
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], ঝাড়গ্রাম, পশ্চিমবঙ্গ, ১৩/০১/২০২৬ : ফোন-পে-র এক তথ্যতেই পর্দাফাঁস, সাত দিনের মাথায় গ্রেফতার ৫ ছিনতাইকারী, রাতভর যৌথ অভিযানে সাফল্য পুলিশের
ছিনতাইয়ের পর কোনো প্রমাণ না রাখার পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত একটিমাত্র ডিজিটাল তথ্যতেই ভেঙে পড়ল দুষ্কৃতিদের সব ছক। ফোন-পে-তে টাকা মেটানোর সূত্র ধরেই সাত দিনের মাথায় গ্রেফতার করা হলো পাঁচ ছিনতাইকারীকে।
গত ৬ জানুয়ারি জাম্বনীর চুটিয়া এলাকায় সিএসপি-র জন্য জাম্বনী থেকে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন সুব্রত সিংহ। ঘন জঙ্গল রাস্তার মধ্যে ঝাড়খন্ড থেকে অ্যাপাচি বাইকে আসা তিন দুষ্কৃতি তাঁকে আটকায়। বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে জঙ্গল পথ ধরে চন্দ্রি হয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে ঝাড়খন্ডে পালানোর রাস্তাও দেখিয়ে দেয় স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু পাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের পর ঝাড়খন্ডের বড়শোল থানার এলাকায় একটি দোকানে খাওয়া-দাওয়া করে দুষ্কৃতিরা। সেখানেই প্রথমবার ফোন অন করে ফোন-পে-র মাধ্যমে টাকা মেটানো হয়। আর এতেই পুলিশের হাতে প্রথম বড় তথ্য চলে আসে। তদন্তে উঠে আসে, গোটা ঘটনার মূল মাথা হল ব্যাঙ্কের লোন এজেন্ট শুভজিৎ সরকার, যিনি একজন বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারী। ভিকটিমকে চেনানোর দায়িত্বে ছিল জাম্বনী থানার মুড়াকাটি এলাকার বাসিন্দা শম্ভু পাল। অপারেশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল ঝাড়খন্ডের যদুগোড়ার বাসিন্দা সুনিল কৈবত্য, মোহন কিস্কু এবং বাড়মা মাইনস এলাকার রোহিত কুমার শর্মা।
এই সূত্র ধরেই ঝাড়খন্ড যাওয়ার রাস্তায় প্রায় ৩০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। শেষমেশ গতকাল রাতে ঝাড়গ্রাম, জাম্বনী ও ঝাড়খন্ডে একযোগে তিনটি আলাদা দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। গোটা অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস ও জাম্বনী থানার আইসি। আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে।
![]()