আজ খবর (বাংলা) [দেশ], পহেলগাঁও, জম্মু ও কাশ্মীর, ০৬/০৭/২০২৬ : পবিত্র অমরনাথ যাত্রার উদ্দেশ্যে আজ কাশ্মীরের পহেলগাঁও থেকে চতুর্থ দল রওনা দিল।
গত ৩রা জুলাই থেকে ২৮শে আগস্ট পর্যন্ত ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় হিন্দুদের মধ্যে। অমরনাথ গুহা দর্শনের জন্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত \ তো বটেই বিদেশ থেকেও প্রতি বছর ভারতীয় হিন্দুরা ভীড় জমান। এই বছর ফের অমরনাথ যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। প্রচুর ভক্ত ইতিমধ্যেই পহেলগাঁও থেকে শেষনাগ, পিশুটপ হয়ে অমরনাথ গুহার পথে পা বাড়িয়েছেন ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তুলে।
পহেলগাঁও বৈশরন উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর পাক জঙ্গীদের নারকীয় হত্যার ঘটনার পর থেকেই অমরনাথ যাত্রার জন্যে নিরাপত্তা যথেষ্ট মজবুত করেছে সেনাবাহিনী। যাত্রার অনেক আগে থেকেই অমরনাথ যাত্রার প্রত্যেকটি জায়াগায় টহল দেওয়া ছাড়াও ডিজিটাল ম্যাপিং করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রা পথে. এই বছর অবশ্য হেলিকপ্টারে অমরনাথ যাত্রা বন্ধ রাখা রয়েছে নিরাপত্তার কারণেই।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৫/০৭/২০২৬ : রাজ্যের চা বাগান শ্রমিকদের জন্যে উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার।
ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে প্রচারে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কথা দিয়েছিল যে চা বাগান শ্রমিকদের উন্নয়ন কল্পে কাজ করবে রাজ্য সরকার। চা বাগান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছিলেন “চা বাগান শ্রমিকদের” জমির পাট্টা দান করা হবে।” ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দার্জিলিং সফর করে চা বাগান শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এবার সেই প্রকল্প বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে। চা বাগান শ্রমিকদের জন্যে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন চা শ্রমিক প্রকল্প ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের ক্রমাগত এবং মসৃন উন্নয়নের জন্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এই পদক্ষেপ এমন হবে যাতে বাস্তবে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন হয়। তাঁরা যাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিরাপত্তাটুকু পান, এই কারনে আমরা শুরু করেছি প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসহোন যোজনা। এই প্রকল্পের জন্যে ৩১৩কোটি ৩০ লক্ষ্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শ্রমিকদের শিক্ষা খাতে ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য উন্নয়ন খাতে খরচ করা হবে ৭২ কোটি টাকা। এছাড়াও ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে গৃহহীন শ্রমিকদের আশ্রয়ের জন্যে, তৈরী করা হবে বেশ কিছু শেড। শ্রমিকদের উন্নয়ন প্যাকেজ পরিকল্পনা ও তা রূপায়ণ করার জন্যে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ, ০২/০৬/২০২৬ : রাজ্যে তৃণমূল কর্মীদের ওপর ডিম্ থেরাপির নিন্দা করলো কলকাতা হাইকোর্ট, উচ্চ আদালতের বক্তব্যে খুশি তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কল্যাণ ব্যানার্জিরা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে বলেছেন, “বিভিন্ন ধারায় তৃণমূল নেতা কর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে অন্যায়ভাবে অন্তর্বাস ও গেঞ্জি পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটতে বাধ্য করছে। জনসাধারণের সামনে কান ধরতে বাধ্য করছে, নাকে ক্ষত দেওয়াচ্ছে। বিজেপি কর্মীরা তাঁদেরকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারছে, গোবর লেপে দিচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। আইনের তো”য়াক্কা না করেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনায় মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে।”
কল্যাণ ব্যানার্জির এই আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট আজ একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রত্যেক থানাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “এভাবে অভিযুক্তকে ডিম ছুঁড়ে মারা যায় না। এটা অন্যায় হচ্ছে।” হাইকোর্টের এই বক্তব্যকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি। রাজ্য সরকারকে হাইকোর্ট সতর্ক করে জানিয়েছে, “গ্রেপ্তারির ব্যাপারে সঠিক গাইডলাইন মেনে চলুন।”
আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক], নতুন দিল্লী, ভারত,০১/০৭/২০২৬ : তিন দিনের ভারত সফরের জন্যে আজ টোকিও থেকে নতুন দিল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আর কিছুক্ষনের মধ্যেই তিনি ভারতে পৌঁছে যাবেন। নতুন দিল্লীতে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভারত ও জাপানের দূতাবাস বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জাপান ভারতের বন্ধু দেশ হিসেবে সর্বজনবিদিত। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের এই ভারত সফর এবং তার সাথে ভারত-জাপান ১৬তম অ্যানুয়াল সম্মেলন দুই দেশের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আরও সুদৃঢ় করে তুলবে এমনটাই আশা করছে দুই দেশ। ১ তারিখ থেকে ৩ তারিখ পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম তাকাইচির সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনেকগুলি বৈঠক ও কর্মসূচী রয়েছে। ভারতের সাথে জাপানের এই বার্ষিক আলোচনার টেবিলে কি বিশেষ কোনো আলোচনা উঠে আসতে চলেছে ?
