতে নিয়ে সাউথ কোরিয়ায় উড়িয়েছিলেন ভারতীয় তিরঙ্গা। এরপর মারণ রোগ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এথলিট সোমনাথ মালো। ২০১৬ সালে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি, ছিলেন স্কুলের করণিক পদের দায়িত্বে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয়েছে প্রায় ২৬০০০ চাকরি। রেয়াত পেলেন না সোমনাথ বাবুও। কিভাবে সংসার চলবে, মারণ রোগের চিকিৎসা করবেন কিভাবে? পরিবারের মুখে অন্ন কোথা থেকে আসবে, সেই দুশ্চিন্তাতেই ভেঙে পড়লেন নদীয়ার বীরনগর হাই স্কুলের সি গ্রুপের কর্মরত ব্যক্তি সোমনাথ মালো। রয়েছে কগাদা প্রশ্ন, উত্তর নেই কোনো। পরিবারের রয়েছে কন্যা সন্তান ও স্ত্রী। মাত্র তিন বছর বয়সে ভুল চিকিৎসায় প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। থেমে থাকেনি জীবনযুদ্ধের লড়াই। প্রতিবন্ধকতাকে সাথে নিয়ে সাফল্যের শীর্ষে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি, এরপর ভারতের হয়ে হাই জাম্প প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন সাউথ কোরিয়ায়, সেখানে সোনার মেডেল ছিনিয়ে নেন সোমনাথ বাবু। জাতীয় সংগীত গেয়ে উড়িয়েছিলেন ভারতীয় তিরঙ্গা, কিন্তু ভালোই চলছিল সংসার। দুচোখে দেখছিল হাজার স্বপ্ন।
অল্প বেতনের সি গ্রুপের চাকরিতেই খুশি ছিলেন পরিবার নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ সুনামিতে রাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকরি বাতিলের মধ্যেই উঠে এলো তাঁর তার নামও। এমত পরিস্থিতিতে মারণ রোগ ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত সোমনাথ মালো কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। স্ত্রীর চোখ দিয়ে পড়ছে অশ্রু, মারণ রোগের চিকিৎসা চালাতে না পারলে কিভাবে বেঁচে থাকবেন তিনি ! বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশাই এখন যেন জীবন সঙ্গী দাঁড়িয়েছে সোমনাথ বাবুর পরিবারে। নদীয়ার তাহেরপুর পৌরসভার অন্তর্গত ডি ব্লকের বাসিন্দা সোমনাথ বাবু চাইছেন, আরো এক ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত সোমা পালের নাম বহাল থাকলেও তার নাম বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তার করজোরে প্রার্থনা, রাজ্য সরকারই একমাত্র তার পরিবারকে বাঁচাতে পারে।