আজ খবর (বাংলা), [দেশ], বোটের, ছত্তিশগড়, ১৬/০৮/২০২৬ : ছত্তিশগড় রাজ্যের নারায়ণপুর জেলায় গভীর বনের মাঝে বোটের গ্রামে গতকাল ভি পালিত হল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, এই প্রথম সেখানে উত্তোলিত হল দেশের জাতীয় পতাকা।
৮ দশক পর অন্ধকার কাটল অবুঝমাড়ে, নকশালদের আঁতুড়ঘর বোটের গ্রামে প্রথমবার উড়ল তেরঙা। স্বাধীনতা পাওয়ার প্রায় আট দশক পর অবশেষে এক নতুন ভোরের সাক্ষী হলো ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলার অবুঝমাড় অঞ্চল। মাওবাদীদের কড়া নিষেধাজ্ঞা আর বন্দুকের ভয় উড়িয়ে, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ‘বোটের’ গ্রামে সগর্বে উড়ল ভারতের জাতীয় পতাকা। গতকাল ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপিত হয়।কালো পতাকার বদলে উড়ল তেরঙা।
দীর্ঘদিন ধরে অবুঝমাড়ের গভীর জঙ্গলে ঘেরা এই বোটের এবং পার্শ্ববর্তী গুন্ডেকোট গ্রাম ছিল মাওবাদীদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট বা ২৬শে জানুয়ারি এলে এই এলাকায় নকশালদের ফরমান জারি হতো। ভারতের জাতীয় পতাকার বদলে গ্রামবাসীদের বাধ্য করা হতো নিজেদের বাড়িতে কালো পতাকা ওড়াতে। তবে এবারের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। বোটের গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP)-এর ২৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে মহাসমারোহে ওড়ানো হয় তেরঙা পতাকা। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়াদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা গ্রাম।
কি ভাবে মাওবাদী মুক্ত হলো এই অঞ্চল ? এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। এই দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন কাগার’ নামে একটি বিশাল অভিযান চালায়। প্রায় ৫০ ঘণ্টার সেই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে দেড় কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ মাওবাদী নেতা বাসবরাজু সহ মোট ২৭ জন নকশাল খতম হয়। এই সফল অভিযানের পর চলতি বছরের ৩১শে মার্চ এই অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণভাবে মাওবাদী বা নকশাল প্রভাব মুক্ত বলে ঘোষণা করে প্রশাসন।
উন্নয়নের নতুন জোয়ার বস্তারে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু বোটের গ্রামই নয়, ২০২৬ সালের এই স্বাধীনতা দিবসে অবুঝমাড় ও সমগ্র বস্তার অঞ্চলের মোট ৯২টি দুর্গম আদিবাসী গ্রামে স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে। গ্রামে নতুন আইটিবিপি ও পুলিশ ক্যাম্প তৈরি হওয়ায় স্থানীয় মারিয়া ও গন্ড আদিবাসীদের মনে এখন নিরাপত্তার ভরসা ফিরে এসেছে। বন্দুকের গর্জন থামতেই এলাকায় শুরু হয়েছে নতুন রাস্তাঘাট তৈরি, রেশন সরবরাহ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ।
কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা অবুঝমাড়ের আদিবাসী সমাজ অবশেষে দেশের মূল স্রোতের সাথে যুক্ত হওয়ার এক নতুন পথ খুঁজে পেল।