
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], চুঁচুড়া, হুগলী, ১৭/০০৮/২০২৬ : চুঁচুড়া মোগলটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসবে ‘বিষহরি’—প্রাক্-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে বিশেষ ভাবনায় মণ্ডপসজ্জা।
প্রাক্-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে বিশেষ ভাবনা নিয়ে শারদীয়া দুর্গাপুজোয় সাড়া ফেলতে চলেছে চুঁচুড়া মোগলটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। এবছর সকল বয়সের দর্শনার্থীদের জন্য এক অন্যধারার চিন্তাভাবনা নিয়ে মণ্ডপসজ্জা তুলে ধরতে চলেছেন উদ্যোক্তারা। ৪৯তম বর্ষে তাঁদের এবারের মূল ভাবনা মা মনসার অপর নাম ‘বিষহরি’।
নাগপঞ্চমীর পুণ্যতিথিতে বিশেষ খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হল মোগলটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসবের ৪৯তম বর্ষের পথচলা। মহিলা সদস্য, কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং পুরোহিতের সহযোগিতায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ খুঁটিপুজো।
এবছরের মণ্ডপসজ্জার ভাবনা সম্পর্কে শিল্পী সন্দীপ মালিয়া জানান, ‘মনসামঙ্গল’ কাব্যে বেহুলা, তাঁর স্বামী লক্ষ্মীন্দর এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মা মনসার কাহিনি গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কাহিনি অনুযায়ী, বেহুলা তাঁর স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় সরস্বতী নদী তথা হুগলি তটে এসে মা মনসার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর শ্বশুর চাঁদ সদাগরকে মা মনসার পুজো করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর স্বামী-সহ সকলকে মা মনসার কৃপায় ফিরে পাওয়ার কাহিনি এই ভাবনার অন্যতম অনুপ্রেরণা।
শিল্পীর ভাবনায়, মা দুর্গা এবং মা মনসা—দুজনেই শক্তির দেবী। তাই দুই দেবীর শক্তিকে সম্মিলিতভাবে তুলে ধরা হবে এবারের মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার মাধ্যমে। ‘বিষহরি’ থিমের মধ্য দিয়ে মা মনসার পুজোর বিভিন্ন উপাচার, লোককথা এবং পৌরাণিক ভাবনাকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
শিল্পী সন্দীপ মালিয়া আরও জানান, ছোটদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও এবারের মণ্ডপে থাকবে বিশেষ আকর্ষণ। মণ্ডপসজ্জায় ভয় ও মজার এক অভিনব সংমিশ্রণ থাকবে। সাপকে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের ভীতি এবং সেই ভীতির অন্য একটি দিককে দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই হবে এই ভাবনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সকলের কাছেই সাপ মানেই এক ধরনের ভয়ের প্রতীক। কিন্তু সাপকে অযথা আঘাত না করলে তারা সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না—এই বার্তাটিও মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। শিল্পীর ভাবনাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে ‘বিষহরি’ থিমকে বাস্তবায়িত করার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের আশা, এবারের মণ্ডপসজ্জা চুঁচুড়া তথা হুগলি জেলার দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। প্রায় ৪ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোমণ্ডপ শারদীয়ার পঞ্চমী তিথি থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
প্রাক্-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে ‘বিষহরি’র ভাবনা, মা দুর্গা ও মা মনসার সম্মিলিত শক্তির উপস্থাপনা এবং লোককথা ও পৌরাণিক আখ্যানের অভিনব মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে চুঁচুড়া মোগলটুলি সার্বজনীন দুর্গোৎসবের এবারের আয়োজন যে দর্শকদের নজর কাড়বে, সেই প্রত্যাশাতেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তা ও শিল্পীরা।
![]()