
আজ খবর
(বাংলা) [দেশ] দিল্লি ১৪/১০/২০২৬ 16:53
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত চার বছরে ৩৮টি উন্নত দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। এমনই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ব্যবসার প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্যও ভারতের বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের বাণিজ্যনীতি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন পীযূষ গোয়েল। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে ভারতের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য বিদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের বাণিজ্য চুক্তিগুলির আওতায় থাকা দেশগুলির সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ এবং বাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার হলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নতুন বাজারে পণ্য ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

পাশাপাশি, বিদেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভারতের বাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এই ধরনের চুক্তির সুফল কতটা বাস্তবে কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে ব্যবসায়িক সুযোগের উপর।
ভারত আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলেও জানান পীযূষ গোয়েল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডা, মেক্সিকো, মারকোসুর, ইউরেশিয়া এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য বিদেশে পণ্য রপ্তানি, পরিষেবা প্রদান এবং নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারত এমন অংশীদারিত্ব চায়, যা পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি নয়, বরং উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করাও ভারতের বাণিজ্যনীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
বাণিজ্য সম্মেলনে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিবর্তন হলেও এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মহড়া, প্রযুক্তি এবং পণ্য ও পরিষেবার সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তাগত প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সহযোগিতা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ ভারতের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে বাণিজ্য চুক্তির প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং চুক্তির বাস্তবায়নের উপর।

পীযূষ গোয়েলের বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দিনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চলতে থাকা আলোচনা কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।






