এই সপ্তাহের গন্তব্য – কাশ্মীর পর্ব ২

এই সপ্তাহের গন্তব্য – কাশ্মীর পর্ব ২

এই সপ্তাহের গন্তব্য - কাশ্মীর পর্ব ২

অন্য রুট , এই সপ্তাহের গন্তব্য – কাশ্মীর পর্ব ২

কলকাতার দিক থেকে জম্মুতে জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস প্রবেশ করে (১৩১৫১) সকাল ৯ টা ০৫ মিনিটে আর হিমগিরি এক্সপ্রেস (১৩০৪১) ট্রেনটি প্রবেশ করে দুপুর ১টা  নাগাদ। যদি এই দিনটাকেই কাশ্মীর ভ্রমণের প্রথম দিন ধরা হয়, সেটাও মন্দ হবে না।  জম্মু  থেকে হোটেলে  পৌঁছে যাওয়া যাবে অনায়াসে। খানিক বিশ্রাম নিয়ে হালকা মেজাজে জম্মু শহর ঘুরে দেখতে শুরু করে যায়।

ad13

জম্মু শহরে কি কি দেখবেন ? জম্মুতে প্রধান দ্রষ্টব্য হলো রঘুনাথ বাজারের শ্রী রঘুনাথ মন্দির।  ১৮৩৫ সালে এখানকার ডোগরা রাজা মহারাজা গুলাব সিং এই মন্দিরটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও মন্দির নির্মাণ শেষ করেছিলেন।  মন্দির কমপ্লেক্সে অন্যান্য দেবদেবীরা থাকলেও প্রধানত পূজিত হন শ্রী রাম চন্দ্র।  মন্দিরের চূড়াগুলি সোনার পাত  দিয়ে মোড়া  রয়েছে এবং মন্দিরের গাত্রে সর্বত্রই রামায়নের বিভিন্ন কাহিনী স্থান পেয়েছে। মন্দির সারাদিন খোলা থাকে।  এখানকার লাইব্রেরিটি দেখার মতো, প্রায় ৬০০০ বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপি যেমন দেখতে পাওয়া যায়, তেমন প্রাচীন ভারতের প্রচুর পুঁথি এখানে দেখতে পাওয়া যায়।  ২০০২ সালের ৩০শে  মার্চ এই মন্দিরে একবার জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছিল। তারা মন্দির চত্বরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ করেছিল, গুলি চালাতে শুরু করেছিল। যদিও তাদেরকে ঘিরে ফেলেছিলো নিরাপত্তা বাহিনী। সেবার ওই ঘটনায় ২ জঙ্গী সহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারপর ওই বছরেই ২৪ শে  নভেম্বর লস্কর ই তৈবার জঙ্গিরা মন্দির চত্বরে ঢুকে গুলি চালিয়েছিল, সেবার ঐ  ঘটনায় ১০ জন পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ৪০ জন জখম হয়েছিলেন।

a.bhutan2

জম্মু বাস স্ট্যান্ড থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে রয়েছে বাহু  দুর্গ। প্রায় ৩০০০ বছর আগে জম্মুর প্রতিষ্ঠাতা রাজা জম্বু লোচনের ভাই রাজা বাহু  লোচন নির্মাণ করিয়েছিলেন। যদিও পরে এই দুর্গের সংস্কার করেছিলেন ডোগরা রাজা রণবীর সিং।  দুর্গের অভ্যন্তরে বাওয়ে মাতার মন্দির রয়েছে, যিনি আদতে কালী মাতা।  জায়গাটিকে ঘিরে রয়েছে সবুজ বনানী, দুর্গের ভিতরেও আছে সুন্দর বাগিচা।  দর্শন করার জন্যে সারাদিন খোলা থাকে। সামান্য প্রবেশমূল্য, অবশ্য মিউজিক ফাউন্টেনের প্রবেশমূল্য আলাদা। অবস্থান তাওয়াই নদীর বাম তীরে। এখানে প্রতি বছর মার্চ/এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর / অক্টবর মাসে বাহু মেলা উদযাপিত হয়। বাহু দুর্গ দেখে দুর্গের পিছন দিকে যেখানে বাহু বাগিচা আছে, সেই জায়গার পিছন দিকে গিয়ে মহামায়া মন্দির দর্শন করতে পারেন। এখান থেকে তাওয়াই  নদীর অববাহিকার অনেকটা উন্মুক্ত দেখতে পাওয়া যায়।  দিগন্তে ত্রিকূট পাহাড় (বৈষ্ণদেবীর পাহাড় ) দেখতে পাওয়া যায়. জম্মু শহরটিকেও দেখতে পাওয়া যায়।

