পৌর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ, মোদীর জন্মদিনে প্রদীপ প্রজ্বলনের বার্তা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা বারুইপুর পৌরসভার ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা উত্তম কর। পৌরসভার রাস্তাঘাট, পানীয় জল, জল নিকাশি ব্যবস্থা সহ সামগ্রিক পরিষেবা ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানের করা উচিত নয় এমন অনেক কাজই তাঁরা করেছেন। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ওই কাউন্সিলরকে আগে এভাবে দেখা যায়নি, এখন তিনি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নেমেছেন। সুন্দর বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না, মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন।

সতেরোটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বারুইপুর পৌরসভার বর্তমান অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সামান্য বর্ষাতেই মানুষ নাজেহাল হয়ে পড়েছে। পৌরসভার মূল দায়িত্ব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানীয় জল, জল নিকাশি – তিন ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ। পরিষেবা বলতে কিছুই নেই। ফুটপাতের অবস্থাও বেহাল, হাসপাতাল থেকে আসার পথে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। চারিদিকে অপরিষ্কার আবর্জনা পড়ে রয়েছে। অরণ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অরণ্য বেআইনি তা তাঁরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন। নিজেদের কাগজপত্রে নিজেরাই স্বীকার করার পর সংবাদমাধ্যমে এসে ভুল স্বীকার না করে বড় বড় কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি।

অন্যদিকে দলীয় প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য প্রতিনিধি সদস্য উত্তম কর বলেন, রাজ্য সভাপতি মাননীয় শমীক দাকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি আমাকে পদে বহাল রেখেছেন। আগে আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, এখন বিজেপি সরকার গঠন করেছে। চার মাসে সরকারের কাজে মানুষ খুশি। প্রশাসন ও দল দুটো আলাদা, প্রশাসন প্রশাসনের মতো চলবে, সরকার সরকারের মতো চলবে। দল আমাকে ডায়মন্ড হারবার জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জের দায়িত্ব দিয়েছিল, ভালো কাজ করেছি বলেই আবার রেখেছেন। নির্বাচনে আমি সার্কিট ইনচার্জ ছিলাম। ডায়মন্ড হারবারের মতো জায়গায় প্রথমবার একটি আসন জয় সম্ভব হয়েছে। দল আমার উপর আস্থা রেখেছে, দল যে জায়গায় বসাবে সেখানেই কাজ করব। বিজেপি একটি গণতান্ত্রিক দল, তিন বছর অন্তর পরিবর্তন হয়, এটাই রুটিন।

এছাড়াও তিনি জানান, আগামী ১৭ তারিখ থেকে এক মাস ধরে বিশেষ কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন, গুজরাট থেকে দিল্লি পর্যন্ত তাঁর সরকার পরিচালনার ২৫ বছরের খতিয়ান মানুষের মধ্যে তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অবতার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সনাতনী সমাজকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবতার এসেছেন, প্রধানমন্ত্রী না এলে ভারতবর্ষের সংস্কৃতি রক্ষা হতো না। তাঁর জন্মদিন অবতারের জন্মদিনের মতোই পালন করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা ভারতবর্ষে প্রতিটি রাষ্ট্রবাদী বাড়িতে গিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করা হবে। মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে প্রতিটি সনাতনীর বাড়িতে।




