কলকাতা বিমানবন্দর দেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, এখানে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৬/০৬/২০২৫ : কলকাতা বিমানবন্দরের সীমানা অবিলম্বে সিল করে দেওয়ার আহবান জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কলকাতা বিমানবন্দর নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে চলছে। এখানে বিমানবন্দরের চত্বরেই মাটিতে বসে পড়ে প্রার্থনা করা হয়। বাইরের লোক বিমানবন্দর চত্বরে ঘোরাফেরা করে। এইসব লোকেদের চীন ও বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। এইসব লোকগুলো যখন তখন বিমানবন্দর চত্বরে ঘোরাফেরা করে। এখনও পর্যন্ত এই বিমানবন্দরের সীমানা সম্পূর্ণ সিল করা হয় নি।” সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে কেন্দ্র সরকারের অনুদানে কলকাতা বিমানবন্দরে আরও দুটি রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই রান ওয়েগুলির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তা সত্বেও দুটি রানওয়ের একটি চালু করা গেলেও অপরটি করা যায় নি। কেন ? কেননা ওই রানওয়ের অন্তর্গত রয়েছে একটি মসজিদ। এটা চলতে দেওয়া যায় না।”
শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, “দেশের প্রত্যেকটি রাজ্য যোগ দিবস পালন করলেও পশ্চিমবঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়েছে। দেশের বিজেপি ও অবিজেপি শাসিত সব রাজ্যই যোগ দিবস পালন করেছে। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রত্যেকেরই উচিত যোগা করা।”
উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে না. বিভিন্ন জায়গায় ধ্বস নামার ফলে. বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে ত্রিপুরা
আজ খবর (বাংলা), [দেশ], গুয়াহাটি, আসাম, ২৫/০৬/২০২৫ : এখনই স্বাভাবিক হচ্ছে না রেল পরিষেবা। অন্তত পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের বিবৃতি থেকে তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, আগামী ২৭ জুনের বেঙ্গালুরু-আগরতলা হামসফর এক্সপ্রেস আজকেই বাতিল বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকটা নিশ্চিত ভাবেই অনুমান করা যাচ্ছে, ত্রিপুরায় আবারও দূরপাল্লার রেল পরিষেবা চালু হতে অন্তত ২৮ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
মঙ্গলবার এক প্রেস বিবৃতিতে পূর্বোত্তর সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভূমিধসের ফলে লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, রেলওয়ে এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করার একটি উচ্চ-পর্যায়ের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়, যেখানে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে, রাজ্য সরকার, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার বরিষ্ঠ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। যাত্রী এবং রেলওয়ের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা অতি জরুরী ছিল। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং জনবল মোতায়েন করে ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ দ্বারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ট্র্যাক পুনরুদ্ধারের জন্য দিনরাত কাজ করছে। ধারাবাহিকভাবে যৌথ পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে এবং লাইনের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য কিছু ট্রেন বাতিল এবং আংশিক বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেন চলাচল এবং পরিষেবা পুনরুদ্ধার সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য যাত্রীদের সরকারি রেল যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে আপডেট থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, ২৪ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১৫৬১১ (রঙিয়া-শিলচর)এক্সপ্রেস, ট্রেন নং. ১৫৬১২ (শিলচর-রঙিয়া) এক্সপ্রেস এবং ট্রেন নং. ১৫৬১৫ (গুয়াহাটি-শিলচর) এক্সপ্রেস, ২৫ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১৫৬১৬ (শিলচর-গুয়াহাটি)এক্সপ্রেস, ট্রেন নং. ১৫৮৮৮/১৫৮৮৭ (গুয়াহাটি-বদরপুর-গুয়াহাটি) টুরিষ্ট এক্সপ্রেস এবং ট্রেন নং. ২২৪৫০ (নিউ দিল্লি – গুয়াহাটি) পূর্বোত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস এবং ২৭ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১২৫০৩ (এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আগরতলা)হামসফর এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, ২৩ জুন রওনা দেওয়া ট্রেন নং. ১৫৬২৫ (দেওঘর-আগরতলা)এক্সপ্রেসটি লামডিঙে সংক্ষিপ্ত সমাপন করা হবে এবং লামডিং ও আগরতলার মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ২৪ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১৩১৭৩ (শিয়ালদহ-সাবরুম)কাঞ্চনজঙ্গা এক্সপ্রেসটি লামডিঙে সংক্ষিপ্ত সমাপন করা হবে এবং লামডিং ও সাবরুমের মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ২৪ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১২৫১৬ (শিলচর-কয়েম্বাটোর)এক্সপ্রেসটি গুয়াহাটি থেকে সংক্ষিপ্ত আরম্ভ হবে এবং শিলচর ও গুয়াহাটির মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ২৫ জুন রওনা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ট্রেন নং. ১২৫০২ (আগরতলা-কলকাতা)গরীব রথ এক্সপ্রেসটি গুয়াহাটি থেকে সংক্ষিপ্ত আরম্ভ হবে এবং আগরতলা ও গুয়াহাটির মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে।
তিনি জানান, অনুমান অনুসারে প্রায় ৫০,০০০ ঘনমিটার কাদা এবং পাথর রেলওয়ে রিটেইনিং ওয়াল পর্যন্ত এসে পড়েছে। যত সম্ভব তাড়াতাড়ি ট্র্যাকের কাজ শুরু করার জন্য কমপক্ষে ৩০,০০০ ঘনমিটার কাদা পরিষ্কার করতে হবে। রেলওয়ের টিম যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে এবং লামডিং ডিভিশন এবং মুখ্য কার্যালয়ের বরিষ্ঠ রেলওয়ে আধিকারিকরা পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য ঘটনাস্থলে ক্যাম্প করছেন। তিনি বলেন, রেলওয়ে প্রশাসন অনিবার্য ট্রেন বাতিলকরণ এবং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ফলে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য গভীরভাবে দুঃখিত এবং আশ্বাস প্রদান করে যে সুরক্ষা নিশ্চিত করে ট্রেন চলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, হেল্পলাইন এবং সোশিয়াল মিডিয়া হ্যান্ডেলের মাধ্যমে ট্রেন পরিষেবা সম্পর্কে সর্বশেষ আপডেটগুলি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বার বার বাধা আসছিল, মনে হচ্ছিল পুরো অভিযানটাই না বাতিল হয়ে যায়. কিন্তু সব বাধা কাটিয়ে মহাকাশের দিকে রওনা হল মহাকাশযান, শুরু হল এক্সিয়ম ৪। শুভেচ্ছা রইল ‘আজ খবর’-এর তরফ থেকেও। জয় হিন্দ।
আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক],ফ্লোরিদা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২৫/০৬/২০২৫ : অবশেষে অপেক্ষার অবসান,তিন নভোশ্চরকে নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিলেন ভারতীয় নভোশ্চর শুভাংশু শুক্লা। বুধবার ভারতীয় সময় দুপুর ১২ টা ১ মিনিটে এক্সিওম ৪ অভিযান শুরু হয়ে গেল, চার মহাকাশচারী গবেষকদের নিয়ে মহাকাশের উদ্দেশ্যে উড়ে গেল মহাকাশযান।
মহাকাশে যাত্রা করার আগে বেশ কিছু বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল শুভাংশুদের। অভিযান বাতিল না হয়ে যায়, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিতে শুরু করেছিল। প্রথমবার খারাপ আবহাওয়ার জন্যে অভিযান বাতিলকরা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় অভিযানকে স্থগিত রাখতে হয়েছিল। যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই তিন চার বার এই অভিযানকে স্থগিত রাখতে হয়েছিল। অবশেষে বুধবার এই মহাকাশযান গবেষণার উদ্দেশ্যে মহাকাশে পাড়ি দিল। এই মহাকাশযানের পাইলট হিসেবে রয়েছেন ভারতীয় গ্রূপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা।
