আজ খবর (বাংলা), এবং তারপর, ০৬/০৮/২০২৯ : আগামী ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কী জন্য ? মাথার ওপর মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া ঝুলছে দেখেও কেন তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার মত ঝুঁকি নিতে চাইছেন ?
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে অগণিত আওয়ামী লীগ সদস্যের বিশ্বাস ও ভরসা রয়েছে তাঁকে ঘিরে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্যেও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা তিনি অস্বীকার করতে পারেন না। বহু আওয়ামী লীগ সদস্য এই মুহূর্তে জেলে আছেন। তাঁরা বিনা অপরাধে শাস্তি পাচ্ছেন, এই সব দেখেও তিনি চুপ করে থাকতেপারেন না। তিনি মনে করে তাঁর উচিত আওয়ামী লীগকে ফের সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে ফিরিয়ে আনা। তাই দেশে ফিরতে চাইছেন শেখ হাসিনা।
Advt. Carrylux large capacity Tote bags for women Free Delivery Rs. 1999/– Rs. 599/- [whats app – 7319287999]
শেখ হাসিনা মনে করেন, তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে যান নি, এমন পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছিল,যে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময় হাজার হাজার আওয়ামী লীগ সদস্যদের অত্যাচারিত হতে হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাণ্ডব চালানো হয়েছিল শেখ মুজিবরের বাসভবন ও মূর্তিগুলির ওপরেও। কিছু পুলিশ কর্মীকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তদারকি সরকারের কাছে নানারকম আবেদন নিবেদন করেছিলেন শেখ হাসিনা, কিন্তু তাঁর কোনো অনুরোধে কর্ণপাত করা হয় নি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ।
ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা ঘোষণা করে দিয়েছেন আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। তবে ভারত জানিয়েছে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সাথে ভারতের কোনো সংপৃক্ততা নেই। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮ তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। ভারত সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এই শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের এবং সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের এক বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই বৈঠক এবং এর পেছনের সমীকরণগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় শেখ হাসিনার ইস্যু এবং সমঝোতার সম্ভাবনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী-রহমান বৈঠকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর (প্রত্যর্পণ) দাবিটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
ভারতের দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল: বাংলাদেশ সরকারের সংবেদনশীলতাকে সম্মান জানিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি পরিকল্পিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন বা জনসমক্ষ উপস্থিতি থেকে The Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত সরকার সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখেছে এবং জানিয়েছে এতে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সমঝোতার পথ: এই সম্মেলনে কোনো চূড়ান্ত নাটকীয় প্রস্তাব গৃহীত না হলেও, ভারত ও বাংলাদেশ একটি মধ্যবর্তী সমঝোতার (Modus Vivendi) পথে হাঁটতে পারে। ভারত হয়তো শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে পুরোপুরি বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে, যা ঢাকার বর্তমান সরকারের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সাহায্য করবে।
তিস্তা চুক্তি ও জল বণ্টনের রসায়ন এই সম্ভাব্য বৈঠকের পেছনে শুধু শেখ হাসিনার ইস্যু নয়, বরং তিস্তা চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনীতির একটি বড় রসায়ন কাজ করছে। ২০২৬ সালটি ভারত-বাংলাদেশের জল কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত তিস্তা নদীর সমাধান এবং গঙ্গা চুক্তির নবীকরণকে Eurasia Review-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী একটি বড় কৌশলগত কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যাতে ঢাকার নতুন সরকারের সাথে একটি বড় ধরনের ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ (Give and Take) বা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা যায়।
এর সাথে চীনকে দূরে রাখার কৌশলও থাকবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও অর্থায়নের প্রস্তাব নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন সরকারের আমলে বাংলাদেশ যাতে চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে না পড়ে, সেজন্য ভারত এই ব্রিকস সম্মেলনকে ব্যবহার করে তিস্তা সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্যাকেজের প্রস্তাব দিতে পারে। সংক্ষেপে বলতে হলে , সেপ্টেম্বর মাসের এই ব্রিকস সম্মেলনটি ভারত ও বাংলাদেশের জন্য একটি “রিসেট বাটন” হিসেবে কাজ করছে, যেখানে তিস্তা চুক্তির মতো অমীমাংসিত ইস্যু এবং শেখ হাসিনার আশ্রয়ের বিষয়টিকে একই টেবিলে এনে একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা করবে ভারত।