ad14

জম্মু শহরে বেড়াতে এসে রণবীরেশ্বর মন্দিরটি অবশ্যই দেখে নিতে হবে।   এই মন্দিরে পূজিত হন দেবাদিদেব মহাদেব। এখানে রয়েছে ৮ ফুট উঁচু কালো শিবলিঙ্গ (সম্ভবত উত্তর ভারতের উচ্চতম শিবলিঙ্গগুলির মধ্যে একটি). এই মন্দির ১৮৬৩ থেকে ১৮৮৩ সালের মধ্যে নির্মাণ করিয়েছিলেন ডোগরা মহারাজা রণবীর সিং।  মন্দিরে  রয়েছে মোট ১২টি স্ফটিক লিঙ্গ (১৫ থেকে ৩৮ সেন্টিমিটারের মধ্যে ) দক্ষিণের নর্মদা নদী থেকে এনে এখানে প্রায় ১ লক্ষ্ ২৫ হাজার বান  লিঙ্গ রক্ষিত হয়েছে। মন্দির খোলা থাকে সারাদিন। জম্মু রেল স্টেশন থেকে শালিমার রোড  ধরে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে রণবীরেশ্বর মন্দির।

এছাড়া জম্মুতে রয়েছে পীর খো গুহা মন্দির। ভূগর্ভস্থ গুহা, নেমে গিয়েছে প্রায় ২৫-৩০ফুট নিচে। এখানে সয়ম্ভু শিব লিঙ্গ বিরাজমান আছেন, তাঁর গায়ে রুদ্রাক্ষ জড়ানো থাকে।  এখানে একসময় গুরু গরিবনাথ তপস্যা করতেন।  শিবরাত্রিতে মেলা বসে এখানে। মন্দির  সারাদিন খোলা থাকলেও দুপরের দিকে কিছুক্ষন বন্ধ রাখা হয়.। ভিতরে  মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই. এছাড়া জম্মুতে রয়েছে মুবারক মাণ্ডি প্যালেস ডোগরা রাজাদের বাসস্থান, ডোগরা আর্ট মিউজিয়াম ও অমর মহল প্যালেস মিউজিয়াম।

Duarsini Travels

হাতে একদিন সময় থাকলে জম্মু শহর থেকে কিছুটা দূরে চেনাব নদীর ধরে আখনুর ফোর্ট দেখে আসতে  পারেন। জম্মু থেকে গাড়িতে সময় লাগবে পৌনে এক ঘন্টা।  ১৮২২ সালের ১৭ই জুন চেনাব নদীর ধরে জিয়া পোটা  ঘাটে মহারাজা রণজিৎ সিং মহারাজা গুলাব সিংকে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রতিষ্ঠাতা রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করেছিলেন।  দুর্গটি  মান্দা অঞ্চলে অবস্থিত , প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনের নিরিখে এখানে তিন যুগের সমাবেশ ঘটেছিল। প্রত্নতাত্বিক খননে  এখান থেকেই হরপ্পা সভ্যতা, প্রাচীন ঐতিহাসিক যুগ  ও কুষাণ  যুগের সামগ্রী উদ্ধার হয়েছিল। এই দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৭৬২ সালে তেজ সিং এর আমলে এবং নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল ১৮০২ সালে তাঁর পুত্র রাজা আলম সিং এর হাতে।

জম্মু বেড়াতে এসে ঘুরে নিতে পারেন মাংসোর লেক থেকে। জায়গাটি মধুচন্দ্রিমার জন্যে আদর্শ। জম্মু থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিতে পারেন।  জম্মু থেকে ৪০-৪৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই লেক. সারাদিন খোলা থাকে, লেকের জলে বোটিং করা যায়. গাড়ির পার্কিং চার্জ লাগবে আলাদা।  জম্মু থেকে ট্রেনে চেপে সাম্বা পৌঁছে, সেখান থেকে ট্রেকার ধরে চলে যাওয়া যায়.

জম্মু বেড়াতে গিয়ে  রাখবেন : নিজের পরিচয় পত্র যেমন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ইত্যাদি অরিজিনাল সঙ্গে রাখবেন।  নিরাপত্তার খাতিরে দেখাতে হতে পারে। মোবাইলে পোস্ট পেড কানেকশন রাখবেন। অন্য  রাজ্যে নেওয়া প্রিপেড সিম কার্ড জম্মু ও কাশ্মীরে কাজ নাও করতে পারে।  সঙ্গে কিছু নগদ টাকা রাখবেন, সব জায়গায় ডিজিটাল পেমেন্ট নাও নিতে পারে। অনেক সময় নিরাপত্তার খাতিরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়।  অশালীন পোশাক পড়বেন না ।

আগামী পর্বে  আমরা কাটরা ও বৈষ্ণদেবী ভ্রমণ সম্বন্ধে আলোচনা করবো।

ad5

Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *