ডুয়ার্স থেকে ভুটান ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা

ডুয়ার্স থেকে ভুটান ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা
ডুয়ার্স থেকে ভুটান ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা
ডুয়ার্স থেকে ভুটান ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখা

অন্য রুট – ২২/০৯/২০২৬ :   ডুয়ার্স এমনিতেই রাজ্যের এক বেশ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।  বর্ষাকাল ছাড়া প্রায় সারা বছর ভ্রমণ প্রিয় মানুষের ভীড় লেগেই থাকে ডুয়ার্সের আনাচে কানাচে।   অরণ্য সংকুল ডুয়ার্স সেজে ওঠে প্রাকৃতিক সাজে। উদ্দাম পাহাড়ি নদীর সমতল স্পর্শ, গভীর অরণ্য, বন্যপশু, অদূরে পাহাড়ের হাতছানি এইসব নিয়েই ডুয়ার্স সেজে ওঠে এক রমনীয় সাজে।

ট্যুরিস্টদের মধ্যে অনেকেই উয়ার্স বেড়াতে এসে ভুটান দেশটাকে ছুঁয়ে দেখতে চান. সেক্ষেত্রে মাদারিহাট থেকে জলদাপাড়া ভ্রমণ করে অনেকেই চলে যান ফুন্টশেলিং বেড়াতে।  মাদারিহাট বা হাসিমারা থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে চটজলদি ঘুরে আসা যায় ভুটানের ফুন্টশেলিং থেকে।  মাদারীহাত থেকে বাস যাচ্ছে নিয়মিত, ভারত ভুটান সীমান্তে জয়গাঁ  পর্যন্ত। এপারে ভারতের জয়গাঁ  আর ওপারে ভুটানের ফুন্টশেলিং। পথ ধীরে ধীরে পাহাড়ের কিছুটা উচ্চতায় চলে গিয়েছে।

ফুন্টশেলিং প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের মধ্যে একটা বড়  শহর।  উত্তর বঙ্গের মাধ্যমে ভুটান এই শহর দিয়েই ভারতের  সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে. যাবতীয় ব্যবসা বাণিজ্য এই শহর দিয়েই হয়ে থাকে।  ভুটানের রাজার শীতকালীন প্রাসাদ রয়েছে এই শহরেই।  এছাড়াও ফুন্টশেলিং শহরে দেখে নেওয়া যায় জ্যাং তোপেইন লাখাং মনাস্ট্রি, খারবান্দি মনাস্ট্রি। ভুটানের প্রবেশপথ ভুটান গেটটিও বেশ সুন্দর। ফুন্টশেলিং এর উচ্চতা থেকে দেখতে পাওয়া যায় ভারতের জয়গাঁ  শহরটিকে। দূরে রয়েছে মাকড়াপাড়া চা বাগান।এই বাগান থেকেই এক সময় নকশাল আন্দোলন দানা বেঁধেছিল বলে শোনা যায়।   ফুন্টশেলিং দেখে দিনে দিনেই ফিরে আসতে  পারেন মাদারিহাট বা হাসিমারা শহরে। অথবা চলে যেতে পারেন আলিপুরদুয়ারের রাজা ভাত খাওয়া বা বক্সার দিকে।

ডুয়ার্স বেড়াতে গিয়ে আপনারা নিশ্চয়ই ঝালং ঘুরে এসেছেন। এই ঝালং থেকে পাহাড়ের আর একটু উচ্চতায় রয়েছে  বিন্দু। বিন্দু এইপথে ভারতের শেষ গ্রাম, এখানেই রয়েছে সীমানা ওপারে ভুটান। মাঝখান দিয়ে সগর্জনে বয়ে চলেছে জলঢাকা  নদী।  জলঢাকা নদীর সাথে বিন্দুতেই মিলিত হয়েছে আরও দুই  পাহাড়ি ঝোড়া।   এখানেই রয়েছে জলঢাকা হাইড্রেল প্রজেক্ট। আর ওপারে আকাশকে ঢেকে  দিয়ে  মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ভুটান পাহাড়।  পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে, তাঁদের জন্যেই সীমান্তের এই গ্রামে বসে গিয়েছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ঝুপড়ি দোকান। ভুটানে স্থানীয় মানুষজন ভুটানি পোশাক পড়েই  থাকেন, তাঁরা যখন ভারতে কাজ করতে আসেন, এই ঝুপড়িগুলিতে গিয়ে পোশাক বদলে নেন. রয়েছে দুই একটা পাহাড়ি খানা পিনার দোকান।  মোমো , থুকপা সবই পাওয়া যায়, ভুটানি মদও মেলে অনায়সে।

vh2

ডুয়ার্সের বানারহাট শহর থেকে আর একটি পথ গিয়েছে ভুটানের দিকে। বানারহাট শহর থেকে গাড়ি ভাড়া  করে যাওয়া উচিত হবে. পথ গিয়েছে চামুর্চি চা বাগানের কোল ঘেঁষে।  এপারে ভারতের চামুর্চি আর ওপারে ভুটানের শামচি। ভুটানের এই শহরটি বেশ ঘন জনবসতিপূর্ণ। এই শহরে পাহাড়ের উচ্চতায় থাকা শামচি  ভিউ পয়েন্ট থেকে ডুয়ার্সের অনেকটা অংশ দেখতে পাওয়া যায়. অপূর্ব সেই দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন ভুটানের শামচি  পাহাড়ের মাথা থেকে।  একদিকে ঘন অরণ্যাবৃত ডুয়ার্স, তার বুক চিরে এগিয়ে চলেছে ডায়না নদী. আর একদিকে ডলোমাইট  পাহাড়। এই শহরেই আছে মহাকাল মন্দির, সিদোক খোড়লো  চোর্তেন। সেসব দেখে নিয়ে ফিরে আসতে  পারেন ডুয়ার্সের কোনো শহরে।

ডুয়ার্সের বক্সা অরণ্য ভ্রমণকালেও ভুটান সীমান্ত থেকে ঘুরে নেওয়া যায়।   সেখানকার লেপচাখা থেকে প্রকৃতির অনবদ্য রূপ, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত চাক্ষুষ করা যায়।  এছাড়াও ভুটানঘাটের রায়ডাক নদীর ধারে ঘুরে  বেড়াতেও মন্দ লাগবে না।  এই জায়গাটি অরণ্যসংকুল, হাতির করিডোর।  বক্সা অঞ্চলের অরণ্যের মাঝে বেশ কিছু দ্রুকপা গ্রাম আছে, যেখানকার প্রাকৃতিক শোভা মন ভরিয়ে দিতে পারে, তবে সেই সব গামে যাওয়ার কোনো সড়কপথ নেই, তাই গাড়ি যায় না।  গভীর অরণ্য ও পাহাড়িপথে ট্রেক করে যেতে হয়।  সেক্ষেত্রে বন দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়।

আর একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।  ভুটানে ধূমপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিড়ি না সিগারেট নিয়ে প্রবেশ করতেও দেওয়া হয় না।

Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *