
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৭/০৭/২০২৬ : আগামীকাল ফের একবার রাজপথে নেমে রাজনৈতিক আন্দোলন সংঘটিত করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামীকাল বারুইপুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলোনে সামিলহতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপলক্ষে তৃণমূল নেতা কর্মী, তৃণমূল যুবা এবং সমর্থকদের পাশে পাওয়ার আহবান জানিয়েছেন নেত্রী। সুতরাং আগামীকাল ফের একবার নিজের রাজনৈতিক অস্ত্রে শান দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন নেত্রী। তাঁরই দলে বিক্ষুব্ধরা যখন দলের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকছেন, তখন আক্রান্ত বাঘের মত ফের একবার রাজনীতির ময়দানে সর্ব শক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনে শোচনীয় হার ও দলে ভরাডুবির পরেও এতটুকু শংকিত নন মমতা, বরং ফের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে লড়াইয়ের ময়দানে ফেরত আসতে চাইছেন তিনি। গতকাল তিনি বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। সে প্রসঙ্গে মমতা বলেছেন, “আমাকে যেন গৃহবন্দী করে রেখে দেওয়া হয়েছে!” সেই ঘটনার প্রতিবাদে মমতা গতকাল রাতেই মোমবাতি মিছিল করতে পথে নেমেছিলেন। আর আগামীকাল বারুইপুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বড়সড় আন্দোলনে নামতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিছুদিন আগেই তাঁর জমানায় যেমন বিজেপিকে আন্দোলন করার অনুমতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হত, তেমন আজ তৃণমূলকেও আন্দোলন করার জন্যে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “৮ তারিখে কলকাতার রাজপথে নেমে আন্দোলন করার অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। আগামীকাল দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের মুখ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।”
আগামীকাল এই মিছিল করে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছেন মমতাপন্থীরা। প্রথমত রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে রাজ্য সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরা যাবে। যদি আগামীকাল কর্মী সমর্থকদের ভীড় টেনে নেওয়া যায়, তাহলে রাজনৈতিক মন্দার বাজারেও পালে হাওয়া লাগিয়ে নিতে পারবেন মমতা। নিজের শক্তি প্রদর্শন করার ক্ষেত্রেও সাফল্য পাবেন তিনি। এক্ষেত্রে তাঁদের আন্দোলনের বিরোধিতা করতে বিজেপি কোনো ভুলকরে বসে কিনা সেদিকেও নজর রাখবেন নেত্রী। দ্বিতীয়ত, আগামীকালের মিছিল আগামী দিনে তৃণমূলের নাম, প্রতীক, তহবিল নিয়ে নতুন বার্তা বিক্ষুব্ধদেরকে প্রদান করতে সক্ষম হবে। শুধু তাই নয় আগামীকালের মিছিলের সাফল্যদেখে নিয়েই আগামী ২১শে জুলাই শহীদ দিবস নিয়ে ঠিক কি কর্মসূচী নেওয়া হবে, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন নেত্রী। কমেন্টে লিখুন আপনার মতামত।
![]()









