
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১১/০৮/২০২৬ : মহানগরের বুক থেকে মুছে গেল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নাম সংবলিত রাস্তা। পার্ক সার্কাস সংলগ্ন ঐতিহাসিক ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’।
১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত গোপাল চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ওরফে ‘গোপাল পাঁঠা’-র নামানুসারে এই নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গোপাল চন্দ্র মুখার্জি, যিনি “গোপাল পাঠা” নামে পরিচিত ছিলেন, কলকাতার একজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মাংস ব্যবসায়ী ছিলেন। “পাঠা” নামটি তাঁর পরিবারের ছাগল-মাংসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে।
১৯৪৬-এর দাঙ্গার সময় তিনি সশস্ত্র স্থানীয় যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন বলে বিভিন্ন বিবরণে উঠে আসে। তবে তাঁর ভূমিকা একমাত্রিক ছিল না। কিছু ঐতিহাসিক ও সমালোচকের মতে, তিনি শুধু রক্ষাকর্তা ছিলেন না—পাল্টা হিংসা সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাই ইতিহাসে গোপাল পাঁঠাকে কেউ “রক্ষাকর্তা”, আবার কেউ “প্রতিশোধমূলক হিংসার নেতা” হিসেবে দেখেন। বিজেপি নেতারা এই পদক্ষেপকে ১৯৪৬ সালের প্রত্যক্ষ কর্ম দিবসে হিন্দুদের রক্ষাকারী এক ‘ত্রাতা’-কে সম্মান জানানোর একটি ঐতিহাসিক সংশোধন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেতা ও সমালোচকরা এই ঐতিহাসিক গুরুত্বারোপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, আগের নামটি অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নাকি হাসান সোহরাওয়ার্দীকে নির্দেশ করে, তা নিয়েও পৃথক বিতর্ক শুরু হয়েছে। হিন্দু সংহতির মতো সংগঠনগুলি গোপাল পাঁঠাকে সম্মান জানাতে এবং তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৬ই আগস্ট কলকাতায় বড় সমাবেশ ও স্মরণীয় পদযাত্রার ডাক দিয়েছে।
![]()