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসতে পারে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি। আলোচিত হতে চলেছে দুই দেশের যোগাযোগ বিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে। সমুদ্রপথে দুই দেশের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে বৈঠকে। দুই দেশের সেনা শক্তি নিয়ে ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। উত্তর পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগরকে বাণিজ্যের কেন্দ্র করে তোলা বিষয়টিও উঠবে আলোচনার টেবিলে। ভারতের সাথে ১৬তম অ্যানুয়াল সামিটে জাপানের তরফ থেকেও কিছু নতুন প্রস্তাব আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যা হয়ত দুই দেশের জন্যেই আগামীদিনে মঙ্গলজনক হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের এই মুহূর্তে যে এজেন্ডাগুলি আছে, তার মধ্যে অন্যতম হল, উত্তর পূর্ব ভারতকে এমন একটা জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা, যাতে কলকাতা সহ সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চল সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্ব বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আর সেটা করতে হলে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে ঠিকমত ব্যবহার করতে জানতে হবে। এমনকি চীন বা জাপান সাগরেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ভৌগলিক অবস্থানের বিচারে জাপানের সমর্থন ভারতের কাছে অত্যন্ত জরুরি। তাই বাণিজ্যিক এবং সেনা শক্তি দুই দিক থেকেই দুই দেশ গাঁটবন্ধন তৈরী করতে চাইছে। এতে দুই দেশেরই লাভ হবে বলে মনে করছে দুই দেশ। আবার অর্থনীতি, কূটনৈতিক এবং ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জাপানও ভারতের মত শক্তিশালী একটি দেশের সমর্থন আদায় করতে চাইছে। তাই বন্ধু দেশ ভারতের সাথে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সফল করতে দুই দেশই আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
আজ খবর (বাংলা), [দেশ] নতুন দিল্লী, ভারত, ০১/০৭/২০২৬ : দেশের ৩১ তম সেনা প্রধান হিসেবে বুধবার দায়িত্ব গ্রহণ করেই দেশের সেনাবাহিনীকে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলার বার্তা দিলেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ।
আজ দেশের ৩১ তম আর্মি চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ। এই দায়িত্ব গ্রহণ তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সন্মান হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন “দেশ সর্বোপরি।” তাঁর এই পদোন্নতি তাঁকে আরও দায়িত্ববান এবং বিনয়ী হতে শেখাবে। এই দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের, তবে দেশ সব কিছুর আগে, দেশ সর্বোপরি।
নতুন দায়িত্ব নিয়েই জেনারেল ধীরাজ শেঠ ‘বিজয়’ নামে তাঁর একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই অনুযায়ী দেশের সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে মুড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সেনাবাহিনীর প্রত্যেকটি ধাপে উন্নত প্রযুক্তি এবং সেই অনুযায়ী মানসিকতা তৈরী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা সেনা বাহিনীগুলির অন্যতম ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই সেনাবাহিনীকে আপা মস্তক একটি শ্রেষ্ঠ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর হয়েছেন জেনারেল ধীরাজ শেঠ।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা ,পশ্চিমবঙ্গ, ০১/০৭/২০২৬ : রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর আজ থেকেই চালু হয়ে গেলো “জি রাম জি” প্রকল্পের ১২৫ দিনের কাজ।
ভোটের আগে থেকেই মোদীর গ্যারান্টি ছিল, রাজ্যের শ্রমিকরা ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ পাবেন। সেই গ্যারান্টি অনুযায়ী রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজ চালু হয়ে গেল আজ থেকেই। এই প্রকল্প জি রাম জি নামেই পরিচিত হল। এবার থেকে শ্রমিকদের মজুরি ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই সরাসরি তাঁদের ব্যাংক একাউন্টে পৌঁছে যাবে।