রাকেশ শর্মার পর শুভাংশু শুক্লাই দ্বিতীয় নভোশ্চর, যিনি একজন ভারতীয় হয়ে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে মহাকাশে যাত্রা করলেন। আজ তাঁর মহাকাশযায় অন্তরীক্ষের দিকে যাত্রা করতেই চোখে জল এসে গিয়েছিল শুভাংশুর বাবা সিনিয়র শুক্লার চোখে। শুভাংশুর ছোটবেলার স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকরাও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শুভাংশুকে।
শুভাংশুরা মহাকাশ যারা করে প্রায় ১৪ দিনের সফরে বেশ কিছু গবেষণার কাজ করবেন বলে জানা গিয়েছে। মোট ৩১ দেশের ৬০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে দেখবেন তাঁরা। এই গবেষণার নেতৃত্ব দেবেন পেগি হুইটসন। এছাড়াও মহাকাশযানে আছেন পোল্যান্ডের স্লাওস উজানানস্কি, ভারতের শুভাংশু শুক্লা ও হাঙ্গেরির টিবর কাপু। এই মহাকাশ অভিযান নাসা এবং ইসরো যৌথভাবে সম্পন্ন করছে।
মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে গিয়ে নানারকম গবেষণা করবেন আগামী ১৪ দিন ধরে। এই গবেষণার মধ্যে রয়েছে পেশীর পুনর্জন্ম, অঙ্কুরিত বীজ, ভোজ্য অণুজীবের বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা, মাইক্রোগ্রাভিটিতে ইলেক্ট্রনিক প্রদর্শনের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়া পরীক্ষা করা ইত্যাদি ইত্যাদি। চার মহাকাশচারী মহাকাশযানে রওনা হয়ে গিয়ে পৌঁছাবেন মহাশূন্যে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে। আগামী সপ্তাহ দুয়েক এই স্টেশনে থেকেই তাঁরা গবেষণার কাজ চালিয়ে যাবেন। তারপর ফের ফিরে আসবেন পৃথিবীতে।
নদীপাড়ে ভাঙ্গন শুরু হলে চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হয়. ধূপগুড়ির কাছে নানাই নদী নিয়ে একাধিক দাবিদাওয়া রয়েছে এলাকার গ্রামবাসীদের।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ২৫/০৬/২০২৫ : নিজস্ব সংবাদদাতা : উত্তরে সেভাবে এখনো বর্ষা নামেনি। তার আগেই যেভাবে রাতভর বৃষ্টি ও তারপরে প্রখর রোদে গোটা দিন কাটছে। এতেই নদীর পাড় ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের নানাই নদী একের পর এক গিলে খাচ্ছে বসতবাড়ি, কৃষি জমি। আর তাতেই রাতের ঘুম কেড়েছে এলাকাবাসীর।
উত্তর খট্টিমারি ডুয়ার্সের বনজঙ্গল লাগোয়া একটি ছোট্ট গ্রাম। কৃষিকাজি একমাত্র ভরসা এই গ্রামের মানুষ জনের। অত্যন্ত উর্বর ত্রিফসলা কৃষি জমির কারণে কৃষি কাজে ব্যাপক ফুলে ফেঁপে ওঠে এই এলাকার মানুষ। কিন্তু গোদের উপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে নানাই নদীর ভাঙ্গন। বিগত কয়েক বছর ধরে বিঘার পর বিঘা জমি নদীর তলায়। ভাঙ্গনের ফলে নদী গতিপথ পরিবর্তন করে বসতবাড়ির সামনে দিয়ে বইতে চলেছে। গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিতে নতুন করে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে নদীতে। এই মুহূর্তে পাট চাষে লাভের আশা দেখছে কৃষকেরা। আর সেই পাট খেতের জমিও এই নানাই নদীর বক্ষে চলে যেতে বসেছে। আতঙ্কে কৃষকের গোটা পরিবার।
অভিযোগ একাধিকবার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এমনকি ব্লক তরেও তাদের এই সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। প্রত্যেক বছর ভোটের আগে স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে ইরিগেশন দপ্তরের একাধিক আধিকারিক নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আসেন, পরিদর্শন করেন, প্রতিশ্রুতি দেন আর ভোট মিটে গেলেই আরও সেই চেনা ছবি দেখতে হয় এই এলাকার মানুষকে। কার্যত আসন্ন ২৬ এর নির্বাচনে ভোট বয়কট না করে, গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়েছেন তাদের এই জলজ্যান্ত সমস্যার সমাধান যে রাজনৈতিক দলের দ্বারা সুরাহার পথ দেখাবে, এবারের ভোট তাদের জন্যই হবে।
শুধু নদী ভাঙ্গন নয় পাশাপাশি এই নানাই নদীর উপর ব্রিজের দাবিও রয়েছে এলাকাবাসীর। গত কয়েক মাস আগে গ্রামবাসীরা নিজেরাই বাঁশ দিয়ে নানাই নদীর উপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। এবারের বর্ষার আগেই নদীতে জল বাড়তেই সেই বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। বর্তমানে গ্রামবাসীরা এক বুক জল দিয়েই বিপদজনকভাবে পারাপার করছেন। একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবিও তারা রেখেছেন।
