
সিকিমের নামচি জেলার বেশ জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে রাবাংলা শহরটি। ৮০০০ ফুট উচ্চতায় থাকা রাবাংলা অবশ্যই বেড়াতে যেতে হবে, না হলে সাইট সিয়িং এর অনেক কিছুই অধরা থেকে যেতে পারে। গ্যাংটক থেকে রাবাংলার দূরত্বও প্রায় ৬৬ কিলোমিটার। পেলিং থেকে দূরত্ব প্রায় ৪৭ কিলোমিটার, পেলিং থেকে রাবাংলা পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা।

পেলিং বেড়াতে গিয়ে দরকারে একটা দিন রাবাংলায় রাত্রিবাস করেও এই নামচি ও রাবাংলা সার্কিট ঘুরে নেওয়া উচিত হবে। রাবাংলায় মূল আকর্ষণ হল বুদ্ধ পার্ক। এখানে রয়েছে ১৩০ ফুট উঁচু তামায় মোড়া গৌতম বুদ্ধের বিশালাকার একটি মূর্তি। দিগন্তে শ্বেতশুভ্র পর্বতশৃঙ্গগুলির হাতছানি আর সামনে সজ্জিত বাগিচার মধ্যে ধ্যানমগ্ন গোতম বুদ্ধের অপরূপ মূর্তি মোহিত করে তুলবে। নামচি গিয়ে চারধাম দর্শন করতে পারেন। সেখানে রয়েছে শিব মূর্তি। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকা। নামচি বা রাবাংলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি চোর্তেন বা মনাস্ট্রি। সেই মনাস্ট্রিগুলি যে জায়গাগুলিতে অবস্থান করছে সেই সব জায়গাই এক একটা ভিউ পয়েন্ট।

ভিউ পয়েন্ট রয়েছে ডেমাথাং এ, নাম রেয়ং ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে সানরাইজ দেখা যায় আবার সিঙ্গালিলা উপত্যকাও দেখা যায়। রাবাংলা থেকে হালকা ট্রেক করে ঘুরে নিতে পারেন মৈনাম পিকে। গভীর ঘন বনপথ ধরে যেতে হয়। অরণ্যে রয়েছে ভাল্লুক ও চিতা। সঙ্গে গাইড থাকলে ভালো হয়। পথ বেশ খাড়াই। একবারে শীর্ষদেশে রয়েছে ভ্যালেদুঙ্গা। ওপর থেকে দেখতে পাওয়া যায় অনেক নিচে রুপোলি ফিতের মত বয়ে চলেছে রঙ্গীত নদী। নেপাল থেকে আসা এই নদীই পেশকে গিয়ে মিলিত হয়েছে তিস্তা নদীর সাথে।


পশ্চিম সিকিম ভ্রমণ কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না। আগামী সংখ্যায় আমরা যাবো পশ্চিম সিকিমের আর এক অলিন্দে। যেখানে খুব বেশি ভীড় হয় না পর্যটকদের। অথচ দৃশ্যাবলী যেন স্বর্গকেও হার মানিয়ে দেয়। অসামান্য সে সব জায়গার খোঁজ আমরা দেব এই প্রতিবেদনে। (চলবে)




