
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] ,নতুন দিল্লী, ভারত, ২১/০৬/২০২৬ : আজ ভারতের উদ্যোগে গোটা বিশ্ব পালন করলো ১২ তম বিশ্ব যোগ দিবস। ভারতের প্রাচীন এই সংস্কৃতি বিশ্ব মাঝে ভারতের প্রভাব বিস্তার তো করছেই , তবে এটাও ঠিক যে যোগের মাধ্যমেই কিন্তু বিশ্বজুড়ে তৈরী হয়ে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকার বাজার, আর সেই বাজারের বিশ্বগুরু হয়ে উঠছে ভারতবর্ষই।
যোগ ভারতের অতি প্রাচীন একটি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। একটা সময় ছিল যখন সাধু সন্ন্যাসী এবং কিছু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ যোগব্যায়াম ও শরীর চর্চা করতেন। সেই সময় সেটা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পরে নি। তবে বর্তমানে যোগ ব্যায়ামের জন্যে বহু মানুষকে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে দেখা যায়। ২০১৪ সালে ভারতের প্রস্তাবনায় সহমত দেখিয়ে রাষ্ট্রসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছিল বিশ্ব বিশ্ব যোগ দিবসকে। এরপর রাষ্ট্র সংঘের সদস্য দেশগুলি পালন করতে শুরু করে যোগ দিবস। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ২১১টি দেশ আজকের দিনে যোগ দিবস পালন করে চলেছে।
ভারতের সর্বত্র পালিত হয় যোগ দিবস। প্রতিটা স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বন্দর সর্বত্র পালন করা হয় শরীর চর্চার এই উৎসব। গোটা দেশে সঠিকভাবে যোগ দিবস পালনের জন্যে বিশেষ উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি প্রতি বছর প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন যোগব্যায়ামে। আজ তিনি কলকাতায় থেকে সফলভাবে পরিচালনা করেছেন শরীর শিক্ষার এই মেলাকে। যোগ দিবসের মাধ্যমে ভারত তার প্রাচীন ঐতিহ্য ও জ্ঞানকে বিশ্বের দরবারে সফলভাবে তুলে ধরেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যোগচর্চা যেমন বেড়েছে, তেমন সেইসব দেশে আজ ভারতের প্রভাবও তেমন বেড়েছে। সুতরাং এই বিশ্ব যোগ দিবসের সাথে সাথে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনাও সফলভাবে করা হয়েছে বলা যায়.
কূটনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি এই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের হাত ধরে গোটা বিশ্বে তৈরী হয়ে চলেছে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজার। ভারত সহ গোটা বিশ্বেই বাড়ছে যোগ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পাশ্চাত্য ছোঁয়ায় নয়, বরং ভারতীয় মতাদর্শে বাড়ছে যোগা শিক্ষা কেন্দ্র। এমনকি কর্পোরেট ওয়ার্কশপের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। অনলাইন কোর্সের সংখ্যাও রোজ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ওয়ার্ক আউট বাড়ছে খুব দ্রুত।
যোগা করতে গিয়ে আধুনিক যে সমস্ত সরঞ্জাম লাগছে, সেগুলির বাজার বেড়ে গিয়েছে বিশ্ব জুড়ে। অনলাইনেও সেগুলি পাওয়া যাচ্ছে সুবিধা দরে। যোগা ম্যাট, যোগা ব্লক, মেডিটেশন কুশন ছাড়াও বিশেষ পোশাকের চাহিদা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। ইউটিউব বা অন্যান্য সমাজ মাধ্যমে অনলাইন যোগ কোর্স গোটা বিশ্বকে জুড়ছে একইসাথে। ভারতে প্রতি বছর বহু বিদেশী আসেন স্বাস্থ্য উদ্ধারে। তাঁরা আসেন সাধারণত হরিদ্বার, ঋষিকেশ, মহীশূর ও কেরলমে ধ্যান ও যোগ শিখতে। এই বিদেশিরা ভারতকেই মুক্তির পথ বলে বিশ্বাস করেন।
বিশ্বের বহু কর্পোরেট কোম্পানি এখন কর্মীদের জন্যে যোগা সেশন, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং মেডিটেশন ওয়ার্কশপ চালু করেছে। এই সব জায়গায় অভিজ্ঞ ট্রেনাররা পারিশ্রমিকের বদলে সেশন করান। ওয়েলনেস ট্রেনিং দেন। ধ্যানের মাধ্যমে স্ট্রেস ফ্রি থাকতে শেখান। এই কাজে আজ অনেককেই বিদেশে গিয়েও কাজ করতে দেখা যায়। এই মুহূর্তে ভারত গোটা দুনিয়ার সামনে যোগ শিক্ষায় বিশ্বগুরুর ভূমিকায় রয়েছে।
প্রশ্ন ওঠে এতে ভারতের কি লাভ হচ্ছে ? অবশ্যই, প্রথম কথা বিশ্ব বাজারে ভারতের একটা সফ্ট পাওয়ার কাজ করছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভারতের প্রভাব বাড়ছে। বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখতে গেলে দেখা যাচ্ছে, ভারতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে , ভারতীয় ব্র্যান্ডের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ছে। যোগের পাশাপাশি ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতি গোটা পৃথিবীর মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। .

![]()