এদিন প্রবীণ খান্ডেলওয়াল বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকের ঠিক নিচে মুর্শিদাবাদে যা কিছু হয়েছে তা যথেষ্ট দুঃখজনক। এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ নীরবতা এটাই প্রমাণ করে দেয় যে তিনি একটা শ্রেণীর জন্যেই রাজনীতি করতে চান। শুনেছি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কি এই ঘটনার দায় অস্বীকার করতে পারেন।?”
প্রবীণ খান্ডেলওয়াল বলেন, “পশ্চিমবাংলায় হিন্দুরা আদৌ সুরক্ষিত নয়। কে ঐ রাজ্যে হিন্দুদের সুরক্ষা দেবেন ? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি তাঁর রাজ্যে হিন্দুদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যে শপথ গ্রহণ করতে পারবেন ? ”
গত ১১ই এপ্রিল কেন্দ্রের ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কিছু মানুষ, তারপরেই প্রতিবাদ বদলে যায় হিংসাত্মক ঘটনায়। কয়েকজন মানুষ মারা যান ঐ ঘটনায়, বেশ কিছু মানুষ ঘরবাই ছেড়ে পালিয়ে যান অন্যত্র। বহু মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়. কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়। পুলিশের গাড়িগুলিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একটা অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ আসামের মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন রাজনৈতিকভাবে। তিনি বলেছেন, ওয়াকফ সংশোধনী আইন এখন সুপ্রীম কোর্টের কাছে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখছেন না তাঁর রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তাতে বেশ কিছু মানুষ স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তিনি আগামী নির্বাচনে ফায়দা তোলার চেষ্টা করে চলেছেন। সুপ্রীম কোর্ট যে রায় দেবেন তাকে আমরা মাথা পেতে নেবো, কিন্তু কোনোমতেই হিংসা বরদাস্ত করব না।”
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ১৮/০৪/২০২৫ : এবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই ঢুকে পড়ল পূর্ণ বয়স্ক একটি হাতি। ক্যাম্পাসের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
গতকাল রাত্রে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে একটি পূর্ণ বয়স্ক হাতি ঢুকে পড়ে। সেই হাতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাসের মধ্যেই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াতে থাকে। এতেই আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন ক্যাম্পাসের বাসিন্দা এবং পড়ুয়ারা। হাতিটিকে প্রথমে দেখতে পান বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাই। রাতেই হাতি দেখতে স্থানীয় মানুষজন ভীড় করেন।
আজ ভোর হতেই বাগডোগরা বন বিভাগ থেকে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে যান বন দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকরা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে হাতিটিকে বের করে ফের জঙ্গলে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয়া জনবসতি রয়েছে, তাই তাকে অরণ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার কাজ দিনের বেলায় করা হবে না, এই কাজটি করা হবে রাতের অন্ধকারে। ইতিমধ্যেই হাতি দেখতে প্রচুর মানুষ ভীড় করেছেন। সেই কারনে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [বিনোদন], মুম্বই , মহারাষ্ট্র, ১৮/০৪/২০২৫ : ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ (সিআইসি)-এর সেশন-১ মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ল্ড অডিও-ভিস্যুয়াল অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্ট সামিট (ওয়েভস)-এর একটি ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি এই সিআইসি। ইতোমধ্যেই ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জের ৩২টি বিভাগে প্রায় ১ লক্ষ জন নাম নথিভুক্ত করেছেন। এঁদের মধ্যে ১,১০০ জন বিদেশি। বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশ থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আগ্রহ প্রকাশ করায় এটা স্পষ্ট যে ওয়েভস-এর সিআইসি আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। এই প্রতিযোগিতায় ৭৫০ জন মূল পর্বে যোগদান করতে পারবেন। ক্রিয়েটোস্ফিয়ার মঞ্চে এঁরা এঁদের উদ্ভাবনগুলি প্রদর্শন করবেন। এখানে অ্যানিমেশন, কমিক্স, কৃত্রিম মেধা, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি, গেমিং, সঙ্গীত সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের নৈপুণ্য উপস্থাপন করবেন। সিআইসি-র ৩২ রকমের চ্যালেঞ্জে যাঁরা বিজয়ী হবেন, তাঁদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ওয়েভস স্রষ্টা পুরস্কার বা ওয়েভস ক্রিয়েটার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে।
