আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক] নতুন দিল্লী, ভারত, ২২/১২/২০২৫ : বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত বিরোধিতা জিগির নিয়ে মুখ খুললেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে বিগত কয়েকদিনে পরিস্থিতি ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশের জনৈক রাজনৈতিক নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে অশান্তি চরমে উঠেছে। সে দেশে অশান্তির আগুন সংবাদ মাধ্যম এবং সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে চিহ্নিত ছায়ানটকে পর্যন্ত ছাড়ে নি.। ফের একবার ধ্বংসের খেলায় মেতেছে ঢাকা। সেই সঙ্গেই বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ভারত বিদ্বেষী মনোভাব। যে বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন সংখ্যালঘু হিন্দুরা।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জন্যে তদারকি সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসকেই দায়ী করেছেন। হাসিনা জানিয়েছেন, “সে দেশে ভারত বিরোধিতা এবং মনোভাবের জন্ম দিয়েছে কিছু কট্টরপন্থী সংগঠন, সেই সংগঠনগুলিকে উস্কানি দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনুস। যার ফলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।”
বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী নেতা যেভাবে ভারতের শত্রুতা করছে তাতে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রাণ সংশয় আছে বলে মনে করছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “এই শত্রুতা মাথা চারা দিয়ে উঠেছে এবং এটি মহম্মদ ইউনূসের আমলে আরও বেশি করে উৎসাহিত হচ্ছে।” তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল আদালতের রায় সম্বন্ধে হাসিনা বলেন, “এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যেই করা হয়েছে। এর সাথে ন্যায়বিচারের কোনো সম্পর্ক নেই। “
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], নকশালবাড়ি, দার্জিলিং, ২০/১২/২০২৫ : দার্জিলিং জেলার একটি চা বাগান থেকে একটি চিতা বাঘ ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।
কিছুদিন ধরেই বন দপ্তরের কাছে অভিযোগ আসছিল নক্সালবাড়ি এলাকার জাবরা ডিভিশনের একটি চা বাগানে ছাগল-বাছুর মেরে খেয়ে যাচ্ছে চিতাবাঘ। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বন দপ্তরের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। এই অভিযোগগুলি পেয়ে পানিঘাটা ডিভিশনের রেঞ্জার প্রণব কুমার দাসের নেতৃত্বে বন দপ্তর অভিযান চালায়। শেষমেশ আজ ধরা সম্ভব হয় ওই চিতাবাঘটিকে।
বন দপ্তর জানিয়েছে ফাঁদ পেতে নক্সালবাড়ির একটি চা বাগান থেকে ধরা হয়েছে ঐ চিতাবাঘটিকে। তাকে চিকিৎসা করে বন দপ্তরের নিয়ম মেনেই ছেড়ে দেওয়া হবে অন্য কোনো বনাঞ্চলে। চিতাবাঘ ধরা পড়ায় স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
আজ খবর (বাংলা) [দেশ], গুয়াহাটি, আসাম, ২০/১২/২০২৫ : দ্রুতগতিতে ছুটে আসা রাজধানী এক্সপ্রেস পিষে দিয়ে চলে গেলো সাত পূর্ণবয়স্ক হাতিকে, ঘটনাটি ঘটেছে আসামে। ঘটনাস্থল গুয়াহাটি থেকে ১২৪ কিলোমিটার দূরে।
শনিবার ভোর রাতে সাইরাং থেকে দিল্লীগামী একটি দ্রুতগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন লামডিং ডিভিশনে সাত হাতিকে পিষে মেরে দিয়েছে। হাতিদের একটি দল রেল লাইনে উঠে এসেছিল। ট্রেনের ধাক্কায় হাতিদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন দপ্তর। এই ঘটনায় যাত্রী সাধারণের মধ্যে অবশ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নি বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন নর্দান ফ্রন্টিয়ার রেলের আধিকারিকরা। উদ্ধারকারী ট্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাতিগুলিকে ধাক্কা মারার জন্যে ট্রেনের যে কোচগুলির সামান্য ক্ষতি হয়েছিল সেই কোচগুলির যাত্রীদেরকে অন্যান্য কোচের ফাঁকা থাকা বার্থে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলিকে ট্রেন থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। গুয়াহাটি স্টেশনে ফের নতুন বগি জুড়ে দেওয়া হবে ঐ ট্রেনটিতে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], রামপুরহাট, বীরভূম,১৯/১২/২০২৫ : বীরভূমের রামপুরহাটে ঘটে যায় এক অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা। এক আবাসনের চারতলা থেকে লিফটের ফাঁকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন এক বৃদ্ধা।
