
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ১৯/০১/২০২৬ : এসআইআর নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। কোথাও আবার পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। এর মধ্যেই আজ সুপ্রীম কোর্টের রায় থেকে নিজেদের নৈতিক জয় খুঁজেনিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এসআইআর নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নানারকম অশান্তির ঘটনার খবর এসেছে আমাদের কাছে। মালদা জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্য মর্জিনা খাতুন অভিযোগ করেন যে শুনানিতে পুলিশ তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। এই নিয়ে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকে নির্বাচন কমিশনের শুনানি চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা অফিসে বিজেপির ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের গাড়িতেও ভাংচুর চালানো হয়েছে। এসআইআর ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল হাওড়া জেলার শ্যামপুর ১ নম্বর ব্লকে। সোমবার সকাল থেকেই এখানকার ক্যাম্পগুলিতে ছিল লম্বা লাইন। বিকেল চারটে পার হয়ে গেলেও লাইন কমে নি। এই দীর্ঘ লম্বা লাইন দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। হাওড়া জেলাশাসকের অফিসের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীরা।
অশান্তির খবর এসেছে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ থেকেও। সেখানে ফর্ম জমা দেওয়ার জন্যে অতিরিক্ত সময় দাবী করা হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা সেখানে ভুয়ো ভোটার ঢোকাচ্ছিল। যদিও এর পর সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসআইআর নিয়ে অশান্তির খবর আসতেই থাকে।
এর মধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালত আজ এক রায়ে জানিয়ে দিয়েছে যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম যুক্তিপূর্ণভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের নামের তালিকা পঞ্চায়েত অফিসে ঝুলিয়ে দিতে হবে।শুধু তাই নয়, এর পর থেকে এসআইআর এর শুনানিতে ব্লক লেভেল এজেন্টরাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই দাবীগুলি করে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ সেই বিষয়গুলিতে সম্মতি দিল মহামান্য আদালত। আর একেই নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস।
![]()