
আজ খবর
(বাংলা) [রাজ্য] ০৬/১০/২০২৬
রবীন্দ্রসংগীতের জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সঙ্গীতশিক্ষিকা বিভা সেনগুপ্ত। ১৯৩৫ সালের ১২ মে শান্তিনিকেতনের এক সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে তাঁর জন্ম। দীর্ঘ বর্ণময় সাংগীতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে ৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগৎ, অগণিত ছাত্রছাত্রী এবং রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঙ্গীতসাধনার মাধ্যমে তিনি রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিভা সেনগুপ্ত ছিলেন সেই প্রজন্মের শিল্পী, যাঁদের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান শুধুমাত্র পরিবেশনার বিষয় ছিল না, বরং জীবনের সাধনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। রবীন্দ্রসংগীতের স্বরলিপির প্রতি নিষ্ঠা, শুদ্ধ উচ্চারণ, ভাবের গভীরতা এবং গায়কীর স্বতন্ত্রতা তাঁর শিল্পীসত্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রবীন্দ্রসংগীতের নিজস্ব রীতিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে গিয়েছেন।

শিল্পী হিসেবে তাঁর অবদানের পাশাপাশি সঙ্গীতশিক্ষিকা হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বহু শিক্ষার্থীকে রবীন্দ্রসংগীতের সঠিক উচ্চারণ, স্বর, তাল ও ভাবের সঙ্গে পরিচিত করেছেন তিনি। তাঁর কাছে শিক্ষা নেওয়া বহু ছাত্রছাত্রী পরবর্তীকালে সঙ্গীতজগতে নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছেন।

দীর্ঘ সাংগীতিক জীবনে নানা সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিভা সেনগুপ্ত। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমির সম্মাননা, ট্যাগোর রত্ন এবং লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।

তাঁর প্রয়াণ বাংলা সাংস্কৃতিক ও সঙ্গীতজগতের জন্য এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল। রবীন্দ্রনাথের গান ও সুরের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শিক্ষাদানের ঐতিহ্য, আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।এই মহান সঙ্গীতসাধিকাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম।