রামপুরহাট শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুরালি দত্ত ঠাকুরবাড়ির গলিতে একটি আবাসন থেকে এক বয়স্ক মহিলা নিচে পড়ে যান।যিনি ওই আবাসনে দুধ বিক্রি করতে যান বলে জানা যায়। ওই আবাসনের চারতলা লিফট থেকে নিচে পড়ে যান দুধ বিক্রেতা ওই বৃদ্ধা মহিলার। উপর থেকে নিচে পড়ে যাওযায় খুব জোর আঘাত পেয়েছেন বৃদ্ধা। এমনকি হাত ও পা ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা এবং মাথা ও কোমরের গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
বৃদ্ধা মহিলার বাড়ি রামপুরহাটের বরশাল গ্রামে। ওই মহিলাকে স্থানীয় মানুষজন উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান শারীরিক চিকিৎসার জন্য। তবে অভিযোগ উঠছে লিফটের দরজা খোলা ছিল। তাই দুধ বিক্রেতা ওই বৃদ্ধা মহিলা লিফটে চাপতে গেলে উপর থেকে নিচে পরে যান। আবার স্থানীয় কেও কেও জানাচ্ছেন চারতলায় লিফট না পৌঁছালে লিফটের দরজা খোলা থাকে কিভাবে? তবে ওই বৃদ্ধা মহিলা কিভাবে চারতলা থেকে নিচে পড়ে গেলেন তার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ১৯/১২/২০২৫ : ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে শুক্রবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে একটি সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পার্কিং ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার এবং পথচারীদের চলাচলে যেন ফুটপাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, কোনওরকম অসুবিধা না হয়, এই লক্ষ্যেই এদিন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, হিলকার্ট রোড শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা, পথচারী ও যানবাহনের চাপ থাকায় পার্কিং ও ফুটপাত দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধান ও শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতি।
এদিন সমিতির সদস্যরা রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষ, দোকানদার ও গাড়িচালকদের কাছে অনুরোধ জানান—নির্দিষ্ট পার্কিং স্থান ব্যবহার করতে এবং ফুটপাত যেন কোনওভাবেই দখল না করা হয়। এতে পথচারীদের চলাচল যেমন স্বচ্ছন্দ হবে, তেমনই যানজটও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
উল্লেখ্য, এই সচেতনতা অভিযানের আগে হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিল যে নির্দিষ্ট দিনে তারা সকলের কাছে পৌঁছে এই বার্তা দেবে। সেই অনুযায়ী আজ সংগঠিতভাবেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের কোনও ভোগান্তি না হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টের রায়ে পাহাড়ের ৩১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হল। শুধু চাকরি বাতিলই নয়, অবিলম্বে তাঁদের বেতন বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
এই নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে মামলাকারী সংগঠন ট্রেনড আনইমপ্লয়েড ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। সংগঠনের সভাপতি সুধন গুরুং জানান, শুধুমাত্র ৩১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করলেই চলবে না। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। পাশাপাশি, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি জানান তিনি।
এছাড়াও, চাকরি পাওয়ার দিন থেকে বরখাস্ত হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে বেতন পেয়েছেন, তা সুদসহ ফেরত নেওয়ারও দাবি তুলেছেন সুধন গুরুং।
অন্যদিকে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাকরিহারা ৩১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার পাশে থাকার কথা জানিয়েছে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (ABTA)। যদিও সংগঠনটিও নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সায় দিয়েছে।
এদিন দার্জিলিং জেলার এবিটিএ কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এবিটিএ’র জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ রাজগুরু জানান, নির্দোষদের হয়রানি নয়, বরং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক—এই দাবিতেই তারা অনড়।
হুগলীর রিষড়া বাঙুর পার্কে শতদ্রুর চারু সুধা নামের বাড়িতে আসে বিধান নগর পুলিশের চার জন পুলিশ কর্তা। রিষড়া থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালায় তারা বাড়িতে।
শতদ্রু বাড়ি থেকে বেরিয়ে তারা যান রিষড়া থানায়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর তারা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই কিছু বলতে চাইনি। এদিকে শতদূর পরিবারেও এ নিয়ে কিছু মুখ খুলতে নারাজ।
উল্লেখ্য ,গত ১৩ ই ডিসেম্বর যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে দেখতে না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দর্শকরা। ভাঙচুর চালানো হয় স্টেডিয়ামে। এরপরেই মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করে বিধাননগর থানার পুলিশ। তাকে আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশে হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই ঘটনা তদন্তে আজ রিষড়ায় শতদ্রুর বাড়িতে আসে বিধান নগর থানার পুলিশ।
গত ১২ই ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকা দিয়ে রিক্সায় চেপে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা মোটরসাইকেলে চেপে এসে খুব কাছ থেকে গুলি করে শরীফ ওসমান হাদীকে। গুরুতর আঃ অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং পরে এভারকেয়ার মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়. সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এরপর গত ১৫ তারিখে তাঁকে আরও ভালো চিকিৎসার জন্যে এয়ার এম্বুলেন্স করে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই হাদির মৃত্যু হয়.
ভারত বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। গত জুলাইয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলদেশ, সেই সময় হাদি আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশে। হাদির পরিবার দাবী করেছে, হাদির স্মৃতি রক্ষার্থে শাহবাগে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক. তাঁর লেখা কবিতা স্কুলের পাঠ্য হোক এবং তাঁর জীবনী বিভিন্ন স্কুলে পড়ানো হোক. তাঁর আততায়ীদের যেন চিহ্নিত করা হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়.
আজ হাদির মৃত্যুতে শোকাহত অনুগামীরা শাহবাগে জমায়েত করেন। তাঁরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ভারত বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। ধানমন্ডির ছায়ানট সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করেন। ভারতের দূতাবাসগুলিও তাঁদের আক্রমন থেকে রেহাই পায় নি.
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৮/১২/২০২৫ : চলতি মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখে রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দুই দিন রাজ্য সফরে এসে তিনি রাজ্যের দলীয় নেতৃত্বকে প্রজনীয় নির্দেশ দেবেন।
ডিসেম্বরের ২৯ ও ৩০ তারিখে কলকাতায় থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই দুই দিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোর কমিটির সাথে বৈঠক সারবেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলকে চাঙ্গা করতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দিতেই এই রাজ্যে আসছেন তিনি। ভোটে যাওয়ার আগে এই মুহূর্তে দলের শক্তি কতটা তা যাচাই করতে চান অমিত শাহ। এবার বৈঠকে তিনি বুথ লেভেল পরিকল্পনা ও অন্যান্য কৌশল সম্বন্ধেও আলোচনা করে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আগামী শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নদীয়ার তাহেরপুরে একটি জনসভা করবেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে তাহেরপুরে এখন সাজো সাজো রব উঠেছে। প্রচুর মানুষের ভীড় হবে সেদিন, তাই এখন থেকেই তাহেরপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে এসেছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। আজ তিনি বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি শহরে একটি সভা করবেন। আগামী শনিবার তিনি শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় যাবেন।