ওয়েভস-এর ক্রিয়েটোস্ফিয়ার মঞ্চে আন্তর্জাতিক স্তরের ৪৩ জন ফাইনালিস্ট তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন। এর ফলে সৃজনশীলতার এই উৎসব প্রকৃত অর্থে আন্তর্জাতিক হয়ে উঠবে। চূড়ান্ত পর্বে ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন, যেখানে আর্জেন্টিনা, নেপাল, জার্মানি, বারমুডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রীস, ইন্দোনেশিয়া, বৃটেন, কানাডা, ইতালি, লাওস, থাইল্যান্ড, তাজিকিস্তান, মিশর, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া এবং জাপান থেকে এঁরা যোগ দেবেন। শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং তাজিকিস্তান থেকে ছ’জন করে প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে উঠেছেন। ইন্দোনেশিয়া এবং মালদ্বীপ থেকে পাঁচজন করে এবং মরিশাস থেকে চারজন চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দু’জন চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করবেন। রাশিয়া, কানাডা, আর্জেন্টিনা, লাওস, মালয়েশিয়া, বারমুডা, মিশর, থাইল্যান্ড এবং বৃটেন থেকে একজন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে উঠেছেন। এর মধ্য দিয়ে সিআইসি-র আন্তর্জাতিক স্তরে গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ মেলে।
ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সবক’টি থেকেই প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে পূর্ব প্রান্তের আসাম এবং মেঘালয়ের অংশগ্রহণকারী যেমন রয়েছেন, পশ্চিমে গুজরাট, উত্তরে হিমাচল প্রদেশ এবং দক্ষিণ কেরালা থেকেও উদ্ভাবকরা এখানে যোগ দিয়েছেন।
ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জে যুবশক্তির প্রাচুর্য্য লক্ষ্য করা গেছে। এখানে ২০-৩০ বছর বয়সের মধ্যে বহু উদ্ভাবক রয়েছেন। কলেজের ছাত্রছাত্রী, সদ্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছেন অথবা তরুণ উদ্ভাবক, প্রত্যেকেই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। চূড়ান্ত পর্বে বাছাই করাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম উদ্ভাবকের বয়স মাত্র ১২। প্রবীণ উদ্ভাবকের বয়স ৬৬। এর মাধ্যমে এটা প্রতিফলিত হয়, সৃজনশীলতার এই মঞ্চ প্রকৃত অর্থে সর্বাঙ্গীণ হয়ে উঠেছে।
সিআইসি-তে তৃণমূল স্তরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে যেমন উদ্ভাবকরা উদ্যোগী হয়েছেন, পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও এখানে ঠাঁই পেয়েছে। শিক্ষাকে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন নতুন পন্থা যেমন উদ্ভাবন করা হয়েছে, অন্যদিকে ভারতের বস্ত্রশিল্পের পুনর্জাগরণের জন্য ‘মেক দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়্যার খাদি’ চ্যালেঞ্জেও ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। এক চলচ্চিত্র নির্মাতা ‘ইন্ডিয়া : আ বার্ডস আই ভিউ’ শীর্ষক এক উপস্থাপনা প্রস্তুত করেছেন। এছাড়াও, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে গল্প বলার উদ্যোগ নিয়েছেন ‘ড্রোন দিদি’রা, যেখানে তাঁদের ক্ষমতায়নের প্রতিফলন ঘটেছে।
ওয়েভস, ২০২৫-এর চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। এই উদ্যোগকে ঘিরে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে । এর মধ্য দিয়ে সৃজনশীল ক্ষেত্রে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিভাবান উদ্ভাবকরা নতুন নতুন সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক স্তরের সংবাদমাধ্যম এবং বিনোদন জগতে ভারতের নেতৃত্বকে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে। দেশী-বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের দৃপ্ত পদচারণায় ক্রিয়েট ইন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ প্রকৃত অর্থে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে সমস্ত অঞ্চলের, সব প্রজন্মের মানুষের কলরব শোনা যাচ্ছে। ওয়েভসকে প্রত্যেক বাড়িতে এবং প্রত্যেকের হৃদয়ে পৌঁছতে হবে – প্রধানমন্ত্রীর এই ভাবনা বাস্তবিকই কার্যকর হয়েছে।
