
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৫/০৮/২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে বারাসাতে পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন বিভাগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রশাসনিক বৈঠকে পঞ্চায়েত বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, খাদ্যমন্ত্রী অশোক লাহিড়ী এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, জয়েন্ট সেক্রেটারি ও স্পেশাল সেক্রটেরির মতো উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনার এডিএম (ADM), এসডিও (SDO) ও বিডিও (BDO) থেকে শুরু করে প্রায় ৬০০ প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকদের নিয়ে এই বিস্তর পর্যালোচনা চালানো হয়। মূলত রাজ্যে চলা কেন্দ্রীয় ও রাজ্যভিত্তিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতির বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক নানা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে কেবল প্রশাসনিক কাজের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কাজের গতি পছন্দ না হলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্যালোচনা সভায় পঞ্চায়েত স্তরে উন্নয়নমূলক কাজের গতি শ্লথ হওয়া এবং বহু গ্রামে ১০০ দিনের কাজ (জিরামজি/GRamG) শুরু না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কর্মীর বদলি, প্রশাসনিক জটিলতা, প্রায় ১১ হাজার কর্মী ঘাটতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই কাজের গতি মন্থর হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়; যার সমাধান হিসেবে পিএসসি (PSC)-র মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জল জীবন মিশন প্রকল্পে বিগত সরকারের ৩০,০০০ কোটি টাকার কোনো স্পষ্ট হিসাব না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দুর্নীতির তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আবাস যোজনার ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে টাকা নেওয়া ব্যক্তিদের থেকে অর্থ ফেরতের জন্য এফআইআর (FIR) ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘বাংলার বাড়ি’ যোজনার বকেয়া কিস্তির টাকা দেওয়ার আগে সার্ভে ও ফটোগ্রাফ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
সমস্যার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে একাধিক আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপর কথা জানানো হয়। এখন থেকে পুরনো ও নতুন সব জবকার্ডই সচল থাকবে এবং পুরনো বদলে নতুন ‘গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষসহ যেকোনো সক্ষম ব্যক্তি ও ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কাজের সংস্থান রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রামে ৩০৮টি নতুন স্কিম যুক্ত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন, সিএএ (CAA) আবেদনকারীদের নাম যুক্ত করা ও জল জীবন মিশনের পরবর্তী ধাপে ৬০,০০০ কোটি টাকা ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় তিন মাসের এই পরিবর্তনকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভিডিও – আলী, খবর – ঈপ্সিতা ভট্টাচার্য্য
![]()