
আজ খবর
(বাংলা) [রাজনীতি] কলকাতা ১৩/১০/২০২৬ 13:15
দিল্লির পর এবার কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক তৃণমূল কংগ্রেসের। মঙ্গলবার, ১৩ ই অক্টোবর, রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
মিছিলটি দুপুর ২টোয় শুরু হওয়ার কথা। তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও সমর্থকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে মিছিলের চূড়ান্ত পরিস্থিতি এবং কর্মসূচিতে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়ে আরও নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।
দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির পর কলকাতাতেও পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবিকে সামনে রেখে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তা এই কর্মসূচির অন্যতম প্রেক্ষাপট। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই প্রতিবাদে নামার কথা জানিয়েছে দল। তবে এগুলি তৃণমূলের রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

মিছিলের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত পথ। এই রুটের মধ্যে কলকাতার বেশ কয়েকটি ব্যস্ত এলাকা রয়েছে। রাজাবাজার, সিআইটি রোড এবং পার্ক সার্কাসের মতো অঞ্চলে যানবাহনের চাপ থাকায় বড় জমায়েত হলে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে। দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। পুজোর প্রস্তুতি, মণ্ডপ পরিদর্শন এবং কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে শহরের একাধিক রাস্তায় যানবাহনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মিছিলের রুটে যান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রশাসনের তরফে কোনও নির্দিষ্ট যানবাহন নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

মিছিলের জন্য কলকাতা পুলিশের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির আগে অনুমতির বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে অনুমতি না পাওয়া এবং অনুমতি ছাড়া মিছিল বাস্তবে অনুষ্ঠিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া মিছিলকে নিশ্চিতভাবে ‘অনুমতিহীন’ বলে উল্লেখ করা ঠিক হবে না। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে খবরটি আরও নির্দিষ্টভাবে আপডেট করা যাবে।

দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতায় ফেরা এবং মিছিলে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে মিছিলে তিনি নিজে নেতৃত্ব দেবেন কি না, তা নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণার সময় নিশ্চিত তথ্য ছিল না। দলের পক্ষ থেকে ছাত্র, যুব, মহিলা এবং শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে মিছিলের আকার এবং তাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলের নজরে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং SIR-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। তার মধ্যেই রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই কর্মসূচিকে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপির তরফে মিছিলের সময় ও স্থান নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।সব মিলিয়ে, মিছিলের অনুমতি, কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং কলকাতার যান চলাচলের উপর এর প্রভাব—এই তিনটি বিষয়েই নজর থাকবে। প্রশাসন ও আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।








