আজ খবর (বাংলা) [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৮/০২/২০২৬ : এসআইআর হয়ে যাওয়ার পর আজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। অবশ্য এরপরেও বাকি থেকে যাচ্ছে, যে আবেদনগুলি এখনো যাচাই করা হয় নি সেগুলি। এরপর আরও নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে।
আজ নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। মোট যে ভোটার তালিকা ছিল, সেই তালিকা সংযোজিত এবং বিয়োজিত হয়েছে। তাতে করে দেখা গিয়েছে এখনো পর্যন্ত ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
এরপর ফের সাপ্লিমেন্ট তালিকা প্রকাশিত হবে। তাতে করে আরও কিছু নাম সংযোজিত অথবা বিয়োজিত হতে পারে। ভোটার তালিকা এখনো যাচাই করা হচ্ছে। এই যাচাই পর্বে আদালতের বিচারকরা বাছাই করার দায়িত্ব পালন করছেন।
কিছুদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা করে বলেছিলেন অন্তত ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে। সেই সংখ্যার অর্ধেক আজ বাদ গিয়েছে। এরপর হয়ত আরও নাম বাদ যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব জায়গা থেকেই যখন নাম বাদ পরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে, তখন ঝাড়গ্রামে ভোটারের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭,০৪,৫৯,২৮৪ (সাত কোটি, চার লক্ষ, উনষাট হাজার, দুশো চুরাশি).
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বালুরঘাট, উত্তর দিনাজপুর, ২৭/০২/২০২৬ : নামেই হিন্দি বিদ্যালয়, অথচ পাঠদানের ভাষা বাংলা—এই তীব্র বৈপরীত্যই আজ প্রশ্নচিহ্নের কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে বালুরঘাট শহরের হিন্দি এফপি স্কুলকে।
১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একদা সমগ্র জেলার একমাত্র সরকারি হিন্দি মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে স্বাতন্ত্র্যের মুকুট পড়েছিল। আজ সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সঙ্কুচিত হয়ে নেমেছে মাত্র বারোতে। অবকাঠামোগত অনটন ও ভাষা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যেন অস্তিত্বের সীমানায় টালমাটাল।
শহরের আন্দোলন সেতুর সন্নিকটে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বহু হিন্দিভাষী পরিবারের বসবাস। প্রতিষ্ঠালগ্নে ছাত্রসংখ্যা ছিল দেড়শো থেকে দু’শোর মধ্যে। পর্যাপ্ত হিন্দিভাষী শিক্ষক, প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক—সবই ছিল সুলভ। এমনকি বহিরাগত শিক্ষকরাও এখানে পাঠদান করতে আসতেন। সেই ঐতিহ্যের ছাপেই এলাকার নাম পরিচিত হয়েছিল ‘হিন্দি স্কুল পাড়া’ হিসেবে—এক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক রূপে।
কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের অন্তিম পর্বে হিন্দি মাধ্যমের পাঠক্রম বন্ধ হয়ে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদান শুরু হয়। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকার উপর ভর করে কোনোরকমে টিকে আছে বিদ্যালয়টি। সমগ্র প্রতিষ্ঠান জুড়ে রয়েছে একটি মাত্র কক্ষ—যা একই সঙ্গে অফিস, শিক্ষককক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব পালন করছে। শিক্ষার পরিবেশ যেন সংকীর্ণতার ঘেরাটোপে বন্দি।
করোনার পূর্বে যেখানে প্রায় পঁচিশজন শিক্ষার্থী ছিল, আজ তা অর্ধেকেরও কম। অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নির্বিঘ্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বৃহত্তর বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় মহলের অভিমত, ইংরেজি মাধ্যমের প্রতি ক্রমবর্ধমান আকর্ষণও এই সঙ্কটকে তীব্রতর করেছে। ফলত একাত্তর বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আজ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে আবর্তিত।
প্রশ্ন এখন সময়ের সামনে স্পষ্ট—এই ‘হিন্দি স্কুল’ কি পুনরায় তার স্বাতন্ত্র্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি কেবল নামমাত্র পরিচয়ে ইতিহাসের স্মারক হয়ে থাকবে তার অস্তিত্ব?
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] বেহালা, কলকাতা, ২৭/০২/২০২৬ : আজ বাংলাদেশে যে প্রবল ভূমিকম্প হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাপক কম্পন অনুভূত হয়েছে কলকাতাতেও, সেই কম্পনের জেরে বেহালার একটি রাস্তায় ব্যাপক ভাঙ্গন তৈরী হয়েছে।
আজ দুপুর ১:২৬ মিনিট নাগাদ প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা। সেই কম্পন চলতে থাকে প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পর্যন্ত। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৬; কম্পনের জেরে সিলিঙে থাকা পাখাগুলি দুলতে থাকে। পাত্রে রাখা জল দুলতে থাকে। বহু মানুষ বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন। এই কম্পনে কিছু পুরোনো বাড়ির সামান্য ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে।
কোনো কোনো বাড়ির প্রাচীরে চিড় ধরেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেহালার একটি জায়গায়। আজকের ভূমিকম্পের জেরে কলকাতার বেহালার পর্ণশ্রী অঞ্চলের মান্না পারে নামে একটি জায়গায় রাস্তা ফেটে গিয়ে ফাঁক হয়ে গিয়েছে। ওই রাস্তার এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত এমনভাবে হাঁ হয়ে গিয়েছে যে কোনো গাড়ি আর যাতায়াত করতে পারবে না।
কলকাতা ছাড়াও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে। ভূমিকম্পে একটি দোকান পাশের বিল্ডিং থেকে চিলেকোঠার পাঁচিল ভেঙে নিচের দোকানে পরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানে থাকা যন্ত্রপাতি ও এডবেস্টাস ভেঙে গিয়েছে। বসিরহাট মহাকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের কাঁঠাল বেরিয়া বাজার এলাকায় আজ দুপুর একটা বাইশ মিনিট নাগাদ বসিরহাট মহকুমা জুড়ে ভূমিকম্প হয়। সেই কম্পনের মাত্রা এতটাই ছিল যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বাড়ি দোকান সহ বিভিন্ন অফিস কাছারি। মানুষ আতঙ্কে অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে বসিরহাটে।
আজ খবর (বাংলা),[রাজ্য] কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৫/০২/২০২৬ : বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা সরবরাহের ছেদের কারণে মেট্রোর টানেলে ট্রেন আটকে যাওয়ার দিন শেষ। নীল দাগ মেট্রোয় আনুষ্ঠনিকভাবে চালু হল ‘বেস’ (BESS)।
দেশের প্রথম মেট্রো পেয়েছিল এই শহর। এবার দেশে প্রথমবার নিরবিচ্ছিন্ন পাওয়ার সাপ্লাই ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম চালু হল দেশের প্রাচীনতম মেট্রো পথের সুড়ঙ্গে। অর্থাৎ ব্লু লাইন মেট্রোপথে টানেলে আটকে গরমে আতঙ্কে হাসফাস করার দিন শেষ।
কলকাতা মেট্রো পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ‘ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম’ (BESS) বা আধুনিক ব্যাটারি ব্যাকআপ চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা গ্রিড ফেইলিওর হলে এই ব্যাটারির সাহায্যে ট্রেনগুলো সুড়ঙ্গে না আটকে নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছাতে পারবে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
মেট্রো ব্যাটারি প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য বিপর্যয় মোকাবিলা। দক্ষিণেশ্বর-শহীদ ক্ষুদিরাম রুটে পরীক্ষামূলকভাবে সফল হওয়ার পর এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পাওয়ার ফেইলিওর হলেও ট্রেন চালিয়ে নিয়ে যাবে পরবর্তী স্টেশনে।
ট্রায়াল রান সফল হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ (মহানায়ক উত্তম কুমার স্টেশন) পর্যন্ত ব্যাটারি দিয়ে ট্রেন সফলভাবে চালানো হয়েছে।
নতুন এই সিস্টেমে ‘রিজেনারেটিভ ব্রেকিং’ প্রযুক্তিও রয়েছে, যা ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তিকে ট্র্যাকশনে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে।
এই ব্যবস্থার ফলে টানেলের মধ্যে বা দমবন্ধ অন্ধকারের মধ্যে আর আটকে থাকতে হবে না যাত্রীদের
এই প্রযুক্তি মূলত কলকাতা মেট্রোর দক্ষিণ-উত্তর করিডোরে (ব্লু লাইন) আপদকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], নকশালবাড়ি,দার্জিলিং, ২৪/০২/২০২৬ : আজ হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায় দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি থানায়। দাউ দাউ করে আগুনের শিখা দেখতে পাওয়া যায় থানার বাইরে থেকেই।
ঘটনাস্থলে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন এসে বেশ কিছুক্ষনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দার্জিলিং জেলা পুলিশের নকশালবাড়ি থানা চত্বরে বাজেয়াপ্ত করেভরাখা একের পর এক গাড়িতে আগুন লেগে যায় । আগুনে পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে প্রায় কুড়িটি গাড়ি। থানার নথিপত্র বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ ছিল দমকলের। কোনভাবেই যাতে আগুন থানার ভেতরে ছড়িয়ে না পড়ে তার চেষ্টাইচালিয়ে গিয়েছিল দমকল।
থানার সেন্ট্রি পোস্ট এর পাশে থানা চত্বরে থাকা মোটর বাইক,স্কুটি, চার চাকার গাড়ি একের পর এক আগুনে জ্বলতে থাকে। দমকল বাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে আগুন নেভানোর জন্যে গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।
বন্যপশু দেখলেই কিছু মানুষের অসভ্যতা বেড়ে যায়, পশুটিকে উত্যক্ত করতে ছুটে যায় !
আজ খবর (বাংলা). [রাজ্য] বানারহাট, জলপাইগুড়ি,২৪/০২/২০২৬ : সকাল হতে না হতেই লোকালয়ে হাতির আনাগোনা দেখতে ভীড় গ্রামবাসীদের। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটে।
জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটে আবারও লোকালয়ে হাতির আনাগোনা। সোমবার গভীর রাতে খাবারের সন্ধানে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি দলছুট হাতি ঢুকে পড়ে নাথুয়া রেঞ্জের পশ্চিম গয়েরকাটা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতভর হাতিটি এলাকায় ঘোরাফেরা করে খাবারের খোঁজ চালায়। তবে বড়সড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
মঙ্গলবার সকাল বেলায় জঙ্গলে ফেরার পথে হাতিটিকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। সাত সকালে হাতির দেখা মিলতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ হাতিটিকে একঝলক দেখতে ভিড় জমান। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। যদিও হাতিটি শান্তভাবেই জঙ্গলের দিকে ফিরে যায় বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর।
বন্য প্রাণী খাবারের সন্ধানে অরণ্যের বাইরে বেরিয়ে এসে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাকে দেখতে গ্রামবাসীরা উৎসুক হয়ে ওঠে. সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু মানুষ বন্য পশু দেখলেই নানাভাবে উত্যক্ত করতে এগিয়ে যায়. বিরক্ত করে পশুটিকে বিব্রত করে তোলে। এই ধরনের মানুষগুলো আর কবে শিখবে ? প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমীরা।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২৪/০২/২০২৬ : মা উড়ালপুলে সেনার ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লো। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টোদিকের লেনে আছড়ে পড়ল ওই ঘাতক যান, এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ জওয়ান।
সাতসকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতার মা উড়ালপুল। সোমবার রাতের বৃষ্টিভেজা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক। সায়েন্স সিটি থেকে পার্ক সার্কাসের দিকে যাওয়ার সময় হঠাতই নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রাকটি এবং ডিভাইডার টপকে উড়ালপুলের উল্টো দিকের লেনে চলে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে, মা উড়ালপুল (সায়েন্স সিটি থেকে পার্ক সার্কাস অভিমুখী প্রান্তে। মঙ্গলবার ভোরে, বৃষ্টির আবহে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রাকে থাকা ৩ জওয়ানের মধ্যে ২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ আহত সেনাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার রাত থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টি শুরু হয়। পিচ্ছিল রাস্তার কারণেই কি এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাকটি এতটাই গতিতে ছিল যে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। সাধারণত মা উড়ালপুলে বাইক দুর্ঘটনার খবর নিয়মিত শোনা গেলেও, সেনাবাহিনীর ট্রাকের মতো ভারী যান দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে ট্রাফিক পুলিশ। এই ঘটনার ফলে উড়ালপুলের ওই অংশে বেশ কিছুক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য], কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ২১/০২/২০২৬ : বসন্তে বৃষ্টি। রাজ্যের সাত জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা। বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা র মতো ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন দক্ষিণবঙ্গের জেলাতে। হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে।
তাপমাত্রা আরও একটু বাড়লো। আগামী দু-দিনে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত আবহাওয়া দপ্তরের। সকালে ও রাতে শীতের আমেজ ক্রমশ উধাও। দিনে শীতের অনুভূতি ইতিমধ্যেই কমে গেছে। আগামী সাতদিনে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে মধ্য উত্তর প্রদেশে। আগামীকাল রবিবার নতুন করে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে।
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন ভারত মহাসাগর এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। নিম্নচাপ নতুন করে তৈরি হবে এই এলাকায়। এটির উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অভিমুখ রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে আরো শক্তিশালী নিম্নচাপ রূপে।
দক্ষিণবঙ্গে কি ঘটবে ?
আগামী সপ্তাহে সোমবার এবং মঙ্গলবার ওড়িশা ও সংলগ্ন উপকূলের জেলাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তে মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা। বাকি জেলাতে আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা। শীতের আমেজ কমছে। দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে। তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে। আগামী ২ দিনে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের।
উত্তরবঙ্গে কি হবে ?
উত্তরবঙ্গে সোমবার এবং মঙ্গলবার পার্বত্য এলাকায় হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা। মূলত একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই এই বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকবে দার্জিলিং জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলাতে। উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েক দিনের তাপমাত্রার পরিবর্তন নেই। আগামী সাত দিন একই রকম থাকবে পারদ। দার্জিলিং ও সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় আগামী কয়েক দিনে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে তাপমাত্রা। কালিম্পং সহ সমতল সংলগ্ন এলাকায় ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মধ্যে থাকবে তাপমাত্রা। শিলিগুড়ি, মালদা ও সংলগ্ন জেলাতে ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
কলকাতায় কি হবে ?
রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। দিনের তাপমাত্রাও ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আজকেও ১৯ ডিগ্রির ঘরে। স্বাভাবিকের উপরে দিনের তাপমাত্রা চলে গেলেও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক। আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া। আংশিক মেঘলা আকাশ হলেও আজ ও কাল বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
শনিবার শিলিগুড়ি শহরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবি। এনটিএস মোড় ও দেশবন্ধু পাড়া এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান ও মিষ্টির কারখানায় হানা দেন দপ্তরের আধিকারিকরা। অভিযানের শুরুতেই নজরে আসে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের একাধিক ঘটনা।
দেশবন্ধু পাড়ার ‘গীতা সুইটস’-এর কারখানায় গিয়ে কার্যত হতবাক হন আধিকারিকরা। মিষ্টির কারখানার ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয় রান্না করা মাংস। অভিযোগ, নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া ওই কারখানায় মাংস সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, দোকানের বাসনপত্র ধোয়া হচ্ছিল সেপটিক ট্যাঙ্কের উপর—যা স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছে দপ্তর।
অভিযান পৌঁছায় শিলিগুড়ির এনটিএস মোড়ের এক নামী ক্যাফেতেও। সেখানে সংরক্ষিত চিকেনের মধ্যে পোকা কিলবিল করতে দেখা যায় বলে দাবি আধিকারিকদের। ফ্রিজ ও রান্নাঘরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নোংরা। পচা খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে বলেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। শহরের নামী খাবারের দোকানে এমন চিত্র সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ক্রেতাদের একাংশের বক্তব্য, নিয়মিত নজরদারি না হলে এ ধরনের অনিয়ম চলতেই থাকবে। এখন প্রশ্ন, এই অভিযানের পর আদৌ কি বদলাবে শহরের খাবারের মান ? নাকি কয়েকদিনের মধ্যেই সব আবার আগের মতো হয়ে যাবে—সেই দিকেই তাকিয়ে শিলিগুড়ির মানুষ।
প্রসূতির স্বামীকে বেধড়ক মার, বাইক ভাংচুর, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হল
আজ খবর (বাংলা), [রাজ্য] সামসি, মালদা, ২১/০২/২০২৬ : বেসরকারী নার্সিংহোমে প্রসূতির ভুল চিকিৎসা ও কিডনি পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে বল অভিযোগ উঠেছে, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়রটি নিয়ে স্ট্যানীয় থানায় অভিযোগ দায়েরের পরই অভিযোগকারীর ওপর বন্দুক ঠেকিয়ে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঐ নার্সিং হোমে লোহার রড দিয়ে প্রসূতির স্বামীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাইক ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনা নিয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ধরনের একটি জঘন্য ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে মালদার সামসি এলাকায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পুখুরিয়া থানার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা রেশমিরা খাতুন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি হন। সেখানে একজন অর্থোপেডিককে দিয়ে প্রসূতির অস্ত্রপচার করার অভিযোগ উঠেছে । ভুল চিকিৎসায় দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে প্রসূতির বলে জানা গিয়েছে। ভুল চিকিৎসার জন্য নার্সিং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত আকারে অভিযোগ জানিয়েছে ঐ প্রসূতির পরিবার।
এই ঘটনার পরই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ওই প্রসুতির পরিবারকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য লাগাতার ভাবে হুমকি দিতে থাকে। আজ শনিবার সামসির সাহারাতলা এলাকা দিয়ে আসার পথে কয়েকজন মিলে প্রসূতির স্বামী আব্দুর রহিমকে ঘিরে ধরে। তারপর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে, বেধড়ক মারধর করা হয়। লোহার রোড ও ছুরি দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে সামসি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে সেখানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গোটা ঘটনা নিয়ে প্রসূতির পরিবার সামসীর সমাজসেবা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সামসী ফাঁড়িতে একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে রয়েছে প্রসূতির পরিবার।
এই বিষয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোন উত্তরই পাওয়া যায়নি।