
নির্বাচনের লাইভ আপডেট পেতে আমাদের ফলো করুন – www.aajkhabor.in
News Update : 09:30 — আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ, ২৩/০৪/২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। মানুষ সকাল থেকেই বুথগুলিতে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। এবার কিন্তু বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একসাথে নিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সেই চ্যালেঞ্জগুলো ঠিকমত করা যাচ্ছে কিনা, শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ভোট করানো যাচ্ছে কি না , সেই দিকে নজর থাকবে কমিশনের।
এই বছর দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। অশান্তি এড়াতে অন্যান্যবার সাত দফা, আট দফায় ভোট গ্রহণ করানো হত। কিন্তু এবার মাত্র দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে। সুতরাং এটা নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজ মোট ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পঙ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া এবং হুগলি জেলায় ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন করার জন্যে এবার প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট গ্রহণ রীতিমত নজিরবিহীন। এবার রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানী আধা সামরিক বাহিনী জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যের স্পর্শ কাতর এলাকাগুলিতে বেশি সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটা বুথে চারজন করে জওয়ান থাকছেন। এবার এই জওয়ানদের কাজকর্মে পুরো স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ভোট শান্তিপূর্ণ করতে যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এবার নির্বাচন উপলক্ষে যথেষ্ট কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুথে বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, বুথের ভিতরে প্রবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ, বাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, মদের দোকান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা, কমিশনের নিজস্ব মনিটরিং সব কিছুতেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছে কমিশন। এবার রাজনৈতিক গুন্ডাদেরকেও আগে থাকতে আটক করা হয়েছে, অর্থাৎ যারা কিনা গোলমাল পাকাতে পারে তাদেরকে আগে থেকেই আটক করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এবার যেভাবে এসআইআর করে ভুয়ো ভোটারদের বিয়োজন করেছে এবং নতুন ভোটারদের সংযোজন করেছে, তা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নির্বাচন কমিশনের সামনে। আজ মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের ভোট নিয়ে অবশ্যই চিন্তায় থাকবে কমিশনের আঃইকারিকরা। তবে সর্বত্রই নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া মিটিয়ে মে মাসের ৪ তারিখে গণনা এবং তার পরের কয়েকটা দিন এই রাজ্যে শান্তিপূর্ণ রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের সামনে।
আজ খবর আপডেট (বাংলা), [ভোটের খবর ] — সকাল ১১:৩০ — রাজ্যের যে ১৬টি জেলায় আজ প্রথম দফার ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই সব জায়াগায় মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। তবে তার মাঝেই বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনার খবর এস পৌঁছেছে।
মুর্শিদাবাদের নওদায় গতকাল রাতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় এক ব্যক্তির জখম হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বলছে বোমাবাজি করেছিল হুমায়ুন কবিরের দল, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির লোকেরা। এদিকে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন “বোমাবাজি করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা।” আজ সকাল থেকেই উত্তেজনা দেখা যায় নওদা এলাকার ৯ এবং ১০ নম্বর বুথের সামনে। এখানে তৃণমূল কর্মীদের সাথে বচসা এবং ধাক্কাধাক্কি হয় হুমায়ুন কবিরের লোকেদের। হুমায়ূনকে ঘিরে ধরে ‘চোর’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হলে হুমায়ুনও পাল্টা চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। এরপর তিনি রাজ্য সড়কের ওপর দলবল নিয়ে বসে পড়েন এবং রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন।
মুর্শিদাবাদে ডোমকল থেকেও অশান্তির খবর এসেছে। এখানে ২২০ নম্বর বুথের কাছে এক সিপিএম কর্মীকে মারধর করার খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। এই ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও গন্ডগোলের খবর এসেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্ডিপুর থেকে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের বারকোদলি গ্রামে বুথ জ্যামের খবর আসে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় এবং ভীড় হঠিয়ে দেয়। আলিপুর দুয়ারের ১২/১৭৬ নম্বর বুথে দলবল নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী সুমন কানজিলাল ঢুকে পড়েন। বাহিনীর সাথে বচসার পর তাঁকে বুথ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়।
রাজ্যের বিরোধী দল নেতা আজ বলেছেন, “কোথাও কোনোরকম গুন্ডামি সহ্য করা হবে না। ” তিনি আজ সকালেই নন্দীগ্রামে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। খড়্গপুর সদরে ভোট দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছিল ১৮% – ২০ % , তবে সকাল ১১ টা পর্যন্ত প্রায় ৩০% ভোট পড়েছে রাজ্যে।
পরবর্তী ভোটের খবর দেখার জন্যে নজর রাখুন
![]()