আজ খবর (বাংলা), [বিনোদন], শ্রীনগর, জম্মু ও কাশ্মীর, ১৯/০৪/২০২৫ : বিএসএফ সেনা ছাউনিতে বসেই ইমরান হাসমির গ্রাউন্ড জিরো ছবিটি দেখলেন বিএসএফ সেনা বাহিনীর জওয়ানরা। স্পেশ্যাল স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হাসমি নিজেই।
এর আগে ভারতীয় দর্শক সেনাবাহিনী, কমান্ডো এবং পুলিশ নিয়ে অনেকগুলি ছবি দেখেছে , কিন্তু বিএসএফ নিয়ে এই প্রথম কোনো ছবি তৈরি হল, যা কিনা দর্শকেরা খুবই ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন ছবিটির নায়ক ইমরান হাসমি। তিনি মনে করছেন এই ছবির মাধ্যমে বিএসএফকে সন্মান জানানো হল।
দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স, গোটা দেশকেই নিরাপদ রাখে। সীমান্তে জঙ্গী সমস্যা ছাড়াও চোরাচালানের মত নানারকম সমস্যা সামলাতে হয় সারা বছর। বিএসএফের সেইসব বীরত্বের কাহিনী সাধারণ মানুষ জানতে পারে না। গ্রাউন্ড জিরোর মত ছবি বিএসএফের বীরত্বের কাহিনী জনসমক্ষে তুলে ধরবে।
গ্রাউন্ড জিরো ছবিতে এক বিএসএফ জওয়ানের বীরত্বের কাহিনীকে তুলে ধরা হয়েছে। বিএসএফের ঐ অফিসারের নাম নরেন্দ্রনাথ দুবে। তিনি ও তাঁর বাহিনী জঙ্গীদের মাস্টার মাইন্ড গাজী বাবাকে খতম করেছিলেন। ছবিতে ২০০০ সালের কাশ্মীরকে তুলে ধরা হয়েছে। দেশকে সুরক্ষা প্রদান করতে বিএসএফ কতদূর এগোতে পারে, সেটাই দেখানো হয়েছে ছবিতে।
গ্রাউন্ড জিরো ছবিতে নরেন্দ্রনাথ দুবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাসমি। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাই তামানকার। স্পেশ্যাল প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হাসমি, সাই তামানকার, প্রযোজক রীতেশ সিধোয়ানি , ডলি সিধোয়ানি , ফারহান আখতার, নির্দেশক তেজস প্রভা বিজয় দেওস্কর প্রমুখ। গ্রাউন্ড জিরো ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে আগামী ২৫শে এপ্রিল।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৮/০৪/২০২৫ : আজ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিয়ে। তাঁর হঠাৎ বিয়ের খবরে উৎসুক হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ। দিলীপবাবু বিয়ে করছেন আর এক বিজেপি নেত্রী রিংকু মজুমদারকে।
এতদিন বিষয়টি গোপনেই ছিল, কিন্তু প্রথম হাটে হাঁড়ি ভেঙেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কুণাল তাঁর সমাজমাধ্যমে দিলীপ ঘোষের বিয়ের বিষয়টি ফাঁস করেন। খবর পৌঁছে যায় সংবাদমাধ্যমে। দিলীপ ঘোষ বিয়ে করছেন রিংকু মজুমদারকে। রিংকু একজন তথ্য প্রযুক্তি কর্মী, বিবাহ বিচ্ছিন্না, এক সন্তানের জননী। তিনিও বিজেপি মহিলা সেলের একজন সক্রিয় কর্মী। আজ তাঁর সাথেই বিবাহ বন্ধনে যুক্ত হচ্ছেন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
রিংকু মজুমদার
কিছুক্ষন আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, আর তারপরেই বঙ্গ রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে যায়। শুভেচ্ছার বন্যা বইতে শুরু করে। দিলীপ ঘোষের নিউ টাউনের বাড়ি আইডিয়াল ভিলা সেজে ওঠে। সুকান্ত মজুমদার, রাহুল সিনহা, লকেটচ্যাটার্জি, শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপির তাবড় নেতারা তাঁর বাড়িতে এসে শুভেচ্ছা জানিয়ে যান। ওই বাড়িতে দিলীপ ঘোষের মা রয়েছেন, যিনি বিয়ের বিষয়টি তত্বাবধান করছেন। দিলীপবাবু জানিয়েছেন, ‘মায়ের আবদার রাখতেই তিনি বিয়ে করছেন’। তবে দিলীপবাবুর এক ভাই ও বৌদি এই বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন .সংবাদ মাধ্যমকে। তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষকে। কুনাল ঘোষও দিলীপবাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যেবেলাতেই এই বিয়ের আসর বসবে এবং আইনিভাবে দিলীপ-রিংকু বিবাহ বন্ধনে যুক্ত হবেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৮/০৪/২০২৫ : মুর্শিদাবাদে অশান্তির পর যাঁরা মালদায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এবার তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল.
গত ১১ তারিখে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় যখন হিংসার আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন বেশ কিছু হিন্দু পরিবার নিজেদের বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে গঙ্গার ওপারে মালদা জেলায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের ঐ পরিবারগুলি শরণার্থীর মত জীবন যাপন করছে। এই ব্যবস্থাপনায় তাঁদের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা, মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে আসতে গিয়ে তাঁদের কি কি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তা বিশদে জেনে নেওয়ার জন্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগামীকাল মালদায় গিয়ে তাঁদের সাথে দেখা করবেন এবং কথা বলবেন।
ওয়াকফ সংশোধন আইন বাতিল করার দাবী নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় অশান্তি শুরু হয়েছিল, কিন্তু ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়েছিল মালদায়, উত্তর দিনাজপুরে এবং নদীয়া জেলায়। আদালতের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের কিছু জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে হয়। সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনো মোতায়েন রয়েছে মুর্শিদাবাদে। আক্রান্ত পরিবারগুলি রয়েছে মালদার শরণার্থী শিবিরে। আগামীকাল এই পরিবারগুলির সাথেই দেখা করতে যাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
আজ খবর (বাংলা) কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৭/০৪/২০২৫ : দক্ষিন বঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলেছে আলিফ[ওর আবহাওয়া দপ্তর।
মধ্যপ্রদেশ থেকে আসাম পর্যন্ত রয়েছে নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই অক্ষরেখাটি ছত্রিশগড় ঝাড়খন্ড গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে গেছে।আর এর টানেই মূলত সাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে বাতাসে।
ঝড় বৃষ্টি বেশি হওয়ার আশঙ্কা আজ এবং আগামীকাল। কয়েক জেলায় কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি। বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে রবিবার পর্যন্ত। সোমবার আংশিক মেঘলা আকাশ। মঙ্গলবার থেকে পরিষ্কার আকাশ; তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে আগামী সপ্তাহে।
আজও কাল দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতে কালবৈশাখীর সতর্কতা। বেশিরভাগ জেলাতেই ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি। শিলা বৃষ্টি বিক্ষিপ্তভাবে এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার ৭ জেলায় কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান মুর্শিদাবাদ নদিয়া উত্তর ২৪ পরগনা হুগলি এবং হাওড়া জেলাতে কালবৈশাখী বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা।
আগামীকাল ও কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি এবং ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ভারী বৃষ্টি পূর্ব বর্ধমান হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে। কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা পূর্ব বর্ধমান হুগলি ও হাওড়া জেলাতে।
উত্তরবঙ্গে ও আজ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জলপাইগুড়ি কোচবিহার আলিপুরদুয়ার জেলাতে। ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস তার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে মালদা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে।
