
আজ খবর
(বাংলা) [রাজ্য] কলকাতা ১৩/১০/২০২৬ 14:53
বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার কলকাতা পুলিশের দুই থানায় হাজিরার নোটিস পেলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। গরফা ও কসবা থানায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের কলকাতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরবাইকে আসা কয়েকজন তাঁর বাড়ির জানালার দিকে বোতল ছোড়ে। এর ফলে জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানা যায়। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে এই হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেখানে হামলাকারীদের উদ্দেশে ‘হিন্দুত্ববাদী গুন্ডা’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে দুটি পৃথক থানায় হাজির হওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর গরফা থানা এবং ১৪ অক্টোবর কসবা থানায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে খবর।
তাঁর সমাজমাধ্যমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তলব করা মানেই কোনও ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হয়েছেন, এমন নয়। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও বেড়েছে। তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্যটি প্রত্যাহার বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাড়িতে হামলার অভিযোগ এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—দুটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে হামলার ঘটনার তদন্ত, অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ, গোটা বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।
দুই থানায় হাজিরার নোটিসের পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পুলিশের সঙ্গে কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনার তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য সামনে এলেই গোটা বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।











