
আমেরিকা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র টার্গেট করলে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা—জ্বালানি, মুদ্রাস্ফীতি ও বাণিজ্যে প্রভাবের আশঙ্কা
আজ খবর (বাংলা), [আন্তর্জাতিক], নতুন দিল্লী, ভারত, ২২/০৩/২০২৬ : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার নিচ্ছে। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে টার্গেট করে, তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে ভারত-সহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে।
জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫% আমদানি করে, যার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যার ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়বে।
মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা
জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাপ তৈরি করবে।
বাণিজ্য ও রফতানিতে প্রভাব পড়বে –
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই পথ বন্ধ হলে ভারতের আমদানি-রফতানি খরচ বেড়ে যাবে এবং সরবরাহ চেইন ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল ও সার শিল্প বড় ধাক্কা খেতে পারে। ভারতীয় টাকার উপর চাপ বাড়বে –
তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি বিল বাড়বে, যার ফলে রুপির উপর চাপ সৃষ্টি হবে। ডলারের তুলনায় রুপির মান কমে যেতে পারে।
কৌশলগত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়বে –
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে সেখানে কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়বে। পাশাপাশি ভারতকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার দিকেও জোর দিতে হতে পারে।
![]()