আগামীকাল শুক্রবার বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ো বাতাস বইবে দার্জিলিং কালিম্পং জলপাইগুড়ি এবং মালদা ও দুই দিনাজপুর জেলাতে। কলকাতাতেও আজ বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা। বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৫০ কিলোমিটার ঘণ্টায় গতিবেগ পর্যন্ত দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে কলকাতার কিছু অংশে।
ফুলে আসলে একটি আত্মজীবনী নির্ভর ফিল্ম। অভিনয় করেছেন প্রতীক গান্ধী, পত্রলেখা প্রমুখ। নির্দেশক অনন্ত মহাদেবন। এই সিনেমাটি তৈরি হয়েছে মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলের আত্মজীবনী নিয়ে। ব্যবসায়ী হলেও জ্যোতিরাও ফুলে ছিলেন আপাদমস্তক একজন সমাজসেবী। তিনি ও তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীবাই ফুলে মমাহারাষ্ট্রে প্রথম মেয়েদের স্কুল তৈরি করেছিলেন। জ্যোতিরাও ফুলের জন্মদিন ছিল এপ্রিল মাসের ১১ তারিখ। আর সেই দিনেই তাঁর নির্মিত ফুলে ফিল্মটি রিলিজ করবেন বলে মনস্থ করেছিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। অনেক চেষ্টা করেও ১১ তারিখে সেন্সর বোর্ডের আপত্তির কারনে ফুলে রিলিজ করতে পারেন নি অনুরাগ। সেন্সর বোর্ডের ওপর তিনি তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ফিল্ম নিয়ে প্রথম আপত্তি জানায় ব্রাম্ভনরা. জ্যোতিরাও ফুলে তাঁর জীবনে জাতপাতের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে লড়াই করে গিয়েছেন। সেন্সর বোর্ডের বক্তব্য নরেন্দ্র মোদীর জমানায় জাতপাত বলে আর কিছুই নেই. তাই এই ছবি রিলিজ করার অনুমতি দেওয়া যায় নি. সেন্সর বোর্ডের সাথে অনুরাগের দ্ব্যান্ড এখনও চলছে, সেইসঙ্গে ঝুলে রয়েছে ফুলে ফিল্মের ভাগ্য।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,১৭/০৪/২০২৫ : চাকরিহারা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকদের কিছুটা হলেও স্বস্তি এল সুপ্রীম কোর্টের নতুন নির্দেশে। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল যেতে পারবেন তাঁরা।
গত ৩রা এপ্রিল সুপ্রীম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল বাংলার প্রায় ২৬ হাজার এসএসসি শিক্ষকের চাকরি আর থাকছে না।
তাঁদের মধ্যে কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য সেটা নিয়েও স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে নি সুপ্রীম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের এই ধরনের নির্দেশে পশ্চিমবাংলায় হৈ হৈ পড়ে যায়। শুরু হয় চাকরি বাঁচানোর জন্যে আন্দোলন, ধর্ণা। আন্দোলনকারীদের সাথে রাজ্য সরকার দফায় দফায় বৈঠকে বসেও কোনো সুরাহা হয় না। এরই মধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রীম কোর্ট বৃহস্পতিবার একটি নতুন নির্দেশ দিল. সেই নির্দেশে বলা হয়েছে চাকরি চলে যাওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক আপাতত স্কুলে যেতে পারবেন। তবে এই ব্যাপারে রাজ্য সরকারকে বা কমিশনকে হলফনামা জমা দিতে হবে. আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি বজায় থাকছে এই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের। তাঁরা স্কুলেও যেতে পারবেন। সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১শে মে তারিখের মধ্যে নতুন নিয়েগের বিজ্ঞাপ্তি জারি করতে হবে। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। তবে গ্রূপ সি ও ডি কর্মীরা চাকরি করতে পারবেন না।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], গঙ্গারামপুর, দক্ষিণ দীনাজপুর , ১৭/০৪/২০২৫ : শ্রদ্ধা নাকি কুসংস্কার?আজও মাটিতে শোওয়ার ইতিহাস বয়ে বেড়ায় পীরপাল!