শ্রমিকদের মজুরি সরাসরি তাঁদের একাউন্টে পৌঁছে যাওয়ার ফলে মাঝখানে কেউ কাটমানি নিতে পারবে না। আর এই প্রকল্পে যাতে কোনো রকম দুর্নীতির জায়গা তৈরী না হয়, সেটা মনিটর করার জন্যে আগে থেকেই একটা কমিটি তৈরী করে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার মানুষ উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পের জন্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ৬০:৪০ অনুপাতে অর্থ বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্র সরকার দিচ্ছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা এবং রাজ্য সরকার দিচ্ছে ৫,৬৭২ কোটি টাকা। আজ থেকেই রাজ্যে চালু হয়ে গেল জি রাম জি প্রকল্প।
আজ খবর (বাংলা) [বিনোদন], মুম্বই , মহারাষ্ট্র,২৬/০৬/২০২৬ : ফের একবার একসাথে কাজ করলেন অক্ষয় কুমার এবং রবিনা ট্যান্ডন। আজ তাঁদের অভিনীত ছবি মুক্তি পেলো প্রেক্ষাগৃহে । ছবির নাম “ওয়েলকাম টু জঙ্গল”। অক্ষয়কে দেখে অভিভূত রবিনা, বললেন, “এত বছর পরেও একটু বদলায় নি অক্ষয়।”
একসাথে অনেক ছবি করেছেন অক্ষয় ও রবিনা ট্যান্ডন। সেগুলির মধ্যে ব্লক বাস্টার হিট ছবিও আছে বেশ কয়েকটা। যেমন মোহরা , খিলাড়িও কে খিলাড়ি, দাবা, কিমত, বারুদ ইত্যাদি। দুজনের ঝুলিতেই এসেছে বেশ কিছু এওয়ার্ড। মাঝখানে দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করা হয়ে ওঠে নি. তবে দীর্ঘ ২২ বছর পর দুজনে ফের একসাথে ছবি তৈরী করলেন। যা আজ সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
খুশি অক্ষয়, খুশি রবিনাও। এদিন অভিনেত্রী বলেন, “মাঝখানে ২২টা বছর পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এক ফোঁটাও বদলায় নি অক্ষয় কুমার। যেমনটা আগে ছিল, এখনো ঠিক তেমনটাই আছে। কাজের প্রতি আগ্রহ, সহনশীলতা, ধৈর্য্য এবং অধ্যাবসায় আগেও যেমনটা ছিল এখনও তেমনটাই আছে. সেটের মধ্যে সব চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে দেখেছি অক্ষয়কে। সব থেকে বেশি ডেডিকেশন দেখেছি ওর মধ্যে। যাকে দেখে আমি এবং আমরা সকলেই মুগ্ধ হয়ে যেতাম। ঐরকম ডিসিপ্লিন ভাবা যায় না।”
আজ খবর (বাংলা) [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৬/০৬/২০২৬ : উত্তর কলকাতায় সভা করে প্রকাশ্যে তৃণমূলকর্মীদের বলতে হল “আমরা বেইমান নই। ” হঠাৎ এই ধরনের বার্তা কেন দিতে হল তৃণমূল কর্মীদের, আসুন একটি বিশ্লেষণ করে দেখা যাক।
গত বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতায় তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষের নেতৃত্বে একটি সভা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। সেই সভার প্রধান থিম ছিল “আমরা বেইমান নই” ; তৃণমূল ছেড়ে ইতিমধ্যেই বহু নেতা কর্মী, কাউন্সিলর, বিধায়ক ও সাংসদকে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে অনেকেই তৃণমূল দল থেকে বেরিয়ে গিয়েও সংবিধানিক পদ্ধতি অবলম্বন করে তাঁদেরকেই তৃণমূল বলে দাগাতে চেয়েছেন।
এমতবস্থায় যাঁরা দল ছেড়ে বেরিয়ে যান নি, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেই দলের কাজকর্ম সামলাতে লেগেছেন, তাঁরাই উত্তর কলকাতার সভায় উপস্থিত থেকে বলতে চেয়েছেন “আমরা বেইমান নই , আমরা দিদির পাশেই আছি। ” কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, “ঐ সভায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের এতো ভীড় হয়েছিল যে সবাই ভিতরে প্রবেশ করতে পারেন নি, তাঁরা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।” অর্থাৎ জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় একটুও ভাঁটা পড়ে নি।
কিন্তু জনসমক্ষে এই ধরনের সভা করে কেন তৃণমূল কর্মীদের বলতে হচ্ছে যে, তাঁরা বেইমান নন? আসলে সামনে আসছে ২১শে জুলাই, এই দিনটাকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ওই দিনে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভীড় দেখতেই অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম। সংগঠন সেভাবে দানা বাঁধছে না. বরং এবার পালে হাওয়াই নেই। দুর্বল সংগঠন নিয়ে কিভাবে এবার শহীদ দিবস পালিত হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মমতা শিবির। যেখানে দলের নাম, লোগো আর তহবিলটাই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, সেখানে শহীদ দিবস আদৌ আর আগের মত পালন করা যাবে কি ? এখন এই প্রশ্নটাই বড় হয়ে উঠছে।
