রামেশ্বরমে জলে ভাসে শিলা ?

রামেশ্বরমে জলে ভাসে শিলা ?

 রামেশ্বরমে জলে ভাসে শিলা ?

আজ খবর (বাংলা), অন্যরুট , ২৩/০৯/২০২৬ :  রামেশ্বরমে জলে ভাসে শিলা ?  সেই শিলা দিয়েই কি রামসেতু তৈরী করেছিল শ্রীরামচন্দ্রের বানর সেনা ?  এই প্রশ্ন যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। 

এই এলাকায় ভাসমান শিলা বা পাথর দেখতে হলে রামেশ্বরম থেকে চলে আসতে  হবে ধনুষ্কোটিতে।  ধনুষ্কোটির পঞ্চ মুখ হনুমান মন্দিরের ভিতরে রক্ষিত আছে কয়েকটি এমন পাথর যা কিনা জলে ভাসে।  কথিত আছে, যে এই শিলাগুলির গায়ে নাকি এক সময় ‘শ্রীরাম’ লেখা ছিল. আর এই ভাসমান শিলা দিয়েই তৈরী হয়েছিল শ্রীরাম সেতু। সেই সেতু অতিক্রম করেই পুরুষোত্তম শ্রীরাম বানর সেনা নিয়ে এসে রাবনকে পরাজিত করে লঙ্কা জয় করেছিলেন। মা জানকীকে  উদ্ধার করেছিলেন। 
ad13
 
হনুমান মন্দিরের প্রাঙ্গনে একটি জলভর্তি পাত্রে চার / পাঁচটি এই রকম শিলা রাখা আছে.  ধনুষ্কোটির সমুদ্রতীর এলাকাগুলোতেও নাকি কখনো কখনো এই ধরনের ভাসমান পাথর দেখতে পাওয়া যায়, এমনটাই দাবি করেন সেখানকার স্থানীয় বিক্রেতারা। 
ad14
 
ভাসমান পাথর সম্পর্কে বিজ্ঞান বলছে এটা  এক ধরনের আগ্নেয়গিরির শিলা বা প্রবালের জীবাশ্ম হতে পারে। পাথরের গায়ে অসংখ্য ছিদ্র রয়েছে, যেগুলির মধ্যে হাওয়া ঢুকে পাথরটিকে জলের তুলনায় হালকা করে তোলে যে কারণে এগুলি ভেসে ওঠে, ছিদ্রপথে জল ঢুকে থাকলে কখনো কখনো ডুবেও যায়। 
dh
 
রামেশ্বরম থেকে অনায়াসে ঘুরে নিতে পারেন ধনুষ্কোটি জায়গাটি।  কিভাবে যাবেন —  ধনুষ্কোটি যেতে হলে রামেশ্বরমের স্যান্ডি চেক পয়েন্ট থেকে যেতে হবে আরিচল মুনাই পর্যন্ত।  রামেশ্বরমের অগ্নিতীর্থম থেকে ৩ বা ৭ নম্বর বাসে যেতে হবে ভিলেজের দিকে। প্রতি আধ ঘন্টা অন্তর বাস পাবেন। নামতে হবে রুইন্স বা টিপস স্টপেজে। ভাড়া নেয় ৩০ টাকা। রামেশ্বরম থেকে রাউন্ড ট্রিপে অটোরিকশা বুক করেও ঘুরে আসতে  পারেন, ভাড়া নেয় ৭০০ বা ৮০০ টাকা, তবে কখনো আবার বেশিও চেয়ে বসে। রামেশ্বরম থেকে গাড়ি বুক করেও ঘুরে নিতে পারেন।  ম্যাক্সি বা জিপে শেয়ারেও যাওয়া যায়. খরচ পড়ে  মাথাপিছু ১৫০ – ২০০ টাকা।  রামেশ্বরম থেকে স্যান্ডি চেকপয়েন্টের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার আর চেক পয়েন্ট থেকে  আরিচল মুনাইয়ের দূরত্ব আরও ৬ কিলোমিটার। 
ad16
 
মনে রাখবেন – চেক পয়েন্টের পর মোবাইল টাওয়ার বা ইন্টারনেট কাজ করতে নাও পারে। সঙ্গে নগদ টাকা রাখবেন। অনলাইন পেমেন্ট কাজ করবে না. সঙ্গে শুকনো খাবার রাখবেন, জলের বোতল রাখবেন।  টিপস জায়গাটিতে কিছুই  পাবেন না। 
 
কিকি দেখবেন ?  ধনুষ্কোটির প্রধান আকর্ষণ হল আরিচল মুনাই, এখানেই বঙ্গোপসাগর এসে মিশছে ভারত মহাসাগরের সাথে।  আরিচাল মুনাইয়ের পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকত মুগ্ধ করবে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুইই  মনোরম।  ধনুষ্কোটি সৈকতটিও বেশ সুন্দর।  রাম সেতু ভিউ পয়েন্টে এসে দাঁড়ালে মন স্নিগ্ধতায় ভরে ওঠে, সমুদ্রের ঝোড়ো বাতাস কি কানে জয় শ্রী রাম ধ্বনি তোলে !  বলা হয় এখান থেকেই রাম সেতু বন্ধন করে বানর সেনা পৌঁছে গিয়েছিল লঙ্কায়, উদ্ধার করে এনেছিল সীতা মাকে।  এখানে একটা  ভুতুড়ে শহরের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়, জায়গাটির দুই দিকেই সমুদ্র। রয়েছে একটি চার্চের ভাঙা অংশ, কিছু ভেঙে পড়া বাড়ি ও রেলের লাইন। কেউ থাকে না এখানে, পরিত্যক্ত যেন ভুতুড়ে শহর।   এই সব দেখতে দেখতেই এক সময় সূর্যদেব ডুব দেবেন সমুদ্রের অগাধ সলিলে। 
ad5
 
রামেশ্বরম থেকে ধনুষ্কোটি যাত্রাপথে যুক্ত করতে পারেন পেইকারুম্বুতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কলামের বাসভবন ও মিউজিয়ামটিকে।  প্রবেশ বিনামূল্যে। 
 
ধনুষ্কোটি নিয়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকরা কি  বলেন ?  পর্যটন গন্তব্য হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ধানুশকোটির  পৌরাণিক গুরুত্ব অপরিসীম।  ধনুষ্কোটি হল সেই জায়গা যেখানে  শ্রীরামচন্দ্র দ্বিতীয়বার ধনুকে গুণ  লাগিয়েছিলেন এবং ধনুকের কোণ   দিয়ে মাটিতে দাগ কেটেছিলেন। এখান দিয়েই রামসেতু নির্মিত হয়েছিল, রাম রাবনের যুদ্ধের পর যা বিভীষণের অনুরোধ রাখতে ভেঙে দিয়েছিলেন স্বয়ং রামচন্দ্র।  এখানেই বঙ্গোপসাগর মিলিত হয়েছে ভারত মহাসাগরের সাথে।  এখানকার নির্জন সৈকত মনকে স্নিগ্ধ করে।  আধ্যাত্মিক চেতনার স্পর্শ এনে দেয়।  
ad21
Share this news article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *