অখণ্ডপরশুরাম আখড়ার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ” দেবভূমি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বার হল একটি পবিত্র শহর। এখানে সনাতনী হিন্দুদের বাস। এখানকার সনাতনী হিন্দুরা আমিষ খাদ্য গ্রহণ করেন না। অথচ বিরিয়ানি বলতে সাধারণত আমিষ খাদ্যই বোঝায়, যদিও হরিদ্বারে যে বিরিয়ানিপোয়া যায় তা নিরামিষ। এমনকি বিক্রেতারাও তাঁদের স্টল বা দোকানে ভেজ বিরিয়ানি কথাটি লিখে রাখেন। কিন্তু বিরিয়ানি সনাতনী হিন্দুদের খাদ্য নয় একেবারেই।”
এক্ষেত্রে অখণ্ড পরশুরাম আখড়ার সদস্যরা বলছেন, দোকানদাররা যাতে বিরিয়ানি না লিখে ভেজ পোলাও কথাটা লিখে রাখেন। তাতে করে তাঁর বিক্রি কম হবে না, আবার সনাতনী ঐতিহ্যকেও সন্মান করা হবে। অবশ্য জোর খাটানো নয়, বরং আখড়ার সদস্যরা এই ব্যাপারটিকে একটি অনুরোধ তথা প্রস্তাব হিসেবেই পেশ করতে চেয়েছেন।
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি],কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ, ০৬/০৬/২০২৬ : তৃণমূল দলের স্থায়িত্ব আর কতক্ষন তা দেখতে চান রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুধু তাই নয় তৃণমূলের গুন্ডাদের অবিলম্বে পুলিশের হেফাজতে রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহা বিপর্যয়ের সামনে রয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর মধ্যেই অনেক নেতা কর্মীর জেল হয়েছে। অনেকে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে মাটির তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর টাকা, জলাশয় থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র, এমনকি কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকেও উদ্ধার হয়েছে উইয়ে খাওয়া টাকার বান্ডিল।
নির্বাচনে তৃণমূল বিধায়কদের বিশাল একটা অংশ শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বীকার করে নতুন ল গঠন করতে চাইছে। হেরে যাওয়া এই রাজনৈতিক দলটির নাম এবং প্রতীক পর্যন্ত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বিধানসভায় দলের পতন হয়েছে। একের পর এক পুরসভা হাতছাড়া হচ্ছে। কাউন্সিলররা জেলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদেও টলমল পরিস্থিতি তৃণমূলের। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সেখানেও শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বীকার করতে পৃথক জোট বাঁধছেন সাংসদরা। মমতার সাথে থাকছেন হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “দেখতে চাই আর কতদিন এই দলটা টিঁকে থাকে।” বিজেপি নেতারা অনেক আগেই বলেছিলেন যে ‘এই দলে মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর ভাইপো ছাড়া আর কেউ থাকবে না।’ সম্ভবত সেটাই হতে চলেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের এই গুন্ডা ও চোরদের ওপর এতটাই ক্ষেপে আছেন যে যেকোনো দিন একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যেভাবে সবাই ডিম ছুঁড়ছে ! এই দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে পুলিশের হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। সেখানে থেকেই এদের বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া উচিত। ”
এই মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে সতর্ক প্রহরা দিচ্ছে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। সীমান্ত অঞ্চলের গ্রামবাসীরাও যথেষ্ট সতর্ক আছেন যাতে সীমান্তে কোনো রকম অনুপ্রবেশের ঘটনা না ঘটে। এই মুহূর্তে বিভিন্ন সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাক করার কাজ চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে দুটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করে দেয় বিএসএফ। এই অঞ্চলগুলিতে কড়া নজরদারির কাজ চালাচ্ছে বিএসএফ।
বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় মেখলিগঞ্জ ও চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ থেকে দুটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিএসএফ। সীমান্ত এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে. বিএসএফ অনুপ্রবেশের ঘটনা কড়া হাতে দমন করছে।”
কিছু ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হচ্ছে, অথচ বিডিআর তাদেরকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করছে। প্রবল সমস্যায় পড়ছে সীমান্তের ওপার থেকে আসা মানুষগুলি।
আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ০৬/০৬/২০২৬ : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে এবার রাজ্যে রেল ছুটবে তিনগুন গতিতে। আজ দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই এসেছিলেন কলকাতায় রেলের অগ্রগতির কাজ খতিয়ে দেখতে। বিভিন্ন স্টেশনে গিয়ে কাজ দেখলেন, মেট্রোয় চড়লেন এমনকি অটো রিক্সাতেও উঠলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক জগন্নাথ চ্যাটার্জি ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।
এরপর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নবান্নে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা। পাশ্চিমবঙ্গে রেলের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়। আজ রেলমন্ত্রী জানান, “এর আগের সরকার পশ্চিমবঙ্গে রেলকে সেভাবে কাজ করতেই দেয় নি, তাই রেলের অনেক কাজ এখানে অধরা থেকে গিয়েছিল। এবার এই রাজ্যে রেলের কাজ গতি পেয়েছে। নতুন সরকারের থেকে আমরা সবরকম সহযোগিতা পেয়েছি। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আমরা শুভেচ্ছা জানাতে চাই। ধন্যবাদ আপনাদের সকলকে। ”
রেলমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, “রাজ্যে এবার রেলের কাজে গতি আসবে। রেলের উন্নয়নের জন্যে আগামী ৫ বছরে মোট ১ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট ধার্য্য করা হয়েছে। এই রাজ্যে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। রেলের ৪০টি প্রকল্পের জন্যে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া গিয়েছে। আরও ৬১টি প্রকল্পের জন্যে রাজ্য সরকার রেলকে জমি দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজ্যে মোট ৫৩৮টি ফ্লাইভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করবে রেল মন্ত্রক। রাজ্যের যে জায়গাগুলিতে রেল নেই, সেইসব জায়গাগুলিতে রেল সম্প্রসারণ করা হবে. যেমন জঙ্গল মহল, সুন্দর বন ইত্যাদি। ”
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন “পশ্চিমবঙ্গে যেমন সড়কপথে ই-ভেহিক্যল ছুটবে তেমনি ডাবল ইঞ্জিন সরকার এই রাজ্যে রেলের উন্নয়ন করবে। ১৯৭২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মেট্রো রেলের কাজ শুরু করা হয়েছিল। সেই মেট্রোর কাজ মাত্র ২৮ কিলোমিটার জায়গায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে কলকাতায়। এখানে আরও অনেক জায়গায় মেট্রো সম্প্রসারণ করার সুযোগ রয়েছে। সেই কাজগুলিও দ্রুত শেষ করা হবে। মেট্রোর সাথে যুক্ত হবে নতুন রুট। ”
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এদিন বলেন, “রাজধানী দিল্লী থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পর্যন্ত ছুটবে বুলেট ট্রেন। সে কাজ চলছে। দিল্লী থেকে লখনৌ , বারাণসী, পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছানো যাবে মাত্র ৬ ঘন্টায়। আগামী প্রজন্মের জন্যে পশ্চিমবঙ্গ মোট ৬০টি নতুন ট্রেন পেতে চলেছে। এই রুটগুলি আগামী ৫ বছরের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে। এছাড়াও ডানকুনি থেকে সুরাট যাওয়ার জন্যে একটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের জন্যে আগে রেল বাজেট ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বাজেটকে বাড়িয়ে করেছিলেন ১৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এবার আগামী পাঁচ বছরের জন্যে এই বাজেটকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ কোটি টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই রাজ্যে রেল ছুটবে তিনগুন গতিতে।”