কুসংস্কার নাকি শ্রদ্ধা ? তারই জেরে গোটা গ্রাম এখনও খাট ব্যবহার করেন না। শুয়ে থাকেন মাটিতে। কুসংস্কারে বিশ্বাসী হয়ে হোক বা শ্রদ্ধায়, এখনও পর্যন্ত কাঠের তৈরি চৌকি বা খাটে কেউই ঘুমোন না।দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পীরপাল গ্রামে এটাই দস্তুর। দেশ এগিয়ে চলেছে। কত রকমারি খাট ব্যবহার করেন দেশের মানুষ। কিন্তু পীরপালের মানুষ তা থেকে অনেক দূরে। যদি কারও খাটে শোবার ইচ্ছে হয়, তাহলে মাটির তৈরি খাট বানিয়ে নেন। নতুবা মাটিতেই ঘুমোন সকলে।
কেন? তার পিছনে রয়েছে এক ইতিহাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফেরে তা। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৭০৭ সালে পীরপালের মাটিতে ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির দেহ সমাধিস্থ করা হয়।এরপর তিনি দেবতা বা পীর রুপে আবির্ভূত হন। এমনটাই বিশ্বাস গ্রামবাসীদের। বীর যোদ্ধা মাটিতে শায়িত অথচ গ্রামবাসী খাটে শোবেন? তা কী হতে পারে। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, গ্রামবাসীরা খাটে বা চৌকিতে ঘুমোলে তাদের কাছে নাকি স্বপ্নাদেশ আসে। এমনকী, মেরে ফেলারও ভয় দেখানো হয়। আর সেই ভয়েই পীরপালের মানুষ চৌকি বা খাটে শোন না। গ্রামের আনাচে কানেচ এও শোনা যায়, যাঁরা জনশ্রুতি অমান্য করে খাট ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ নাকি অসুস্থ হয়েও পড়েন।স্বাভাবিকভাবেই ভয় আরও চেপে বসে মনে। গ্রামবাসীরা জানালেন, এসব দেখে কে ঝুঁকি নেবে বলুন। পরিবারের সকলে অসুস্থ হয়ে পড়লে দু’একদিনের শোওয়ার সুখ নিয়ে কী লাভ ?
তবে ইতিহাসবিদরা অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছেন।ইতিহাসবিদদের মতে, স্বপ্নাদেশ বা ভীতি নয়। বখতিয়ার খলজি ছিলেন যোদ্ধা। সেই যোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানাতেই গ্রামবাসীরা মাটিতে শোন। কারণ, মাটিতেই যে সমাধিস্থ করা হয়েছিল সেই যোদ্ধাকে। জেলার ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, ১৭০৭ সালে সুলতানি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে বখতিয়ার খলজি পাল বংশের লক্ষন সেনকে পরাজিত করে সংগ্রামপুর, দেবীকোট সহ গোটা গৌড় দখল করে নেন। লক্ষন সেন প্রাণ নিয়ে তৎকালীন বঙ্গে আশ্রয় নেন এবং তার সৈনরা পরাজিত হয়ে নদিয়া শহর পর্যন্ত ত্যাগ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, বখতিয়ার খলজির তিব্বত ও কামরূপ অভিযান বিফল হয়। সৈনবাহিনীও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে বখতিয়ার খলজি অসুস্থ হয়ে পড়েন।আর তাঁকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়নি। শয্যাশায়ী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় অল্প কিছুদিনের মধ্যে। বাংলার ১২০৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭০৭ খ্রীষ্টাব্দে) তাঁর মৃত্যু হয়।বখতিয়ার খলজির মৃত্যুর পিছনে তার প্রধান সেনাপতির হাত ছিল বলেও অনেকে মনে করেন।বখতিয়ারের মৃত্যুর পর পীরপালে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।যেহেতু তিনি বীরযোদ্ধা ছিলেন তাই তিনি পীর রুপে আবির্ভূত হন বলে গ্রামবাসীরা মনে করেন। তারপর থেকে এলাকার, বিশেষ করে বয়স্করা, চৌকি অথবা খাটে ঘুমোন না। যদিও এই জনশ্রুতি মানতে নারাজ জেলার ইতিহাসবিদ সুমিত ঘোষ।তাঁর যুক্তি, বখতিয়ার খলজি বীরযোদ্ধা ছিলেন। তাঁকে সম্মান জানাতেই পীরপালের মানুষ মাটিতে ঘুমোন।তবে এটাও ঠিক, এলাকার মানুষের মধ্যে কিছু কুসংস্কার রয়েছে। পীরপালের বয়স্ক ব্যক্তি রাজেন রায়, চন্দন রায় জানান,”কয়েকশো বছর আগে থেকে এই গ্রামের মানুষ মাটিতে ঘুমোয়। স্বপ্নাদেশের ভয়েই চৌকি বা খাটে কেউ ঘুমোন না। কেউ আবার জোর করে খাট ব্যবহার করলে পরিবারের সকল সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ে”।
শ্রদ্ধাই হোক বা স্বপ্নাদেশের ভয়, ইতিহাসের এক যোদ্ধাকে যে এখনও মনে রেখেছেন গ্রামের মানুষ, তার প্রমাণ কিন্তু এই মাটিতে শোওয়ার চল।