
আজ খবর (বাংলা), [রাজনীতি], শান্তিপুর,নদীয়া, ২৯/১২/২০২৫ : নদীয়ার শান্তিপুরে এক একজন যুবতী নিজেকে দাবি করছেন যে তিনি নদিয়া জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য। ইতিমধ্যে সে খবর বাইরে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জানা যায়, গত ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের বাগাছরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ষষ্ঠিতলা এলাকার বাসিন্দা প্রিয়া সরকার নামে এক মহিলা বাচ্চাদের নিয়ে একটি মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে নদীয়া জেলার ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস থেকে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী, শান্তিপুর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সন্দীপ ঘোষ, সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এবং প্রশাসনিক কর্তাদের আমন্ত্রণপত্রে নাম দিয়ে আমন্ত্রণ করেছিলেন।
সেক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছবি ছিল। অনুষ্ঠানের জন্য দু রকমের আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়েছিল একটিতে তিনি নিজেকে ‘সমাজ সেবিকা’ বলে উল্লেখ করলেও অপর আরেকটি আমন্ত্রণপত্রে তিনি নিজেকে নদিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্যাবলে দাবি করেছেন। আর এতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই মহিলা প্রিয়া বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান তিনি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নদীয়া জেলার কোর কমিটির সদস্যা। এরপরেই শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ককে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান নদীয়া জেলায় এই রকমের কোন কোর কমিটি আছে বলে তাঁর জানা নেই। যদিও ওই মহিলাকে তিনি বিশেষভাবে চেনেন না, তবে দু:স্থ বাচ্চাদের পাশে থেকে মধ্যাহ্ন ভোজনের যে কাজ তিনি করেছেন সে কারণে তাই সেই আমন্ত্রণপত্র বিধায়ককে যেটা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোর কমিটি বলে উল্লেখ নেই. তবে সাংবাদিকদের একটি চিঠি তিনি দিয়েছেন যেখানে কোর কমিটি বলে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং ওই মহিলাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন বলে জানিয়েছেন।
যদিও ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিরোধীদল বিজেপি। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এ প্রসঙ্গে জানান তৃণমূল কংগ্রেসের এটাই হচ্ছে নিয়ম; এক একজন একই পদের জন্য বিভিন্ন সময় নিজেদের সেই পদের দাবিদার বলে উল্লেখ করেন। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সমস্ত জায়গাতে এইরকম পদ ভাঙিয়ে দুর্নীতি করতে সচেষ্ট হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হোক বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জন সেবামূলক কাজে যে কেউ তাদের ছবি ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক বিষয়ে কোনোভাবেই অনুমতি ছাড়া কারোর ছবি লাগানো উচিত নয়।
![]()