
আজ খবর (বাংলা) [আন্তর্জাতিক] বাংলাদেশ ০১/১০/২০২৬
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি আনার পথে আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত পথে রুশ কার্গো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত একটি জ্বালানি চালান বাংলাদেশে পৌঁছতে পারেনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ওই বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ সে সময় জানা যায়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে একাধিক ধাপে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, নির্ধারিত বিমানপথে কাজাখিস্তান , তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছনোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সময়ে বিমানটি যাত্রা করতে পারেনি। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের চালানটি পিছিয়ে যায়।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালান গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের বিমান চলাচল সম্ভব হয়নি। নতুন সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের শুরুতে সরবরাহ শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত না করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি নির্দিষ্ট নিয়ম, বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং রুটের সমন্বয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত কারণে কখনও কখনও বিমানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।

রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। একাধিক বিমানে ধাপে ধাপে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোসাটমের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে তৈরি হচ্ছে এই প্রকল্প। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে। দুটি VVER-1200 রিঅ্যাক্টর নিয়ে তৈরি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে। আকাশসীমা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রথম দফার একটি চালান পিছিয়ে গেলেও বিকল্প রুটে অক্টোবর থেকে সরবরাহ পুনরায় শুরু করার কথা জানিয়েছে রোসাটম। ফলে প্রকল্পের জ্বালানি সরবরাহের সামগ্রিক সূচি কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।




We are enjoying to read the Aaj Khabor News from my desktop because this site is providing news in three major languages Bengali, Hindi and English.
With thanks, Aaj Khabor Team