
আজ খবর , অন্য রুট, পুজোর ভ্রমণ – সিকিম (১) – ২৯/০৯/২০২৬ : পুজোর সময় বহু মানুষ বেড়াতে যাওয়ার জন্যে বেছে নেন সিকিমকে। পাহাড়ি উচ্চতায় সিকিমের সাজানো উপত্যকা ভ্রমণ প্রিয় মানুষকে আকর্ষণ করে. সঠিক ভ্রমণ পরিকল্পনা সিকিম ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।
Verified Travel Partners — Safar Sangi 6291830683 / Chandrika Travels 9123820077 / Dooarsini Tour & Travels 9432370771 / Pushpa Car Rental 8583886475
সিকিম ভ্রমণকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করা যেতে পায়ে। যেমন, শুধু গ্যাংটক, গ্যাংটক ও পেলিং, উত্তর সিকিম, সিল্ক রুট ও পশ্চিম সিকিম। এখানে সিকিমের সব গন্তব্যকে নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই জানিয়ে রাখি, সিকিম বেড়াতে গেলে রেলপথে পৌঁছাতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি অথবা শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে। কলকাতা থেকে প্রচুর বাস যাচ্ছে নিয়মিত, গিয়ে পৌঁছায় শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে। এছাড়াও আকাশ পথে বিমান যাচ্ছে বাগডোগরা বিমানবন্দরে। যদিও সিকিমের নিজস্ব বিমানবন্দর হলো পাকিয়াঙ বিমানবন্দর। শিলিগুড়ির এস এন টি বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রতি নিয়ত বাস যাচ্ছে সিকিমের রাজধানী শহর গ্যাংটকে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন অথবা শিলিগুড়ির জংশন স্টপেজ থেকে শেয়ারে গাড়িতে করেও পৌঁছে যাওয়া যায় গ্যাংটক বা সিকিমের অন্য জায়গাগুলিতে (ভাড়া ৫০০)। গাড়ি বুক করেও চলে যাওয়া যায়।

আগেই বলেছি গ্যাংটক হলো সিকিমের রাজধানী শহর, উচ্চতা ১৬৫০ মিটার। ১৯৭৫ সালে সিকিম ভারতের নতুন রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। শিলিগুড়ি শহর থেকে গ্যাংটকের দূরত্ব হল ১২০ কিলোমিটার, গাড়িতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। পাহাড়ীপথ তিস্তাবাজারে তিস্তা নদী পার করে রংপো হয়ে সিকিমে প্রবেশ করে, তারপর সিংতাম, রানিপুল হয়ে গ্যাংটকে পৌঁছে যায়।

শিলিগুড়ি থেকে রওনা হয়ে গ্যাংটক পৌঁছাতেই যেহেতু বেশ কিছুটা সময় চলে যায় (৫ ঘন্টা), তার সাথে পথমধ্যে বিশ্রাম আছে, খাওয়া দাওয়া আছে। তাই প্রথম দিনে গ্যাংটকে পৌঁছে আর কোনো সাইট সিয়িং করা যায় না। ওই দিন বিকেল বেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর দিনান্তের রক্তিম আবার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। মহাত্মা গান্ধী মার্গে শপিং সেরে ফেলা যায়। পাহাড়ি মোমো চেখে দেখা যায়, পায়ে পায়ে শহরটাকে দেখে নেওয়া যায়। এছাড়াও ধীরে সুস্থে গ্যাংটকের সাইট সিয়িং পরিকল্পনা করতে পারেন, এই ব্যাপারে হয়ত আপনার হোটেলের ট্র্যাভেল ডেস্ক আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

গ্যাংটক বেড়াতে এসে দ্বিতীয় দিনে লোকাল সাইট সিয়িং করে নিন। ট্রাভেল এজেন্টকে বলে রাখুন অথবা নিজের হোটেলকেই বলে রাখুন। গ্যাংটকের আশেপাশে অনেক কিছুই দর্শনীয় আছে। যেমন দো দ্রুল চোর্তেন, এঞ্চে মনাস্ট্রি, গোংজাং মনাস্ট্রি, গ্যাংটক রোপওয়ে, তাসি ভিউ পয়েন্ট, রুমটেক মনাস্ট্রি, বনঝাকড়ি জলপ্রপাত, পালজোর স্টেডিয়াম ইত্যাদি। আসলে গ্যাংটকের আশেপাশে দেখার আছে অনেক কিছুই, আপনার ট্রাভেল এজেন্ট বা গাড়ির ড্রাইভারের সাথে কথা বলে জেনে নেবেন ঠিক কোন কোন জায়গা সাইট সিয়িং করে দেখানো হবে। গাড়ির পার্কিং বাবদ আলাদা খরচ দিতে হবে কি না ! বিভিন্ন জায়গায় প্রবেশ মূল্য অবশ্য আপনাকেই বহন করতে হবে। গ্যাংটকে সিজন ব্যতিরেকে সাইট সিয়িং করতে গাড়ি বুক করে খরচ পড়ে ১,৫০০ টাকা থেকে ৩,৫০০ পর্যন্ত। একটি গাড়িতে চারজনকে নেয়।

গ্যাংটক ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনেও ছাঙ্গুলেক ভ্রমণের আয়োজনটুকু সেরে রাখুন। ছাঙ্গু নিয়ে যাওয়ার জন্যে আলাদা ট্র্যাভেল এজেন্ট আছে গ্যাংটক শহরে। এরা আপনার হয়ে পারমিটের ব্যবস্থা করে রাখবে। সব কিছু ঠিক থাকলে তৃতীয় দিনে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে পারবেন ছাঙ্গু লেকের উদ্দেশ্যে। এই পথে চারটি গন্তব্য। মূল আকর্ষণ ছাঙ্গু লেক (গ্যাংটক থেকে দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার, ঘন্টা দেড়েক লাগে পৌঁছাতে), দ্বিতীয় গন্তব্য চীন সীমান্তে নাথুলা পাস (ছাঙ্গু থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে) তৃতীয় গন্তব্য হল বাবা মন্দির (ছাঙ্গু লেক থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে) আর চতুর্থ গন্তব্য হলো হনুমান টক , যা ছাঙ্গু লেক যাওয়ার পথেই পড়বে। ছাঙ্গু লেকের উচ্চতা ১২,৪০০ ফুট, নাথুলার উচ্চতা ১৪,১০০ ফুট।
ছাঙ্গু লেক হলো উচ্চ হিমালয়ের একটি প্রাকৃতিক লেক, যেখানে বছরের বেশিরভাগ সময়েই জল জমে বরফ হয়ে থাকে। এখানকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। গোটা উপত্যকায় বরফ থাকে। লেকের এক পাশে বেশ কিছু দোকানপাট তৈরী হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের জন্যে। খাবার দাবার সব কিছুই পাওয়া যায়। নাথুলা জায়গাটি চীন সীমান্তে। চতুর্দিকে বিএসএফ জওয়ানরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিদেশিদের নাথুলা ভ্রমন করতে দেওয়া হয় না।

এক সময় এই চত্বরে ক্যাপ্টেন হরভজন সিং নামে এক জওয়ান পঞ্জাব থেকে এসে ডিউটি করতেন। দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় এই এলাকাতেই । তাঁর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে তাঁর স্মৃতিতে গড়ে উঠেছে বাবা মন্দির। ছাঙ্গু অঞ্চলে রয়েছে নতুন বাবা মন্দির, সিল্করুটের নাথং ভ্যালিতে আছে পুরোনো বাবা মন্দির। ছাঙ্গু লেক থেকে কিছুটা দূরে নতুন বাবা মন্দিরের অবস্থান, সামনেই চীনের পাহাড়, তবে আজ পর্যন্ত এই সীমান্ত দিয়ে চীন কখনো আক্রমণ করে নি, কারণ তারা জানে বছরভর এখানে পাহারায় আছেন বাবা হরভজন সিং. বাবা প্রতি বছর একবার দেশে ফিরে যান। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রথম শ্রেণীর কামরায় বাবার নামে বার্থ বুকিং করা হয়। প্রতি মাসে বাবার নামে সেনাবাহিনীতে বেতনও প্রদান করা হয়।
ছাঙ্গু লেক দেখে ফেরার পথে দেখে নিতে পারেন হনুমান টক। বজরংবলী বাবার মন্দির। মন্দির চত্বর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য এক কথায় অপূর্ব। এই ট্রিপের জন্যে গাড়ি ছাড়ে গ্যাংটকের চন্দ অথবা বজ্র ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে। সাধাণতঃ সুমো গাড়িতে ১০ জন করে তোলে। অফ সিজনে ভাড়া নেয় ১০০০ টাকা মাথাপিছু, পিক সিজনে নেয় ১২০০ টাকা করে, তবে দুর্গাপূজার রেট আরও বেশি ১৪০০ টাকা করেও চাইতে পারে। ছাঙ্গু যাওয়া জন্যে পুরো গাড়িও বুক করে নেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ওয়াগন আর জাতীয় গাড়িগুলি নেবে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা, এস ইউ ভি নেবে ৫০০০ থেকে ৫৫০০ টাকা (হোটেল থেকে পিক আপ / হোটেলে ড্রপ)। তবে নাথুলা যাওয়ার জন্যে আলাদা ৩০০০ চাইতে পারে পারমিট খরচ সহ। মনে রাখতে হবে নাথুলা হলো আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা, এখানে সেনাবাহিনীর নির্দেশ চলে. প্রটেক্টেড এই এলাকায় যেখানে সেখানে ফটো তুলবেন না. আবহাওয়া ভালো না থাকলে নাথুলা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। মনে রাখবেন প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার বন্ধ থাকে নাথুলা পাস্, সুতরাং সেইভাবেই নিজের ভ্রমন পরিকল্পনা করে নেবেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪তে পর্যন্ত খোলা থাকে নাথুলা, পারমিট লাগে এই অঞ্চলে ভ্রমণ করতে, এখানে যেতে হলে নিজের কাছে পরিচয়পত্র অবশ্যই রেখে দেবেন।

গ্যাংটকে নানারকম বাজেটের হোটেল আছে. ইকোনোমি ক্লাস থেকে শুরু থেকে ফাইভ ষ্টার সংবি পাওয়া যায়. আবার হোম স্টেও আছে. পিক সিজনে অথবা দুর্গাপূজার সময়ে বেড়াতে গেলে অবশ্যই আগে থেকে বুক করে যাওয়া উচিত হবে। অগ্রিম হোটেল বুক করার ক্ষেত্রে অন্য রুটে যে বিজ্ঞাপনগুলি প্রকাশিত হচ্ছে তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন। অনেক সময় তাঁরা পুরো প্যাকেজের দায়িত্ব নিতে পারেন। আগামীকাল আলোচনা করবো পশ্চিম সিকিমের পেলিং নিয়ে। (চলবে)