এবং তারপর – ১৮/১২/২০২৫ : অনলাইন ব্যবসার ধাক্কায় রীতিমত বেসামাল অফলাইন বা খুচরো ব্যবসায়ীরা। প্রতিযোগিতায় ক্রমেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকতে শুরু করেছে খুচরো ব্যবসায়ীদের। শিলিগুড়ির মত শহরের ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে এই সমস্যায় ভুগছেন, যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির খুচরো ব্যবসায়ীরা পথে নেমে মিছিল করেছেন।
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমেই চাহিদা বেড়ে চলেছে অনলাইন ব্যবসার। আজকের দিনে যে কোনো ক্রেতা যে কোনো পণ্য কেনার জন্যে আর বাজারে যেতে চাইছেন না, চোখ রাখছেন মুঠোফোনে। সেখানেই সেরে নিচ্ছেন সবরকম কেনাকাটা। যে সামগ্রীগুলি পরে কিনবেন, সেগুলোকেও ভবিষ্যতের একাউন্টে জমা রেখে দিচ্ছেন। পেমেন্ট করছেন অনলাইনেই। তাঁর বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে সামগ্রী। পছন্দ না হলে ফেরতও দিয়ে দেওয়া যাচ্ছে সহজেই। কেনাকাটা করার চরিত্রটাই পাল্টে গিয়েছে। অনলাইন ব্যবসা এখন রমরমা।
অনলাইনে কেনাকাটা করে বেশ খুশি ক্রেতা সাধারণ ও উপভোক্তারা। এভাবেই তাঁরা আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন ক্রমশ। কিন্তু এই অভ্যাসে সবচেয়ে বেশি মার খাচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি সকালবেলায় এসে দোকান খুলেছেন, দোকানে ঝাড়ু দিয়েছেন, পণ্য সামগ্রী সাজিয়ে পুজো সেরে পরিপাটি হয়ে ক্রেতাদের জন্যে অপেক্ষা করতে শুরু করেছেন। কিন্তু কোথায় ক্রেতা ? সারাদিন অপেক্ষা করেও হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা উঁকি দিচ্ছে দোকানে। ব্যবসা লাটে উঠতে বসেছে। দোকানগুলোতে মাছি তাড়াচ্ছেন দোকানদাররা। সমস্ত ব্যবসা চুপচাপ হয়ে চলেছে অনলাইনে। অফলাইন ব্যবসা অফ হওয়ার জোগাড়।
শিলিগুড়ি শহরে অবশ্য আরও সমস্যা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে শিলিগুড়ি শহর আধুনিক, ব্যবসা বাণিজ্যের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকার কথা। অপরিকল্পিতহলেও এই শহর এখন দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। আগে এই শহরে ছিল ১৫ হাজার মানুষের বাস, সেখানে এখন এই শহরে বসবাস করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কার্যত দৈর্ঘ্যে বেড়ে চলেছে এই শহর. তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রাস্তা, ফ্লাই ওভার, বিশাল বিশাল অট্টালিকা ইত্যাদি।
শিলিগুড়ি শহরে ১০৩টি বাজারে প্রায় ২৫ হাজার দোকান রয়েছে। অনলাইনের দাপটে তাঁরা আজ নিজেদেরকে বিপন্ন মনে করছেন। শিলিগুড়ির শহরে পুরাসভার ভেন্ডিং জোন ও নন ভেন্ডিং জোন আলাদা করে দিয়েছে। নন ভেন্ডিং জোনে কোনো হকার বসতে পারেব না। সেই এলাকাগুলিকে খালি করে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে জায়গা খালি করতে নেমেছে রেল, হাই ওয়ে অথরিটি, পুরসভা ও পি ডব্লুডি।একদিকে ব্যবসা করার জন্যে অনলাইনের ভ্রুকুটি, প্রচন্ড প্রতিযোগিতা, তার ওপর প্রশাসনিক চাপ। সব মিলিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত শিলিগুড়ি শহরের খুচরো ব্যবসায়ীদের। দিনের বেলায় যাও বা কিছু ক্রেতাদের কয়েকটা দোকানে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, বিকেল পার করতেই সব ফাঁকা। পসরা সাজিয়ে বসে কোনো লাভ হচ্ছে না দোকানিদের।
এই সমস্যার সমাধান করতে দোকানদারদেরকেও দ্রুত অনলাইন ব্যবসার পথে নামতে হবে। প্রযুক্তিকে পাথেয় করে এগোতে হবে। নিত্য নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে। নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে, কেননা ক্রেতা সাধারণ নিজেদেরকে দ্রুত পাল্টে ফেলেছে। তাই বাজার ধরতে দোকানদারদেরকেও পাল্টে যেতে হবে এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। গোটা দুনিয়াই এখন অনলাইন।