এর পাশাপাশি এই গ্রামের মধ্যেই রয়েছে বর্গির কুড়ায় হিন্দুদের একটি ধর্মীয় স্থান। যেখানে বছরের বিভিন্ন সময়ে গোটা গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে বিভিন্ন পূজা করেন। ধর্মীয় উৎসবে মেতে উঠেন। সেই বর্গির কুড়ার গোটা মন্দিরটি নানাই নদীর গর্ভে চলে যাবে বলেই আতঙ্কিত রয়েছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে গোটা গ্রামের এত বড় সমস্যা থাকার পরেও স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে আমরা গেলে তিনি কোনরূপ মন্তব্য করতে চাননি বরঞ্চ দায়িত্বে তিনি থাকলেও তার হাজবেন্ডকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে আবার গোটা বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন ধুপগুড়ি গ্রামীণ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মলয় কুমার রায়। তবে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে সমস্যার সমাধানের আবেদন জানানো হয়েছে বলে দাবি। যতটা দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার নিবারণ করবে বলেই জানানো হয়।
তবে শাসকদলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব মহন্ত কুমার রায়। জলপাইগুড়ি বিজেপি বিধায়ক ডক্টর জয়ন্ত কুমার রায়কে গোটা বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত স্থায়ী বাধ নির্মাণের কথা তুলে ধরেছেন বিজেপি।
বহু মানুষ অনেক চেয়ে চিন্তেও আবাস যোজনার ঘর পাচ্ছেন না, আবার কেউ আবাস যোজনায় ঘর পেয়ে তা থেকে ব্যবসা করে চলেছেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], শান্তিপুর, নদীয়া, ২৫/০৬/২০২৫ : নিজস্ব সংবাদদাতা : সরকারি আবাস যোজনার ঘরে মানুষ থাকেন না কেউ ! চলছে কন্ট্রাক্টরির রমরমা ব্যবসা। অভিযুক্ত স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা শান্তিপুর পৌরসভার পৌর কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় শাসকদলকে তোপ বিজেপি সাংসদের।
বাড়ি ঘর যতই থাক শাসক দলের কর্মকর্তা হিসাবেই হোক কিংবা পৌর কর্মচারী, ভাগ নেওয়াটাই যেন অধিকার । আর তাইতো সরকারি আবাস যোজনার ঘরে মানুষ থাকার লোক না থাকলেও গোডাউন ভাড়ার মোটা টাকা আসছে প্রতি মাসে। অথচ একই ওয়ার্ডে কত মানুষ এখনো পর্যন্ত রয়েছেন সরকারি এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত।
বেনজির এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর সুত্রাগড় কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডের বিসি রায় রোড সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ সেখানকার বাসিন্দা রাজু ঘোষ দীর্ঘদিন ধরেই কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত। পৌর কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন শান্তিপুর পৌরসভায়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিসি রায় রোড রাস্তার পাশে পড়ে থাকা জমিতে ২০১৮ সালে সরকারি আবাস যোজনা তালিকায় নিজের নাম পাকাপাকিভাবে অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নেন তিনি। কিন্তু নিজেদের দু’দুটো বাড়ি ছেড়ে সরকারি এই আবাস যোজনায় থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, তাই পৌরসভারই এক ইঞ্জিনিয়ারের ব্যক্তিগত ইমারতি ব্যবসার জিনিসপত্র রেখে ভাড়া বাবদ পেয়ে থাকেন মোটা টাকা। এমনটাই জানা গেছে এলাকা সূত্রে।
শাসক দল হোক কিংবা বিরোধী অথবা সাধারণ নাগরিকদের গুঞ্জন এই নিয়েই! তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন এই ওয়ার্ডেই কত প্রান্তিক পরিবার রয়েছে যাদের মাথার উপর এখনো ছাদ জোটেনি, দিনের পর দিন তারা আবাস প্রকল্প পেতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সরকারি এ দপ্তর থেকে ওই দপ্তর। অথচ যাদের প্রয়োজন নেই সেই সমস্ত বৃত্তবান মানুষজন শুধুমাত্র দলের প্রভাব খাটিয়ে কিংবা পৌরসভার চাকরির সুবাদে এভাবে যদি সরকারি আবাস নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে ভাড়া দেন, তাহলে সমাজের কাছে কোন বার্তা পৌঁছায় ! রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার নয় কি!
আর এই নিয়েই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের বিরুদ্ধে দল বিজেপি সাংসদ ।
যদিও এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর শান্তিপুর পৌরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলের মেম্বার শুভজিৎ দে জানান বিষয়টি তার সময়কালের নয়। তবে অবশ্যই নিন্দনীয়।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানান, অভিযোগ জমা পরলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর কর্মচারী এবং এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব রাজু ঘোষ অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, পুরসভার সামান্য বেতনে তিনি কাজ করেন, সেক্ষেত্রে পরিবারের খরচ যোগাতে সামান্য অর্থ উপার্জন হয় এমন পড়ে থাকা এই ঘর থেকে সিমেন্ট রাখার ব্যবসা করা অন্যায় কোথায় ! তবে ভাড়া দেওয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তবে আবাস যোজনার প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য সরকারি ফলক কিংবা নীল সাদা রং সম্পর্কে বলেন একটি কাগজ লাগানো ছিল দেয়ালে তা হয়তো উঠে গেছে নীল সাদা রং তখন করা হতো না। যদিও এই ব্যবসায়িক ঘর নিয়ে এখন চাঞ্চল্য শান্তিপুরে।
একবিংশ শতাব্দীতেও বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে মৃত্যু আদিবাসী নাবালিকার, তুষের আগুনের মতো ক্ষোভ বাড়ছে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায়।
আজ খবর ( বাংলা), [রাজ্য] ক্রান্তি, জলপাইগুড়ি, ২৪/০৬/২০২৫ : নিজস্ব প্রতিনিধি: তরাই আদিবাসী সম্প্রদায়এবং ক্রান্তি ব্লকের বিভিন্ন চা বাগানের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের ডাকে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের ক্রান্তি বাজার থেকে ক্রান্তি পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত। উক্ত পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে তরাই ডুয়ার্সের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংগঠন গুলো।
উল্লেখ্য , গত ১৮ই জুন রাজা ডাঙ্গা পি এম হাই স্কুলের ছাত্রী রিমিকা মুন্ডার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয় যে ছাত্রীটিকে তার উচু ক্লাসের কিছু দিদি বারবার উত্যক্ত করত গায়ের কালো রং নিয়ে।
বিষয়টি বাড়িতে মা-বাবাকে জানায় সে, তবে সেই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কোন প্রকার অভিযোগ জানানোর আগেই চরম পরিণতি ঘটে যায় আদিবাসী এই নাবালিকার । এর পরেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন এলাকাবাসী সহ মৃত ছাত্রীর পরিবার। ইতিমধ্যে তাঁদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ ক্রান্তি পুলিশ ফাঁড়ি এবং বিডিও অফিস সহ স্কুল কর্তৃপক্ষকের কাছে জমা পরেছে । রিমিকা মুন্ডার মৃত্যুর ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে সোমবার একটি পদযাত্রার মধ্য দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে ক্রান্তি থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন কয়েকশো জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষ।
এই প্রসঙ্গে বিনীতা কুজুর টেটে জানান আমরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোক দেখতে গায়ের রং কালো তাই বলে আমাদের স্কুল কলেজ অফিসে গায়ের রং নিয়ে কেউ কটুক্তি করবে আমরা সেটি কোনভাবে বরদাস্ত করব না। আমরা আজকে লিখিতভাবে ক্রান্তি থানায় রিমিকা মুন্ডার ন্যায়ের দাবিতে থানায় জানালাম। যদি প্রশাসন অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের না করে এবং আইনী ভাবে সাজা দেওয়া না হয় আগামী দিনে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
এছাড়াও এদিনের এই পদযাত্রায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাও অংশগ্রহণ করেছে এবং প্রত্যেকের হাতে ছিল “উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর রিমিকা মুন্ডা”।
এছাড়াও অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের সম্পাদক বাবলু মাঝি জানান “এর আগেও রাজাডাঙ্গা পিএম বিদ্যালয়ে এরকমের কটুক্তি করার ঘটনা ঘটেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিতকরণ করে আইনীভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং আগামী দিনে যাতে আবার এ ধরনের দুঃখজনক এবং মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে আমরা তাই আজ তরাই ডুয়ার্সের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে ক্রান্তি থানায় পদযাত্রার মধ্য দিয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে দিলাম।” পুলিশ প্রশাসন এদিন ক্রান্তি থানার সামনে ব্যারিকেড তৈরি করে আটকে দেয় পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের, পরবর্তীতে একটি প্রতিনিধি দল ক্রান্তি পুলিশ ফাঁড়িতে দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপি জমা করে।
এছাড়াও মাল বাজার থানাতেও একই দাবীতে জমা করা হয় স্মারক লিপি। গায়ের রং নিয়ে কটুক্তির মতো ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন মহলে , মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী থেকে সমাজ বিশ্লেষকদের মতে একবিংশ শতাব্দীতে এমন ঘটনা কখনোই কাম্য হতে পারে না।