অন্য রুট – পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা – সিকিম ৩

অন্য রুট  – পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা – সিকিম ৩

অন্য রুট  - পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা - সিকিম ৩

 

আজ খবর  – অন্যরুট — পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা – সিকিম ৩ :  পেলিং বেড়াতে গিয়ে যদি ইচ্ছে হয় যে কাঞ্চঞ্জঙ্ঘাকে আরও কাছ থেকে উপভোগ করবেন, তাহলে পেলিং থেকে ৪১ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে যেতে হবে ইয়োকসমে।  পেলিং থেকে গাড়িতে সময় লাগবে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক।  এখানেই গাড়ি চলাচলের রাস্তা শেষ হয়েছে। আর  এখান থেকেই শুরু হয়েছে এই অঞ্চলের বিখ্যাত ট্রেকিং রুট জনগ্রি ও  গোয়চালা।

ad5
সিকিমের পুরোনো রাজধানী এই ইয়োকসম শহর। ১৬৪২ সালে এই শহরেই সিকিমের প্রথম রাজধানী স্থাপিত হয়েছিল। এই শহরেই সিকিমের প্রথম রাজাকে রাজমুকুট পরিয়ে অভিষিক্ত করা হয়েছিল।  এখানে রয়েছে নরবুগাং প্রাচীন প্রস্তর বেদী। এছাড়াও এখানে দেখে নেওয়া যায় দুব্দি মনাস্ট্রি।  এছাড়া দেখে নেওয়া উচিত হবে ছোট্ট শান্ত কাঠক লেক। অদ্ভুত নির্জনতা বিরাজকরছে এই জায়গাটিতে।
ad14
ইয়োকসম থেকে হাঁটা পথ চলে গিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্যাংচুয়ারির দিকে।  এই পথে  প্রথমে পড়বে  ৰাখিম, ইয়োকসম থেকে একটু এগোলেই পাহাড়ি ঝোরার ওপর ভগ্ন প্রায় সেতুগুলিকে সাবধান পেরিয়ে যেতে হয়।   কিছুদূরে ডান দিকের পাহাড়ীপথ নেমে গিয়েছে টিঁনকিতাম গ্রামে, এখানে ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার পৈতৃক বাড়ি আছে ।  ৰাখিম থেকে পথ গিয়েছে এইপথের শেষ গ্রাম সোখায়।  এরপর বন কিছুটা গভীর হয়েছে। ফেদং  নামে একটা ক্যাম্পিং সাইট পাওয়া যায়, পাহাড়ি নদীর ধারে। ফেদং থেকে আরও এগিয়ে গেলে পড়বে  জনগ্রি। এখান থেকেই দুই দিকে দুটি রুট রয়েছে। বাম দিকের পথ গিয়েছে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং  ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পে। ট্রেকিং শিক্ষার্থী যাঁরা দার্জিলিঙে এই কোর্স করেন তাঁরা ট্রেক করে এখানে আসেন। তারপর এখান থেকে গভীর বনপথ ধরে চলে যান জামলিং গাঁও  নামে  একটা জায়গায়, তারপর সেখানে থেকে সোখা  হয়ে ফেরেন।
ad13
জনগ্রি  থেকে ডান হাতের রাস্তা থানসিং, জেমাথাং হয়ে চলে গিয়েছে সমিতি লেকের ধারে। কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে বরফের চাঁই এসে পড়ে  সমিতি লেকের জলে।    অভিযাত্রীরা রাত্রি তিনটে নাগাদ সমিতি লেক থেকে যাত্রা শুরু করে ভোর হওয়ার আগেই গোয়চালা পৌঁছে যান।   টর্চের আলোয় বোল্ডার জোন  পার করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।   গোয়চালা থেকে ঘাড় উঁচু করে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করতে হয়।  এই জায়গা যেন মাউন্ট কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে অবস্থিত। একে  কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানের বেস  ক্যাম্পও বলা হয়।  গোয়চালা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। মাউন্ট পান্ডিমকে অতিক্রম করে কাঞ্চনজঙ্ঘার পাদদেশে পৌঁছে যাওয়াটা একেবারেই বিরল অভিজ্ঞতা।
ad16
পেলিং বেড়াতে গিয়ে অনেকেই রাবাংলা চলে যান। মৈনাম পিকের নিচে থাকা এই রাবাংলা সম্বন্ধে অবশ্যই বলতে হবে।  তবে তার আগে এই তল্লাটের আরও একটা জায়গার খবর দিই, যার নাম বোরং। পাইন বনের ধারে থাকা বোরং জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অসামান্য, পর্যটকদের ভীড় খুবই কম।  নিরিবিলিতে কাটিয়ে দেওয়ার জন্যে আদর্শ। কয়েকটি মাত্র হোটেল তৈরী হয়েছে এখানে।  পাইন বনের মধ্যে দিয়ে ট্রেকিং করতে পারেন। কাছাকাছি রয়েছে বিখ্যাত রালং মনাস্ট্রি।  এছাড়া রয়েছে বেশ কিছু উষ্ণ প্রস্রবণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস চর্মরোগ সারিয়ে দেয় উষ্ণপ্রস্রবনের জল. সপ্তাহান্তের ছুটি কাটানোর জন্যেও বেশ ভালো এই বোরং  জায়গাটি। বুক ভরে  শ্বাস নিন, আর প্রচুর পাখি দেখুন। (চলবে)
anyoroute.notice.news1
Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *