
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], রানাঘাট, নদীয়া, ১৯/০১/২০২৬ : সোমবার নদিয়ায় সাতসকালে ডাবল মার্ডার! বৌমা ও বেয়াইকে কুপিয়ে খুন ৭৫ বছরের বৃদ্ধের।
সাতসকালে জোড়া খুনে তীব্র চাঞ্চল্য নদিয়ার রানাঘাটে। পুত্রবধূ ও তাঁর মাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ৭৫ বছরের বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুতোষপুর গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে দুই মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতরা হলেন অনন্ত বিশ্বাসের পুত্রবধূ ২৪ বছরের শিল্পা বিশ্বাস এবং তাঁর মা ৫৬ বছরের স্বপ্না মণ্ডল। ঘটনার পর অভিযুক্ত অনন্ত বিশ্বাসকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রক্তমাখা কুড়ুল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক দিন আগেই অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের জন্য তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন পুত্র পতিতপবন বিশ্বাসের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডল। অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য পুত্রবধূ শিল্পা ও বেয়াই স্বপ্নাকেই দায়ী করতেন অনন্ত। তাঁর সন্দেহ ছিল, তুকতাক বা কালোজাদুর মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে অনন্তের পুত্র পতিতপবন ফুল বিক্রি করতে বাজারে যান। সেই সময় বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন শিল্পা ও তাঁর মা। অভিযোগ, কাঠ কাটার জন্য রাখা কুড়ুল নিয়ে তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি কোপ বসান বৃদ্ধ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।
বাজার থেকে ফিরে ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও শাশুড়ির রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন পতিতপবন। তিনি বাবাকে প্রশ্ন করলে, অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বিকারভাবে অনন্ত বিশ্বাস বলেন, “তোর পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিয়েছি।”
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের প্রাথমিক অনুমান, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ ও কুসংস্কারের বশেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্ত্রী ও শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে বাবার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শিল্পার স্বামী পতিতপবন বিশ্বাস।
![]()