এই মুহূর্তে তৃণমূলের অনেক কর্মী নেতাদের জেল হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের সাথে লড়াই করছেন, সেই তালিকায় অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাস যেমন আছেন, তেমন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন। তাই গতকালের উত্তর কলকাতার সভা দিয়ে কুনাল ঘোষরা রাজনীতির স্রোতে হারিয়ে যেতে যেতে খড় কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেইমান নই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজনীতির ময়দান থেকে ছিটকে গেলেও দলের জন্যে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করছেন। গতকালের কর্মী সভা অবশ্য বিক্ষুব্ধদের প্রতিও একটা বার্তা হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। তবে গতকালের কর্মী সভা কি একেবারেই সফল ? গতকালের কর্মীসভায় উপস্থিত থেকেও ঐ সভা শেষ হতে না হতেই বিক্ষুব্ধ শিবিরে গিয়ে যোগাযোগ করেছেন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা বিশ্বরূপ দে।
আগামী ২১শে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেস শহীদ দিবস পালন করতে পারে কি না, করলে কিভাবে করবে এবং সর্বোপরি সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ঠিক কি বার্তা দেবেন সেদিকে নজর থাকবে সকলের।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] নবান্ন, হাওড়া, ২৫/০৬/২০২৬ : রাজ্যের অথমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছেন যে এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের বেনিয়ম ও দুর্নীতির কথা শ্বেত পত্র প্রকাশ করে জানানো হবে। বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেই দুর্নীতির সিএজি রিপোর্ট পেশ করা হবে প্রকাশ্যে ।
কলকাতার তারাতলায় যে নির্মীয়মান গুদামটি ভেঙে পড়েছে, তার অনুমোদন দিয়েছিল পুরোনো সরকার। গতকাল ও আজ সেখানে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। একটুও সময় নষ্ট না করে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে NDRF ও সেনাবাহিনী তলব করেছে রাজ্য সরকার। ক্ষতিপূরণের ঘোষনাতেও এগিয়ে এই সরকার। মৃতের পরিবার প্রত্যেকে পাবেন ১০ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এবং ২ লক্ষ টাকা কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে।
এই যে এতো বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলো, তার পিছনে পুরোনো সরকারের বেনিয়ম সামনে এসেছে। দুর্নীতিও হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এখন থেকে পুরোনো সরকারের করে যাওয়া এই দুর্নীতির দায় বর্তমান সরকার নেবে না। বর্তমানে রাজ্যে যাতে নিরাপত্তাজনিত কোনো আশঙ্কা দেখা না যায় , সেই কারণে বর্তমান সরকার সব কিছুই প্রকাশ্যে আনবে। তৃণমূল আমলে অনুমোদন পাওয়া নবনির্মিত সব বিল্ডিং গুলির অডিট করা হবে। আপাতত সমস্ত নির্মীয়মান (এমার্জেন্সি ছাড়া) কনস্ট্রাকশন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অন্তত চার সপ্তাহপরে ফের নোটিশ জারি করা হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, “সন্দেশখালিতে একটি মহিলা থানা, হেমতাবাদে একটি ডিগ্রি কলেজ এবং কালিয়াগঞ্জে একটি মহিলা কলেজ স্থাপিত হবে। রাজ্যে ২০০ জনকে নিয়ে একটি উচ্চ প্রশিক্ষিত দুর্যোগ মোকাবিলা দল তৈরী করা হবে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও দেওয়া হবে তাঁদের হাতে। এই ২০০ জনের মধ্যে ৫০ জন আসবেন সুন্দরবন এলাকা থেকে এবং ৫ জন আসবেন পার্বত্য অঞ্চল থেকে। বাকি ১০০ জন রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে। এই দলকে নানারকম প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই বছর দুর্গাপূজার আগেই রাজ্য সরকার বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে ।”