
আজ খবর
(বাংলা) [দেশ] দিল্লি ১১/১০/২০২৬ 14:38
দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার আবহে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভকারীদের আটক, মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো নিয়ে আদালতে একাধিক আবেদন ওঠে। রবিবার, ১১ অক্টোবর, বিশেষ শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করার বিষয়ে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয় আদালত।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে সিইসি-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানে বিধিনিষেধ, রেল চলাচল নিয়ে পরিবর্তন এবং রাস্তায় ব্যারিকেডের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অসুবিধার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের আগের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই সংক্রান্ত আবেদনগুলির শুনানিতে রবিবার বিষয়টি ফের সামনে আসে।

আদালত জানায়, আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রভাবে জমায়েত হওয়া মানুষদের বেআইনিভাবে আটক করা চলবে না। যেখানে আইনসম্মত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে, সেখানে তার শর্ত প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও তা যেন অকারণে সাধারণ মানুষের অধিকার ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সেই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে শুনানিতে।

দিল্লির মেট্রো ও রেল পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন হলে আইন মেনে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। তবে নির্বিচারে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগে ৯ অক্টোবরও মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর বিষয়ে আদালত কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে বলেছিল। যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে পরিষেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে জানানো এবং প্রয়োজনীয় ট্র্যাফিক পরামর্শ প্রকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় বসানো ব্যারিকেড নিয়েও আদালতের নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের চলাচল, যানবাহনের যাতায়াত এবং আদালতে পৌঁছনোর পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা যেন না থাকে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বোর্ড সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, যাতে আদালতে যাওয়া বা সেখান থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে মানুষের মনে অযথা বাধার আশঙ্কা তৈরি না হয়।

এই মামলায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতের আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, বিক্ষোভের কারণে পরিবহণ পরিষেবায় বিধিনিষেধ ও আটক করার মতো পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়; আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদে সামিল হন। এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জনসাধারণের চলাচলের অধিকার, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, মেট্রো ও রেল পরিষেবা কতটা স্বাভাবিক থাকে এবং বিক্ষোভ ঘিরে বিধিনিষেধের বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



