
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], মাটিগাড়া, দার্জিলিং, ২৩/১২/২০২৫ : মাটিগাড়ার প্রাচীন স্কুলের জমি দখলের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ।
প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি স্কুলের জমি দখল করে বেসরকারি হোটেল তৈরির অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল মাটিগাড়ায়। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘মাটিগাড়া হর সুন্দর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর জমি দখল করে চলছে হোটেলের মূল প্রবেশপথ ও রাস্তা নির্মাণের কাজ। এই ঘটনায় যেমন স্কুলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনই ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠন।
শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত পাথরঘাটা অঞ্চল অন্তর্গত এলাকার এই বিদ্যালয়ে মূলত পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের ঠিক গা ঘেঁষেই গজিয়ে উঠছে একটি বেসরকারি আবাসিক হোটেল। ওই বেসরকারি সংস্থাটি নিজেদের খেয়াল খুশি মতো হোটেলের মূল প্রবেশপথ ও রাস্তা তৈরির জন্য স্কুলের জমি দখল করতে শুরু করেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “যে জমিটি দখল করার চেষ্টা চলছে, সেটি আসলে স্কুলের একটি জরুরি নির্গমন পথ করার জন্য রাখা হয়েছিল। কোনো বিপদের সময় ছাত্রছাত্রীরা যাতে দ্রুত ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে, সেই লক্ষ্যেই স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে একটি গেট তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই পথটিই হোটেলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।”
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, স্কুলের একেবারে গা ঘেঁষে এমন আবাসিক হোটেল তৈরি হলে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও থাকছে। বর্তমানে হোটেল নির্মাণের কাজ পূর্ণদমে চললেও, কোনো প্রকার নিরাপত্তামূলক নেট বা আচ্ছাদন ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের সমস্ত ধুলোবালি উড়ে সরাসরি স্কুলের ক্লাসরুমগুলোতে প্রবেশ করছে। এতে একদিকে যেমন পড়ুয়ারা শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছে, অন্যদিকে নোংরা হচ্ছে স্কুলের।
এই বিষয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা বিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহ কমিটির সভাপতি প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস সরব হয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন ,আমরা বেসরকারি সংস্থাকে তাদের বৈধ নথিপত্র দেখাতে বলেছি, কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। আইন অমান্য করে এভাবে স্কুলের জমি দখল বরদাস্ত করা হবে না। এই অবৈধ নির্মাণ দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। অন্যদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আছে। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের সামনে তা পেশ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে কোনো ‘প্রভাবশালী’ মহলের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষার প্রাঙ্গণকে ধুলোয় মিশিয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার এই লড়াইয়ে এখন নজর প্রশাসনের দিকে। সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকরা চাইছেন, অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের জমি রক্ষা করা হোক। তবে প্রশ্ন উঠছে এই বেসরকারি সংস্থা কাদের মদতে স্কুলের জমি দখল করছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়ে কারা ব্যবসা শুরু করছে। তবে দেখার বিষয় আগামীতে কি বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ বাঁচাতে পারবে সেই জমি, না কি হোটেলের নোংরা আবর্জনা ধুলোবালিতে ডেকে যাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
![]()