
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] , হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ১২/০১/২০২৬ : লরেন্স বিশ্নোই আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার চক্রের ৩ সদস্য পাকড়াও হাওড়া স্টেশন থেকে।
কুখ্যাত আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই দলের ৩ সদস্যকে পাকড়াও করল পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্জাবের তিন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করেছে গোলাবাড়ি থানা। ধৃতরা হল করণ পাঠক, তরুণ দ্বীপ সিংহ এবং আকাশ দীপ সিংহ। পঞ্জাবের অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ওই তিনজনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে।
ধৃত তিনজনের বাড়ি পঞ্জাবে। সেখানে কবাডি খেলোয়াড় রানাবালা চৌর খুনে এরা প্রত্যেকে যুক্ত। দীর্ঘদিন থেকে এই তিনজনকে পঞ্জাব পুলিশের এসটিএফ টিম খুঁজছিল। ১৫ ডিসেম্বর কবাডি খেলোয়াড় খুনের পর তিন দুষ্কৃতী গ্যাংটক হয়ে কলকাতায় গোপন ডেরায় আশ্রয় নিয়েছিল। এখান থেকেও তাদের পালানোর পরিকল্পনা ছিল।রবিবার রাতে তারা হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে অন্যত্র যাওয়ার জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল সেই সময় গোলাবাড়ি থানার সঙ্গে পঞ্জাব এস টি এফ টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তিন দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী হাওড়া সিটি পুলিশ রাতে স্টেশন চত্বরে সাদা পোশাকে নজরদারি জোরদার করে। যাত্রীর ভিড়ের মধ্যে নজর দারি শুরু হয়। অবশেষে তিন দুষ্কৃতী হাওড়া স্টেশনে ট্রেনে অন্যত্র পালানোর আগে ধরা পড়ে যায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালা হত্যাকাণ্ড থেকে অভিনেতা সালমান খানকে খুন করার হুমকির অভিযোগ রয়েছে।পঞ্জাব থেকে পালিয়ে এরা আশ্রয় নেয় কলকাতার হোটেলে। সেখান থেকে কয়েকদিন কাটায় সিকিমের গ্যাংটকে। সেখান থেকে ফের কলকাতার হোটেলে আশ্রয় নেয়। হাওড়া স্টেশনে টাকা নিতে এসেই ধরা পরে তিনজন।
আজ অভিযুক্তদের পেশ করা হল হাওড়া আদালতে। সেখান থেকে পঞ্জাব পুলিশ আজই ট্রানজিস্ট রিমান্ডে তিন অভিযুক্তকে নিয়ে যাবে পঞ্জাবে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল এই তিন দুষ্কৃতী। বছরের পর বছর এরা তোলাবাজি চোরাকারবারি এবং সুপারি কিলারের কাজ করত। লরেন্স বিশ্নোই নিজে জেলে থাকা সত্ত্বেও সে সেখান থেকেই অপরাধ নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। সুদূর কানাডাতেও তাদের সদস্যরা সেখানকার বিশিষ্ট লোকজনদের খুন করার হুমকি দিয়েছে এবং গুলিও চালিয়েছে। কিছুদিন আগে কপিল শর্মাকেও খুনের হুমকি দিয়েছে এই চক্র। এমনকি বিদেশে কপিলের ক্যাফেতেও হামলা চালিয়েছে এই দুষ্কৃতী চক্র।
প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীরা কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গকে সেফ করিডোর এবং শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করছিল ? পুলিশের কাছে আগে থেকে কি কোনো তথ্য ছিল না ? কলকাতা ও হাওড়া কি দুষ্কৃতীদের কাছে অত্যন্ত নিরাপদ জায়গা ?
![]()